বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদ্ভুদ ভালবাসা।

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X খুব সকালে অনুপের ঘুম ভাঙ্গল এক অদ্ভুদ সপ্ন দেখে। হাতের কাছেই ঘড়ি রাখা, কিন্তু সময় দেখতে ইচ্ছে করছে না তার। আজ সে পুজাকে সপ্ন দেখেছে। অনেক দিন পর পুজাকে নিয়ে সপ্ন দেখায় মনটা ভাল লাগছে। অনুপ বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল পৌনে সাতটা বাজে। আজ তার ছুটির দিন তাই কোন তাড়া নাই। অনুপের ভাবতে অবাক লাগছে মাত্র তিন বছর আগেও পুজার জন্য সে পাগল ছিল। কতো পাগলামো না সে করেছে। পুজা ও অনুপরা পাশাপাশি ফ্লাটে থাকত। তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল সিঁড়িতে। অনুপ তখন ভাবতে পারেনি সে বিবাহিতা। প্রথম দর্শনেই পুজাকে তার ভাল লাগে। অপলক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে পুজার চেহারা বিরক্তিতে ভরে উঠলো। দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গেল, তারপরও মনে হয় এইতো সেদিনের কথা। কতো কিছুই না পরিবর্তন হয়ে গেছে এই তিন বছরে। মানুষের মন খুব জটিল। হঠাৎ অনুপের মাথায় পাগলামি চেপে বসলো পুজাকে তার পেতে হবে। কি অর্থে পেতে চায় সে নিজেও জানে না। কিন্তু যে অর্থেই হোক পুজাকে পেতে হবে তার। মেয়েরা বোধহয় ছেলেদের পাগলামোর কাছে হার মানে, পুজা যেমন মেনেছিল। অনুপ হঠাৎ চেয়ে দেখল নিলয় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ছেলেটা খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠে। ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল গুডমর্নিং। তার মুখের দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছিল অনুপের। সারাদিন একা একা বাসায় থাকে। ছুটির দিন অনুপ চেষ্টা করে নিলয়কে সময় দিতে। অবশ্য তাকে দেখাশুনা করার জন্য একজন গভর্নেস রেখেছিল। একদিন পাশের ফ্লাটের ভাবির কাছে শুনল সে অফিসে যাওয়ার পর বাসায় বিভিন্ন লোকজন আসা যাওয়া করে। এরপর কোন প্রশ্নই আসে না কাউকে রাখার। আশ্চর্য ব্যাপার এত কিছু দেখার পরও নিলয় কিছু বলেনি তাকে। খুব কম কথা বলে ছেলেটা। ঠিক তার মার মতো। অনুপের আবার পুজার কথা মনে পরে গেল। সেদিন ছিল ১৮ই শ্রাবণ। কালো মেঘে অন্ধকার হয়েছিল আকাশটা। অনুপ যখন পুজার বেডরুমে ছিল তখন প্রায় একটা বাজে। এ সময় অবিনেশের আসার কথা না। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। কলিংবেলের আওয়াজ শুনে অনুপের শিরদাঁড়া বেয়ে হিমেল স্রোত বেয়ে গেল। পুজা দরজা খুলে দেখল অবিনেশকে। এক মুহূর্ত সময় লাগল না অবিনেশের ব্যাপারটা বুঝতে। তার স্ত্রীর দিকে শীতল চোখে একবার তাকিয়ে অনুপের দিকে তাকাল তারপর চলে গেল ভিতরের রুমে। অনুপ অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে তার বাসায় চলে আসলো। আসার পর থেকে অনুপের মনে হোল ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ভাবতে ভাবতে অনুপ ঘুমিয়ে পরলো। প্রচণ্ড হৈচৈ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা পুজাদের বাসার দিকে ছুটে গেল। অনুপ ভাবতেও পারেনি ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে তার জন্য। ভীর ঠেলে অনুপ ভিতরে ঢুকে দেখল নিলয় বসে তাকিয়ে আছে বাবা মার মেঝেতে পরে থাকা নিথর দেহের দিকে। আজও ঘন কালো মেঘ করে বৃষ্টি পড়ছে। সে দিনের কথা অনুপ মনে করতে চায় না আর। আজ পুজাকে সপ্নে দেখেছে তাই মনটা খুব ভাল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now