বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপকূলে সংঘর্ষ ৬ষ্ঠ পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X খৃস্টান মহলে যুদ্ধের জোর প্রস্তুতি চলছে। বৃটেন এখনো এ যুদ্ধে অংশ নিতে রাজী হয়নি। ইংরেজদের আশা, তারা কোন এক সময় একাই মুসলমানদের পরাজিত করে তাদের অঞ্চলগুলো অধিকার করে নেবে। সম্মিলিত আক্রমণের ব্যাপারে তাই তাদের কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু পোপের অনুরোধে ইংরেজরা ক্রুসেড বাহিনীতে কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ দান করলো। স্পেনের সমস্ত জাহাজ এ যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত হল। সবার আগে এগিয়ে এল ফ্রান্স, জার্মানী ও বেলজিয়ামের যুদ্ধ জাহাজ। এরপরই সম্মিলিত নৌবাহিনীতে শরীক হলো গ্রীস ও সিসিলির রণতরী। রসদ ও অস্ত্রসস্ত্র বহনের জন্য বড় বড় জেলে নৌকা সঙ্গে নিল ওরা। এ নৌবহরে ইউরোপের প্রতিটি দেশের চৌকস সৈন্যদের শামিল করা হলো। যুদ্ধ যাত্রার আগে পবিত্র ক্রুশ ছুঁয়ে শপথ করানো হলো তাদের। সকলেই শপথ করলো, ‘বিজয় লাভ করতে না পারলে আর কোনদিন স্বদেশে ফিরবো না। একমাত্র মরণ ছাড়া আর কোন কিছু আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে পারবে না। সুলতান আইয়ুবী যদি তার যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে আমাদের মোকাবেলা করতে চায় তবে আমাদের হাতে মিশর তুলে দেয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় থাকবে না।’ ফ্রান্সের এডমিরাল বললেন, ‘আমি জানি তাদের নৌবহর কত ছোট আর দুর্বল।’ তিনি ভুমধ্য সাগরের পারে দাঁড়িয়ে সম্মিলিত বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন, ‘সালাহউদ্দিন ও নূরুদ্দিন জঙ্গী শুধু স্থলে যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত। যদি আমাদের এ আক্রমণের সংবাদ মুসলমানদের কানে সময়ের আগে না পৌছে তবে কারো বাপেরও সাধ্য নেই আমাদের মোকাবেলা করে। আর সালাহউদ্দিন তখনই এ আক্রমণের খবর পাবে, যখন আমরা তার ঘাড়ের ওপর গযবের মত আপতিত হবো। তখন মিশর থাকবে আমাদের অবরোধের আওতায়। আর নূরুদ্দিন জঙ্গী শত ইচ্ছা থাকলেও তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারবে না, কারণ তাকে পথেই বাঁধা দেয়ার জন্য বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে আমাদের বাহিনী রওনা হয়ে গেছে। এবার আমাদের আক্রমণ হবে একতরফা, বিজয়ও হবে একতরফা।’ রিনাল্ট একজন প্রসিদ্ধ খৃস্টান শাসক ও বীর যোদ্ধা। তিনি বললেন, ‘আমি আবারও বলছি, সুদানীদের এ লড়াইয়ে ব্যবহার করা দরকার।’ বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে স্থল পথে এগিয়ে আসা বাহিনীর সাথে তার থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি শুরু থেকেই জিদ ধরেছিলেন, মিশরের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণকারী বাহিনীর সাথে থাকার জন্য। তার কথা হলো, ‘এই সুযোগে সুদানীরা মিশরের দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণ করুক।’ ‘আপনি অতীতের শিক্ষা ভুলে গেছেন।’ ইসলামের সবচে বড় শত্রু ফিলিপ আগাস্টাস বললেন, ‘১১৬৯ সালে আমি সুদানীদের পর্যাপ্ত সাহায্য দিয়েছিলাম। ভরসা ছিল, আমরা যখন সাগর পথে মিশর আক্রমণ চালাবো তখন সুদানীরা দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণ চালাবে। আর সুলতান আইয়ুবীর সৈন্যদলে যে সব সুদানী রয়েছে তারা বিদ্রোহ করবে। কিন্তু তখন তারা কিছুই করেনি। দু’বৎসর পর তাদের আবার সাহায্য দেয়া হলো, তাও বিফলে গেল। এখনও তারা আমাদের নিরাশ করবে। কেন আমরা তাদেরকে আমাদের পরিকল্পনায় শামিল করবো?’ ‘মিশর আমরা আমাদের শক্তিতে অধিকার করলেও, সুদানীরা আমাদের কাছে অংশ দাবী করবে।’ ‘আপনি ভুল করছেন। সুদানীদের মধ্যে মুসলিমান কম নেই। আর মুসলমানদের উপরে ভরসা করা মহা ভুল। আপনি যদি ইসলামের অস্তিত্ব মিটিয়ে দিতে চান তবে কোন মুসলমানকেই অন্তর থেকে বন্ধু মনে করবেন না। তাদেরকে প্রলোভন দিয়ে অনুগত দাস বানাবেন কিন্তু তাদের জন্য সারাক্ষণ শত্রুতা পোষণ করবেন।’ ‘আপনি সত্য কথাই বলেছেন।’ এক খৃষ্টান রাজা বললেন, ‘আমরা ফাতেমীদের বন্ধু বানিয়েছিলাম। তারা সালাহউদ্দিনের শত্রু হয়েও তাকে হত্যা করলো না। আমরা তাদেরকে বড় বড় গোয়েন্দা এবং সাহসী যোদ্ধা দিয়েও সাহায্য করেছিলাম। অথচ তারা তাদেরকে ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করালো। তাহলে আমরা কার উপর ভরসা করবো?’ ‘এখন আমাদের নিজস্ব সামরিক শক্তির উপরই ভরসা করতে হবে, তা হলেই আমরা সফল হবো।’ এ যুদ্ধে খৃস্টানদের সামরিক শক্তি অহংকার করার মতই ছিল, এবং তাদের মধ্যে এ অহংকার যথেষ্ট প্রকটও ছিল। সামদ্রিক যুদ্ধে নৌ শক্তির কোন হিসাব ছিল না। বায়তুল মোকাদ্দাসের দিক থেকে যে সেনাবাহিনী এগিয়ে আসছিল, তারা ছিল নৌবাহিনীর দ্বিগুনেরও বেশী। এ নৌযুদ্ধে খৃস্টানদের ছ’জন সম্রাট সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্টের শাসকরাও সেনাবাহিনীর সাথে একাত্ম হয়ে চলে এসেছিলেন ময়দানে। তাদের একটিই ত্রুটি ছিল, সম্মিলিত বাহিনীর কোন ঐক্যবদ্ধ একক কমান্ড ছিল না। তাদের ঐক্যবদ্ধ কমান্ড থাকলে নূরুদ্দিন জঙ্গী ও সুলতান আইয়ুবীকে তারা সহজেই পরাস্ত করতে পারতো বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। সুলতান আইয়ুবীর সামনে সমস্যা ছিল তিনটি। তার সৈন্য সংখ্যা কম। মিশরে গাদ্দাররা অনৈক্য ও বিশৃংখলা সৃস্টি করে রেখেছে। সুদানীরা সুযোগ পেলেই আক্রমণ চালাতে পারে। নূরুদ্দিন জঙ্গীরও কিছু অসুবিধা ছিল। ইসলামী জগত ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এ সকল রাজ্যের আমীররা আরাম- আয়েশ ও ভোগ-বিলাসে অভস্ত হয়ে পড়েছিল। খৃস্টানরা তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে একরকম অধীনই বানিয়ে রেখেছিল। খৃস্টানদের কূটচক্রান্তে পড়ে তারা পরস্পর শত্রু হয়ে উঠেছিল এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাত শুরু করে দিয়েছিল। ইসলামের গৌরব বৃদ্ধির চেষ্টা করার অনুভূতিও তারা হারিয়ে ফেলেছিল। এসব সমস্যা নিয়েই খৃস্টানদের সম্মিলিত বাহিনীর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন তারা। সুলতান আইয়ুবী সেনাবাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করলেন। এক দলকে সুদানের সীমান্তে চলে যেতে বললেন। তার কমান্ডারকে নির্দেশ দিলেন, ‘সীমান্ত থেকে অস্পষ্টভাবে দেখা যায় এতটা দূরত্বে তাবু টানিয়ে ক্যাম্প করবে। কিন্তু পুরো সিমান্ত এলাকায় সৈন্যদেরকে এমন ভাবে কর্মতৎপর ও ব্যতিব্যস্ত রাখবে যেন সব সময় বাতাসে অশ্ব ক্ষুরের ধূলি উড়তে দেখা যায়। যাতে মনে হয়, সীমান্তে অসংখ্য সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।’ সুলতান আইয়ুবী সৈন্যদেরকে বিশেষভাবে সতর্ক করে দিলেন যেন তারা কোন অবস্থাতেই অসতর্ক অবস্থায় না থাকে। দ্বিতীয় দলকে আলেকজান্দ্রিয়ার দিকে যাত্রা করতে আদেশ দিলেন। কিন্তু তাদের নির্দেশ দিলেন, ‘দিনের বেলায় যুদ্ধ যাত্রা করবে না। রাতের আধাঁরে পথ চলবে, আর দিনে গোপন স্থানে ক্যাম্প করে বিশ্রামে থাকবে।’ তাদের কমান্ডারকে আরো বললেন, ‘আলেকজান্দ্রিয়ায় তোমাদের শিবির ও যুদ্ধ ক্যাম্প কোথায় হবে সে নির্দেশ পরে জানানো হবে।’ তৃতীয় দলটিকে সুলতান আইয়ুবী নিজের কমান্ডে রাখলেন। কিন্তু কেন এই প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা তা কাউকে বললেন না। উর্ধতন অফিসারদের শুধু বললেন, ‘বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে জরুরী কিছু কাজ দেয়া হচ্ছে। যাকে যে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে এবং যেভাবে চলতে বলা হচ্ছে, আমি চাই সে তার দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করুক।’ সুলতানের এ নির্দেশের পর সৈন্যরা এ নিয়ে আর কোন প্রশ্ন তোলেনি। তবে সবাই এ দেখে বেশ অবাক হলো, সমস্ত মিনজানিক ও ভারী অস্ত্রগুলো আলেকজান্দ্রিয়াগামী সৈন্য দলকে সাথে নেয়ার জন্য দিয়ে দিলেন। এ নির্দেশের সাত আট দিন পর সুলতান আইয়ুবীকে আর কায়রোতে দেখা গেল না, আর নূরুদ্দিন জঙ্গীও ক্রাকে ছিলেন না। তাঁরা দু’জনই আলেকজান্দ্রিয়ার নিজ নিজ গোপন আস্তানায় অবস্থান করছিলেন। মাঝে মাঝে আস্তানা থেকে বেরিয়ে তারা পুরো এলাকায় টহল দিয়ে বেড়াতেন। কিন্তু তখন তারা থাকতেন ছদ্মবেশে। ফলে কেউ তাদের চিনতে পারতো না। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ও কেউ বলতে পারতো না, এ ব্যক্তিই একটি দেশের শাসক ও সেনা বিভাগের প্রধান! জনসাধারণ এ দুই মহান ব্যক্তিকেও তাদের মতই সাধারণ মানুষ মনে করতো। অথচ এ দুই ব্যক্তি ছিল ক্রুসেড ও খৃস্টান জগতের জন্য ভয়ংকর ভয় ও আতংকের কারণ। তাঁরা দু’জনই সাধারণ গরীব উষ্ট্র চালকের বেশে ছিলেন। কেউ তাদের ব্যাপারে এই আগ্রহও প্রকাশ করলো না যে, এই উষ্ট্রচালকরা কোথেকে এসেছে আর কোথায় যাচ্ছে। ............চলবে............. (বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now