বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ
হারানো বন্ধু
লেখাঃ মুহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম
একটা গলির মুখে এসে রিকশা থামাতে বলল কল্পনা।রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিলাম।একটু সামনে এগিয়ে যেতেই একটা বড়সর এপার্টমেন্ট।তিনতলায় উঠলাম।ও একটা রুমের কলিংবেল টেপার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দরজা খুলে গেল।মনে হলো দরজা খোলার জন্য ভেতর থেকে কেউ প্রস্তুতি নিয়েই ছিল।
খোলা দরজার ওপারে যাকে দেখলাম,অবাক না হয়ে পারলাম না।আর ভদ্রমহিলাও আমাকে দেখে চমকে গেছেন,পরক্ষণেই দেখলাম ওনার চোখে পানি।আমি ভাবতেই পারছিলাম না,আন্টি কিভাবে এতো পাতলা,রোগাটে হয়ে গেছেন !
---ভেতরে এসো ,বাবা (চোখের পানি মুছে,আন্টি)
আমি ভিতরে আসলাম।ছিমছাম একটা রুম।আসবাবপত্র বেশি কিছু নেই।একটা পড়ার টেবিল,একটা আলমারি,বইভরা একটা তাক,একপাশে একটা বিছানা ,পাশে আর একটা ছোট টেবিল।এই আর কি।আন্টি -
---ভালো আছো,বাবা ? (ততক্ষণে নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছেন)
---হ্যাঁ, আন্টি।আপনারা ?
---এই তো বাবা,যেমন দেখছো।
---তোমার আব্বা আম্মা ভালো আছে?
দাঁড়িয়ে কেন ? বস।
---হ্যাঁ ,সবাই ভালো।
---তো ঢাকায় ? এডমিশন কোথায় নিছো ?
---কল্পনার সাথে,ঢাকা ভার্সিটিতে।(একটু হেসে)
---তাই নাকি ?ভালো হইছে,বাবা।
কথা বলতে বলতে তিনি নাস্তা দিলেন,পানি আনলেন।
---কই গেলি রে মা ? আয় না,জুবাইর সাথে কথা বলবি না ?
(পাশের রুমে কল্পনাকে চেঁচিয়ে বলল আন্টি)
---আন্টি, আমি কিন্তু খুব মন খারাপ করছি।এই কবছর আপনাদের ছেড়ে যে কিভাবে কাটাইছি,আমি নিজেই জানি না।আপনারা চলে আসবেন তো আমাকে বলবেন না ?আপনাদের ফোন নাম্বার বন্ধ।কেউ বলতে পারে না,আপনারা কোথায় গেছেন . . .
আন্টি এতোক্ষণে চুপচাপ শুনছিলেন,এবার মুখ খুললেন।
---হ্যাঁ ,বাবা।সে অনেক কথা।আমরাও অনেক কষ্ট পাইছি।কিন্তু করার কিছু ছিল না।তুমি জানো ? প্রায় তিন-চার বছর পর পরিচিত একটা মুখ দেখলাম,কথা বলছি !
---কিরে,বস না। (কল্পনাকে আমি,কখন যেন ওও এসে দাঁড়িয়েছে)
---তো ওর সাথে কিভাবে দেখা হলো , বাবা?ওতো এখন হিজাব পরে সবসময়।(আগে পড়ত না)
---হ্যাঁ,আন্টি।আমি ক্লাশ শেষে ক্যাম্পাসে এমনিতেই আনমনে হাটঁছিলাম।কে যেন হঠাৎ ডাকল -
---জুউউউ !
আমি তো অবাক ! আমাকে 'জু' নামে কে ডাকতে পারে ? জু নামে তো শুধু কল্পনায় ডাকত।তাও আবার সবসময় না।তাহলে কোথায় ও ?
মাথা তুলে আশেপাশে তাকালাম।একটা মেয়ে , আমার দিকে হেঁটে আসছে।কালো বোরখা,সাদা হিজাব পড়া।পরিচিত ভঙ্গিতে।
---কেমন আছিস,জু ?
---কল্প,তুমি ?তোমরা ঢাকায় ?
---হ্যাঁ।ভালো আছিস ?
---হুমম।তোমরা ? আন্টি ,নিরাদ ?
---হ্যাঁ।সবাই ভালো আছে।
---তুমি . . . ঢাকা ভার্সিটিতে নাকি ?
---হুমম
---ওয়াও ! ভালো তো।প্রায় দেড় বছর থেকে ক্লাশ করছি বাট এতোদিন পর দেখা যে ?
---আমি প্রথম বর্ষে জু . . . .
---ওওও।তোমরা এভাবে চলে আসলে কেন ? এটা কি ঠিক হইছে ?
---সে অনেক কথা।চল ।আমাদের বাসা চল।আম্মু তোমাকে দেখলে খুব খুশি হবে।
---হুমম।আচ্ছা।চল।
---তারপর তো চলেই আসলাম (আন্টিকে বললাম)
---নাও বাবা , নাস্তা খাও।(আন্টি)
.
কি বোঝা যাচ্ছে না ? আচ্ছা,আগে পরিচয় দিয়ে নিই।আমি জুবাই।এবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।আর কল্পনা ?ও আমার হাইস্কুল জীবনের বন্ধু।স্কুল জীবনে আমার প্রায় একজনই ভালো বন্ধু ছিল।আর সেটা কল্পনা।আমাদের বাড়ি উত্তরবঙ্গের,নীলফামারী।আমি পড়াশুনার জন্য ঢাকায় থাকি।আর ওরা? প্রায় পাঁচ বছর আগে ওরা নীলফামারী ছেড়ে চলে আসে।কি কারণে,সেটা এখনো জানি না।পাঁচ বছর আগের কথা ---
আমি তখন ক্লাশ নাইনে।সে সময় আমি অনেক চুপচাপ ছিলাম,ক্লাশের বাইরে খুব একটা বের হতাম না।টিফিনে,ক্লাশে বসে একা একা বিভিন্ন বই পড়তাম।
নতুন একজন চুপচাপ বন্ধুকে দেখতে পেলাম।সে ও বই পড়ে।মনে হয় নিজের বই ।লাইব্রেরিতে থেকে বই নিতে তো ওকে দেখি না।
বই দেওয়া নেওয়া,একটু একটু কথা বলা,এভাবেই ওর সাথে বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায়।আর কল্পনা হচ্ছে সেই ও।ওর অবশ্য একটা ভালো নাম ও আছে।তবু,আমি ডাকতাম কল্পনা,অল্প না,কল্প,।ইত্যাদি।সে যাক।
ধীরে ধীরে ওর,ওদের বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারি।বাড়িতে মা আর ছোট্ট,দুরন্ত দুষ্টু একটা ভাই আছে।ওর আম্মুকে আমি আন্টি ডাকি।কিন্তু মায়ের মতোই শ্রদ্ধা,সম্মান করি। ওর বাবা বেঁচে নেই।ও যখন ক্লাশ এইটে তখন,রোড এক্সিডেন্টে ওর বাবা মারা যায়।তারপর থেকে ওদের চাচা,দাদি আর ফুফুরা (ছোট ফুফু বাদে )ওদের দেখতে পেত না।কথায় কথায় ওদের সাথে ঝগড়া লাগাত।বিভিন্নভাবে ওদেরকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করত।
ওর বাবা কলেজের লেকচারার ছিল।সবাই ওর বাবার মৃত্যুর কারণ হিসেবে আন্টিকে দায়ি করত।কারণ আন্টিই সেদিন ওনাকে বাজারে পাঠিয়েছিল,বাজার করতে ! অথচ ওনার মৃত্যু ছিল শুধুই রোড এক্সিডেন্ট।কল্পনার আব্বু আম্মু প্রেম করে বিয়ে করায়,ওর নানাবাড়ির সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিল না।তাই সে সময় তারা ছিল খুবই অসহায়।
আন্টি বাড়ির পাশেই,নীলগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে চাকুরি করতেন।এছাড়া বাসা ভাড়া থেকে কিছু টাকা পেতেন।এ দিয়েই তাদের চলে যেত।
কল্পনা অনেক মেধাবি আর পরিশ্রমী ছিল।কিন্তু কারো সাথে বেশি কথা বলত না।আমার সাথেই একটু কথা বলত ।
আমরা তখন ক্লাশ টেনে।খুব ক্লোজ হয়ে গিয়েছিলাম।দুজনেই দুজনার বেস্ট ফ্রেন্ড।আমাদের বাসা থেকে ওদের বাসা আড়াই তিন কিলোমিটার ছিল।আমি প্রায়ই ওদের বাসা যেতাম।আন্টিও আমাকে ছেলের মত দেখত,আদর করত।আর নিরাদ ? ক্লাশ টু তে পড়লে কি হবে অনেক দুষ্টু ছিল।আমার নোট,বই লুকিয়ে রাখত।আমি ওদের বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই পকেট থেকে চকলেট বের করে নিত।আর আমারও ওর জন্য চকলেট নিয়ে যেতে ভূল হতো না।
আর কল্পনার সাথে তো . . .।হ্যা,তবে আমরা মিশতাম ভাইবোনের মত।গল্প করতাম,মজা করতাম?সব কিছু শেয়ার করতাম।মাঝে মাঝে আড্ডা হতো।সময় পেলে আন্টি,নিরাদ আর ছোট ফুফুও থাকত।আমি প্রায় ওদের ফ্যামিলির একজন হয়ে গিয়েছিলাম।
.
প্রায়ই শুনতাম ওর কল্পনার দাদির সাথে,চাচাদের সাথে আন্টির ঝগড়া লেগেছে।কোনো সময় কল্পকেও আন্টিকে থামানোর জন্য কথা বলতে হতো।কল্পনার দাদি আর চাচারা খুব লোভি ছিল।ওরা সব সময় চাইত আন্টি - ফ্লাট,জমি আর মার্কেট লিখে দিক।বিভিন্নভাবে ওদের তাড়াতে চেষ্টা করত।আর দিন দিন সেটা বেড়েই চলল।শেষে এমন দাড়াল যে,প্রতিদিন ঝগড়া,হাতাহাতি,কান্না রুটিনে এসে গেল।আন্টি উচ্চ শিক্ষিত আর ধৈর্যশীল ছিলেন।তাই শত কষ্ট তিনি সহ্য করেছিলেন।কিন্তু . . .
.
বাকি অংশ দ্বিতীয় পর্বে......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now