বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
_
নামটা তোমার জানা কি যাবে?
ঠিকানাটা পাওয়া কি যাবে ???
_
-ঠাসসসস!
-সাথে সাথে গালে হাত!
_না কেউ চড় মারে নি! অবশ্য আগে যা ঘটেছে তার কারনেই এই খাদ্যটি অনুভবে খেলাম! মানে থাপ্পর আরকি! যার কারণ হল আবার নতুন কোন মেয়ের প্রেমে পড়া!
না না! আপনারা হয়তো আমাকে হয়তো লুজ ক্যারেক্টার ভাবতেন? আসলে তা নয়! আমার ছোট বেলা থেকে প্রেম করার বড় ইচ্ছা ছিল! কিন্তু মানুষের তো আর সব ইচ্ছা পূরণ হয় না! আমার ও তাই?
যাই হোক আগে পরিচিত হওয়া যাক! আমি আবিন! Engineering পড়ি! তবে এখন প্রেম করা হয়নি! বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে! না না একটা বোন ও আছে! যাই হোক আসল কথায় আসি!
এতক্ষণ ধরে একটা মেয়েকে দেখছিলাম! অপূর্ব সুন্দর ছিল! সাদা থ্রি পিচে একদম পরির মত লাগছিল! দেখেই প্রেমে পরে গেছি! তাই প্রোপোজ করার চিন্তা মাথায় আসে! আর যার ফলাফল হল ফ্লাস ব্যাক! মানে থাপ্পর!
তা হলে কি ঘটেছিল আগে! দেখা যাক
_
আমার প্রেম করার ইচ্ছা সেই ছোট থেকে! তাই অনেক কে না না ঠিক কতজনকে প্রোপোজ করেছি সঠিক জানা নেই! প্রথম যখন প্রোপোজ করেছিলাম তখন বয়স ছিল ৮ বছর! তবে একজনকে না এক সাথে দুইজনকে! ফারিয়া আর জেবা!
ম্যাম ক্লাশ নিচ্ছিল? তখন
-ফারিয়া এই ফারিয়া!
-কি! ম্যাম ক্লাশ নিচ্ছে?
-এই নাও?
-কি এটা?
-দেখো?
-ম্যাম?
-বল ফারিয়া!
-এই দেখেন আবির আমাকে কি দিয়েছে!
-ঠাসসসসস!
-ম্যাম এইটা একটু জেবাকে দিবেন! আমি ওকে...
-ঠাসসসসসস! বেয়াদব ছেলে! তোমার বাবা মাকে বলছি!
_আসলে ফারিয়াকে love letter দিয়েছিলাম! আর তারই রিয়াক্ট! প্রথম প্রোপোজেই দুইটা গিফ্ট পেয়েছি!
এই গিফ্ট পাওয়ার পর ওই বছরটা ভালই ছিলাম! কিন্তু ওই যে আমার বড়ই প্রেম করার ইচ্ছা ছিল! তাই ৪র্থ শ্রেণিতে আবার প্রোপোজ করে বসলাম! রিক্তাকে তবে তার আগে আর একজনকে চোখ মেরেছিলাম! আর ফলে আর একটা গিফ্ট পেয়েছি! না থাপ্পর না কান মলা! রিক্তাকে প্রোপোজ
-এই রিক্তা একটু শুনবা!
-হুম বল?
-I love you
একদম হাটু গেরে
-ঠাসসসসসসসসসসসসস
-ও মাগো!
থাপ্পরটা বড্ড জোরে দিয়েছিল! আর যার কারণে আমার প্রায় তিন দিন কানটা ফুলে ছিল!
তাই ভেবে ছিলাম যে আর প্রেম করব না! কিন্তু প্রেম যে আমার রক্তে রক্তে! তাই তারপরেও হাল ছারলাম না! আমি প্রোপোজ চালিয়েই গেলাম!
কেননা কবি বলে গেছেন একবার না পারিলে দেখ শতবার! আর তাই আমিও
-লিমা I love you
-ঠাসসসস
-হৈমি
-ঠাসসসসস
-লাবণ্য
-ঠাসসসসসসস
এভাবে চলেছে! এক সময় বুঝলাম ওরা আমার যোগ্য নয়! ওদের চেয়ে বড় যারা তাদের সাথে প্রেম করব! এইটা ঠিক করলাম! কিন্তু কাউকে ভাল লাগল না! আর যাকে ভাল লাগল সে আমার কি ভাবে যে বলি! সে হল ম্যাম! আমাদের স্কুলের নতুন ম্যাম শিথি! কিন্তু তার সাথে তো সম্ভব না! সে আমার ম্যাম! আর আমি মাত্র ৫ম শ্রেণিতে! নাহ্ এটা সম্ভব নয়! কিন্তু মন বুঝল না! ভালবাসায় বয়স কোন ব্যাপার না! মনের মিল থাকলেই হল! তাই ম্যামকে প্রোপোজ করার সিধান্ত নিলাম?
-ম্যাম
-হুম বল!
-ম্যাম ভালবাসায় কি বয়সের কোন মুল্য আছে!
-না নেই, ব্যাক্তি যে কাউকে ভালবাসতে পারে! আর যাকে ভালবাসবে তার ও উচিত তাকে তার প্রাপো দেওয়া!
-আর প্রেমে ম্যাম বয়সের কোন গুরুত্ব আছে?
-না নেই!
-I love you শিথি?
-ঠসসসসসসসসস! তোমাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি!
-কিন্তু ম্যাম আপনি তো...
চলে গেল! আর আমাকে বের করে দেওয়া হল স্কুল থেকে! আমার কথা কেউ আর শুনল না! তারপর আমরা চলে গিয়েছিলাম নতুন এক জায়গায়! অবশ্য সেখানে আমার ইচ্ছা পুরণ হয়েছিল! কিন্তু আমার GF তিন দিন পর তার নানাু বাড়িতে যাবে ১সপ্তাহের জন্য! আর তাই আমি বলেছিলাম
-তুমি চলে যাচ্ছ?
-মাত্র তো সাতটা দিন!
-তোমায় খুব মিস করব
-আমিও
-তাহলে তোমার বান্ধবী ঋতুর সাথে আমার আলাপ করিয়ে দিয়ে যাও যাতে ওর সাথে লাইন মারতে পারি!
-ঠাসসসসসসসসস
গিফ্ট দিয়ে সে ও চলে গেল! আর তারপর থেকে আর প্রেম করে হয়ে ওঠেনি! অনেক জনকে প্রোপোজ করেছি তারা সবাই না বলে দিছে! কেউ আমাকে শুধু বন্ধু ভাবে! কারো কাছে ভাইয়ের মত! কি বলব আর দুঃখের কথা! আমার ভাগ্য নিয়ে আমার বাবা মাও চিন্তায় ছিল! আর থাকাটাই স্বাভাবিক! তারপর অবশ্য আর কখনও ট্রাই করিনি! তবে একবার আমার বোনের বান্ধবিকে ট্রাই মারব ভেবেছিলাম কিন্তু তার আগেই শেষ! ওনার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে আর দুইটা বাচ্চাও আছে!
সেই থেকে প্রেম করার সখ আমার শেষ হয়!
তবে এত জনকে প্রোপোজ করেছি কিন্তু একজন ছিল যাকে কখন করতে পারিনি! তার আগেই এলাকা ছেড়ে চলে যায়!
_
শুনলেন তো আমার ইতিহাস! যাক কি হবে হবে আজ একে প্রোপোজ করবই! কিন্তু আমি তো ওর নাম জানিনা তাহলে???
যা হবে হবে! বুক ফুলিয়ে যেতে হবে! অতপর প্রোপোজ করার জন্য প্রস্তত আমি! আর তখনি
-আমি যদি ভূল না করি! তাহলে আপনি আবির!
_ওমা এই মাইয়া জানল কেমনে?
-হুম! কিন্তু আপনি?
-আমি সাদিয়া! তোমাদের বাসার পাশেই আমাদের বাসা ছিল!
-ওহ! তুমি না মানে আপনি?
-তুমি করেই বল!
-হুম!
-আজ কাল কি করা হচ্ছে! কোন মেয়েকে পেয়েছ জীবনে! নাকি শুধু গিফ্ট!
_আপনাদের বলে রাখা ভাল এই সাদিয়াই হল সেই জন!
-না আমার কপালে মনে হয় প্রেম টেম নাই! তা তোমার বয়ফ্রেন্ড কেমন আছে?
-না আমার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই!
_yes!
-ওহ!
-তোমার ফোন নাম্বারটা কি পেতে পারি!
-হুম! ০১...
-thank you
-wellcome!
-আচ্ছা আজকে আসি! দেরিতে গেলে আবার মা বকবে!
-ওকে! বাই!
-বাই!
অতপর আমি ও বাসায় আসলাম! প্রতিদিনের মত একটা লম্বা ঘুম দিলাম! একবারে সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠলাম! আমার বোনের ডাকে! তারপর একটু বাইরে থেকে এসে রাতে খাওয়ার পর তাহসানের একটা গান শুনছি! আর তখন অচেনা নাম্বার থেকে ফোন
-কে বলছেন?
-সাদিয়া!
-কে সাদিয়া?
-বাহ্ এত তারাতাড়ি ভুলে গেলে!
-ওহ তুমি! হ্যা বল কি মনে করে?
-এমনিতেই! কিছু ভাল লাগছে না তাই ভাবলাম তোমার সাথে একটু কথা বলি!
-তাই!
-হুম!
-যদি আমার সাথে দেখা না হত! তাহলে!
-তাহলে আর কি!
-ডিনার করছ!
-হুম! তুমি?
-হুম!
-তোমার কি এখনও প্রেম করার ইচ্ছা আছে?
-তুমি যদি আমার সাথে প্রেম কর তাহলে ইচ্ছা আছে!
-কেন আমি করলে করবে কেন! আর অন্য কেউ নয় কেন?
-অন্যরা তো বোঝে না! তাই!
-আমি কি বুঝবো তোমায়!
-আমার বিশ্বাস তুমি বুঝবে!
-যদি বুঝিও তাহলে ও তোমার সাথে প্রেম করতে আমার বয়ে গেছে!
-কেন?
-সেটা তুমি ভাল জানো?
-আমি কি জানি ?;
-বাই!
-আরে বলে তো যাও!
টুট টুট টুট
এভাবেই কথা হল!
কয়েক দিন এভাবেই কথা হল? এখন আমরা ভাল বন্ধু! আর আমার মাথায় আর প্রেম চিন্তা টা নেই! কারণ একটাই যদি বন্ধুত্বটা নষ্ট হয় এই ভেবে! আর এসব ভাবতে ভাবতে প্রায় দুই মাস কেটে গেল! কিন্তু হঠাৎ একদিন ওকে এক রিকশায় দেখলাম একটা ছেলের সাথে! আর সাথে সাথে আমার আবার প্রেম রোগ শুরু হল! তার একটাই কথা সাদিয়াকে আমার জিবন থেকে হারাতে চাইনা! তাই ওকে প্রোপোজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম! এর আগে অনেককে প্রোপোজ করেছি! কিন্তু এটা আমি একদম সিরিয়াস! যদি না বলে দেয় তাহলে হয়তো আমি আর বাচব না! তাই সাদিয়া কে বললাম পার্কে আসতে! ও বলেছিল কেন? কিন্তু আমি বলেছি আসলেই বলব! অতপর সেই শুভ ক্ষণ আসছে! ফুলের দোকান থেকে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ নিলাম! তারপর হাটা শুরু করালাম পার্কের উদ্দেশ্যে! পার্কে বসে আছি! সাদিয়ার কোন দেখা নেই! ওহ ওইতো সাদিয়া আসছে!
-হুম বল কি জন্য জরুরি তলব!
_কিছু না বলে গোলাপ গুলো বাড়িয়ে দিয়ে বললাম
-সাদিয়া আমি এত দিনে বুঝেছি তুমি আমার জিবনে কতটা জুরে আছ! তোমার সাথে কথা বলার পর আমি নিজেকে একটু বুঝেছি! তুমি হয়তো আমাকে অন্য কিছু ভাবনা! কিন্তু আমি তোমায় আমার জিবন ভাবি! তুমি ছাড়া আমার এ জিবন অন্ধকার! তুমি যদি আলো হয়ে সেই অন্ধকার দুর করে আমার জিবনটা করবে কি আলোকিত! যে আলোতে থাকবে আমাদের বাবু সোনা! তোমাকে আমি বোঝাতে পারব না কতটা ভালবাসি! কিন্তু এই গোলাপের যেমন পাপরি শুকিয়ে যায় জলের অভাবে! আর পাপড়ি পরে ঝরে! তেমনি তুমি আমার প্রাণ যদি তুমি চলে যাও আমার জিবনটা হবে রসহীন পাপড়ি আর ঝরে পরবে অকালে! তুমি হও আমার সেই জল বাচাও আমার প্রাণ! আমি হয়তো খারাপ! প্রোপোজ করেছি অনেক কে! কিন্তু তোমায় কথা দিচ্ছি তুমি যদি বউ হও আমার বুকে নিয়ে ঘুমাব তোমায়!
I love you
-ঠাসসসসসসসসসস
-তুমিও বুঝলা না আমায়!
বলেই উল্টো দিকে হাটা শুরু করলাম! হঠাৎ
ও আমার সামনে এসে
-ঠাসসসসসসসসস
-আবার কেন?
-প্রথমটা মেরেছি এত দেরি করে বলার জন্য! আর দ্বিতীয়টা মেরেছি আমাকে ফেলে আসার জন্য!
-মানে?
-আমিও তোমাকে ভালবাসি! সেই ছোট বেলা থেকে! কিন্তু বলিনি তোমায়! তুমি তো অন্যদের প্রোপোজ করে বেরাতে! আর তাই আমি তোমার উপরে রেগে থাকতাম! আর তুমি আমার সাথে ভয়ে কথা বলতে না! আর সেদিন যখন জানলাম যে তোমার অবস্থা আগের মত! আর তাই তোমায় বলেছিলাম প্রেম করবে কিনা! আর তুমি আমার সাথে প্রেম করতে চেয়ে ছিলে! আর সেদিন আমি বুঝে ছিলাম যে তুমি ও আমায়! তাই তোমার সামনে আমার ছোট ভাইকে রিকশায় নিয়ে ঘুরছিলাম! যাতে তুমি আমায় প্রোপোজ কর! কিন্তু তুমি রামায় প্রোপোজ করে চলে যাচ্ছো!
-আর যাবো না! যদি
-যদি
-আমায় বেধে রাখ তোমার প্রেমে!
-হুম রাখব
-এক বার জরিয়ে ধরি?
-না
-শুধু একবার
-বললাম তো না!
বলেই গালে মারল?
-আউউউ
-তোমার খুব লেগেছে!
-হুম
-আসো আদর করে দেই?
-সত্যি?
-হুম
বলেই জড়িয়ে ধরল! কে মেয়েরে বাবা আমি বললাম তখন বলল না! আর এখন নিজেই!
আর এভাবেই শুরু হল আমাদের পথ চলা!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now