বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যাদুকরী রাজকুমারীর গল্প-01

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X বহু বহুকাল আগে,এক দেশে এক রাজা ছিল। তার ছিল বিরাট ঝলমলে রাজপ্রাসাদ, হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। বিরাট সৈন্যবাহিনী। দেশ জুড়ে ছড়ানো অজস্র সম্পদ। রাজার রাজত্বে প্রজারা খুবই সুখে ছিল। তারা দু'বেলা রাজার গুনগান করতো। রাজার ছিল তিন ছেলে। ঝকমকে তিন রাজপুত্তুর। তারা শাস্ত্র ও শস্ত্রশিক্ষা করে বড়ো হয়ে উঠছিল। ছেলেরা যখন বেশ বড়ো হয়েছে, রাজার রানী তাকে বললো, "এবার ছেলেদের বিয়ের বন্দোবস্ত করো। এরপরে তো এদের হাতেই দায়িত্ব দিয়ে আমাদের অবসর নিতে হবে প্রজাপালন থেকে।" রাজা বললেন, "তাই হবে। তবে তার আগে তাদের একটা পরীক্ষা নেবো আমি। তাদের ধনুর্বিদ্যার পরীক্ষা। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে তারা তিনজনে তীর ছুঁড়বে। যে মেয়ে যার তীর কুড়িয়ে পাবে, সেই মেয়েই হবে তার বৌ।" শুনে রানী একই সঙ্গে ভারী অবাক আর শঙ্কিত হল। এ তো পুরোপুরি ভাগ্যের হাতে ছেলেদের ছেড়ে দেওয়া! এইভাবে তাদের জন্য স্ত্রী নির্বাচিত হবে? কত কত রাজকন্যাকে দেখেশুনে ছেলেদের জন্য বৌ আনবেন ঘরে,তারা হবে রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী,তা নয়, এ কেমন উৎপেতে ব্যপার? তিনি রাজাকে এইধরনের অদ্ভুত্ পরিকল্পনা থেকে নিরস্ত করার অনেক চেষ্টাই করলেন, কিন্তু রাজা কিছুতেই শুনলেন না।খুবই একগুঁয়ে আর জেদী রাজা,একথা বলতেই হবে। তখন রানী এক গোপন বন্দোবস্ত করলেন। তিনি গোপণে বিভিন্ন রাজ্যের রাজকন্যাদের সংবাদ পাঠালেন যেন তারা ছদ্মবেশে তার মহলে আসে। রাজপুত্রদের তীরন্দাজির প্রতিযোগিতার দিন তিনি তাদের তীরছোঁড়ার অঞ্চল থেকে বেশ খানিকটা দূরে দূরে ছদ্মবেশে দাঁড় করিয়ে রাখলেন যাতে তীর এসে পড়লেই তারা ছুটে গিয়ে তুলে নিতে পারে। আর তাহলেই তো কেল্লাফতে। রাজপুত্তুরের বৌ হয়ে যাবে, কম কথা? ভাগ্যে থাকলে ভবিষ্যতে কোনোদিন রানীও হয়ে যেতে পারে। তিন রাজপুত্র প্রতিযোগিতার দিন সকালে নির্দিষ্ট স্থান থেকে তীর ছুঁড়ে মারলেন-বড়ো রাজপুত্র পুবের দিকে,মেজো পশ্চিমে আর ছোটো দক্ষিণে। তীরে রাজকীয় চিহ্ন আঁকা ছিল আর রাজপুত্রদের নাম লেখা ছিল। এরপরে তারা বাবার নির্দেশে ঘোড়ায় চড়ে চলল তাদের তীরের কি গতি হলো দেখতে। বাবা তাদের বলেছে,যে মেয়ে যার তীর তুলবে,সেই হবে তার স্ত্রী। বড়ো রাজপুত্র ঘোড়ায় চড়ে আশায় আশংকায় চললো পুবের দিকে। মাইলখানেক গিয়ে সে দেখতে পেল একজন সুন্দরী তরুণী তার তীর হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সে তাকে নিজের ঘোড়ায় তুলে নিয়ে রাজপ্রাসাদে ফিরলো। সে ছিল পাশের রাজ্যের রাজকুমারী। মেজো রাজপুত্র ঘোড়া নিয়ে পশ্চিমে চলতে চলতে মাইলদুয়েক গিয়ে দেখা পেল তার তীরের। এক রূপসী কন্যা তার তীর হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মেজো রাজপুত্র তাকে নিজের ঘোড়ায় তুলে নিল।রাজপ্রাসাদে ফিরতে ফিরতে সে তার কাছে জানতে পারলো যে সে চন্দ্রপত্তনের রাজকন্যা। ছোটো রাজপুত্র ইরাবান ঘোড়ায় চলেছিল দক্ষিণে। সে চলে আর চলে আর চলে। তীরের দেখা আর পায় না। মাইলের পর মাইল পথ পেরিয়ে তার ঘোড়া শ্রান্ত হয়ে পড়ে।সে গাছের ছায়ায় ঘোড়াকে একটু বিশ্রাম দিয়ে আবার চলে।অনেক অনেক পথ পার হয়ে সে এসে পৌঁছয় তরাইনের জলা অঞ্চলে। এখানে সে তার তীরের দেখা পায়।একটি ব্যাঙ,তার তীর মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। রাজপুত্তুর বলে," ওগো ব্যাঙ, আমার তীর ফেরৎ দাও, দয়া করে।" ব্যাঙ ঠিক মানুষের গলায় বলে,"ফেরৎ দিই, যদি তুমি আমায় বিয়ে করো।" রাজপুত্তুর শিউরে ওঠে। বিয়ে? এই কদাকার ব্যাঙকে? তা কিকরে সম্ভব? সে কাতর গলায় বলে," তোমায় আমি কেমন করে বিয়ে করবো? আমি যে মানুষ, তুমি যে ব্যাঙ!" ব্যাঙ অভিমানের গলায় বলে," তবে তোমার তীর নাহয় নাই ফিরে পেলে।" রাজপুত্র ব্যস্ত হয়ে বলে,"তীর যে আমায় ফিরে পেতেই হবে।" ব্যাঙ বলে," তাহলে আমায় তোমার বিয়ে করতেই হবে।" রাজপুত্র হতাশ হয়ে নিজের মাথার উষ্ণীষ খুলে পেতে দেয়। বলে,"ঠিক আছে, ভাগ্যে যখন আমার এই আছে। এই হোক তবে। এসো, এর ওপরে বসো। তোমায় প্রাসাদে নিয়ে যাই।" ব্যাঙ খুশী হয়ে বলে," তুমি বড়ো ভালো, রাজপুত্র। তোমার ভালো হবে, দেখো তোমার অনেক ভালো হবে।" রাজপুত্র ব্যাঙকে উষ্ণীষে মুড়ে কাঁধে নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে প্রাসাদে ফিরে আসে। পরদিন রাজা মহাসমারোহে তার তিন পুত্রের বিবাহ দেন। বড়োজনের সঙ্গে পাশের রাজ্যের রাজকন্যার, মেজোজনের সঙ্গে চন্দ্রপত্তনের রাজকন্যার আর ছোটোজনের সঙ্গে এই নামহীনা ব্যাঙের। সবাই ছোটো রাজপুত্র আর তার ব্যাঙ বৌকে নিয়ে হাসাহাসি আর ব্যঙ্গ করছিল। ছোটো রাজপুত্র দু:খে অপমানে মাথা নীচু করে ছিল। অনুষ্ঠান শেষ হলে সে ব্যাঙকে নিয়ে নিজের ঘরে চলে এলো। ঘরে এসে ব্যাঙটাকে মেঝেতে রেখে (ছুঁড়ে ফেলেনি কিন্তু, আস্তেই রেখেছিল, সে এমনিতে খুব সহৃদয় ছিল কিনা!) নিজে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে রইলো। ব্যাঙ থপ থপ করে লাফাতে লাফাতে এসে তার বালিশের কাছে উঠলো। বললো, "প্রিয় রাজপুত্তুর, আমার জন্যই তোমার এই হেনস্থা হলো। তুমি বরং আমাকে সাজা দাও।" ইরাবান হাত বাড়িয়ে তার ব্যাঙ বৌয়ের স্যাঁতসেতে গায়ে আলতো হাত বোলাতে বোলাতে কান্না চেপে বলে, "না না তোমার আর কি দোষ বলো। সবই আমার কপাল।" ব্যাঙ খুব নরম গলায় বলে,"তুমি খুব ভালো ইরাবান, তুমি খুব ভালো।" তারপরে রাজপুত্তুরের হাতের আঙুলের উপরে নিজের মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। রাজপুত্র ক্লান্তিতে ভেঙে ঘুমিয়ে পড়ে বলে টের পায় না যে সে ঘুমোলেই ব্যাঙ ছদ্মবেশ ত্যাগ করে হয়ে যায় এক অপরূপা রাজকন্যা। তার রূপের ছটায় ঘর আলো হয়ে যায়। বেশ কয়েক দিন গেছে কেটে। রাজা এবার ঠিক করেছেন তার বৌমাদের পরীক্ষা নেবেন। প্রথমদিন হবে তাদের রন্ধনের পরীক্ষা। তিনি তার প্রিয় পদটি রান্না করার নির্দেশ দিলেন বৌমাদের। পরদিন সকালে তিনি তা চাখবেন ও নম্বর দেবেন। শুনে তো ইরাবানের মাথায় হাত। দুই দাদা হাসতে হাসতে চলে গেল, সে মাথা নীচু করে চোখের জল চেপে ঘরে এলো। এসে সে বসেই আছে, কপাল টিপে ধরে, দেখে ব্যাঙ কাছে এলো। বললো," কি হয়েছে,রাজপুত্র?" রাজপুত্র টের পেয়েছে যে তার ব্যাঙ বৌ এমনিতে ভালো। তাই বললো," সে কথা শুনে আর কি করবে বৌ? যা হবার নয়,তা তো আর করতে বলতে পারিনা তোমায়।" "কি সে জিনিস,ইরাবান?" "বাবা তার প্রিয় পদটি রান্না করতে বলেছেন তার বৌমাদের। কাল সকালে তিনি তা খেয়ে দেখবেন কে কেমন রাঁধলো।তুমি তো মানুষ নও, ব্যাঙ, কিকরে তুমি রান্না করবে লুচি আর মাংসের ঝোল?" "এই কথা? এই জন্য তুমি ভাবছো এত? ভেবো না, ঘুমোতে এসো, দেখো রাত পোহালে সব ঠিক হয়ে যাবে। জানোনা, রাত পোহালে বুদ্ধি বাড়ে?" হতাশ ইরাবান ভাবে, না ঘুমিয়ে জেগে জেগে ভাবলেই কি আর সমস্যা সমাধান হবে? তার চেয়ে ঘুমোনোই ভালো। এই ভেবে সে তার ব্যাঙ বৌকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সে ঘুমোলেই ব্যাঙ ছদ্মবেশ খসিয়ে হয়ে যায় রাজকন্যা। বিছানা ছেড়ে জানালার কাছে গিয়ে সে ডাকে তার যাদুকরী সহকারিণীদের। রাত্রির আকাশে উড়ে উড়ে এসে পড়ে তারা। সে বলে, "সখীরা, তোমরা বানাও সেরা ময়দার সেরা লুচি আর বানাও লবঙ্গ এলাচ দারুচিনি দেওয়া চমত্কার মশলাদার মাংসের ঝোল। সঙ্গে বড়ো বড়ো আলু দিতে ভুলো না যেন।ঠিক যেরকম আমার বাবা, যাদুকর সম্রাট, উত্সবের দিনে খেতে ভালোবাসতেন।" কিছুক্ষণের মধ্যেই সখীরা সব তৈরী করে, সোনারুপোর পাত্রে রেখে রেশমী রুমাল ঢাকা দিয়ে আবার উড়ে যায় আকাশে। রাজকন্যা নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুম যায়। পরদিন সকালে যখন সে আবার ব্যাঙের বেশে,তখন ইরাবান ওঠে ঘুম থেকে।সে তো লুচি মাংসের ঘ্রাণে অবাক।রেশমী রুমালের ঢাকনা সরিয়ে ফুলকো ফুলকো লুচি দেখে তো সে প্রায় মেঝেতে পড়ে যায়।সত্যি সত্যি তার ব্যাঙ বৌ এইসব বানিয়েছে? সে মহানন্দে সব নিয়ে চললো রাজার কাছে।সেখানে অন্য রাজপুত্ররা তখন এসে পড়েছিল। প্রথমে বড়ো বৌমার হাতের রান্না চেখে দেখতে ঢাকনা খুললেন রাজা। লুচি তুলে ছিঁড়তে গেলেন, উ:, লুচি তো নয়, যেন চামড়া। কোনোক্রমে একটুকরো ছিঁড়লেন। তারপরে মাংসের ঝোলে ডুবিয়ে মুখে দিয়েই রাজা মহা খাপ্পা। এ কেমন ঠাট্টা! ঝোলে এতটুকু নুন নেই? রাজা রেগে বললেন," এ যা রান্না হয়েছে দশে চারও পাবে না। টেনেটুনে সাড়ে তিন।" অপ্রসন্নমুখে বড়ো বৌমার খাবার একপাশে সরিয়ে রেখে রাজা এবার মেজো বৌমার লুচিতে হাত দিলেন। এ লুচি যদিও একেবারে চামড়া নয়, তবু সেরকম উঁচুদরেরও নয়। এবার মাংসের ঝোলে লুচির টুকরো ডুবিয়ে মুখে দিয়েই বিষম খেলেন রাজা। নুনে একেবারে পোড়া! এ জিনিস খেতে পারে মানুষে? রাজা রেগে লালচে হয়ে বললেন, "এই নাকি রাজাকে খেতে হলো!এই রান্না দশে পাবে মোটে দুই।" রাজা হতাশ হয়ে ছোটো বৌমার খাবারের পাত্রের ঢাকনা সরালেন। এখানে লুচিগুলিকে দেখেই তিনি খুশী হয়ে উঠলেন। মুচমুচে ফুলকো লুচি। তিনি তুলে এক কামড় দিলেন। আহা, মুখে যেন অমৃতের স্বাদ। তিনি শুধু শুধু লুচিই খেয়ে নিলেন কয়েক কামড়। তারপরে মাংসের ঝোলের ঢাকনা খুলে খাবেন কি! সুগন্ধেই তো তিনি প্রায় বিবশ। তারপরে ধাতস্থ হয়ে লুচির খন্ড দিয়ে মুড়ে খানিকটা ঝোল আর মাংস খেলেন। একবার খেয়ে আবার খেলেন, আবার খেলেন। তারপর মুখ টুখ মুছে বলনে," হ্যাঁ, এই হলো প্রকৃত ভালো রান্না। রাজকীয় রান্না। বাবা ইরাবান, ছোটো বৌমার যদি এই রান্না হয়ে থাকে, তবে সত্যিই এর তুল্য আমি আর দেখিনি আমার সারা জীবনে। কত সময় কত দেশে গিয়েছি নিমন্ত্রণে আমন্ত্রনে উত্সবে অনুষ্ঠানে। খেয়েছি কতরকমের ভালো ভালো রান্না। কিন্তু এর তুল্য স্বাদ আমি আর কোথাও পাই নি আগে। শুধু একবার যাদুসম্রাটের দেশের উত্সবে নিমন্ত্রিত হয়ে প্রায় এইরকম জিনিস খেয়েছিলাম। ছোটো বৌমাই যদি এ জিনিস বানিয়ে থাকে সে দশে দশ পাবারই যোগ্য। বরং কয়েক নম্বর বোনাস পাবে, এক্সট্রা ক্রেডিট।" ইরাবান মাথা নীচু করেই দাঁড়িয়ে ছিল।তাই সে দেখতে পায় নি দাদারা তার দিকে কেমন হিংসুটে চোখে চেয়ে চেয়ে দেখছে। রাজা হাত নেড়ে বড়ো দুই ছেলেকে চলে যেতে বললেন। তারপরে ছোটো ছেলেকে কাছে ডেকে বললেন," খোকা, সেদিন তোকে নিয়ে সবাই অনেক ঠাট্টা ইয়ার্কি করেছিল। আমিও তো কোনো বাধা দিই নি ওদের।আমারও দোষ আছে। জানি তুই খুব কষ্ট পেয়েছিস। আজ তোকে আর তোর বৌকে ভালো ভালো উপহার দেবো। আর কষ্ট পাসনা, কেমন?" ছোটো রাজপুত্তুরের চোখে জল আসছিল। কিন্তু সে কোনোক্রমে সামলে নিয়ে বললো," না না, ঠিক আছে। সবই আমার কপাল। তোমার দোষ কেন হবে? তোমার কোনো ত্রুটি নেই। উপহার দিতে হবে না। আমার ব্যাঙ বৌ কি করবে উপহার নিয়ে? সে তো আর মানুষ নয়, ব্যাঙ মাত্র। আর আমারও কিছু চাই নে, এমনিই আমার অনেক আছে।" রাজা তার অভিমানী ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে ওর মাথার চুল ঘেঁটে দেন। জোর করে ওকে অনেক উপহার দেন। সোনার কুন্ডল, স্বর্ণহার, রেশমী কাপড়, ধাতুর তীর ও তূণ, কারুকাজ করা তীক্ষ্ণ তলোয়ার। ছোটো বৌমার জন্যও দেন স্বর্ণালংকার, রেশমবস্ত্র ইত্যাদি। ইরাবান সেসব নিয়ে হরিষে বিষাদে ঘরে ফিরে যায়। আরো কেটে গেছে বেশ কিছুকাল। রাজার আবার খেয়াল চাপলো বৌমাদের পরীক্ষা নেবেন। এবারে কী পরীক্ষা? এবারে নেবেন বৌমাদের শিল্পদক্ষতার পরীক্ষা। তিনি নির্দেশ দিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক পুত্রবধূকে তৈরী করে দিতে হবে সুন্দর রাজপোশাক। নির্দিষ্ট দিনে (এক সপ্তাহ পরে)তিনি তা পরে পরে দেখবেন ও নম্বর দেবেন। শুনে তো ইরাবানের মাথায় হাত। কি করে তার বেচারা ব্যাঙ বৌ বানাবে রাজপোশাক? দুই দাদা হাসতে হাসতে চলে গেল, যাবার সময় তাকে ছোট্টো করে একটু টিটকিরি দিতেও ভুললো না। ইরাবান কোনোরকমে টলতে টলতে, হোঁচোট খেতে খেতে নিজের ঘরে এলো। এসে সে বসেই আছে, আলো জ্বালে নি, কিচ্ছুনা, বসে বসে আকাশ পাতাল ভাবছে। মুখ তার রীতিমতো কালো হয়ে গেছে। ব্যাঙ তখন ঘরে ছিল না, ইরাবানের মহলের বাগানে ঘুরছিল। ঘরে ফিরে ইরাবানকে অন্ধকার ঘরে মাথা টিপে ধরে বসে থাকতে দেখে চমকে গিয়ে থপ থপ করে কাছে এলো।বললো," প্রিয় রাজপুত্র, কী হয়েছে? কেন তোমার মুখ শুকনো? চোখ বসে গেছে? কী হয়েছে আমায় বলো।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৫৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now