বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নির্ঘুম

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arman hossain (০ পয়েন্ট)

X ------------------------- নির্ঘুম ------------------------- আরমান হোসেন ------------------------- -------- ১ -------- করিম সাহেবের লাশটা ঝুলছিলো তার বাড়ীর পাশের কড়ই গাছে। কি বিভৎস দৃশ্য! তার গায়ে একটা সুতো পর্যন্ত নেই। কি নৃশংসভাবেই না তাকে খুন করা হয়েছে! তার গলার কাছ থেকে পেট পর্যন্ত একটা লম্বা কাটা দাগ। দেখে মনে হয় কেউ যেন জিপার খোলার মত করে তার বুকটা ফেঁড়ে দিয়েছে। যে দেখছে লাশটা সেই ভীমরি খাচ্ছে। এমন দৃশ্য কি চোখে দেখা যায়? তারপরও লাশ দেখতে অনেকেই এসে ভিড় জমিয়েছে। এই খুনে চারদিকে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। একজন সৎ পুলিশ অফিসার যদি এভাবে খুন হয় তাহলে সাধারন মানুষের আর নিরাপত্তা কোথায়? চারপাশে বিস্তর সাংবাদিক এসে হাজির হয়েছে। সবাই পটাপট ছবি তোলায় ব্যস্ত। কাল সকালেই সংবাদ শিরোনাম হবে এই খুনের খবর। এদিকে পুলিশ এবং গোয়েন্দারা পড়েছেন বিপাকে। তারা ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কিন্তু খুনি খুবই ধুরন্ধর প্রকৃতির। কোন প্রমান রেখে যায়নি সে। এমনকি একটা আঙ্গুলের ছাপও না। তবে দারোগা মতিন আলী ঠিকই বুঝতে পারছেন যেই এই খুনটা করেছে তার মনে নিশ্চই অনেক ক্রোধ ছিল করিম সাহেবের জন্য। নয়তো এমন নৃশংসভাবে খুন করার কোন কারনই খুঁজে পাননা মতিন আলী। আলামত সংগ্রহ শেষ করে বের হতেই ঘটনার তদন্তের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত গোয়েন্দা রায়হান হোসেনকে সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরলেন। সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে তার দিকে, কিন্তু তিনি কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই গাড়ীতে উঠে গেলেন। -------- ২ -------- আজ সকালে যে ক্লাসটা হপয়ার কথা ছিলো সে ক্লাসটা বাতিল হয়ে গেছে। পরের ক্লাস শুরু হতে আরো ঘন্টাখানেক বাকি। তাই মাঠের এককোনায় ঘাসের উপর বসে একটা উপন্যাসের পাতা উল্টাচ্ছে তানিয়া। এমন সময় সে দূর থেকে দেখলো অরন্য আসছে। অরন্য তার বন্ধু। খুবই ভাল বন্ধু। মাত্র তিনমাস হলো তাদের পরিচয় হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই তাদের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অরন্যও দূর থেকে তানিয়াকে দেখেই তার দিকে এগিয়ে আসছে। একটু পরেই অরন্য তানিয়ার পাশে বসে তানিয়ার দিকে না তাকিয়েই বললো, -- কি ব্যাপার তানিয়া? সকালের ক্লাসটা কি বাতিল করলো নাকি? তানিয়া কোন জবাব না দিয়ে অরন্যের দিকে তাকালো। কেমন যেন একটা অগোছালো ভাব রয়েছে অরন্যের মাঝে। চুলগুলো হালকা এলোমেলো, চোখে গোল ফ্রেমের ভারী চশমা, খোঁচা খোঁচা দাড়িতে তাকে কেমন যেন রহস্যময় মনে হয়। আর এই কারনেই তানিয়া অরন্যকে ভালবেসে ফেলেছে। হ্যা, তানিয়া অরন্যকে ভালবাসে। এখনে এই কথাটা সে অরন্যকে বলেনি। সামনেই ভালবাসা দিবস। আর তানিয়ার ইচ্ছা সেইদিনই অরন্যকে সে তার মনের কথা খুলে বলবে। -- কি ব্যাপার তানিয়া কথা বলছো না কেন? অরন্যের কথায় সম্বিৎ ফিরে পেলো তানিয়া। -- ও হ্যা, ক্লাসটা আজকে আর হবেনা। কোন কারণ বসত আজ ক্লাসটা বাতিল করা হয়েছে। -- দূর এটা কোন কথা হলো? ক্লাসটা করার জন্য এত তাড়াহুড়ো করে ছুটে আসলাম। এখন কি করা যায় বলতো তানিয়া। পরের ক্লাস শুরু হতে এখনো তো প্রায় ঘন্টাখানেক বাকি। -- কি আর করবে? এখানেই বসে থেকে কাটাতে হবে। আচ্ছা অরন্য একটা কথা জিঞ্জেস করি? কিছু মনে করোনা কিন্তু। -- কি এমন কথা জিঞ্জেস করবে শুনি? -- বিশেষ কিছু না। মানে বলছিলাম যে তুমি তোমার প্রায় সব কথাই আমাকে বলেছো, কিন্তু তুমি কোথায় থাকো এই কথাটা কিন্তু এখনো আমাকে বলোনি। এই কথাটা শুনে মুহুর্তেই অরন্যের চোখদুটো জ্বলে উঠলো। কিন্তু সে নিজেকে যথাযথ সংযত রেখে বললো, -- দেখো তানিয়া, আসলে বিশেষ একটা সমস্যার কারনে আমি কোথায় থাকি এই কথাটা বলতে পারছি না। তবে একদিন অবশ্যই জানতে পারবে। -- আসলে আমার জানার তেমন কোন ইচ্ছে নেই। এমনি বললাম আরকি। চলো অরন্য, ক্যান্টিনে গিয়ে বসা যাক। এখানে বসতে ভাল লাগছে না। -- (মৃদু হেসে) ঠিক আছে চলো। তারা দুজন উঠে ক্যান্টিনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো। দুজনকে দেখলেই মনে হয় এদের দুজনের সৃষ্টিই হয়েছে একে অপরের জন্য। -------- ৩ -------- রায়হান হোসেন তার অফিসে বসে আছেন। তার মাথার ভেতর একটা কিছু খেলা করছে। করিম সাহেবের খুনের তদন্তের ভার পড়েছে রায়হানের উপর। এই খুনটা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড়। এমন একজন সৎ পুলিশ অফিসার এভাবে খুন হওয়ায় সাধারন জনগন বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছে। তাছাড়া দশ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও এই খুনের কোন ক্লু এখনো বের করতে পারেনি গোয়েন্দা বিভাগ। তাই রায়হানের উপর চাপটা আসছে একটু বেশিই। রায়হান করিম সাহেবের বাসার প্রায় সকল প্রানিকেই জেরা করেছে। কিন্তু কোন আশার আলো খুঁজে পায়নি। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, যে এই খুনটা করেছে সে খুব ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। এবং অনেকদিন যাবত সে করিম সাহেবের উপর নজর রেখেছে। করিম সাহেব কখন কোথায় যায়, কি করে সবই বোধহয় খুনি জানতো। আর এটাও হয়তো জানতো যে করিম সাহেব প্রতিদিন রাত ঠিক ১২ টায় তার নিজ হাতে তৈরি করা বাগানে পায়চারি করতো। আর এই সুযোগটাই খুনি ব্যবহার করেছে। করিম সাহেবের দুটো জার্মান কুকুর ছিল। কুকুর না বলে বাঘ বললেই ভাল। একেকটার আয়তন বাঘের চেয়ে কোন অংশে কম না। কিন্তু খুনের দিন এই কুকুর দুটোও মারা যায়। নিশ্চই খাবারের সাথে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। এসব ভাবতে ভাবতেই রায়হানের ঝিমুনি ভাব চলে এলো। গত দুইদিন সে ভাল করে ঘুমাতে পারেনি। তাই সে ধীরে ধীরে তার চেয়ারে হেলান দিয়ে পা দুটো টেবিলের উপর উঠিয়ে দিয়ে নাক ডাকতে শুরু করলো। তবে তার আগে পিয়নকে বলে দিল যে, কেউ যেন তাকে দুই ঘন্টার মধ্যে বিরক্ত না করে। -------- ৪ -------- তারিখ ১২/১২/১৩ ইং। দিবাগত রাত ১২.৩৮ মিনিট। রবিন তার বন্ধু কবিরের বাড়ী থেকে বের হচ্ছে। কবিরের সাথে আড্ডা দিতে দিতে কখন যে এতো রাত হয়ে গেল তা রবিন বুঝতেই পারেনি। যদিও এত রাতে বাড়ী ফিরলে কেউ তাকে কিছু বলবে না। আসলে বড় লোকের একমাত্র সন্তান হলে যা হয় আরকি। রবিনের বাবার টাকা পয়সার অভাব নেই। যার ফলে রবিনেরও টাকা খরচ করতে কোন সমস্যা হয়না। বাবা মার অাদর পেয়ে পেয়ে রবিন একেবার উচ্ছন্নে গেছে। গাঁজা, ইয়াবা, মদ এমন কোন কিছুই সে বাদ রাখেনি। তার বন্ধুগুলোও তার মতো। তবে রবিনের খুব খারাপ একটা নেশা আছে। অার তা হচ্ছে নারীর নেশা। প্রতি মাসে অন্তত দুইজন মেয়ের সতিত্ব নষ্ট করতে না পারলে রবিনের চলেই না। কোন কোন মেয়ে হয়তো নিজেই রবিনের কাছে এসে ধরা দেয়, আর যারা ধরা দেয়না তারা ধর্ষিত হয়। এমনকি একবার এক মেয়েকে রবিন খুনই করে ফেলেছিল। খুনের পরে ওই মেয়ের লাশটা সিমেন্টের বস্তায় ভরে বুড়ি গঙ্গায় ফেলে দেয়া হয়। কেউ এই খুনের ঘটনা জানতে পারেনি। কবিরের বাসা থেকে কিছুটা দূরেই রবিন তার গাড়িটা পার্ক করেছিল। কবিরের বাড়ি থেকে বের হয়েই রবিন একটা সিগারেট ধরিয়ে, গুনগুন করতে করতে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। মাত্রই সে গাড়ির দরজার হাতল ধরেছে, এমন সময় পেছন থেকে কেউ একজন তাকে নাম ধরে ডাক দিলো। কে ডাক দিলো তা দেখার জন্য রবিন ঘুরতে যাবে, তার আগেই একটা শক্তিশালী ঘুষি এসে রবিনের চোয়ালে আঘাত হানলো। ঘুষিটা এতই জোরে লেগেছে যে, রবিন চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলো। এবং কয়েক মুহূর্ত পরই রবিন মূর্ছা গেল। যখন রবিনের চোখ খুললো তখন সে কোথায় আছে বুঝতে পারলো না। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা। একটু পর সে বুঝতে পারলো যে একটা ছোট ঘরের এক কোনায় একটা চেয়ারে হাত পা বেধেঁ তাকে বসিয়া রাখা হয়েছে। তাকে খালি গায়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। মুখটাও কাপড় দিয়ে বাধা রয়েছে। কিন্তু আশেপাশে কাউকে দেখতে পেল না সে। তার চোয়ালটা এখনো ব্যাথায় টনটন করছে। হঠাৎই কেচ কেচ শব্দে দরজাটা খুলে গেলো। একজন মানুষ ঘরের ভিতর এলো। এবং মানুষটাকে দেখেই চিনতে পারলো রবিন। এতো তাদেরই ব্যাচমেট...........। ছেলেটার পিঠে একটা ছোট ব্যাগ। সে ঘরে ঢুকে রবিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। রবিন কিছু একটা বলতে চায়। কিন্তু তার মুখ তো বাঁধা। - কি ব্যাপার রবিন? চিনতে পারছো আমায়? বলে উঠলো ছেলেটা। হ্যা রবিন চিনতে পারছে ছেলেটাকে। কিন্তু ও রবিনকে এখানে কেন ধরে এনেছে? - আচ্ছা রবিন মতিগঞ্জের লাবনির কথা মনে আছে? আবারো বললো ছেলেটা। মতিগঞ্জের লাবনির নাম শুনেই মুহূর্তে রবিনের চোখদুটো বিস্ফোরিত হলো। এই ছেলেটা লাবনির কথা জানলো কি করে? - তোমার চোখ দেখেই বুঝতে পারছি যে লাবনির কথা তোমার মনে আছে। আচ্ছা তুমি লি জানো কেনো তোমাকে এখানে ধরে এনেছি? নাহ রবিন জানেনা কেন তাকে এখানে আনা হয়েছে। তবে রবিনের মনে খারাপ কোন কিছুর আভাস দিচ্ছে। - আমি তোমাকে আবারো লাবনির কাছে পাঠাতে এসেছি। এই পৃথীবিতে হয়তো তুমি শাস্তি পাওনি। তবে ওই পৃথীবিতে তুমি তোমার পাপের শাস্তি পাবেই। এ কথা বলেই ছেলেটা তার পিঠের ব্যাগটা থেকে একটা চোখা শিকের মতো কিছু একটা বের করেই রবিনের বাম পাঁজরে ঢুকিয়ে দিল। রবিন চিৎকার করে উঠলো। কিন্তু তার মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দই বের হয়নি। -- মনে আছে তোর? কিভাবে কষ্ট দিয়ে তোরা লাবনিকে মেরেছিলি? তোকে আমি তেমন কষ্ট দিয়ে মারবো না। কারন লাবনি তোর জন্য পরপারে অপেক্ষা করছে। একথা বলেই ছেলেটা রবিনের চোয়ালে আবারো একটা ঘুষি ঝাড়লো। এবার এক মুহুর্ত দেরি না করে রবিন অন্ধকারে তলিয়ে গেলো। ---------- ৫ ---------- রজব আলী পেশায় টোকাই। প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সে তার কাজে বের হয়। আজও তার ব্যাতিক্রম নেই। সকালের নাস্তা না খেয়েই সে বেরিয়ে পড়লো। বাইরে তখনো একটু অন্ধকার অন্ধকার ভাব রয়েছে। কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পর সে দেখলো দূরে একটা গাছের ডালে কি যেন ঝুলছে। ইদানিং রকব আলী চোখে কম দেখে। তাই কি ঝুলছে সেটা সে বুঝতে পারলো না। তাই কি ঝুলছে দেখার জন্য সে আরে কাছে এগিয়ে গেল। গিয়েই সে একেবারে পাথরের মতো জমে গেল। একটা মানুষের লাশ পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। লাশটার গলা থেকে পেট পর্যন্ত ফাঁড়া। এমন দৃশ্য দেখেও রকব আলী নিজেকে শান্ত রাখলো। তারপর তার কাঁধের বস্তা ফেলে সে দৌড় দিয়ে কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘটনাস্থলে অনেক লোক জড় করতে সমর্থ হলো। লাশটার গায়ে একরত্তি সুতোও নেই। এমন দৃশ্য কি চোখে দেখা যায়? সকাল ৮টায় পুলিশ চলে এলো। সেই সাথে কয়েকজন সাংবাদিকও। পুলিশ এসে প্রথমে লাশটা নামালো নিচে। কোন সন্দেহ নেই যে পুলিশ অফিসার করিম এবং এই খুনের ঘটনা একে অপরের সাথে জড়িত। পুলিশ অাসার ঘন্টাখানেক পর গোয়েন্দা অফিসার রায়হান ঘটনাস্থলে এলেন। লাশ দেখে তিনি বুঝতে পারলেন যে এই মৃত দেহের উপর দিয়ে মোটামুটি ভালই অত্যাচার গিয়েছে। এবারো পুলিশ কোন প্রমান বা ক্লু বের করতে পারলো না। রায়হান হোসেন মনে মনে চিন্তিত। এই খুনের কিনারা করতে না পারলে হয়তো তার চাকরিটাই যাবে। কে বা কারা করছে এই খুন? আর তাদের উদ্দেশ্যটাই বা কি? কিছুই মাথায় ঢুকছে মা রায়হানের। এদিকে সাংবাদিকরাও একের পর এক প্রশ্নের তীরে বিদ্ধ করছো পুরো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনিকে। আরো প্রায় ঘন্টাখানেক পর খবর পাওয়া গেল যে প্রখ্যাত শিল্পপতি জনাব মতিউর রহমানের একমাত্র ছেলে রবিনই খুন হয়েছে এখানে। এই খবর মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়েছে রায়হানের জন্য। জনাব মতিউরের সাথে অনেক বড় বড় মন্ত্রির পরিচয় আছে। এবার যে তার উপর পর্বতপ্রমান চাপ আসবে এ ব্যাপারে রায়হান নিশ্চিত। ---------- ৬ ---------- আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবস। তানিয়া দাঁড়িয়ে আছে টিএসসির সামনে। আজ সে অরন্যকে মনের কথা খুলে বলবেই। সবাই বলে মেয়েদের বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না। কিন্তু তানিয়ার বেলা এই উক্তিটি খাটে না। সে আজ মেয়ে হয়েও অরন্যকে প্রপোজ করবে। অরন্য এলো একটু পরে। তার পরনে হলুদ পাঞ্জাবি। হিমু হিমু একটা ভাব রয়েছে আজ তার মধ্যে। তানিয়ার কাছে এসেই অরন্য তাকে একটা লাল গোলাপ উপহার দিল। এবং সেটা বন্ধুত্বের প্রতিক হিসেবে। -- অরন্য আজ তোমাকে একটা অতি জরুরি কথা বলতে চাই। -- কি কথা বলো? -- অনেকদিন ধরে বলবো বলবো করেও বলতে পারিনি। তবে আজ আমাকে বলতেই হবে। -- ( হালকা হেসে) কি কথা বলে ফেলো। পেটে কথা রাখলে পেটে গন্ডগোল দেখা দিতে পারে। -- অরন্য, তোমার কি মনে আছে সেইদিনের কথা যেদিন তোমার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল? -- হ্যা মনে আছে। কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন? -- সেদিন প্রথম দেখায় আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি তোমাকে ভালবাসি অরন্য। জানিনা তুমি বিষয়টা কিভাবে নেবে। তানিয়ার এ কথা শুনে অরন্যের হাসি হাসি চেহারাটা মূহুর্তে কালো হয়ে গেলো। সে হয়তো এটা আশা করেনি। -- না তানিয়া এটা সম্ভব না। আমাকে তুমি ভালোবেসে ভূল করেছো। আমাকে তোমার জীবনের সাথে জড়িয়ো না তুমি। -- কিন্তু কেন অরন্য? কি দোষ আমার? -- তোমার কোন দোষ নেই। তবে এই সম্পর্ক কখনো হতে পারেনা। একথা বলেই অরন্য হনহনিয়ে হাঁটতে লাগলো। তানিয়ার আর কোন কথা শোনার ইচ্ছা অরন্যের নেই। এদিকে তানিয়া দাঁড়িয়ে নিরবে তাকিয়ে আছে অরন্যের চলার পথের দিকে। কিন্তু তানিয়া জানেনা, কি কারণে অরন্য তাকে অবহেলা করে চলে গেছে। তানিয়া হয়তো বুঝতেই পারেনি কি এক কঠিন সত্য অপেক্ষা করছে তার জন্য। ---------- ৭ ---------- রানা বড় ধরনের এক অাতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রানা কিছুদিন অাগে খুন হওয়া রবিনের খুব কাছের বন্ধু। রবিন খুন হওয়ার পর থেকেই রানা কেমন যেন একটু বদলে গেছে। তার খাওয়া আগের থেকে কমে গেছে, ঘুমও কমে গেছে অনেকটা। কিন্তু এর কারণটা কাউকে খুলে বলছে না রানা। রানার বাবা মা ছেলের এমন অবস্থায় কিছুটা চিন্তিত। তারিখ ১৬/০২/১৪ ইং। রাত ১১ টার চেয়ে একটু বেশি। রানা তার ঘরে শুয়ে অাকাশ পাতাল চিন্তা করছে। তখনই ফোন আসে তার সদ্য পটানো প্রেমিকা জেসমিনের। রানা ফোনটা ধরলো না। ফোনটা কেটে দিয়ে সে ফিরতি কল দিলো। কিন্তু তার ফোনে টাকা ছিলোনা। যার ফলে সে ফোন দিয়ে পারছে না। এদিকে জেসমিন বারবার কল দিচ্ছে, কিন্তু রানা ফোন ধরছে না। কারন তার ধারনা মেয়েরা ফোন দিলে সে ফোন ধরতে নেই। ধরলে নাকি মেয়েরা ছেলেদের প্রতি রেগে যায়। এর ফলে সম্পর্কে ফাটল ধরে। রানা তার বালিশের নিচ থেকে একশো টাকা বের করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লো। তাদের বাসাটা একটা গলির শেষ মাথায়। গলি থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা রিচার্জের দোকান আছে। রানা তারই উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো। বাসা থেকে বের হয়ে মাত্র বিশ গজের মত রাস্তা সে পার করেছে, এমন সময় পেছন থেকে খুব শক্ত কিছু দিয়ে কে যেন তার মাথায় অাঘাত করলো। মূহুর্তে রানা চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলো। রানা গভীর ঘুমে অচেতন। তার ঘুম ভাংগলো চেহারায় পানির ছোঁয়া পেয়ে। কেউ যেন তার মুখে পানি পারছে। রানা চোখ খুলে তাকলো। কোথাশ আছে বুঝতে পারছে না সে। তবে সে তার মাথায় একটা চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করছে। -- কি ব্যাপার রানা? মাথায় আঘাতটা খুব জোরেই লেগেছিল মনে হয়। কেউ একজন কথা বললো রানার সাথে। কে? কে কথা বলে? রানা চোখে ষ্পষ্ট কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। সবকিছুই কেমন যেন ধোঁয়া ধোঁয়া। -- কিরে রানা? চোখে দেখছিস না মনে হয়। থাক তোকে দেখতে হবে না। শুধু শুনতে থাক। রানা কথা বলতে গেল। কিন্তু তার মুখ যে বাঁধা। -- গত দশ দিন হলো তোর বাসার সামনে ঘাপটি মেরে বসে ছিলাম। কিন্তু তুইতো মনে হয় তোর মৃত্যুর কথা টের পেয়েছিলি। কিন্তু কথায় আছে চোরের দশদিন আর গৃহস্তের এক দিন। আজ তোর জীবনের শেষ দিন রানা। মৃত্যুর জন্য তৈরি হয়ে যা। হ্যা রানা ঠিকই তার খুনের ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিলো। তাই করিম এবং রবিনের মৃত্যুর পর রানা সাবধান ছিল। কিন্তু আজকের এই একটা ভুল তার জন্য কাল হলো। রানা মরতে প্রস্তুত। কারণ যে অপরাধ রানা এবং রবিন করেছিল তার শাস্তি এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে? রানা শেষবারের মত তার খুনির চেহারা দেখতে চেষ্টা করলো। কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ধারালো কিছু একটা তার বাম পাঁজরে ঢুকে গেছে। ---------- ৮ ---------- গত দুই মাসে রায়হান হোসেনের বয়স অনেক বেড়ে গেছে। দেখলে মনে হয় তার বয়স চল্লিশ। কিন্তু আসলে তার বয়স এখন উনত্রিশ বছর। এই দুইমাসে রায়হানের উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। ধকল না বলে সুনামি বললে কোন অংশে কম হবেনা। একে তো করিম সাহেবের মত পুলিশ অফিসারের মৃত্যু, তার উপর কোটিপতি বাবার একমাত্র ছেলে রবিনের খুন। উপর মহলের চাপে একেবারে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে গেছে রায়হান। কিন্তু এত চাপেও কোন লাভ হয়নি। কারন যে এই খুনগুলো করেছে সে খুব বুদ্ধির সাথেই করেছে। খুন করেও কোন প্রমান সে রেখে যায়নি। রাত ২.৪৫ মিনিট। রায়হান তার ইজিচেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছে। হঠাৎই বিকট শব্দ করে তার ফোনটা বেজে উঠলো। রায়হান ধড়মড় করে উঠে বসলো। মোবাইল হাতে নিয়ে দোখলো। একটা অপরিচিত নাম্বার। খানিকটা ইতস্তত করে রায়হান ফোনটা ধরলো, -- হ্যালো কে বলছেন? -- স্যার নাম বললে চিনবেন না। তবে আপনার সাথে জরুরি কথা আছে। -- কি কথা আছে জলদি বলুন। -- স্যার, করিম সাহেব এবং রবিনের খুনি কে তা আমি জানি। এই কথা শুনে রায়হান লাফিয়ে উঠলো। -- কি? কে খুন করেছে? কি নাম তার? কোথায় থাকে? -- স্যার এত কথা বলে লাভ নেই। আসামিকে হাতেনাতে ধরতে চাইলে এখুনি পুলিশ নিয়ে চলে আসুন। -- কোথায়? কোথায় আসতে হবে? ঠিকানা বলো। -- ঠিকানা আমি আপনার ফোনে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি চলে আসুন। নয়তো পালিয়ে যেতে পারে। রায়হানের হাত পা কাঁপছে। এমন একটা খবর পাওয়ার পর এমন হওয়াই স্বাভাবিক। তবে যে খবরটা দিয়েছে সে ভুয়া খবরও দিতে পারে। কিন্তু তারপরও সেখানে যাওয়া দরকার। হতেও পারে যে খবরটা দিয়েছে সে রায়হানের কোন সোর্স। রায়হান থানায় ফোন করেছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ফোনে ঠিকানা চলে এলো। রায়হানের এলাকা থেকে একটু দূরেই জায়গাটা। প্রায় ত্রিশ মিনিট পর পুলিশ সহকারে রায়হান পৌছে গেল জায়গামত। বাড়ির ঠিকানা মিলিয়ে দেখলো প্রথমে। হ্যা ঠিকানা এইটাই। নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনি বাড়ি ঘেরাও করলো। তারপর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ দরজায় ভাঙ্গার জন্য তৈরি হলো। কাঠের দরজা, কয়েকটা ধাক্কা দিতেই ছিটকিনি ভেঙ্গে গেল। হুড়মুড় করে ঘরের ভিতর ঢুকে গেলো কয়েকজন পুলিশ। ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে সবাই হতবাক। অাবছা অন্ধকারে তারা দেখলো, ঘরের মেঝে রক্তে ভেসে আছে। মাটিতে একজন মানুষ পড়ে আছে। আর ঘরের কোনায় অারেকজন মানুষ দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। কোন নড়াচড়ার লক্ষন নেই। দেয়ালে হেলান দেয়া মানুষটার দিকে সবাই একসাথে বন্দুক তাক করলো। মানুষটা নড়াচড়া করছে না মোটেও। টর্চের আলো জ্বেলে দিল একজন। একজন যুবক দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে আছে। চোখদুটো বন্ধ, চোয়াল ঝুলে পড়েছে। পুলিশের মধ্য থেকে একজন অতি সন্তর্পনে এগিয়ে গেলে যুবকের দিকে। কাছে গিয়ে অাস্তে করে ধাক্কা দিল তার গায়ে। সংগে সংগে মাটিতে পড়ে গেলো সে। তাহলে কি এই ছেলেও সেই খুনির পাল্লায় পড়েছে? হ্যা দেয়ালে হেলান দিয়ে থাকা ছেলেটিও মারা গেছে। আর মেঝেতে পড়ে থাকা মানুষটাও মৃত। সেই একইভাবে খুন করা হয়েছে তাকে। গলা থেকে বুক পর্যন্ত ফাড়া। ---------- ৯ ---------- ' আমি মাজেদুল ইসলাম অরন্য। দেশের বাড়ি নাটোরের মতিগঞ্জ গ্রামে। আপনি যখন আমার এই ডায়রিটা পড়ছেন তখন হয়তো আমি রানা নামের এক পশুর লাশের পাশে বিষ পান করে পড়ে আছি অথবা হয়তো হাসপাতালের মর্গে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে পড়ে আছি। হ্যা, আমিই করিম, রবিনে এবং রানার হত্যাকরি। সুস্থ মস্তিস্কে এবং বুঝে শুনেই আমি এদের খুন করেছি। আপনার মনে হতে পারে যে আমি কেন এদের খুন করলাম। আপনাকে আর কষ্ট দেবো না। কারনটা আমি খুলে বলছি। এ ঘটনার সুত্রপাত আজ থেকে তিন বছর আগে। আমি তখন নাটোরে আমার নিজ গ্রামে থাকতাম। বাবা মা অনেক আগেই মারা গিয়েছিল। আমি বড় হয়েছি আমার মামার বাড়িতে। আমি তখন নাটোরের কোলাটিয়া কলেজে পড়তাম। আমাদের গ্রামের এক মেয়ের সাথে আমার প্রেম ছিলো। ওর নাম ছিল লাবনি। আমাদের এই সম্পর্ক ছিলো প্রায় তিন বছর আগের। লাবনিকে আমি জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসতাম। ভারী মিষ্টি মেয়ে ছিল লাবনি। আমার অনেক খেয়াল রাখতো। প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি ওর সাথে নদীর পাড়ে বসিয়ে কাটিয়ে দিতাম। আমরা আমাদের ভবিষৎ নিয়ে কথা বলতাম। একটা ছোট ঘর, আমি আর লাবনি, একটা দুষ্টু সন্তান এই ছিলো আমাদের স্বপ্ন। দিন আমাদের ভালই কাটছিল। হঠাৎ আমাদের গ্রামে এসে হাজির হলো রবিন এবং রানা নামের দুই ছেলে। তারা ছিল আমাদের গ্রামের মোড়লের আত্মীয়। তারা গ্রামে এসেই নানা রকম আজেবাজে কাজ করতে লাগলো। গ্রামের কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েদের টিটকারি দেওয়া, যাকে তাকে ধমকানো, প্রকাশ্যে নেশা করা ছিল তাদের প্রতিদিনের কাজ। মোড়লের আত্মীয় বলে কেউ কিছু বলতো না। সারারাত জেগে পড়ার ফলে একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলো। ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়িতে কোন মানুষের আনাগোনা নেই। সবাি কোথায় গেছে বুঝতে পারলাম না। আমি রাস্তায় বের হতেই পবন এর সাথে দেখা। পবন আমার সাথে পড়তো। ও আমাকে দেখেই বলে উঠলো '' খবর শুনেছিস মাজেদ? ওপাড়ার লাবনি খুন হয়েছে। কে বা কারা যেন তাকে ধর্ষন করে তারপর গলায় রশি পেঁচিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে গেছে।" একথা শোনার পর মনে হলো ১০০০০ ভোল্টের শক খেলাম। পবন এসব কি বলছে? কাল বিকালেও তো লাবনি আমার সাথে ছিলো। তাহলে কি পবন মজা করছে? নাকি সত্যি সত্যি? নাহ আর ভাবতে পারছিলাম না। মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। আমি তখনই লাবনিদের বাড়ীর দিকে রওনা হলাম। হাঁটছি আর মনে মনে দোয়া করছিলাম যেন এটা সত্যি না হয়। কিন্তু লাবনিদের বাড়ীর কাছে আসতেই দেখি তাদের বাড়ীতে পুলিশ এবং অনেক মানুষের অানাগোনা। আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম। যখন চোখ খুললাম তখন আমি নিজের বিছানায় শুয়ে আছি। বর আমার পাশে আমার মামি আর মামা বসে আছে। তারা আমাকে অনেক কথাই জিজ্ঞেস করলো। কিন্তু কোন কথাই আর কানে গেল না। তখনই মনে পড়লো যে লাবনিকে তো শেষ দেখা দেখা হয়নি। আমি বিছানা ছেড়ে উঠেই দৌড় দিলাম তার বাড়িতে। কিন্তু ততক্ষনে লাশ পুলিশে নিয়ে গেছে। তারপর কয়েকদিন খুব এলোমেলো ভাবে কাটলো আমার। কে কে এই খুনের সাথে জড়িত তা জানার জন্য পুলিশ উঠে পড়ে লেগেছিল। কিন্তু কোন কিনারা করতে পারেনি। এভাবে প্রায় ছয় মাস কেটে গেলো। আমার লাবনির খুনিরা ধরা পড়েনি। এদিকে রবিন ও রানা চলে গেছে গ্রাম ছেড়ে। গ্রামের অনেকেই এই দুইজনকে সন্দেহ করেছিল। কিন্তু কোন প্রমান পাওয়া যাইনি। তারপর অামাদের থানার পুলিশ অফিসার করিম য়ে কিনা এই খুনের কিনারা করার জন্য অনেক তৎপর ছিলো সে থানা থেকে বদলি হয়ে ঢাকা চলে গেলো। আর এর মধ্যেই আমার লাবনির খুনের ঘটনা মাটিচাপা পড়ে গেলো। কিন্তু কিছুদিন পর এমন একটা খবর আমি পেলাম যা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলো। গ্রামের এক অতি সাধারন ছেলে থেকে আমি হয়ে উঠলাম খুনি। সেদিন আমি কালামের চা দোকানে বসে আছি। এমন সময় আমাদের থানার কনস্টেবল ইকবাল চাচা চা দোকানে বসলো। খুবই অমায়িক মানুষ। সে আমাকে চা দোকানে এভাবে মনমরা হয়ে বসে থাকতে দেখে হয়তো আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরেছিল। কারন একমাত্র তিনিই আমার আর লাবনির সম্পর্কের কথা জানতো। - মাজেদরে, মন খারাপ করিস না। সবই উপর ওয়ালার ইচ্ছা। আমি তোর মনের অবস্থা বুঝি রে। কিন্তু কি করবি বল? বর্তমানে টাকার কাছে সবকিছু বিক্রি হয় রে। নয়তো এমন শক্ত প্রমান থাকার পরও খুনিরা কিভাবে বেঁচে যায় বল? আমি চমকে উঠলাম। কি বলছে এসব ইকবাল চাচা? কিছুই মাথায় ঢুকছে না। - কি বলছেন চাচা? কিছুই তো বুঝতে পারছি না আমি। তখন ইকবাল চাচা আমাকে অাড়ালে নিয়ে আমাকে এমন কিছু কথা বললো যা শুনতে আমি মোটেও তৈরি ছিলাম না। রবিন এবং রানা আমার লাবনিকে খুন করেছে? রবিন এবং রানার বাবা অনেক বড়লোক। তাদের অনেক উপর পর্যন্ত হাত ছিল। তাই অফিসার করিম এই কথা জেনেও সব চেপে গেছে। কারন সে মোটা অংকের টাকা এবং ঢাকায় বদলি হওয়ার সুবিধা পেয়েছিল। এসব শুনে মাথা নষ্ট হয়ে গেলো। তখনই ঠিক করলাম এর বিচার আমি নিজ হাতে করবো। আমার লাবনির মৃত্যুর প্রতিশোধ আমি নেব। এরপর আমি আমার জমানো টাকাগুলো নিয়ে ঢাকা চলে আসি। ঢাকা আসার পর আমি খুঁজে বের করি এই তিনজনকে। আমি অনেক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি, কারন আমার লাবনির খুনিরা তো এখনো জীবিত। আজ আমি ঘুমাবো স্যার। শান্তির ঘুম ঘুমাবো। কারন আজ যে আমার লাবনির আত্মা শান্তি পেয়েছে।" রায়হান ডায়রি টা বন্ধ করলো। অরন্যের ঘর তল্লাশি করে কিছু কাপড় চোপড় আর এই ডায়রিটা পেয়েছিল পুলিশ। অরন্যের জন্য খারাপ লাগছে রায়হানের। একটা অপরাধ যে কিভাবে একজন সাধারন গ্রাম্য ছেলেকে এতটা হিংস্র বানাতে পারে তা রায়হান বুঝতে পারলো। ঘড়ির দিকে তাকালো রায়হান। রাত তিনটা। ঘড়ি থেকে চোখ ফিরাতেই রায়হান চমকে উঠলো। তার সামনে ডায়রির পাতা থেকে লেখাগুলো উঠে যাচ্ছে। এবং সেই লেখাগুলো অাস্তে অাস্তে মানুষের আকার ধারন করে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। দুইজন মানুষ, একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে। হয়তো এরা দুইজন রায়হান আর লাবনি। হয়তো এতদিনের নির্ঘুম জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে আজ লাবনির বুকে মাথা রেখে ঘুমাবে অরন্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নির্ঘুম সেই রাতটি
→ নির্ঘুম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now