বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপকূলে সংঘর্ষ ১৫শ পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X করতে আসে! তুমি তো এখানে আসতে বীরের বেশে, মাথা উঁচু করে। অথচ আজ এমন অবস্থায় এলে, কেউ যেন তোমাকে চিনতে না পারে! আর আমাকেও ঘর থেকে এমন সাবধানে বের হতে হলো, কেউ যেন দেখে না ফেলে, আমি কোথায় যাচ্ছি।’ আলী বিন সুফিয়ানের চোখও অশ্রুতে ভারী হয়ে এলো। আবেগের আতিশয্যে অনেকক্ষণ তিনি কোন কথাই বলতে পারেননি। জঙ্গীর বিধবা স্ত্রীর বৈধব্য বেশের দিকে তাকিয়ে রইলেন শুধু। বেগম জঙ্গী বললেন, ‘আলী! আমি এই বেশ ধারণ করেছি শুধু স্বামীর শোকে নয়, আমি শোকাহত আজ জাতির দুর্যোগে, দুর্ভোগে। স্বার্থপর ছোট ছোট আমীররা আমার সন্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জাতির সম্মান ও ইজ্জত খৃস্টানদের পদতলে সোপর্দ করে দিয়েছে। তোমরা এখনো জানো না, এরই মধ্যে আমরা কি হারিয়েছি, কতটা দেউলিয়া হয়েছি! জঙ্গী যে সমস্ত খৃস্টান কয়েদী ও যুদ্ধবন্দীকে কারারুদ্ধ করেছিল তারা এখন কোথায় তুমি জানো? সম্রাট রিজনেল্ট, যাকে মাত্র কয়েক মাস আগে জঙ্গী তার দলবলসহ বন্দী করেছিল এবং ক্রাক থেকে এখানে নিয়ে এসেছিল, সে এখন আর বন্দী নেই। জঙ্গী সম্রাট রিজনেল্টকে বন্দী করতে পেরে খুবই খুশী ছিলেন। তিনি বলতেন, ‘আমি খৃস্টানদের সাথে এমন দরকষাকষি করে এ সকল বন্দী বিনিময় করবো, যাতে খৃস্টানদের কোমর ভেঙ্গে যায়।’ জঙ্গীর বিধবা স্ত্রী বললেন, ‘একজন সম্রাট ও যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি গ্রেফতার হওয়া কোন সাধারণ ঘটনা নয়। আমরা তাঁর বিনিময়ে খৃস্টানদের কাছ থেকে অনেক চড়া শর্ত আদায় করে নোট পারতাম। কিন্তু গতকাল আমার ছেলে আমার কাছে এসে বললো, মা! আমি খৃস্টান সম্রাট ও তার সঙ্গীদের সকলকে বিনা শর্তে মুক্ত করে দিয়েছি।’ এ খবর শুনে আমি মনে এমন প্রচণ্ড আঘাত পেলাম যে, অনেকক্ষণ আমি কোন কথা বলতে পারলাম না। শেষে যখন হুশ হলো ছেলেকে শুধু বললাম, ‘এই যুদ্ধ বন্দীদের বিনিময়ে তুমি কি তোমার সকল যুদ্ধ বন্দী মুক্ত করে নিয়েছো?’ ছেলে কচি খোকার মত উত্তর দিল, ‘আমি আমার যুদ্ধ বন্দী নিয়ে কি করবো? আমি তো আর কোনদিন কারো সাথে যুদ্ধ করবোনা। আর এদের শুধু শুধু খাইয়ে খরচ বাড়িয়ে কি লাভ?’ আমি ছেলেকে বললাম, ‘দেখো, তুমি আর কোনদিন তোমার বাবার কবর জিয়ারত করতে যাবে না। তুমি যখন মরবে তখন তোমার লাশ ঐ কবরের পাশে দাফন হবে না, যেখানে তোমার বাবা শুয়ে আছেন। এই কবরস্থানে এমন সব শহীদগণ শুয়ে আছেন,যারা খৃস্টানদের হাতে প্রাণ দিয়েছেন। তোমাকে সেখানে দাফন করা হলে তাঁদের আত্মা কষ্ট পাবে ও তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।’ কিন্তু আমার ছেলে তো শিশু, সে কিশুই বুঝে না। আমি সেই আমীরদের সাথেও মিশেছি, আমার ছেলে যাদের হাতের পুতুল। তারা আমাকে সম্মান দেখায় কিন্তু আমার কথার কোন মূল্য দেয় না। খৃস্টানরা তাদের সম্রাট ও যুদ্ধ বন্দীদের মুক্ত করে নিয়ে মুসলমানদের মুখের ওপর চপেটাঘাত করেছে। কিন্তু আমি ভেবে কূল পাইনা, সালাহউদ্দিন কায়রোতে বসে কি করছেন? তিনি কি আসছেন না কেন? আলী বিন সুফিয়ান! বলো, সুলতান আইয়ুবী কি চিন্তা-ভাবনা করছেন? তাঁকে গিয়ে বলবে আপনার এক বোন আপনার জাতির অসম্মান দেখে শোক প্রকাশ করছে। তাঁকে আরও বলবে, আপনার বোন শোকের কালো পোশাক সেই দিন ফেলবে, যেদিন আপনি দামেস্কে উপস্থিত হয়ে মুসলিম বিশ্বের সম্মান বিলাস প্রিয় ও ঈমান বিক্রেতা আমীরদের থেকে ছিনিয়ে নিবেন ও তাঁকে উদ্ধার করবেন! নতুবা তিনি এই পোষাকেই মৃত্যুবরণ করবেন আর অসিয়ত করে যাবেন, তাঁকে যেন এ পোষাকেই দাফন করা হয়। কোন কাফন যেন তাকে পরানো না হয়। এ অবস্থায় আমি কিয়ামতের দিন আমার স্বামী ও আল্লাহর সামনে সাদা কাফনে যেতে চাই না।’ সুলতান নূরুদ্দিন জঙ্গীর বিধবা স্ত্রীর চোখ থেকে তখনো অশ্রু ঝরছিল। আলী বিন সুফিয়ান তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘মোহতারেমা, আমি এ আবেগের মূল্য খুব ভাল করেই বুঝি! দয়া করে আমার কথাগুলো একটু শুনুন। সুলতান আইয়ুবীও আপনার মত অধীর ও অশান্তভাবেই প্রহর কাটাচ্ছেন। আপনি জানেন, যুদ্ধ কেবল আবেগ ও উত্তেজনার বশে হয় না। এখানকার সঠিক অবস্থা না জেনে অন্ধকারে ঝাঁপ দেয়া প্রকৃত মুজাহিদের কর্ম নয়। এমন কাজ আইয়ুবী করতে পারেন না। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আইয়ুবী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে দেশে গৃহযুদ্ধ না বাঁধে। গৃহযুদ্ধ বাঁধলে তাতে মিল্লাতে ইসলামিয়ারই ক্ষতি হবে। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি, ইসলামের স্বার্থে আমরা এগিয়ে এলে জাতি আমাদের সাথেই থাকবে। সৈন্যদের ব্যাপারেও তাওফীক জাওয়াদ আমাকে এই আশ্বাস দিয়েছেন, এখানকার সৈন্যরা আমাদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াবে না। তবে রক্ষীবাহিনী মোকাবেলায় নামতে পারে।’ ‘আমিও আপনাকে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি, জাতি আপনাদের সাথেই থাকবে।’ জঙ্গীর স্ত্রী বললেন, ‘আমি নারী, যুদ্ধের ময়দানে হয়তো যেতে পারবো না। কিন্তু আমার লড়াই অব্যাহত আছে। আমি আমার সেক্টরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি নারী সমাজের মাঝে জাতীয় চেতনাবোধ এমন তীব্রভাবে সৃষ্টি করে রেখেছি যে, তাদের স্বামী, সন্তান ও ভাইবেরাদর যদি আপনাদের সহযোগীতায় এগিয়ে না যায়, তবে তারা নিজেদের ঘরে কিছুতেই শান্তিতে বসে থাকতে পারবে না। যদি দরকার হয়, সামর্থবান নারীরা যাতে ময়দানে আপনাদের সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করতে পারে তারও প্রস্তুতি চলছে। আমার তত্ত্বাবধানে যেসব মেয়েরা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা এরই মধ্যে তলোয়ার চালনা, তীর নিক্ষেপ প্রভৃতি কাজে নৈপুণ্য অর্জন করেছে। দামেস্কের ঘরে ঘরে এখনো সেইসব মহিলারই আধিপত্য, যারা ঈমানদার, বিশ্বস্ত ও অনুগত। যদি গৃহযুদ্ধের অবস্থা সৃষ্টি হয়, তবে দামেস্কের প্রতিটি ঘরে মেয়েরা এই অর্বাচীন খলিফার বিরুদ্ধে সামরিক দূর্গ গড়ে তুলবে। এখনো যদি সুলতান আইয়ুবী সৈন্য নিয়ে এখানে চলে আসে, তবে আমার নাবালেগ সন্তান ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা নিজেদের অসহায় ও নিঃসঙ্গ দেখতে পাবে।’ আবেগদীপ্ত কন্ঠে তিনি বললেন, ‘তুমি জলদি চলে যাও আলী ভাই! দ্রুত ফিরে এসো সৈন্য নিয়ে। এখানকার দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দাও। জাতি তোমাদের পথ আগলে দাঁড়াবে না। যদি বর্তমান খলিফার খুন তোমাদের প্রয়োজন হয়, হত্যা করো তাকে। সে নূরুদ্দিন জঙ্গী ও আমার সন্তান বলে দয়া দেখাতে গিয়ে জাতির সর্বনাশ করো না। আম্মার ছেলের দেহ খণ্ড খণ্ড হয়ে যাক কিন্তু মুসলিম মিল্লাতকে আমি খণ্ড খণ্ড হতে দিতে পারি না।’ খলিফার মায়ের কন্ঠ থেকে এ ধ্বনি উচ্চারিত হওয়ার পর তাওফীক জাওয়াদ ও আলী বিন সুফিয়ানের আর কিছুই বলার ছিল না। তারা যুদ্ধের পরিকল্পনা করতে বসলো। সিদ্ধান্ত হলো, সুলতান আইয়ুবী অতি গোপনে আসবেন, খলিফা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা যেন জানতে না পারে। o আলী বিন সুফিয়ানের কমান্ডোর কাছ থেকে গোপন তথ্য জেনে নিয়ে খৃস্টান মেয়েটা তাকে বসিয়ে রেখে তার সাথীদের কাছে গেলো। বললো, ‘আমরা ধোকা খেয়েছি। এরা সবাই মিশরের লড়াকু গোয়েন্দা। তাদের কমান্ডার গোয়েন্দা জগতের কিংবদন্তি পুরুষ আলী বিন সুফিয়ান।’ এ সংবাদ শোনার সাথে সাথে তাদের মনে ভয়ানক আতংক সৃষ্টি হলো। এখন কি করবে এই চিন্তায় তারা অধীর হয়ে উঠলো। এখানে থাকা এখন বড়ই ঝুঁকিপূর্ণ, আবার বেরিয়ে যাওয়াও কঠিন। মেয়েটি বললো, ‘কি করবে জলদি চিন্তা করে বের করো, আমি নাগর সামলাই।’ মেয়েটি ফিরে এলো সেই পাহারাদারের কাছে। নানা ছলাকলায় ভুলিয়ে ভালিয়ে আটকে রাখলো তাকে তাবুতে। খৃস্টানদের তাবু থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো এক লোক। সে আলী বিন সুফিয়ানকে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে পেল না। আলী বিন সুফিয়ানকে না পেয়ে খৃস্টানটি আরো ঘাবড়ে গেল। ভাবলো, তবে কি তিনি আমাদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা করতে গেছেন? ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সে ফিরে এলো তার লোকদের কাছে। বললো, ‘সর্বনাশ হয়ে গেছে! আলী বিন সুফিয়ান তার তাবুতে নেই। সম্ভবত আমাদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা করতে গেছে। আর এক মুহূর্তও এখানে থাকা ঠিক হবে না। জলদি পালাও সবাই।’ তখন রাত দ্বি-প্রহর। এ শহরে এরা নতুন। এখানকার পথঘাট, পরিবেশ কিছুই তাদের জানা নেই। দিনের বেলা হলে পথ একটা খুঁজে নেয়া তেমন কঠিন ছিল না। তাছাড়া জনারণ্যে মিশে হারিয়ে যাওয়া যেত সহজেই। কিন্তু এই গভীর রাতে মেয়েদের নিয়ে পথে বের হওয়া মোটেই নিরাপদ নয়। ভেতরে ভেতরে ঘামতে লাগলো সবাই। একজন পরামর্শ দিল, ‘কোন হোটেলে গিয়ে উঠা যাক। বলবো, আমরা কায়রোর বণিক। বাইরে উন্মুক্ত ময়দানে এভাবে শুয়ে থেকে ধরা দেয়ার কোন মানে হয় না।’ অন্যরাও তার প্রস্তাবে রাজি হলো, ‘সেই ভালো। কোন সরাইখানাইয় গিয়ে রাত কাটাতে পারলে সকালে উঠে গা ঢাকা দেয়া যাবে।’ তারা এক লোককে গোপনে সেই উদ্দেশ্যে বাইরে পাঠিয়ে দিলো। তাবু থেকে বেরিয়ে লোকটি চুপিসারে পাহারাদারের দৃষ্টি এড়িয়ে মাঠ থেকে রাজপথে উঠে গেলো। সরাইখানার খোঁজে সে শহরের গলিপথে হাঁটতে লাগলো। সে হাঁটছে আর ভাবছে, সরাইখানা পেলে কষ্ট হলেও হয়তো আমরা সেখানে উঠে যেতে পারবো, কিন্তু আসবাবপত্র সরানো বড় সমস্যা হয়ে যাবে! প্রকাশ্যে বণিক হিসাবে আমাদের কাছে থাকার কথা ব্যবসায়ীক পণ্য, কিন্তু মুসলমান আমীর ও সেনাপতিদের জন্য যে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা, হীরা, জহরত ও বিভিন্ন প্রকারের উপঢৌকন আছে তা সরানো সহজ নয়। এগুলো সরাতে গেলেই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়! তখন আর বণিকের ছদ্মবেশ আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। এমন কোন আমীরের সাথেও এখনো পরিচয় হয়নি যার কাছে সাহায্যের জন্য যাওয়া যায়। লোকটি জনশূন্য রাস্তা ধরে হাঁটছে। রাস্তার দু’পাশে দোকানপাটের ঝাপ বন্ধ। ডানে-বায়ে, সামনে-পেছনে কোথাও কোন লোককে দেখতে পেল না সে। কোন সরাইখানারও সন্ধান পেল না সে। অনেকক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরাঘুরির পর মনে হলো সামনের দিক থেকে একজন লোক এদিকেই এগিয়ে আসছে। লোকটাকে অন্ধকারে স্পষ্ট দেখা না গেলেও ক্রমেই একটা মানুষের কাঠামো পরিস্কার ভেসে উঠলো তার সামনে। আরেকটু কাছাকাছি হলে দেখা গেল লোকটার মাথা ও মুখের অর্ধেকটা চাদর দিয়ে ঢাকা। সাহস সঞ্চার করে সে ডাকলো, ‘এই যে ভাই, শুনুন। এদিকে কোন সরাইখানা পাওয়া যাবে?’ ‘শহরের এদিকটায় তো ভাই কোন সরাইখানা নেই! আর থাকলেও এত রাতে কোন সরাইখানার মালিক গেট খুলবে না। এত রাতে সরাইখানা খুঁজতে বেড়িয়েছো কেন?’ ‘আজই এক বানিজ্য কাফেলা নিয়ে আমরা এখানে পৌছেছি। আমাদের সাথে চারটি মেয়ে আছে, তাদেরকে তাবুতে রাখা ঠিক না, এজন্যই সরাইখানা খুঁজছি।’ অচেনা লোকটি চিন্তিত কন্ঠে বললো, ‘হ্যাঁ, এটাও একটা প্রশ্ন!’ একটু ভেবে নিয়ে বললো, ‘কিন্তু তোমাকে সন্ধ্যার আগেই সে ব্যবস্থা করতে হতো।’ ‘জ্বি, তা ঠিকই বলেছেন। কিন্তু তা তো করা হয়নি! এখন যে কি করি! এত রাতে......’ ‘এসো আমার সঙ্গে, দেখি তোমার কোন উপকার করা যায় কনা! তুমি এক বিদেশী, এখান থেকে গিয়ে আমাদের বদনাম করে বেড়াবে, বলবে, দামেস্কে আমাদের পর্দানশীল মহিলারা খোলা মাঠে পড়েছিল জানার পরও ওখানকার কোন দ্বীনদার ভাই এগিয়ে আসেনি, তা হয় না। আজ রাতের মত ব্যবস্থা না হয় আমিই করে দেবো।’ ‘কোথায় যেতে হবে?’ ‘আমি সরাইখানাতেই তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করে দেবো। চলো আমার সঙ্গে, তারপর গিয়ে মেয়েদের নিয়ে আসবে।’ ‘কিন্তু আমি এ শহরে একেবারেই নতুন। পথঘাট কিছুই চিনিনা। পথ হারানোর ভয়েই মেয়েদের রেখে বেশী দূর যাইনি। চলুন না, মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে একবারেই যাই।’ ‘কোন মাঠে বসিয়ে রেখেছো ওদের?’ ‘বেশি দূরে নয়। আসুন না, কাছেই।’ অচিন লোকটি তার সাথে চলতে লাগলো। উভয়েই তাবুর কাছে পৌছলে খৃস্টানটি তাঁকে তাবু দেখিয়ে বললো, ‘অই যে আমাদের তাবু। আপনি এখানে একটু দাঁড়ান, আমি ওদের নিয়ে আসি।’ অচিন লোকটিকে দাঁড় করিয়ে রেখে সে তাবুগুলোর দিকে অদৃশ্য হয়ে গেল। কয়েকটি তাবুর পরই ছিল খৃস্টানদের তাবু। সে তার সঙ্গীদের কাছে গিয়ে বললো, ‘চলো। যাক বাবা, কপালগুনে লোকটির দেখা পেয়েছিলাম। নইলে সারা রাত পথে পথেই ঘুরতে হতো।’ সবাই উৎসুক হয়ে তাকাল তার দিকে। চোখে মুখে জিজ্ঞাসা। সে সব কথা ওদের খুলে বলে তাড়া দিল তাদের, ‘জলদি করো, লোকটি বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। কতক্ষণ তিনি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবেন? দয়া করে তিনি কোন সরাইখানায় আমাদের থাকার জায়গা করে দিতে রাজি হয়েছেন, এই তো ঢের।’ কিন্তু সঙ্গীদেরকে তার মতো উৎসাহী মনে হলো না। তার কথা শুনে তাদের মনে কেন যেন অজানা ভয় ঢুকে গেল। বললো, ‘কিন্তু এ লোক যদি ধোকা দেয়?’ ‘কিন্তু আমরা এমন বিপদে পড়েছি, যার থেকে মুক্তির জন্য কোন না কোন বিপদের ঝুঁকি আমাদের নিতেই হবে।’ বললো সে। অন্য একটি মেয়ে বললো, ‘আলী বিন সুফিয়ান ছদ্মবেশে জঙ্গী গোয়েন্দা দল নিয়ে কেন এখানে এসেছে আমরা তা জেনে গেছি। খলিফা ও আমীররা খৃস্টানদের বন্ধুত্ব গ্রহন করার কারনেই তাকে এ অভিযানে আসতে হয়েছে। যদি আমরা আলীর এ অভিযানের খবর খলিফা বা অন্তত কোন আমীরের কানেও দিতে পারতাম, তবে আমরা এখন যে বিপদে আছি তারচে বেশী বিপদে পড়তো আলী।’ ‘তা ঠিক। এ সংবাদ আমাদের পুতুল সরকারের খলিফাকে রাতেই পৌঁছে দিতে পারলে সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের বখশিশ পাওয়া যেতো।’ ‘বখশিশের কথা পরে চিন্তা করো। আগে এ সংবাদ খৃস্টান শাসকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করো, যাতে তারা সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর রাস্তা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে পারে।’ অন্য একজন বললো, ‘এসব আলাপ পরে আরো করা যাবে, এখন দ্রুত সব গুছিয়ে নিয়ে চলো বেরিয়ে পড়ি।’ বেরিয়ে পড়ার জন্য ওরা গোছগাছ শুরু করলো। মেয়েটির তাবুতে খবর দিতে গিয়ে দেখা গেল পাহারাদার গভীর ঘুমে অচেতন। সবাই মেয়েটির কাজের উচ্চ প্রশংসা করলো। আলী বিন সুফিয়ানের সঙ্গীরা তখন গভীর নিদ্রায় মগ্ন। পাহারাদার ঘুমিয়ে আছে মেয়েটির তাবুতে। এই অবসরে সকলেই একত্রেই বেরিয়ে এলো তাবু থেকে। আসবাবপত্র, মালামাল ও পশুগুলো পড়ে রইলো ওখানেই। মালামাল নিয়ে তাদের এখন আর ভাবনা নেই। আগামীকাল যখন ছদ্মবেশী আলী ও তার গোয়েন্দা বাহিনীকে ধরিয়ে দেবে তখন তাদের মালসামান তারা এমনি পেয়ে যাবে। তারা তাবু থেকে বেরিয়ে এলো। ধীরে পায়ে লোকটিকে যেখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল সেখানে গেল। কিন্তু ওখানে পৌছে লোকটিকে দেখতে পেলো না ওরা। এদিক-ওদিক তাকালো, আশেপাশে কোন জনমানুষের চিহ্নও নেই। অজানা ভয় ও আতঙ্ক আবার ঘিরে ধরলো ওদের। কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না। ওরা যখন চরমভাবে বিভ্রান্ত ও দিশেহারা তখন হঠাৎ অন্ধকার থেকে একদল লোক উঠে দাঁড়ালো এবং ঘিরে ফেললো। তাদেরকে ঘেরাও করে তাবুর ওখানে নিয়ে এলো কমান্ডোরা। মশাল জ্বালিয়ে মশালের সামনে তাদের বসিয়ে রেখে খবর দিল আলী বিন সুফিয়ানকে। .............চলবে.......... (বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now