বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মেঘ-বৃষ্টি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X মোতাহের সাহেব বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছেন, মুখে রাজ্যের মেঘ জমে আছে, যেকোন মুহুর্তেই বজ্রপাতসহ বর্ষন শুরু হতে পারে। ঘুম থেকে উঠেইতার চা চাই, একটু দেরি হলেই চিতকার চেচামেচি শুরু করে দেন। সকালে তার মেজাজ এম্নিতেই একটু চড়া থাকে, তাই মনিরা আগেভাগেই চা রেডি করে রাখে। কিন্তু আজ অনেক্ষন হয়ে গেল চা এর নাম গন্ধ ও নেই। মোতাহের সাহেব রাগেফুসছেন, চিত্কার দেয়ার জন্য মুখ খুলেছেন সবে ঠিক তখনি মেঘ এর প্রবেশ। . মেঘ হল মোতাহের সাহেবের একমাত্র ছেলে। খুবই শান্ত ভদ্র ছেলে। এবার ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে বের হল, বর্তমানে বেকার। . বাবা, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। . কি বলবি দ্রুত বল, তারপর তোর মাকে বলচা দিতে। . আমি বিয়ে করব। . কী করবি? . I want to marry, my dear father. . মোতাহের সাহেব ঠিক প্রস্তুত ছিলেন না , থতমত খেয়ে গেলেন,মেয়ে কি করে? . মেয়ে না বাবা ছেলে। . মানে? বাপ আমার তুই কি পাগল হয়ে গেলি ? . No dad, I am absolutely alright . মোতাহের সাহেব বুক চেপে ধরে ককাতে লাগলেন,একি বলছিস তুই, আহ! আহ! . বাবা, তুমি আবার ডান দিকে হাত দিয়েছ । তোমাকে না বলেছি হার্ট বামদিকে থাকে। ঠিক করে অভিনয় করতেও পারনা! . . মোতাহের সাহেব প্রতিবারের মত এবারোধরা পড়ে গেলেন, তার ছেলের সাথে কিছুতেই পেরে উঠেন না,মেঘ , তুই আর যাই করিস একাজ করিস না বাবা। সমাজে আমি মুখ দেখাতে পারবনা। ঠিক সেই মুহুর্তেই মুনিরা চা নিয়ে ঢুকলেন । মাকে দেখেই মেঘ রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মোতাহের সাহেব সেদিকেহতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলেন। . চা নাও, কি ব্যাপার আজ একেবারে চুপচাপ। কোনো সাড়াশব্দ নেই। তোমার ছেলে কি বলেছে শুনেছ, সে নাকি বিয়ে করবে, তাও একটা ছেলেকে। সেকি, এগুলো কি বলছে! পাগল হয়ে গেল নাকি? বিলাপ শুরু করে দিল মুনিরা। আরে রাখ তো এসব। ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে, এমন পাগলামি করবেই। কিন্তু তাই বলে একটা ছেলে কে কেন? নাহ, ওকে দ্রুত বিয়ে দিতে হবে। এই শুনছ , আমাদের পাশের বাসায় বৃষ্টি নামের একটা মিষ্টি মেয়ে আছে, মেঘ এর জন্যে কথা বলে দেখব নাকি? তুমি যা করার কর, শুধু একটা মেয়ে হলেই চলবে। একে বিয়ে না দিয়ে আর শান্তি পাচ্ছিনা। . *** . তিন মাস পর, মেঘ বৃষ্টির বিয়ে আজ। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, মুষুলধারে বৃষ্টি হচ্ছে । দুই জনই চরম খুশি। দীর্ঘ ৫ বছরের প্রণয়ের মধুর সমাপ্তি ঘটল। মেঘ তার মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ । মাকে সে আগেই বৃষ্টির কথা বলেছিল। কিন্তু মাঝে বেরসিক বাবা বেকে বসলেন। তাই এই ছোট অভিনয়্টুকু করতে হল। . . . রাত ৩ টা। হঠাত মোতাহের সাহেবের ঘুমভেঙে গেল। তুমুল বর্ষন হচ্ছে। এমনই এক দিনে মুনিরা তার ঘরে এসেছিল। সেদিন রাতেও বৃষ্টি হয়েছিল, তারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল। ভাবিতে ভাবতেই তিনি ছাদে চলে গেলেন। হঠাত খেয়াল করলেন এক জোড়া কপোত কপোতি বৃষ্টিতে ভিজছে। আকাশের মেঘ গর্জে উঠ্ল, সেই আলোয় দেখতে পেলেন মেঘ ও বৃষ্টিকে। আজ নিজেকে তার সার্থক মনে হচ্ছে। দুর হতে তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে আশির্বাদ করে গেলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেঘ-বৃষ্টিতে আল্লাহর পরিচয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now