বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তেঁতুল গাছের রহস্য

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X রাত ১১ টা বেজে ৪ মিনিট। আমি বাজারে একলা দাঁড়িয়ে আছি। কোথাও কোন মানুষের সারশব্দ নেয়, চারিদিক নিস্তব্ধ। আমি ভাবছি বাসাই কী ভাবে যাবো গ্রামে রাত ১০ টা মানে অনেক রাত। সবাই এখন যার যার ঘরে ঘুমে ব্যাস্ত, মনে হয় শুধু আমি একজন জেগে আছে। অবশ্য জেগে থাকার কারণও আছে। আজ গেছিলাম আমার এক বন্ধু ভাইয়ের বিয়তে। তাঁর বাড়ি আমাদের গ্রামে, তবে একটু দূরে আছে। তাঁর বাসা থেকে খাওয়া দাওয়া করে আসতে আসতে ১১ টা বেজে গেছে, অবশ্য আমাকে থাকতে বলেছিল কিন্তু আমি থাকি নি, কারণ কারো বাড়িতে থাকলে আমার ভালো লাগে না। আমার জন্য আমার বাসাই সবসময় বেস্ট। কিন্তু তাদের বাসা থেকে আসার সময় তেঁতুল গাছটার কথা মনে ছিল না যখন বাজারে আসলাম তখন মনে পরলো সেই রহস্যময় তেঁতুল গাছটার কথা। এখনও কেউ জানে না তেঁতুল গাছটার রহস্য, কয়েকবছর আগে নাকি তেঁতুল গাছটা ছিল না। তেঁতুল গাছটা একটা টিলার মতো স্থানের পাশে রয়েছে সেটা পেরিয়ে আমাকে আমার বাসাই যেতে হবে। . কয়েকবছর আগের ঘটনা, একদিন খুব সকালে এক কৃষক মাঠে যাচ্ছিল চাষ করতে। হঠাৎ দেখল রাস্তার ধারে একটা টিলার পাশে একটা তেঁতুল গাছ দাঁড়িয়ে আছে। ওনি জানেন এখানে কোন তেঁতুল গাছের নিশানাও ছিল না, কারণ ওনি প্রতিদিন সেই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করেন। ওনি তেঁতুল গাছটা দেখে বিষণ ভয় পাই। তিনি সেই দিন আর মাঠে যান নি, গ্রামের সবাইকে ডেকে এনে তিনি তেঁতুল গাছটা দেখাই ছিল। সবাই তেঁতুল গাছটা দেখে খুব অবাক কারণ তাঁরা জানতেন এখানে কোন তেঁতুল গাছ ছিল না। তাই তারা এই তেঁতুল গাছ সম্পর্কে জানতে খুব আগ্রহি হন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাঁরা অনেক কিছু করেও জানতে পারলো না এই তেঁতুল গাছে কোথায় থেকে এসেছে। এই তেঁতুল গাছ নিয়ে অনেক ঘটনাও গঠেছে। একদিন এক লোক না কী এই তেঁতুল গাছ থেকে একটা ঢাল ভেঙ্গে নিয়ে গেছিল। সেদিন রাতে না কী থাকে স্বপ্নে দেখায় যে সে যেখান থেকে ঢালটা ভেঙ্গে এনেছে সেখানি গিয়ে ঢাল আবার লাগিয়ে দিতে। তিনি জানেন ঢালটা আর লাগানো সম্ভব না, তাই তিনি আর ঢালটা লাগিয়ে আসে নি। সেদিন থেকে ওনি অসুস্থ হয়ে পরেন, এমন ভাবে অসুস্থ হন তাঁর অসুখ কোন ডাক্তার ধরতে পারি নি। একসময় তিনি মারা যান, অনেকের ধারণা ওনি মারা যান তেঁতুল গাছটার কারণে। আবার অনেকে না কী এই তেঁতুল গাছের ওপর ঠিক প্রতি রাতে ১২ টাই ভূতের মতো কাউকে দেখেছেন। এই ঘটনা ঘটার পর গ্রামের সবাই তেঁতুল গাছটা কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তেঁতুল গাছটা যে কাটতে যাই সেই অসুস্থ হয়ে মারা যাই। এই রকম মারা যাওয়া দেখে গ্রাম বাসিরা ভয় পাই এবং তেঁতুল গাছটি আর কাটে না। এগুলা শুনছিলাম গ্রামের মানুষের মুখে কিন্তু আমি কখনও দেখি নি এই রকম কোন কিছু। কিন্তু আজ মনে হয় দেখতে হবে। . এখন ১১ টা বেজে ৪০ মিনিট। তার মানে ১২ টা বাজার আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি। আর বাজার থেকে আমাদের বাড়িতে যেতে লাগে ২০ মিনিট। তাইলে আজ আমি দেখব সেই তেঁতুল গাছের ভূত গুলোকে। এই কথা ভাবতেও ভয়ে আমার বুকের ভিতর ধক ধক করতে থাকে। আমি উঠে দাঁড়ালাম। হাঁটতে লাগলাম বাড়ির উদ্যেশ্যে আমি এক পাঁ সামনে বাড়াচ্ছি, আর প্রতি কদমে আমার হার্ট বির্ট এক এক করে বেড়ে যাচ্ছে। . আমি দাঁড়িয়ে আছি সেই রহস্য ময় তেঁতুল গাছটার কয়েক হাঁত দূরে, ১২ টা বাজতে আর ২ মিনিট বাকি। এই সময়ে এটা পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব না। মনের ভিতর বিষণ ভয় কাজ করছে না জানি আজ কী হয়। হয়তো আজ আমার জীবনের শেষ দিন। আমি বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি। হঠাৎ হেন্ড ওয়াচটা একটি শব্দ করে ওঠল তার মানে ১২ টা বেজে গেছে। আমি তারা তারি তেঁতুল গাছটার দিকে তাকালাম। যা দেখলাম আমার তো হার্ট ফিল করার অবস্থা। কারণ তেঁতুল গাছটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনেক বড় কেউ একজন তিনি অনেক লম্বা সারা গায়ে সাধা কাপড়, মাথায় একটা সাধা কাপড়ের পাগড়ি। ওনাকে দেখে যত দূর মনে হল ওনি কোন ভূত না। কারণ ভূতদের মাথায় পাগড়ি থাকে না। মনে হল ওনি একজন বুজুর্গ, আল্লার অলি। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখান থেকে না পারছি সামনে যেতে না পারছি পিছনে ফিরে যেতে। ভয় আমার গলা শুকিয়ে গেছে। ওনাকে দেখে যা মনে হল ওনি আমার কোন ক্ষতি করবে না। তাই আস্তে আস্তে সামনের দিকে পাঁ বাড়ালাম। গাছটার কাছা কাছি আসতেই তিনি বলে ওঠলেন, -- ভয় পেও না আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না। তুমি কে আমি জানি এবং কোথা থেকে এত রাতে আসছ সেটাও জানি, আর তুমি ভয় পাচ্ছা সেটাও জানি।(খুব শান্ত কন্ঠে ওনি বললেন) ওনার কথা শুনে শস্তী ফিরে পেলাম। আর অবাক হচ্ছি তিনি আমার সম্পর্কে এত কিছু জানেন কী করে। মনের ভিতর ভয়টা এখনও কাটে নি। আমি অবাক দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকালাম। -- অবাক হবার কিছু নেই আমি সব কিছু জানি, (ওনি বললেন) আমি ভাবছি ওনি হয়তো একজন বুজুর্গ ব্যাক্তি তাই এত কিছু জানেন। ওনার কথা বার্তায় বুঝা যাচ্ছে ওনি কারো ক্ষতি করবে না। তাই মনের ভয়টা এবার একটু একটু করে কেটে যেতে লাগল। আমি ভাবছি আজ পর্যন্ত কেউ ওনার সাথে দেখা বা কথা বলতে পারে নি। আজ আমি কী না ওনার সাথে কথা বলতে পারছি। ভাবলাম আমি যখন প্রথম দেখলাম তখন গাছটার রহস্যটা ওনার কাছ থেকে জেনে নিয়। তাই স্বাভাবিক হয়ে ওনাকে বললাম, -- আচ্ছা এই গাছটি কোথা থেকে এসেছে আপনি আমাই একটু বলবেন?(আমি) -- জানতে চাও? তাইলে শুন, একটা নিশ্বাস নিয়ে ওনি বলতে শুরু করলেন, " আমরা এর আগে ছিলাম ভারতের এক ছোট্র মুসলিম গ্রামে। তখন আমরা এখনকার মতো প্রতিদিন রাত ১২ টাই আল্লার ইবাদত করতাম। সেখানকার মানুষ রাত ১২ টা পর্যন্ত বাইরে থাকত। প্রতিদিন ওরা আমাদের দেখত এবং ভয় পেত। তাঁরা আমাদের ভয়ে পথচলাচল করে পারতো না। আর আমরাও বুঝাতে পারি নি যে আমরা ওদের কোন ক্ষতি করব না। ওরা কোন দিন আমাদের সামনে আসে নি দূর থেকে দেখলে ভয়ে চলে যেত। তাই তাঁরা সেখানকার এক সর্দার কে বললেন। সর্দার গাছটি কেটে আমাদের তাড়িয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যারা গাছটির কোন ক্ষতি করবে বা ক্ষতি করতে আসবে তাঁরা সবাই অসুস্থ হয়ে মারা যাবে। কারণ গাছটি কোন সাধারণ তেঁতুল গাছ নয়। এই গাছটি ছিল বিশ্ব নবীর হযরত মোহাম্মদ (সgj এর আমল থেকে। এই গাছটির ওপর ওনার দোয়া রয়েছে। তাই এই গাছটিকে কেউ খারাপ উদ্যেশ্যে ছোঁতে পারবে না। ঐ সর্দার গাছটি কাটতে না পেরে এমন ব্যবস্থা করছে যার কারণে আমরা ঠিক মতো ইবাদত করতে পারি না। তাই আমরা সোখান থেকে গাছটিকে নিয়ে এখানে চলে এসেছি" এই টুকু বলে তিনি থামলেন। -- আচ্ছা এত যাইগা থাকতে এখানে কেন এসেছেন জানতে পারি?(আমি নির্ভয়ে বললাম) -- আমরা জানি এখানকার মানুষ অনেক ভালো, তাঁরা আল্লাহ আর নবী ছাড়া কিছু বুঝে না। তাই আমরা এখানে আসলাম কিন্তু দুঃখের বিষয় তাঁরাও আমাদের চিনতে পারে নি, চিনবে কী করে তাঁরা তো আমাদের সামনে আসত না ভয়ে দূর থেকে দেখলে চলে যেত। তুমি এসেছ তাই তোমাকে বললাম। তুমি সবাইকে বুঝাবে আমরা কারো কোন ক্ষতি করব না, শুধু শান্তি ভাবে ইবাদত করতে দিলে হবে।( ওনি খুবই শান্ত কন্ঠে কথা গুলো বললেন) -- ঠিক আছে বলবো, তার আগে একটা কথা জানার ছিল?(আমি) -- কী কথা(ওনি বললেন) -- আপনাদের দিনে দেখা যাই না কেন? রাতে দেখা গেলে তাও আবার রাত ১২ টার পর কেন? (আমি) -- আমরা দিনে থাকি কিন্তু দৃশ্যমান নয় অদৃশ্যমান হয়ে থাকি, কারণ দিনে অনেক মানুষ চলাচল করে তাঁরা হয়তো আমাদের দেখে ভয় পেতে পারে, আমরা কাউকে ভয় দোখাতে আসি নি তাই অদৃশ্যমান হয়ে থাকি। আর মাঝ রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তাই আমরা মাঝ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে থাকি।(ওনি বললেন) -- ওহ আচ্ছা তাইলে আমি এখন যায়। বেশি দেরি করলে আম্মু আব্বু চিন্তা করবে। আর আজ থেকে কেউ আর আপনাদের ক্ষতি করবে না। (আমি) এই বলে ওনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম নির্ভয়ে। . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now