বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
......
- তুই যে এমন একটা কাজ করবি আমি ভাবতেই পারিনি। (মা)
- কেনো মা? (আমি)
- আবার জিগাস করছিস কেনো?
- বাদ দাও তো।
- তুই বিয়েটা কেনো ভাঙলি বলতো?
- মা কেনো ভেঙেছি সেটা তুমি তো জানোই।
- তোকে আমার সেই লেভেলের থার্ড ডিগ্রী দিতে মন চাচ্ছে। জানিস নুসরাত মেয়েটা কত সুন্দর?
- ধুরর মা মেয়ে যতই সুন্দর হোক না কেনো গুন না থাকলে কেউ পাত্তা দেয় না।
- ঐ চুপ হারামি...কত ছেলে ওর জন্য পাগল,,আর তুই কি না তার সাথে সরাসরি বিয়ে ভেঙে দিলি?
- মা রাগ উঠে যাচ্ছে কিন্তু? মেয়ে সুন্দরী যতই হোক না কেনো গুন না থাকলে কি পূজো করবো আমি তার? আর সেও জানে তুমিও জানো কেন বিয়েটা ভেঙেছি।
.
আর কোনো কথা না বলে মায়ের চোখের দিকে তাকালাম। চোখ গরম করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভয় পেয়ে সোজা বের হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আসলে গতকাল রাতের ঘটনা। আমি বিয়ে মোটে করবো না,,তবুও মায়ে জ্বালায় করতে হচ্ছে। আর বলেও দিছি যে সুন্দরী মেয়ে একদমই দেখতে না যেতে আমার জন্য। কিন্তু কে শোনে কার কথা? গতকাল বিকালে..
- নিলয়?
- কি মা?
- চল মেয়ে দেখে আসি।
- ওহ,,তবে জানো তো মেয়েটা যেনো সুন্দর না হয় আর গুনোবতী যেনো হয়। তবে সুন্দর হলেও গুন থাকা চায়।
- উফ তুই বলবি তোর এই গুন,,আর সুন্দরী মেয়েতে এত এলার্জি কেনো?
- মা সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে ভয় বেশি। কারন তারা স্বামীদের পাত্তা দেয় না,,সব সময় দৌড়ের উপর রাখে এবং অন্য জায়গায় ইটিশ পিটিশ করে।
আর যদি কোনো গুনই না থাকে তবে সুন্দরের জ্বালায় আর স্যান্ডেলে পা ই ঢুকাবে না।
- ওরে শয়তান ছেলে..
- মা বাবা কি শয়তান ছিলো কোনো দিন?
- মানে?
- না মানে একটা কথা আছে না বাপকা বেটা? আর তুমি তো রোজই বলো আমি বাপের মতই হয়েছি। তাই বাপ কি আগে কোনো শয়তান ছিলো নাকি? নাকি শয়তান গ্রুপের সদস্য ছিলো?
কোনো কথা না বলেই কান ধরে আমাকে টানতে টানতে মেয়ের বাসায় নিয়ে গেলো। আর যাওয়ার সময় বারবার বলেই যাচ্ছে মেয়ের বাসায় যেনো কোনো পাকামো না করি।
.
।।
.
মেয়েদের বাসায় মানে নুসরাত দের বাড়িতে এসেছি। মেয়ে দেখা হয়ে গেছে, কিন্তু আমার মুখটা ভোতা হয়ে গেছে। এ মেয়ে এত সুন্দরী ক্যারে? আবার কোনো গুন আছে কিনা সেটাও জানিনা। এ বিয়ে করতে পারবো না।
সবাই যখন ফাইনাল কথা বলছিলো বিয়ের ব্যাপারে তখনি আমি লজ্বার মাথা খেয়ে বললাম,,
- আমি মেয়ের সাথে আলাদা একটু কথা বলতে চাই।
সবাই একটু অবাক হয়ে রাজি হয়। কিন্তু মায়ের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম পাকামো করেছিস তো মরেছিস।
নুসরাতের রুমে ঢুকলাম।
- আমাকে বিয়ে কেনো করছেন মি.? (নুসরাত)
- মানে?
- আমি এ বিয়ে করবো না।
- আচ্ছা একটা কথা বলেন তো?(আমি)
- কি?
- আপনি কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করতে পারেন?
- নাহ..
নুসরাতের হাতটি খপ করে ধরে সবার সামনে গেলাম তখনি। সবাই পুরো অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। হয়ত নুসরাত ও আছে।
- এ বিয়ে হবে না। (আমি)
- মানে? (নুসরাতের মা)
- ঐ বাবু কি বলিস এগুলো? (আমার মা)
- কেনো হবে না (নুসরাতের বাবা)
- এ মেয়ে কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করতে পারে না তাই এ বিয়ে হবে না।
যে মেয়ে কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করতে পারে তাকে নির্ধিদায় বিয়ে করা যায়। বাট একে আমি করছি না।
কথাটি বলেই চলে এসেছিলাম। পরের কাহিনীটা সবার জানা।
.
অফিস থেকে বাড়িতে আসলাম সন্ধ্যার দিকে।
- নিলয়?
- কি মা?
- নুসরাতের সাথে তোর বিয়ে হবে ফাইনাল।
- কিহহ? কি বলছো এগুলা? অফিস থেকে আসতে পারলাম না তার আগেই শুরু করে দিলা?
- নুসরাতের সাথেই বিয়ে দেবো দেখি কে আটকায়।
খাইছেরে। মা তো রেগে আগুনের দলা হয়ে গেলো। আর মা রেগে গিয়ে যা বলে তাই করে।
ঠিক তখনি বুঝলাম আমার কপালে শনি আছে। কিন্তু আমি তো এ বিয়ে করবোই না। কারন যদি নুসরাত বিয়ের পর পালাই আর কাচ্চি বিরিয়ানি না রান্না করে তাহলে আমার কি হবে?
(দুই দিন পর)
ছুটির দিনে বাড়িতে বসে ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান খেলছি। তখনি নুসরাত আমার রুমে ঢোকে।
আমি তো দেখে অবাক।
- আরি আপনি এখানে?
- এই নিন..
হাত এগিয়ে একটি প্লেট দিলো।
- কি আছে এটাতে?
- ঢাকনা খুলেই দেখুন।
ঢাকনা খোলার আগেই নাকে আসলো কাচ্চি বিরিয়ানির গন্ধ। আহহহ কি সেন্ট। ঢাকনা খুলেই খেতে শুরু করলাম কোনোদিক না তাকিয়েই।
- বাহ বাহ..আমার ছেলেটা তো দেখছি ভালো হয়ে গেছে।
খাওয়া বন্ধ করে সামনে তাকিয়ে দেখি। মা শয়তানি হাসি দিচ্ছে। তখনি মনে পড়লো আমার বাবা কি আসলেই শয়তান ছিলো নাকি কোনো কালে?
- মানে?
- কাচ্চি বিরিয়ানি আর আনবো? (মা)
- হুমম আনো আনো..
কথাটি বলেই আবার খাওয়াতে ডুবে গেলাম।
- তাইলে নুসরাত কে বিয়ে করছিস?
- হুমম..... কিহহহ? না না..
- ঐ শয়তান না মানে?
- এ বিয়ে হতে পারে না।
- কেনো রান্না ভালো হয়নি? (নুসরাত)
- মানে?
- আম্মুই তো সব প্লান করে দিছিলো..যে আপনাকে ইম্প্রেস করতে হলে কাচ্চি বিরিয়ানি দরকার আগে। তাই দুইদিন আগে রান্না শিখতে হল।
মায়ের দিকে আড়চোখে তাকালাম। মা যে একটা ঘসেটি বেগম এর মত কাজ করবে ভাবিনি।
- আচ্ছা সব ঠিক আছে কিন্তু আপনি বিয়ে করতে রাজি হলেন কেন?
- আপনার উপর রাগে। কারন আমি এমন একটা সুন্দরী..যার জন্য ছেলেরা উলটা যৌতুক দিতে রাজি আর আপনি কিনা এই সামান্য কাচ্চি বিরিয়ানির জন্য আমাকে অপমান করলেন?
ঐ জানেন..আমি কত ছেলেকে আমাকে বিয়ে করার জন্য ভাগিয়েছি?
তাই আপনার উপর রাগ করেই আপনাকে বিয়ে করতে চাই। বিয়ের পর খালি কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়াবো। দেখি কত খাইতে পারেন?
"আমি কোনো কথা না বলে মায়ের দিকে রাগি ভাব নিয়ে তাকিয়ে আছি। মা তখনি চলে গেলো।
সুতরাং বিয়েটা এই মেয়েকেই করতে হচ্ছে। তবে সে ভুল..
নুসরাত জানেই না আমি কত কাচ্চি বিরিয়ানি খাইতে পারি। কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়াতে আমি রোজ ওয়ার্ল রেকর্ড করি (স্বপ্নে) সেতো আর জানে না।
কিন্তু কথা হল গিয়ে এই আবার কারো সাথে বিয়ের পর ইটিশ পিটিশ করবে না তো?
করলে করবে..তার আগে রান্ন ঘরে রেখে রেখে কালি বানাবো ওরে..
যাই এখন কাচ্চি খাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now