বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাগ্যের পরিহাস!!!!!

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X অভি,ঢাকা ভার্সিটিতে সি এস ই পড়ুয়া একজন ছাত্র। অত্যন্ত নম্র,ভদ্র আর শান্ত একটি ছেলে। অভির অসংখ্য গুণের মধ্যে একটি অন্যতম গুণ হল সারাদিন তার মুখে হাসি লেগে থাকে আর আশে-পাশের সবাইকে সারাদিন হাসিতে মাতিয়ে রাখে। মন খারাপ করা একজন মানুষ যদি অভির পাশে এসে বসে আর তা যদি অভি বুঝে যায় তাহলে সে ঐ মানুষের মুখে হাসি তো আনবেই সাথে খারাপ মন ও সে ভালো করে দিবে মাঝে মাঝে সবার মনে হয় যে,সৃষ্টিকর্তা অভিকে এক অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন যে ক্ষমতার দ্বারা সে তার চারপাশের মানুষকে হাসি-খুশি রাখতে পারে । এইরকম একজন ছেলের একজন মনের মানুষ নেই ! তা কি কখনো হয় ? হয়তো হয় না,তাই সৃষ্টিকর্তা এই রকম সুন্দর একটা ছেলের জন্য মিষ্টি একটা মেয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন ! তৃষা ,অত্যন্ত চঞ্চল আর মিষ্টি একটা মেয়ে। অভির বেস্ট ফ্রেন্ড আর মনের মানুষ ! এক ভার্সিটিতে পড়ে দুইজন কিন্তু ডিপার্টমেন্ট আলাদা। ডিপার্টমেন্ট হোক আলাদা,কিন্তু এই দুইজনকে ক্লাস বাদে অন্য কোনসময় ভার্সিটিতে আলাদা পাওয়া যাবে না। দুইটি দেহ কিন্তু একটি আত্মা। ২. ভার্সিটিতে ওদের ডাকা হত রাজপুত্র আর রাজকন্যা নামে। একজন,আরেকজনকে এত ভালবাসতো যে তা কখনো বলে শেষ করা যাবে না। ওদের ভালবাসা দেখে মনে হয় গ্রিকপুরাণের ভালবাসার দেবী ও হিংসা করতেন। পৃথিবী হয়তো সুন্দর এবং পবিত্র এক ভালবাসার মিলন দেখার অপেক্ষায় ছিল ! সুন্দরভাবে কেটে যাচ্ছে রাজপুত্র আর রাজকন্যার ভালবাসার দিনগুলো। ক্লাস,পড়ালেখা,আড্ডা আর মাঝে মাঝে ঘুরতে যাওয়া সব মিলিয়ে অসাধারণ এক এক দিন। দুইজনের পরিবার ই জানতো তাদের এই ভালবাসার কথা। কোন পরিবারের কোন প্রকার আপত্তি ছিল না এই বিষয়ে। আপত্তি থাকবেই বা কেন? এযে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ! ৩. পড়ালেখা নিয়ে বেশ চাপে আছে অভি।এই চাপের কারণ তৃষাকে একদম সময় দিতে পারছে না। তার উপর আবার গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড মাথা ব্যথা করছে অভির। অভির প্রায় ই মাথা ব্যথা হয় কিন্তু অভি এসবকে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু ,গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে শীঘ্রই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। অভি ঠিক করলো,এই সেমিস্টারের পরীক্ষা দিয়ে ই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবে। অভি যে পড়ালেখা নিয়ে চাপে আছে তা তৃষা নিজেও বুঝতে পারে। আর এই কারণে অভি সময় না দিলেও তৃষা অভিকে কখনো কিছু বলে না। বুদ্ধিমতী মেয়েটার এই ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে অভির। বুঝতে পারার গুণটা সব মেয়ের মধ্যে থাকে না আর যাদের মধ্যে থাকে,তারা হল অনেকের মধ্যে অন্যতম। কিছুদিনের মধ্যেই অভির পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। সবকিছুর মধ্যেও মাথা ব্যথাটা অভির পিছু ছাড়ে না। প্রচন্ড মাথা ব্যথা নিয়ে খুব কষ্ট করে পরীক্ষা দেয় অভি। কিন্তু ,এই ব্যাপারে কখনোই কাউকে কিছু বলে নি,এমনকি তৃষাকেও না। যেদিন পরীক্ষা শেষ হয় সেদিন প্রথমে তৃষাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় অভি। তারপর অনেক সময় ঘুরে তৃষাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ডাক্তারের কাছে যায় অভি। অনেক ভোগান্তির পর ডাক্তারের সিরিয়াল পায় অভি। রাত দশটার দিকে ডাক পড়ে অভির। ডাক্তারের কাছে সব বলার পর ডাক্তার কিছু ঔষুধ,বেশ কিছু টেস্ট দেন অভিকে আর বলে দেন টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে সপ্তাহখানেক পর যোগাযোগ করতে। ডাক্তারের কাছ থেকে বেরিয়ে ঔষুধ কিনে তারপর বাসার দিকে পা বাড়ায় অভি । এক সপ্তাহের মধ্যে সবকয়টি টেস্ট করিয়ে ফেলে অভি। এর মধ্যেমাথা ব্যথাটা ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। ঠিক এক সপ্তাহ পর সবগুলো রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে হাজির হয় সে। ডাক্তার ওর কাছ থেকে রিপোর্টগুলো নিয়ে অত্যন্ত মনযোগের সাথে দেখতে থাকেন। সবগুলো রিপোর্ট দেখার পর ডাক্তারের মুখ কালো হয়ে যায় কিন্তু সেদিকে কোন খেয়াল নেই অভির। সে হাসিমুখে ডাক্তারের সামনের চেয়ারে বসে আছে। ৫. ডাক্তার প্রশ্ন করলেন ... -আপনার সাথে কি আর কেউ আসেনি ? -না ডাক্তার,আমি একা ই এসেছি -কিছু কথা বলার ছিল কিন্তু অন্য কেউ হলে ভালো হতো ! অভির ভেতরটা হঠাত্ করে মোচড় দিয়ে উঠলো -কি ডাক্তার?খারাপ কিছু?আপনি আমাকেই বলতে পারেন,আমি সবকিছু শোনার জন্য প্রস্তুত আছি -মিঃ অভি,আসলে কথাগুলো আপনাকে সরাসরি বলা উচিত না কিন্তু তারপরও অন্য কেউ না থাকার কারণে আপনাকে ই কথাগুলো বলতে হচ্ছে ! -ডাক্তার,যা বলবেন তা প্লিজ তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন -মিঃ অভি,আপনার ব্রেন টিউমার হয়েছে এবং বর্তমানে তা খুব ই নাজুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে ! ডাক্তারের কথা শোনার পর অভির মাথা ঘুরতে লাগলো , চারপাশ কেমন যেন অন্ধকার লাগছে অভির কাছে অভি প্রশ্ন করলো , -এর কি কোন প্রতিকার নেই? -একমাত্র অপারেশন এর প্রতিকার কিন্তু আপনার টিউমারের বর্তমানে যা অবস্থা তাতে অপারেশনে আপনার বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ৫% আর এই অপারেশনে প্রচুর টাকা প্রয়োজন ! অভি আর কিছু বললো না ! ডাক্তারের সাথে হ্যান্ডশেক করে বেরিয়ে আসলো চেম্বার থেকে আর রাস্তা ধরে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো কিছুক্ষণ হাঁটার পর অভি লেকের পাশে এসে দাঁড়াল ! ৬. অভি অনেকক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো লেকের পানির দিকে তারপর হাতে থাকা রিপোর্টগুলোর দিকে একবার তাকালো।লেকের পাশে ঘাসের উপর বসে পড়লো অভি আর ভাবতে লাগলো ... " যা হবার হয়ে গেছে ! আসলে আমার ভাগ্যে এরকম লেখা ছিল আর ভাগ্যের উপর কারো হাত নেই ! এখন আমাকে শক্ত হতে হবে আর যেখানে বাঁচার সম্ভাবনা ৫% সেখানে অপারেশন করেও কোন লাভ নেই ! সবচেয়ে বড় কথা আমার মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে লাভ নেই ! এখন আমাকে খেয়াল রাখতে হবে আমার পরিবার যেন কিছু জানতে না পারে আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তৃষাকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে ! হোক সেটা অভিনয়ের মাধ্যমে ! আমি জানি আমি অল্প কয়েকদিনের অতিথি সুতরাং এই অল্প কয়েকদিনের জন্য ঐ মেয়েটাকে জীবনের সাথে জড়িয়ে কষ্ট দেয়ার কোন মানে হয় না ! ভবিষ্যতে ও আমার চেয়ে ভালো কাউকে পাবে ! " অভি উঠে দাঁড়াল,ওর চোখ জলে ভরে উঠেছে ! হাতে থাকা রিপোর্টগুলো ছিঁড়ে বাতাসে ছড়িয়ে দিল ! অভি ঘুরে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো ! এখন ওর অনেক কাজ কিন্তু সময় অনেক কম , অনেক দ্রুততার সাথে কাজ করতে হবে ! হেঁটে চলছে অভি কিন্তু এই হেঁটে চলা বেশি দিনের জন্য নয় ..... ( সমাপ্ত )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now