বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইরাবান দৌড়ে গেলো বাগানে। না সেখানো কেউ নেই। ছুটে গেল, কহ্লারসরোবরের ধারে,সেখানেও কেউ নেই।ছুটে গেল তার প্রাসাদের ঘরে ঘরে,না ভানুমতী কোথাও নেই। এবার কাপাল চাপড়ে মাটিতে পড়ে নিজেই কাঁদতে লাগলো সে।কেন সে না জেনে বোকার মতো---
কিন্তু সেই রাত্রির পরে ভোর হলো। ইরাবান যোদ্ধার পোশাকে তার প্রিয় ঘোড়া তুরীয়ানের পিঠে বসে বেরিয়ে এলো বাইরে। রাজপ্রাসাদে গিয়ে সব বললো বাবামাকে। তারপরে বাবার অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। হারিয়ে যাওয়া ভানুমতীকে উদ্ধার করে আনার জন্য। সে জানে এ কাজ কঠিন, খুবই কঠিন। তবু সে এও জানে, যে একাজ না করে তার আর কোনো উপায় নেই।
দিনের পর দিন সে চলে আর চলে আর চলে। কোথায় যাবে, কিভাবে খুঁজবে,কাকে জিজ্ঞাসা করবে,কিচ্ছু জানেনা।তবু চলে।তার তুরীয়ানকে ছুটিয়ে নিয়ে চলে রাজ্য থেকে রাজ্যান্তরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়, সূর্য অস্তে নামে, ক্লান্তি এসে ইরাবানকে আর তার তুরীয়ানকে আচ্ছন্ন করে। তারা থামে, পথের ধারের কোনো সরাইখানায় আশ্রয় নেয়। রাত্রিটা সেখানে কাটিয়ে আবার পরদিন ভোরে চলা শুরু করে।
এইভাবে পার হয়ে যায় অনেকদিন।একদিন দুপুরবেলা এক নদীর ধারে ইরাবান দেখে একজন জটাজূটধারী সাধু বসে আছেন। সেদিন খুব গ্রীষ্ম, ইরাবান অত্যন্ত ক্লান্ত ও তৃষার্ত বোধ করছিল। তুরীয়ানেরও মুখে ফেনা উঠে গেছিল। নদীর ধারে থেমে নদীর জল পান করে দুজনেই একটু সুস্থ হলো।
এবার রাজপুত্তুর সাধুর কাছে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করে মাটিতে বসলো একটু বিশ্রাম করবে বলে।
সাধু নিজে থেকেই বললেন, "কী চাও তুমি বত্স?"
রাজপুত্র মুখ তুলে খুব ক্লান্ত গলায় বললো,"আমি একজনকে খুঁজছি। বহুদিন ধরে। আমি কি সফল হবো?"
সাধু হেসে বললেন,"জানি তুমি কাকে খুঁজছো।"
রাজপুত্র দারুণ অবাক হয়ে গেছে, বললো,"আপনি জানেন? কাকে খুঁজছি?"
সাধু বললেন,"তুমি খুঁজছো তোমার স্ত্রী, যাদুকরী রাজকুমারী ভানুমতীকে। কী, আমি ঠিক বলেছি?"
ইরাবান সাধুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললো," আপনি আমায় দয়া করুন। আমারই ভুলে আমি তাকে হারিয়েছি। বলুন কি করলে তাকে ফিরে পাবো?"
সাধু বললেন,"তুমি সব কথা জানোনা। জানো কি যাদুকরী ভানুমতী জন্মেছিল তার বাবা যাদুসম্রাটের চেয়েও বেশী যাদুজ্ঞান নিয়ে? তাই তার বাবাই তাকে অভিশাপ দেন। সে ব্যাঙ হয়ে যায়। পরে তা থেকে মুক্তির উপায়ও একটা ঠিক হয়। সেই পথেই সব চলছিল।কিন্তু তুমি ওর ছদ্মবেশ আগে ভাগে পুড়িয়ে দিয়ে গন্ডগোল করে ফেলেছ। এখন তাকে নিয়ে গেছে অমর কাশ্যপ। সে ওকে বন্দী করে রেখেছে অত্যন্ত সুরক্ষিত জায়গায়। সেখানে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন, প্রায় অসম্ভব।"
কঠিন প্রতিজ্ঞার গলায় ইরাবান বলে,"যতো কঠিনই হোক, আমাকে সেখানে যেতেই হবে।দয়া করুন সাধুবাবা।পথ বলে দিন।আমাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে দিন।"
ইরাবান এত কাতরভাবে অনুনয় করছে দেখে সাধুবাবার মন গলে জল। তিনি ওকে পথ বলে দিলেন অমর কাশ্যপের সুরক্ষিত পুরীতে পৌঁছনোর। আরো বলে দিলেন,"শোনো রাজপুত্তুর। মন দিয়ে শুনে নাও। অমর কাশ্যপের প্রাণ আছে ছোট্টো এক সোনার সূচের ডগায়। সেই সূচ আছে এক ডিমের ভিতর।সেই ডিম আছে এক হাঁসের পেটে। সেই হাঁস আছে এক খরগোসের পেটে আর সেই খরগোস আছে এক বিরাট বটগাছের কোটরে। সেই গাছ নিত্যদিন পাহারা দেয় অমর,তার চোখের মণির মতো।যদি সেই দুরূহ সূচ উদ্ধার করে তার ডগাটা ভেঙে ফেলতে পারো তবেই কাশ্যপ মরবে। তাহলেই, একমাত্র তাহলেই ভানুমতীর মুক্তি।"
শুনে ইরাবানের মনটা একটু দমে গেল।পারবে কি এত সাংঘাতিক কঠিন শর্ত পালন করে উদ্ধার করে আনতে তাকে? তবু সে মনে মনে সাহস সঞ্চয় করে বললো,"আশীর্বাদ করুন, যেন সফল হই।"
সাধুবাবা দুহাত তুলে আশীর্বাদ করলেন তাকে। রাজপুত্র ঘোড়া চড়ে রওয়ানা হলো রাজকন্যা উদ্ধারে।
পথে প্রথমে পড়লো কনকনে ঠান্ডা তুষারের নদী। সেই ঠান্ডা সহ্য করে ওপারে পৌঁছে পড়লো এক গহন জঙ্গল। অসংখ্য হিংস্র বন্যজন্তু সমাকীর্ন সে জঙ্গল পার হয়ে পড়লো এক বিশাল উঁচু পাহাড়। সেই পাহাড়ের পাদদেশে বসে ইরাবান যখন বিশ্রাম নিচ্ছে তখন ধেয়ে এলো এক বিরাট ভল্লুক। তাকে মারতে যখন ইরাবান অস্ত্র তুলেছে, সে কাতর অনুনয় করে বললো,"মেরো না মেরো না রাজপুত্তুর। হয়তো কখনো আমি তোমার কোনো উপকার করতেও পারি বা।" রাজপুত্রের দয়া হলো।সে ভল্লুককে চলে যেতে দিলো।
এবার ঘোড়া নিয়ে এগোতে এগোতে পথে পড়লো এক খরগোস।তাকে মারতে গেলেও সে মানুষের গলায় বললো,"মেরো না মেরো না রাজপুত্তুর। হয়তো আমি কোনোদিন তোমার কোনো উপকার করতে পারি।" রাজপুত্তুর তাকেও ছেড়ে দিলো।
সেইদিন সন্ধেবেলা এক বিরাট উপত্যকার কাছে পৌঁছে রাজপুত্র দেখলো, আকাশে অনেক হাঁস উড়ছে। খিদেও পেয়েছিল খুব রাজপুত্রের, ধারে কাছে দোকানপাটও কিছু ছিলনা। তাই রাজপুত্তুর ভাবলো,"একটা হাঁস মেরে রোস্ট করে খেলে কেমন হয়?" ভেবে যেই না তীর ধনুক তুলেছে হাঁস মারবে বলে,অমা এক হাঁস অমনি মানুষের গলায় বলে কিনা," রাজপুত্তুর যদি তুমি হাঁস না মারো,তাহলে কোনোদিন আমি তোমার কোনো বড়ো উপকার করবো।" ইরাবান অবাক হয়ে তীর ধনু নামিয়ে ফেললো, মাটিতে উষ্ণীষের শয্যা পেতে শুয়ে সেই রাতে অনাহারেই সে নিদ্রা গেলো।
পরদিন আবার ঘোড়া চড়ে সে চললো। চলে আর চলে, চলে আর চলে। অবশেষে পৌঁছলো সমুদ্রতীরে। সেখানে এক বিরাট পাইক মাছ শুয়ে ছিল সমুদ্রতীরের বালিতে। ক্ষুধার্ত রাজপুত্র যেই না তাকে মারতে গেছে অমনি সে বললো,"মেরো না গো, ভালোমানুষের ছেলে। কি জানি হয়তো কোনোদিন আমি তোমার কোনো উপকার করবো।" দয়ালু রাজপুত্র তাকে জলে ছেড়ে দিলো।
আরো বহুদিন অনেক পথ চলে সে অবশেষে পৌঁছালো কাশ্যপের পুরীতে। দূর থেকেই দেখতে পাচ্ছিল সেই বিরাট বটগাছ। কিকরে সে গাছের কোটর থেকে খরগোসকে বার করবে ভেবে ভেবে মাথা কুটছে, এমন সময় কোথথকে এসে উদয় হলো সেই ভল্লুক। সে তিনলাফে গাছের কাছে পৌঁছে কোটরের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বার করে আনলো খরগোসটাকে। কিন্তু খরগোস ভল্লুকের মুঠো ছাড়িয়ে ছুট দিলো খুব জোরে। রাজপুত্র হায় হায় করছে, অমনি সেই পুরানো বন্ধু খরগোস এসে ছুটে পিছু নিল পলাতক খরগোসের। সেই গিয়ে ঘাড়ে কামড়ে ধরলো খরগোসটার। রাজপুত্র যেই গিয়ে তলোয়ার দিয়ে খরগোসটাকে কেটেছেন অমনি তার পেট থেকে হাঁস বেরিয়ে উড়ে গেলো আকাশে। এবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রাজপুত্র কপাল চাপড়াচ্ছেন, অমনি রাজপুত্রের সেই বন্ধু হাঁস এসে এই হাঁসের পিছু নিল।বন্ধু হাঁস যেইনা গিয়ে এই পলাতক হাঁসের ঘাড়ে পড়েছে, অমনি এই হাসের পেট থেকে ডিম খসে পড়লো নীচে সমুদ্রে।জলে ডুবে গেলো তা। এবার আর কোনো আশা নেই ভেবে রাজপুত্র জলের ধারে বসে কাঁদছেন অমনি জল থেকে মাথা তুললো সেই পাইক মাছ। ডিমটা তার মুখে ধরা।
রাজপুত্র তো আহ্লাদে আটখানা। অনেক ধন্যবাদ দিয়ে ডিমখানা নিয়ে পাথরে ঠুকে ভাঙলো রাজপুত্তুর। সেই ছোট্টো সূচখানা জ্বলজ্বল করে উঠলো আলোয়। রাজপুত্র ডগাটা ভেঙে ফেলে পাথরের টুকরো দিয়ে ঘষে ঘষে চূর্ণ করে ফেল্লেন। তার সঙ্গে ধ্বংস হলো অমর কাশ্যপ।
এবার রাজপুত্র চললেন কাশ্যপের পুরীতে। সেখান থেকে বন্দিনী রাজকন্যা ভানুমতীকে উদ্ধার করে নিয়ে চললেন নিজ রাজ্যে। যেদিন তারা রাজারানী হিসাবে অভিষিক্ত হলো, সেইদিন রাজ্যের সমস্ত লোকতো নিমন্ত্রিত হয়েছিলই, তাদের সঙ্গে খুশীভরা মনে যোগ দিয়েছিল সেই বন্ধু ভালুক, হাঁস, খরগোস আর পাইক মাছ।
তারপরে? তারা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now