বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব ৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমার মতামত গল্পটাতে আপনি Harry Potter এর স্বাদ পাবেন ৷—রিয়েন সরকার প্রফেসর হিটর্ফের সিক্রেট -"রিডবারগ?এই নাম তো আগে কখনো শুনিনি।তুই নিশ্চিত সে এই নামই বলেছে?"অ্যারন ভুরু কুঁচকে বলল। -"আমি ১০০ পারসেন্ট শিওর।দেখ তুই কিন্তু আগের বার আমার কথা পাত্তা দিসনি।এবার কিন্তু তুই ও বলতে পারবিনা যে এটা স্রেফ স্বপ্ন।" এলিস অভিমানী গলায় বলল। -"হুম।কিছু একটা ব্যাপার তো আছে এখানে...আচ্ছা দেখ,এই স্বপ্নের অর্থ খুঁজে পেতে হলে আমাদের সবার আগে এই রিডবারগকে খুঁজে বের করতে হবে।তাহলেই কিছু সূত্র পাওয়া যাবে।" -"হুম।দেখ,মেয়েটা আমাকে রিডবারগের উত্তরাধিকারী বলেছে।তার মানে রিডবারগ আমার দাদার দাদা বা এই জাতীয় কিছু।তারমানে সে বেঁচে নেই।অনেক আগেই মারা গেছে।" -"বেঁচে নেই তো কি হয়েছে?দরকার হলে বেটাকে কবর থেকে উঠিয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবো।তুই চিন্তা করিস না।" ওরা লাইব্রেরীতে বসে বসে ফিসফিস করে করে কথা বলছিল।সেদিন লাইব্রেরিতে আসার আগেই তারা প্রথমে কয়েকজন টিচার এর কাছে গিয়ে রিডবারগ সম্পর্কে জানতে চাইলো।কিন্তু তারা নাকি কেউ কস্মিনকালেও এই নাম শুনেননি। প্রফেসর এন্ড্রিয়ানাও তখন অন্য একটা ক্লাস নিচ্ছিলেন।তাই উনাকেও জিজ্ঞেস করা গেলো না।এলিসের বাবা-মা বা কোন আত্মীয় স্বজন থাকলে তাঁদের জিজ্ঞেস করা যেতো।কিন্তু এলিস বড় হয়েছে একটি এতিম খানায়।কেউ একজন নাকি এলিসকে এতিমখানার সামনে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল।এরপর আর তার খোঁজ নিতে কখনো কেউ আসেনি। আর কোন এক অদ্ভুত কারণে ওকে সার্কেল প্রাসাদ থেকে থেকে বের হতেও দেয়া হয় না।বিগত ৯ বছর ধরে একরকম বন্দি জীবন কাটাচ্ছে এই প্রাসাদটাতে।যদিও এর কোন কারণই সে খুঁজে পায় না।কিন্তু এখন ওর মন বলছে,সার্কেল প্রাসাদে ওর বন্দি জীবনের কারণের সাথে ঐ স্বপ্ন এবং রিডবারগের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।আর এই ব্যাপারটাই ওকে রিডবারগ সম্পর্কে জানতে এতোটা ব্যাকুল করে তুলেছে।আর তাই সেই সকাল থেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওরা লাইব্রেরিতে এসে বিভিন্ন বই এ রিডবারগকে খুঁজেছে।কিন্তু এত শত বই এর মাঝে একটা নাম ওরা কিভাবে খুঁজে পাবে?লাইব্রেরিয়ান গিবসকে জিজ্ঞেস করলে সে খানিক্ষন মাথা চুলকে হাল ছেড়ে দিলো।ওরা বুঝতেও পারেনি যে ওদেরকে অনেক্ষন ধরে খেয়াল করছিল সোনালি চুলের কেউ।ওদের কথাও শুনছিল সে। -"এই তথ্য তোমরা এক যায়গাতেই পেতে পারো।"বলে উঠলো সোনালি চুলের মেয়েটি। ওরা ঘুরে তাকাল।মারজিয়া স্পিনেট এতক্ষণ ওদের সব কথা শুনছিলো। -"কারো ব্যক্তিগত কথা শোনা ঠিক নয় জানো তো?"অ্যারন বিরক্তির সাথে বলল। -"তোমরা মাথা নিচু করে এমন ষড়যন্ত্রীর মত আলোচনা করছিলে যে আমি না শুনে পারলাম না। আমি তো ভাবলাম তোমরা সার্কেলটা উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছ।না মানে...সেই ক্ষেত্রে আমার সম্পূর্ণ সহানুভূতি আছে তোমাদের জন্যে..."অ্যারন এর মারমুখো চেহারা দেখে তড়িঘড়ি করে যোগ করলো স্পিনেট। -"তারপর ও তুমি কাজটা ঠিক করনি।তোমার উচিত সরি বলা।"ঝগড়াটে সুরে বলল অ্যারন। -"উফফ...এখানকার মানুষজন বাচ্চাদের মত ঝগড়া করে।অ্যারন,মারজিয়া তোমরা ২ জনেই চুপ করো।"এলিস এলফিয়্যান এর গলায় আদেশের ভাব। ঠান্ডা মেরে গেলো অ্যারন।এমনকি মারজিয়াও চুপ হয়ে গেলো।এখানকার সবাই এলিসকে মনে মনে ভয় পায়।কারণ এলিস কোন সাধারণ জাদুকরী নয়।ও একজন 'সৌল-ফেচার'।মানে সে মৃত আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসতে পারে।কথা বলতে পারে।আত্মা বা অন্য যেকোনো অদৃশ্য সুপার ন্যাচারাল শক্তির উপস্থিতি বুঝতে পারে।এই ক্ষমতা সবার থাকে না।এটা বংশগত ক্ষমতা।কোন সাধারণ জাদুকর যার ভেতরে সৌল ফেচার এর রক্ত নেই,চাইলেও এই বিদ্যা শিখতে পারবে না।এটা এমন এক বিদ্যা যা কেবল বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়। সৌল ফেচাররা সাধারণত কালো জাদুকর হয়।বেশিরভাগ সৌল ফেচারই নিজেরা কালো জাদুকর হয়ে থাকে। অথবা তাদের বংশে কোন কালো জাদুকর ছিল। শয়তানের পূজারি ছিল।তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় যে সৌল ফেচারদের মাঝে কিছু কিছু খুব ভালো জাদুকরও ছিলেন। এখন কথা হচ্ছে যে,এলিস রিডবারগের আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসতে পারলেই ল্যাঠা চুকে যেতো।কিন্তু সেটাও সে পারছে না।কারণ মৃত আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসতে হলে তার শরীরের হাড় অথবা অবশিষ্ট কিছু অংশের প্রয়োজন হয়,যেটা ওদের কাছে নেই। -"হ্যাঁ মারজিয়া।তুমি কি যেন বলছিলে?কোথায় পাবো এই তথ্য?"এলিস জিজ্ঞেস করলো। -"যে তথ্য তোমাদেরকে কোন টিচার দিতে পারবেন না,লাইব্রেরীর কোন বই দিতে পারবে না,তা শুধু এই স্কুলে একজনই দিতে পারবে।"নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল মারজিয়া। -"কে সে?" -"দ্যা গ্রেট হেম-ওক ট্রি।"গলা নামিয়ে প্রায় শুনা যায় না এমন গলায় বলল মারজিয়া স্পিনেট। * * * -"মনে রাখবে,উনি শনিবারে ঠিক বিকেল চারটায় 'দ্যা লিটল মারমেইড' বার এ মদ খেতে আসেন। উনার সবচেয়ে প্রিয় মদের ব্র্যান্ড হচ্ছে 'লক লোমন্ড'।উনি বাজি ধরতে পছন্দ করেন।বাজিতে জিততে পছন্দ করেন।উনাকে খোশ মেজাজে আনতে হবে।উনি ক্রমাগত বাজিতে জিতলেই সেটা সম্ভব।সেই সাথে খানিকটা 'লক লোমন্ড'।ব্যাস,ক াম ফতে।এরপর শুধু একটু বুদ্ধি করে উনার পেটের কথা বের করতে হবে।দরকার হলে উনার পেটে সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হবে।এরপর আমাদের যা দরকার,আমরা তা পেয়ে যাবো।"জোরে জোরে পা চালাতে চালাতে বলছিল মারজিয়া।দ্রুত হাঁটার কারণে হাঁপাচ্ছিলো ও। যেহেতু স্কুলের কোন টিচার রিডবারগ এর সম্পর্কে বলতে পারেননি আর লাইব্রেরীর বইগুলোও ওদেরকে হতাশ করেছে,তাই তারা ঠিক করেছে এই চিরসবুজ ওক গাছটাকেই জিজ্ঞেস করবে রিডবারগ সম্পর্কে।ওক গাছটা অনেক বছরের পুরাতন।সে সাধারণ কোন গাছ নয়।কথা বলা গাছ।অনেক জ্ঞানী একটি বৃক্ষ।তার অজানা,এমন জিনিস খুব কমই আছে জাদুর দুনিয়াতে। কিন্তু হেম-ওক গাছটাকে ঘিরে রহস্য জাল বুনে আছে।হেম-ওকের অস্তিত্বের ব্যাপারটা একটা মিথ এর মত ছাত্র ছাত্রীদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়।কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে এটা আছে।কেউ মনে করে পুরোটাই স্রেফ ছেলেভুলানো গপ্পো।তাই তারা সরাসরি তাদের শিক্ষকদের কাছে গিয়েছিলো।প্রফেসর এন্ড্রিয়ানাকে জিজ্ঞেস করলে উনি সাফ জানিয়ে দেন তিনি এসব গাল গল্পে বিশ্বাস করেন না। এরপর তারা যায় প্রফেসর হিটর্ফ এর কাছে।প্রশ্নটা শুনেই উনি বিষম খেয়ে গেলাসের মদ বাইরে ফেলে দিলেন।২ মিনিট অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাদের দিকে চেয়ে থেকে কিছুক্ষণ কি যেন ভাবলেন।এরপর বললেন এরকম মিথের পেছনে না দৌড়িয়ে পড়ালেখায় সময় দিতে।এ কথা বলে আর পেছনে না ফিরে সোজা হাঁটা দিলেন।এরপর থেকে উনি করিডোরে,ক্লাসে সব জায়গায় তাদেরকে এড়িয়ে চলতে লাগলেন। তখন তারা বুঝতে পারলো যে প্রফেসর হিটর্ফ নিষ্কর্মা হলেও,ওক গাছটার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন।হয়তো তিনিই তাদেরকে জানাতে পারবেন যে ওক গাছটি কোথায় আছে,সেখানে কিভাবে যেতে হয় ইত্যাদি। তখন থেকেই তারা হিটর্ফ এর পিছু নেয়া শুরু করলো।তিনি কোথায় যান কি করেন সব ফলো করা শুরু করলো।এরপর তারা মোটামুটি একটা চমৎকার প্ল্যান দাঁড় করিয়ে নিলো। হিটর্ফ আসার আগে থেকেই ওরা প্ল্যান মত 'দ্যা লিটল মারমেইড' বারের এক কোনায় একটা টেবিল দখল করে বসেছিল।ওরা অপেক্ষা করতে করতে যখন হাল ছেড়ে দিচ্ছিলো তখন উনি এলেন। -"হেলো স্যার।এদিকে...এদিকে...কেমন আছেন?"এলিস ডাক দিয়ে উঠলো। প্রফেসর হিটর্ফ ওদেরকে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠলেন। -"তোমরা??এখানেও??ইয়ে মানে...তোমরা বাচ্চারা এই বারে কি করছ।এটা বড়দের বার।ছি ছি।যাও তোমরা এখান থেকে।নাহলে তোমাদের ব্যাপারে আমি হেডমাস্টারের কাছে নালিশ করবো।" -"আসলে স্যার...আজকে মারজিয়ার জন্মদিন।তাই আমরা চাইছি একটু অন্যভাবে পালন করতে। অন্যভাবে মানে অন্যভাবে..."এক হাতে লক লোমন্ডটা দোলাতে দোলাতে বলছিল অ্যারন। ওটা আগে থেকেই অর্ডার করে রেখেছিল ওরা। -"তোমাদের মত বাচ্চাদের এই জিনিস খাওয়া ঠিক না। এগুলো খেলে স্মৃতি লোপ পায়।"লক লোমন্ডের দিকে স্বপ্নালু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললেন। -"কিন্তু স্যার একদিন একটু স্মৃতি লোপ পেলে কীইবা যায় আসে।তাছাড়া,জন্মদিন তো আর প্রতিদিন আসেনা।আর তাছাড়া আমরা তো আর প্রতিদিন খাচ্ছিনে।তা আমরা ভাবছিলাম...আপনিও যদি আমাদের সাথে জয়েন করেন তো......"ভয়ংকর রকমের তোষামোদি গলায় বলল অ্যারন। প্রফেসর হিটর্ফ একবার ওদের বাড়াবাড়ি রকমের নিরীহ চেহারার দিকে ভ্রু কুঁচকে সন্দেহ বাতিক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলেন,আরেকবার লক লোমন্ডের বোতলটার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলেন।হয়তো ২টার মাঝে কোনটাকে বিশ্বাস করবেন সেটা ভাবছিলেন। শেষমেশ লক লোমন্ডের পক্ষেই রায় দিলেন। -"তোমরা যখন এত করেই বলছ তখন...কি আর করা।কিন্তু শুধু তোমাদের খুশি করার জন্যেই...তোমরা আবার অন্য কিছু ভেবো না যেন।" -"না স্যার...একদম না।কি যে বলেন..."মারজিয়ার গলা থেকে যেন মধু ঝরে ঝরে পড়ছিল। ওরা মারজিয়ার জন্মদিন লক লোমন্ডের সাথে উদযাপন করলো।প্রথম ফোঁটা গলায় যেতেই প্রফেসর হিটর্ফ যেন অন্য মানুষ হয়ে গেলেন।খুবই মাই ডিয়ার ভঙ্গিতে কথা বলতে লাগলেন।কথায় কথায় মাই বয়,মাই চাইল্ড জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতে লাগলেন। ঝোপ বুঝে কোপ মারল অ্যারন। -"স্যার,চলুন এক হাত তাস হয়ে যাক।শুনেছি আপনি নাকি ঝানু তাস খেলোয়াড়।এ খেলায় আপনি নাকি অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন?কেউ নাকি আপনাকে কখনো হারাতে পারেনি?" -"হে হে হে...না...তেমন কিছুইনা,একটু বাড়িয়ে বলেছে ওরা।যদিও আমি অস্বীকার করছিনা যে আমি তাস খেলায় এখনো পর্যন্ত অপরাজিত...তারপরও...আমি এ নিয়ে কখনো কথা বলি না।"বেহায়ার মত হাসি দিয়ে বললেন হিটর্ফ। অ্যারন এলিসের কানে ফিস ফিস করে বলল, -"এতদিন তো শুধু নিষ্কর্মা ভেবেছি,এখন দেখছি অপদার্থ ও বটে।" খুব তাড়াতাড়ি খেলছিল অ্যারন।হেরে যাওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।অপরদিকে খুব খোশ মেজাজে খেলছিলেন হিটর্ফ।একটু পর পর লক লোমন্ড এ চুমুক দিচ্ছিলেন আর পাকা খেলোয়াড়ের মত তাস ফেলছিলেন।২-৩ রাউন্ড খেলার পর কোত্থেকে যেন এক ঘাটের মড়া এলো।এসেই অনুমতি না নিয়ে টেবিলে বসে পড়লো।লোকটার সাদা দাড়ি গোঁফে মুখ ভরা। চৌকো হ্যাটটা নিচের দিকে নামিয়ে রাখার কারণে মুখ অর্ধেক ঢাকা পড়েছে।মলিন,জীর্ণ-শীর্ণ পোশাক। -"খুব তো খেলছ বাচ্চা ছেলেদের সাথে। নিজের মাপের কারো সাথে খেলে জিতলে তারপর বাহাদুরি দেখিও বাপু।"বৃদ্ধ লোকটা খোঁচা দিয়ে উঠলো।খোঁচা খেয়ে নড়চড়ে বসলেন হিটর্ফ।এদিক ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, -"তা কে তুমি বাহাদুর?নাম পরিচয় কিছু মনে আছে,না সব খেয়ে ফেলেছ?"হিটর্ফ পাল্টা খোঁচা দিলেন। -"নামে নয় গুনেই আমার পরিচয়।তোমার বয়সে তাস খেলায় কত বাজি ধরেছি।খুব কমই হেরেছি।তুমি বাচ্চা ছেলেদের সাথে খেলায় জিতে ভাব নিচ্ছ দেখে ভাবলাম তোমাকে বুঝিয়ে দেই পাকা খেলোয়াড় কাকে বলে। " -"তুমি আমাকে চ্যালেঞ্জ করছ?" -"তো এতক্ষণ কি আমি হিব্রু ভাষায় কথা বলছিলাম নাকি?শুধু তাস নয়।বাজি।তুমি জিতলে তোমাকে আমি ১০ গ্যাডোলিন দেবো।হারলে তুমি আমাকে সম পরিমাণ দেবে।রাজি?" ভ্রু কুঁচকে প্রফেসর হিটর্ফ বললেন, -"তুমি জানো কেউ আজ পর্যন্ত বাজি ধরে আমার সাথে জিততে পারেনি?এরপর ও বাজি ধরতে চাইছ?" -"জানি দেখেই তো তোমার সাথেই বাজি ধরতে চাইছি।নিজের সমকক্ষ কারো সাথে বাজি ধরার মজাই আলাদা।"বলেই খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসা শুরু করলো বুড়োটা। খেলা শুরু হল।প্রফেসর জিতেই চলছেন।আর বুড়ো প্রতিবারই নতুন করে বাজি ধরছে।এত অর্থ কোথায় পাচ্ছে কে জানে।প্রফেসর খেলছেন আর মদ এ চুমুক দিচ্ছেন।জুয়াড়ি জুয়াড়ি ভাব আনার জন্যে একটা চুরুট ও ধরালেন।ফুর ফুর করে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে প্রচণ্ড খুশি মনে খেলে চলেছেন প্রফেসর হিটর্ফ।এদিকে গেলাসের পর গেলাস মদ হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। হিটর্ফ এর সেদিকে নজর নেই।যতই জিতছেন,নতুন করে মদের অর্ডার করছেন। ধীরে ধীরে প্রফেসর হিটর্ফ টলতে শুরু করলেন।আজকে উনি লিমিটের চেয়েও বেশি মদ পেটে চালান করে ফেলেছেন।পাশে গ্যাডোলিন এর স্তূপ বসে গেছে।সেদিকে তাকিয়ে ২-৪বার আয়েশি রকমের হিক্কা তুললেন। বারে মানুষ কমে এসেছে।প্রফেসরও এখন পুরোপুরি টাল্লি হয়ে গেছেন।খেলা টেলা ভুলে গিয়ে মদের গেলাস হাতে নিয়ে কবিতা আবৃতি করছেন।অ্যারন দেখল এই সুযোগ। -"প্রফেসর,আপনি দেখছি পড়ানোর বাইরে খেলাধুলার ব্যাপারেও অনেক কিছুই জানেন।আপনার জ্ঞানের কোন সীমা নেই,স্যার।" -"ঠিক বলেছ প্যারন...।" -"ন্যাচারালি স্কুলের সমস্ত কিছু আপনার নখদর্পণে...সমস্ত ইতিহাস আপনি জানেন।এমনকি স্কুলের সমস্ত সিক্রেটও।" -"অফকোর্স মাই টয়......সমস্ত কিছুই..." -"না স্যার,সমস্ত কিছু জানেন না স্যার।দ্যা গ্রেট হ্যাম-ওক ট্রি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।আমরা ভেবেছিলাম অন্তত আপনার মত এত জ্ঞানী একজন ব্যক্তি এটা জানবে।কিন্তু এখন দেখছি আপনি সব জানেন না।" -"খামোশ...তোমাকে কে বলেছে আমি...হিক...জানিনা প্যারন অ্যারন...খুব কম শিক্ষকই এর সম্পর্কে...হিক. ..জানেন...তার মাঝে আমি একজন",টেবিলে মাথা ঠুকে রেখেছেন প্রফেসর।খানিক বাদে হয়তো ঘুমিয়েই পড়বেন।উনি ঘুমিয়ে পড়ার আগেই সব জেনে নিতে হবে। -"তাহলে স্যার আপনি তখন আমাদেরকে এ ব্যাপারে বলেন নি কেন?"এলিস খুব সাবধানে জিজ্ঞেস করলো। -"বলিনি...হিক...কারণ...এ সম্পর্কে কোন ছাত্র বা অন্য কাউকে বলার ব্যাপারে টিচারদের উপর কড়া নিষেধ আছে ...হিক...ব্যাপারটা খুব...হিক...গোপ নীয়...আমরা চাইনা আমাদের সিক্রেট অন্য সার্কেলের কাছে ফাঁস...হিক...হয় ে যাক...এছাড়াও আরও অনেক ব্যাপার আছে এখানে......যা তোমরা বুঝবে না......" -"তাহলে স্যার আপনি জানেন হেম ওক গাছের কাছে যাওয়ার প্রবেশ পথটি কোথায়?"তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করলো মারজিয়া।ওরা বেশি দেরি করছে।প্রফেসর এখন টেবিলে মাথা এলিয়ে দিয়েছেন।ঘুমিয়ে পড়লেই সর্বনাশ। -"অবশ্যই জানি মিস মারিজুয়ানা..." উত্তেজনায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো ওদের। -"সেটা কোথায় স্যার?"বুড়োটি জিজ্ঞেস করলো।ধীরে ধীরে তার চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।ভাঁজ সরে গিয়ে চামড়া সজীব হয়ে যাচ্ছে।দাঁড়ি গোঁফ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।সাদা চুলগুলো ধীরে ধীরে লাল হয়ে যাচ্ছে। বুড়োটা ধীরে ধীরে একটি শক্ত সমর্থ লম্বা ছেলেতে পরিণত হল।যদিও প্রফেসর এসবের কিছুই খেয়াল করছেন না।তিনি খেয়াল করার মত অবস্থায় নেইও।বুড়োটি আসলে ছিল মারজিয়া স্পিনেটের বন্ধু সামারলান ম্যাডলার।অ্যারনদের ক্লাসমেট।যদিও কখনো ওর সাথে সেরকম কথা বলেনি ওরা।তারপরও মারজিয়ার চাপাচাপিতে ওদের রহস্যের ভেতরে আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।যদিও তাকে প্রথমে নিতে চায়নি অ্যারন,কিন্তু এখন নিজেই মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হল যে সামারলান না থাকলে কাজটা মোটেও সহজ হতনা।সামারলান একজন মেটামরফ। আকৃতি পরিবর্তনকারী।এলিসের মত সেও জন্মগতভাবেই এই ক্ষমতার অধিকারী। -"৩য় তলার সিংহের মূর্তিটার পেছনে।"প্রফেসর হিটর্ফ এর গলা শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে উনি এখুনি ঘুমিয়ে পড়বেন। -"সেখানে কিভাবে ঢুকবো?" -"মূর্তিটা পাসওয়ার্ড চাইলে বলবে,মেল্যানকোল ি।" হঠাত উনি টেবিল থেকে মাথা উঠিয়ে অ্যারন এর শার্টের কলার ধরে বললেন, -"মনে রাখবে...হিক...সেখানে তোমাকে সাহসের পরিচয় দিতে হবে।গাছটি তোমার পরীক্ষা নেবে।তাকে প্রশ্ন...হিক...করার জন্যে যে তুমি যোগ্য সে প্রমাণ তাকে দিতে হবে...হিক...বুঝেছ প্যারন মেথ্রেন্ডিল..., "উনার হাতের বাঁধন আলগা হয়ে গেলো।হাত ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে দুপাশে পড়ে গেলো।মাথাটা ভয়ানক ভাবে দুলছে। -"কি ধরনের প্রমাণ?স্যার??যদি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হই তাহলে কি হবে?স্যার??স্যা র???" ভয়ঙ্কর রকমের একটি হিক্কা তুলে প্রফেসর হিটর্ফ টেবিলে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-৪
→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-০১
→ "অন্য ভুবনঃলুসিয়ানার কার্স" পর্ব-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now