বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
আজকের রাতটা কেন জানি, অস্থীর অস্থীর লাগছে নীলের।বুকের
বামপাশটাতে ভালই ব্যাথা অনুভব করছে সে।কিছুক্ষন পর পর হাটাহাটি করছেন।
বলতে গেলে খানিকটা বিচলিত সে।রাত দুটো বেজে গেল, এখনো চোখে কোন
ঘুমের দেখা নেই??এইটা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে গেল সে।।ভাবলো, যায়
ছাদে গিয়ে ঘুরে আসি....আজকের আকাশের জোৎস্নাটা একটু অবলোকন
করে আসি...অনেকদিন হল, জোৎস্নাবিলাশ করিনি...
এইভেবেই কিছুক্ষণের ভিতরে ছাদে উঠে পড়ল নীল..হাতে একটা গরম কফির মগ, আর
একটা বেনসন সিগারেট। কফির সাথে সিগারেট খেতে অনেক ভালোই লাগে।
সিগারেটের ফ্লেভারটা পাওয়া যায়.. আর মাথাটাও হালকা হয়ে যায়.....
.
মগ হাতে নিয়েই জোৎস্নামাখা আকাশটা দেখে হতবাক হয়ে গেল... কি সুন্দর
আকাশ..চারদিকের পরিবেশ যেন অন্যরকমের.. ঝী ঝী পোকার একটু একটু শব্দ।।
বলতে গেলে অনেকদিনপরেই আজ ছাদে উঠছে নীল.. হুমায়ন স্যার চলে যাওয়ার পরে,
আর ছাদে উঠা হয়নি তার... কারণ স্যার চলে যাওয়ার পর জোৎস্নাবিলাশ
করতে মজা লাগেনা তার। কারণ হিমু হিমু ভাবটা যেন আসেনা তার...
.
কফিটা শেষকরে বেনশন সিগারেটটা ধরিয়ে ফুকফুক করে টানা শুরু করল সে।
আজকে সিগারেটের তেমন তৃপ্তি পাচ্ছেনা সে।কেমন জানি, কাশি আসছে।মনে হয়,
সিগারেটের মেয়াদটা শেষ।সিগারেটটা কিনেছিল, রহিম চাচার দোকান
থেকেই।রহিম চাচাও যেন কেমন জানি?? মেয়াদ চলে যাওয়া সিগারেট
রেখে দেয়...
.
খেতে খেতে হঠাৎ করেই শাপলার কথা মনে আসল নীলের। এই সিগারেট
নিয়ে একটা মজার ঘটনা আছে নীলের।নীলের এই বাজে অভ্যাসটা পছন্দ করত
না শাপলা...কারণ শাপলার বিশ্বাস ছিল,যারা সিগারেট খায়,তাদের মত খারাপ
মানুষ আর কেউ হতে পারেনা...নীলের এই বাজে অভ্যাসের কথা আগে থেকে জানত
না শাপলা...
.
.
একদিন ভার্সিটি ক্যাম্পাসের একটু বাইরে, টংগে বসে লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট
ফুঁকছিল সে।হঠাৎ পিছন থেকে দেখে যায় শাপলা।এই নিয়েই অনেক
কথা কাটাকাটিওও হয় দুজনের...
- তুমি সিগারেট খাচ্ছ কেন?
- মানে কি?? আমি সিগারেট খেলে তোমার সমস্যা কি?আমি তো নিজের
টাকা দিয়েই খাচ্ছি।
- তারপরেও তুমি খাইতে পারবেনা সিগারেট!! তোমার মত ভালো ছেলে এই ছাই
পাশ গুলো খেলে আমার খারাপ লাগে।।
- তোমার খারাপ লাগলে আমার কি?? আমিতো তোমার বন্ধুই।অন্যকিছু তো না....
.
সেদিন আরকিছু না বলেই কাঁদোকাঁদো চেহেরা নিয়েই বাসায় চলে গিয়েছিল
শাপলা।আর রাত্রে এই অপমানে নিজের বামহাতটা ব্লেট দিয়ে কেঠে ফেলল
সে...কারণ শাপলার সবচেয়েই কাছের বন্ধু ছিল নীল..নীলের এই কথায় তার অনেক
খারাপ লেগেছে।
.
পরেরদিন এই ব্যাপারটা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছিল নীল। এইটা কি রকম মেয়ে? আমার
সিগারেট খাওয়া নিয়েই ওর এত মাথাব্যথা কেন?খানিকটা বিব্রতবোধ
হয়ে নিজেকে প্রশ্ন করল সে..
.
যাইহোক সেদিন থেকেই সিগারেট খাওয়াটা কমিয়েই দিল সে।আর শাপলাও প্রমিস
করিয়েছিল যাতে আর সিগারেট না খাই.... !!!!
.
আজ শাপলার কথা খুবই মনে পড়ছে নীলের।আকাশের তারাগুলোকেও দেখতে খুব সুন্দর
দেখাচ্ছে। এইরকম রাত্রে সারারাত তাদের ফোনেই কথা হত...কখন
যে সকালটা হয়ে যেত, দুইজনেই টের পেতনা...
.
ছোটকাল থেকেই নীল খুব সাদাসিধে ছিল।স্কুল জীবনে কোন বন্ধুই ছিলনা।
কারো সাথে মিশতোনা তেমন।আবার যার সাথে মিশতো তার সাথে লেগেই
থাকতো..শুধুমাত্র একটাই বাজে অভ্যাস,মাঝেমাঝে বন্ধুদের সাথে সিগারেট খেত...
.
শাপলার সাথে নীলের পরিচয় কলেজ জীবনেই।একদিন কলেজের কোন এক
অনুস্টানে দুইজন একসাথে অভিনয় করেছিল..সে থেকেই
আস্তে আস্তে বন্ধুত্বটা গড়ে উঠে।ক্লাসের এক ব্যাচ জুনিয়র হলেও সবসময় কথা হত নীলের
সাথে।.
.
মাঝেমাঝে ঘুরতে যাওয়া, ক্ষানিকটা সময় খুনসুটি করা.. এইটাই ছিল ওদের
প্রতিদিনের ডেইলী রুটিং..শাপলাকে খুব ভালোবাসত নীল।ভালোবাসাটা অনেক
গভীর পর্য়ায়ে পৌছে গিয়েছিল যে, একদিন একছেলের সাথে ঝগড়াই লেগে গেল
নীলের।ছেলেটা শাপলে প্রপোজ করেছিল, আর সাথেসাথেই
ছেলেটাকে উত্তমমধ্যম দিয়েই বিদায় করল নীল...
.
উত্তেজিত হওয়ার কারণটা জানার চেষ্টা করল শাপলা।কেন ছেলেটাকে উত্তম মধ্যম
দিল নীল?সেদিনই মনের ভিতর জমানো না বলা কথাগুলো বলেই দিল নীল... কিন্তু
কোন কথারই জবাব না দিয়েই একটু মুচকি হেসে বাসায় চলে গেল শাপলা....
.
আসলে শাপলাও পছন্দ করত নীলকে।কিন্তু বলার সাহসটা হয়ে উঠেনি তার।
রাত্রে ফোনদিল নীল...
- কি হলো? কোনকিছু না বলে,চলে এলে যে?
- কি বলতাম?
- আমাকে কি ভালোবাসো?
- জানিনা......! হাসি দিয়ে...
- নাহ,আজ আমাকে তোমার মনের কথাটা বলতেই হবে...
- আজকেই বলতে হবে????
- হুম...
- আমার ভয় হচ্ছে খুব..
- আমি আছিতো পাশে।ভয় পেয়েও না, চোখ বন্ধ করলেই আমাকে দেখতে পাবে.।
- হ্যা, আমিও ভালোবাসি তোমায়..সারাজীবন পাশে থাকবে তো?
- হ্যা।...ছেড়ে যাবনা কোনদিন...
.
ভার্সিটি ক্যাম্পাসের দক্ষিন পাশে একটা খুব সুন্দর মাঠ আছে। মাঠের ঘাসগুলোর জন্যই
মনে হয় মাঠটাকে এত সুন্দর লাগে...।মাঠের একপাশে বসে আছে দুজন, নীল আর শাপলা...
আজকে কেন এত সুন্দর দেখাচ্ছে শাপলাকে তা ভেবেই পাচ্ছেনা নীল।কিছুক্ষনপর,
ভাবলো, হয়ত প্রেমে পড়ার পর থেকেই এত সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে।আজ শাপলার
পরণে একটা নীল জামা।এই জামাটার জন্যই হয়ত এত সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে।।
.
দিনে দিনে সম্পর্কটা আরো গভীরে যাচ্ছে।প্রতিদিন দেখা করা, রিকশায়
করে ঘুরতে যাওয়া... আসলে ঢাকা শহরে প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার
আলাদা একটা আনন্দ আছে।সে কারণেই হয়ত সবাই রিকশা নিয়ে ঘুরে।।
.
কয়েকমাস পর, নীলের মোবাইলে একটা মেসেজ আসে...মেসেজটা ছিল শাপলারই...
.
দেখো, বাসা থেকে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।ছেলে কানাডা থাকে।
সেইখানেই স্যাটেল... বিয়েরপর আমাকে সেইখানে নিয়ে যাবে বলছে।কিন্তু
আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবোনা।আগামীমাসের ৭ তারিখ বিয়ে।তুমি কিছু
একটা করো....
.
মেসেজটা পেয়ে কোন উত্তরই দিলনা নীল।বুঝতে পারছেনা সে কি করবে?
শাপলাকে তো ভুলতে পারবেনা সে।আর দুই পরিবারেও সম্পর্কটা মানবেনা।আর
ওকে নিয়ে পালিয়ে যাবো নাকি??
নাহ, পালাতে পারবনা।কারণ তাতেই মা-বাবা খুব কস্ট পাবে।ওদের কষ্ট
দিয়ে জীবনেও সুখী হতে পারবোনা।ছাদে সিগারেট হাতে দাড়িয়ে এইসবই
ভাবছে নীল.....
.
কাল শাপলার সাথে দেখা করার কথা নীলের।নীল বুঝতে পারছেনা সে কি করবে??
কিভাবে তাকে বুঝাবে,আর নিজেকেই বা কি করে বুঝাবে... শেষ পর্যন্ত
কি ভাগ্যটা বিধাতার হাতে তুলে দিয়ে ছাদ থেকে বাসায় চলে গেল নীল...
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now