বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুই দুইটা Girl

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এম. রকি মাহমুদ (০ পয়েন্ট)

X -আসো না একবার ! -নূপুর একটু বোঝার চেষ্টা কর । আমি আজ সারাদিন দিন বাইরে । একটু আগে বাসায় এসেছি । খুব ক্লান্ত । এখন কিভাবে আসবো বল ? -কিছু করতে হবে না তোমাকে । আমি গাড়ি পাঠাচ্ছি । বেশি সময় তো লাগবে না । -নূপুর ! -প্লিজ অপু । তুমি কথা দিয়েছিলে । কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললাম -আচ্ছা ঠিক আছে । কিন্তু বেশিক্ষন কিন্তু থাকবো না । -ওকে । কেবল রাতের খাবার খেয়ে চলে যাবে । আর কিছু লাগবে না । আমি এখনই গাড়ি পাঠাচ্ছি । আমি ফোন রেখে দিলাম । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় সাড়ে দশটা বাজে । এতো রাতে কি নূপুরে বাড়িতে যাওয়া ঠিক হবে ? কিন্তু না গিয়ে উপায়ও বা কি ? সকালবেলা কথা দিয়েছিলাম যে বিকেলে দেখা করবো কিন্তু নিশির জন্য আর হয়ে ওঠে নি । নিশি আজ কেমন যেন অদ্ভুদ আচরন করছিল । একটু যেন বেশিই কেয়ারিং ! নিশি এমনিতে কেয়ারিং কিন্তু আজ যেন একটু বেশি বেশি করছিল । এটা একটু অস্বাভাবিক ! যাক আমি অত কিছু ভাবলাম না । নূপুরে বাসায় যাওয়ার জন্য প্রত্তুতি নিলাম । আচ্ছা নূপুরের প্রতি কি আমি খানিকটা দুর্বল হয়ে পরছি ? কিছু সময় ধরে কারো সাথে মিশলে তার উপর একটু দুর্বলতা তো আছে ! আমার নূপুর আমার উপর যেমন ভাবে দুর্বল সেটাকে উপেক্ষা করাটা খানিকটা দুষ্কর । আমি মাঝে দুজনের মধ্যে কমপেয়ার করে ফেলি । যদিও কমপেয়ার করাটা একদমই ঠিক না । নিশির সাথে আমার রিলেশনটা স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে । নিশি আমাকে ভালবাসে কেবল আমার জন্যই । কিন্তু নূপুরের ব্যপারটা এরকম নয় । নূপুর আমার উপর দুর্বল তার কারন আমি না । তার কারন কেবল আমার চেহারাটা ওর হাসবেন্ডের মত । যদি অন্য কারোর চেহারা ঐ ভদ্রলোকের মত হত তাহলে তো নূপুর তার দিকে ঝুকে পরতো । সেখান দিয়ে নিশি একমাত্র !! আমার জীবনে আর কারো অবস্থান থাকাটা ঠিক না । কিন্তু নূপুরকে উপেক্ষা করাটা খানিকটা কষ্টকর হয়ে উঠছে । জানি নি সামনে কি আছে ! আমার সব থেকে ভয় লাগে নিশি যদি ব্যাপারটা জানতে পারে তাহলে ব্যাপারটা কিভাবে নিবে কে জানে ? তবে আমার বিশ্বাস নিশি বুঝবে । গাড়ি থেকে নূপুরের ফ্লাটের সামনে নামলাম তখন রাত প্রায় সাড়ে এগারো টা । ওর ফ্লাটের সামনে দাড়িয়ে খানিকটা চমকালাম । ও দরজা ধরে দাড়িয়ে আছে । দাড়ানোর ধরনটা একটু ভিন্ন ! তার সাথে ওর চোখের দৃষ্টিটাও কেমন যেন একটু অন্য রকম । আর সব থেকে অস্বাভাবিক যে ব্যাপারটা সেটা হল ওর পোষাক ! আমি নূপুরকে সাধারনত শাড়ি অথবা থ্রী পিচে দেখেছি কিন্তু আজ ? ও মাই গড ! নূপুর কেবল একটা টপস আর সাদা রংয়ের ল্যাগিংস পরে আছে । এমন কি ওরনাও পরে নি । কেমন একটা উগ্র উগ্র ভাব রয়েছে । আমার মনটা আবার একটু কু ডেকে উঠল । ওর ঘরে ঢুকতে আমার কেমন একটা অস্বস্থি লাগছে । নূপুর বলল -এসো ! আমার অস্বস্তি আরো খানিকটা বেড়ে গেল । নূপুর বলল -আমাকে কেমন লাগছে ? কি রে ভাই এটা আবার কেমন প্রশ্ন হল ? আর আজকে মেয়ে গুলার হইলো কি ? নিশিও কেমন আদুরে আদুরে আচরন করছিল । এ ও ওরকম শুরু করেছে । আমি বললাম -ভাল লাগছে । -জানো ও আমার টপস পরা অনেক পছন্দ করতো । আজ অনেক দিন পর এমন পোষাক পরলাম । ও মানে নূপুরের হাজবেন্ড ! কিন্তু ঐ বেটা পছন্দ করলে আমার কি ? আমার সামনে এমন পোষাক পরেছে ? আমি বললাম -কেন ? -তোমার জন্য ! আমার জন্য ! বলে কি এই মেয়ে ? এই মেয়ের ভাব চক্কর আমার মোটেও ভাল ঠেকছে না । আর এতো রাতে এর বাসায় আসা আমার একদম ঠিক হয় নি ! বললাম -দেখো নূপুর .... নূপুর আমাকে কথা শেষ করতে না ধিয়ে বলল -প্লিজ অপু আজকে আমার একটা আবদার রাখো । আমি আর কোন দিন তোমার কাছে কিছু চাই বো না । প্লিজ । একথা বলতে বলতেই দেখলাম নূপুর আমাকে জড়িয়ে ধরতে আসলো । -নূপুর থামো । থামো বলছি । -কি হবে অপু ? ওর চোখে কেমন এক আকুতি । একবার মনে হল ওর এই আকুতিকে প্রশ্রয় দেই । পরক্ষনেই নিজেকে খানিকটা ধিক্কার দিলাম । সিঃ এসব কি ভাবছি আমি । খুব কঠিন গলায় বললাম -থামো বলছি । কি হবে তুমি বুঝতে পারছো না ? এরকম করলে কিন্তু আমি তোমার সাথে আর যোগাযোগ রাখবো না । এবার দেখলাম নূপুরের চেহারাটা কেমন যেন এগ্রিসিভ হয়ে উঠল । নূপুর বলল -তুমি কিন্তু এটা ঠিক করছো না । আমার চাওয়ার কি কোন মূল্য নাই তোমার কাছে ? তুমি যদি আমার কথা না শোন তাহলে কিন্তু আমি নিশিকে সব কিছু বলে দিবো । -কি বললে তুমি ? আমার রাগ হয়ে গেল হঠাত্ । এই মেয়ের এতো বড় সাহস ! আমাকে ব্লাকমেইল করতে চায় । বললাম -কি বললে তুমি আবার বল ? বলে দেবে ? কি বলে দেবে ? তোমার সাথে আমি কি করেছি যে বলে দেবে । রাগটা আসতে আসতে বাড়তে থাকলো । আবার বললাম -শোন নূপুর ! তোমাকে আমার চেনা হয়ে গেছে ! নিশিকে সব কিছু বলে দাও । আমার কোন আপত্তি নাই । নিশিকে আমি মেনেজ করে নেবো । কিন্তু আজকের পর থেকে তোমার সাথে আমার কোন যোগাযোগ থাকবে না এটা মনে রেখ । আমার রাগ বাড়তেই থাকল । সত্যি সত্যি আমার রাগ হতে লাগল খুব । এই জন্য মানুষকে লাই দিতে নাই । বসতে দিলে এরা শুতে চায় !! নূপুর মনেহয় বুঝতে পারল আমি রেগে গেছি । গলা নরম করে বলল -আই এম সরি অপু । আমি ... আমি ... -নূপুর আমি এখন বাসায় যাবো । -প্লিজ অপু যেও না । আমি বুঝতে পারি নি । আমি একদম বুঝতে পারি নি ! বলে নূপুর কাঁদতে লাগল । ঐ যে আবার সেই একই হাতিয়ার । মেয়েদের চোখের জল দেখলে ছেলেরা একটু দুর্বল হয়ে ওঠা । আমি কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনই ভেতরের ঘর থেকে নিশি বের হয়ে এল । নিশি ! নিশি ! নিশি এখানে কি করে ? নিশি এখানে কিভাবে এল ? নিশি সরাসরি আমার কাছে এসে বলল -চল এখান থেকে । আই হেভ লিসেন্ড এনাফ । তারপর নূপুরের দিকে তাকিয়ে বলল -আমি তোমাকে বলেছিলাম তুমি জিততে পারবে না ! তুমি জিততে পারো নি । নিশি আমাকে নিয়ে বের হয়ে চলে এল । রাত বেশ হয়ে গেছিল । রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা । আমি রিক্সায় নিশির পাশে বসে আছি । খানিকটা ভয় ভয় করছে । জানি না ও কি বলবে । প্রথমে কিছুক্ষন চুপ করেই ছিল । নিশির মুখটাও গম্ভীর ছিল । হঠাত্ বলল -ওর কত দিন ধরে লুকাচ্ছ আমার কাছ থেকে ? সব বল । আসতে আসতে সব বললাম ওকে । সব শেষে বললাম -তুমি রাগ করছো ? আসলে আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম । কিন্তু.... -প্রথমে একটু করেছিল । কিন্তু এখন আর রাগ নাই । তবে আমার মনে একটা বিশ্বাস ছিল যে তুমি আনফেয়ার কিছু করতে পারবে না । কিন্তু নূপুর যখন ফোন করে বলল যে তুমি ওর প্রতি ইনভল্ভ হয়ে গেছো আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল । -ফোন করে কি বলেছে ? -আমাকে ফোন করে বলল যে তুমি আর আমাকে ভালবাসো না । তুমি ওকে ভালবাসো । এবং সে এটার প্রমান দিবে । তারপর আমাকে বাসায় ডেকে নিয়ে গেল । আমি কিছুক্ষন কিছু কথা বলতে পারলাম না । নূপুর নিশির সাথে আমার ব্রেক আপ করিয়ে নিজের পথ ক্লিয়ার করতে চেয়েছিল । কি প্লানিং করেছিল । আমি যদি ওর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেতাম .... আমি আর কিছু ভাবতে পারলাম না । নিশি বলল -জানো আমার মনে এই বিশ্বাসটা ছিল যে তুমি আমাকেই ভালবাসো । এজন্য আমি নূপুরকে সরাসরি বলেছিলাম যে তুমি এমন কিছুই করবে না । আমি জিতেছি । কিন্তু আমি আর রিস্ক নেবো না । -মানে কি ? -মানে হল পুরুষ মানুষের বিশ্বাস নেই । আজ আমাকে না জানিয়ে ওর সাথে সম্পর্ক করেছ ! কাল না জানি কি করবা ? -নিশি কি বলছ এসব ? আমি এরকম কিছুই করি নি । -কর নি ! করতে কতক্ষন ! পুরুষ মানুষের বিশ্বাস নাই । -নিশি ! -শোন বলেছি না আর আমি রিস্ক নেবো না । কালকেই আমরা আমরা বিয়ে করবো । এখনই বিয়ে করতাম । কিন্তু এখন কাজী পাওয়া যাবে না । আগে বিয়ে করে নেই তারপয় মজা বুঝাবো । আমি চুপ করে থাকি । নির্জন রাস্তা দিয়ে রিক্সাটা এগিয়ে চলে টুংটাং করে শব্দ করতে করতে ... . ভাই-বোনেরা যদি ভালো লাগে তবে 1+ Star দিয়ো...&...কেমন লাগলো কমেন্ট কইরো... (আর.এম.রকি মাহমুদ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now