বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বই পড়ার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই। যখন চতুর্থ কি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। সেই সময় বাচ্চাদের পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিনোদনের জন্য কোন বই পাওয়া যেত না। এখন আমাদের সন্তানরা জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই হাতের কাছে পাচ্ছে পড়ার উপযোগী অজস্র বই, ভিডিও গেমস, কম্পিউটার আরও কতো কি। আমাদের বিনোদন বলতে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ। যেহেতু বই পড়ার নেশা তাই বড়দের বইয়ের প্রতিই আকৃষ্ট হতাম বেশী। যেমন মাসুদ রানা, দস্যু বনহুর এই ধরনের বই। পড়ার নেশা, বই পাবো কোথায় ? টাকা দিয়ে কিনার সমর্থ ছিল না। থাকলেও পারিবারিক ভাবে সমর্থন পাবো না। আমার বাবা মাও চাইবেন না তার সন্তান এই বয়সে এই ধরনের বই পড়ুক।
আমরা যেখানে বসবাস করতাম তাকে শহর বলা চলে না বলতে গেলে ছোট্ট খাট একটা থানা শহর। ঐ অঞ্চলে আমাদের পরিবারের প্রভাব এবং প্রতিপত্তি ছিল বেশ। আমার দাদা, বাবা-চাচাদের মানুষ সন্মান ও সমীহ করেই চলত। আমাদের এই ছোট্ট শহরে ‘আদর্শ পাঠাগার’ নামে একটা পাঠাগার ছিল। শুধু বড়দের জন্য। ছোটদের প্রবেশাধিকার ছিল না। পারিবারিক সুবাদে পাঠাগারটিতে আমি যেতে পারতাম। কিন্তু বই পরতে বা আনতে পারতাম না। প্রতিদিনই পাঠাগারে যেতাম বই দেখতাম, হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম আর মনে মনে ভাবতাম কি করে বই নেওয়া যায়। একদিন দুপুরে পাঠাগারে ঢুকে দেখি কোন পাঠক নাই, লাইব্রেইয়ান কাকা ঝিমুচ্ছে।আমাকে দেখে কাকা বলল- কি খবর বাপজান ?
আমি বললাম- কিছু না কাকা, একটু বই টই দেখতে আসলাম। ঠিক আছে দেখ, বলে কাকা আবার ঝিমুতে শুরু করলো। যে আলমারিতে মাসুদ রানা, দস্যু বনহুরের বইয়ে ঠাসা ছিল আমি সেই আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং বই নাড়াচাড়া করতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম কি করে বই নেওয়া যায়। নেওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে মাসুদ রানা প্রথম খণ্ড বইটা আমার পেটের সামনে হাফ প্যান্টের ভিতর গুজে শার্ট দিয়ে উপরে ঢেকে দিলাম। আর কিছুক্ষণ বই নাড়াচাড়া করে কাকাকে বললাম- কাকা যাই। কাকা এসো বাবা, বলে আবার ঝিমুতে লাগল। পাঠাগার থেকে বের হয়ে মনের আনন্দে বাসায় আসলাম। বইটাকে এমন এক জায়গায় রাখলাম যেন কেউ দেখতে না পায়। রাতে পাঠ্য বইয়ের নিচে রেখে পরব বলে আনন্দের আর সিমা ছিল না সেদিন। তখন থেকেই আমার চৌর্য বিদ্যা শুরু। পরা শেষ হয় লাইব্রেরিতে যাই আর বই চুরি করি।
পাঠক, ভাববেননা চুরি করি বলে অন্য কিছু চুরি করি। শুধু বই ছাড়া। যখন আমার বই কেনার সমর্থ হয়েছে তখন থেকে আর করি না। আমার সবচাইতে বেশী সখ বই কেনা, বই পড়া। এখন আমার আলমারি ভর্তি বই। কেউ আমার বাসায় আসলে যাদের বই পড়ার সখ তারা চাইলে দেই। দেওয়ার সময় বলি ভাই আমার সব কিছু নিয়ে যান কিন্তু বই পড়ে ফেরৎ দিয়েন। মাঝে মাঝে আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে মনে মনে ভাবি আর বলি-
‘হায়রে বই এক সময় তোকে পড়ার জন্য চুরি করতাম, এখন তুই আমার হাতের নাগালে’।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now