বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুত বিষয়ক সত্য ঘটনা -২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অত্রাই, রানীনগর (নওগাঁ) থানাটির নাম শুনে থাকবেন । ২০০৫ সালের ঘটনা, সর্বহারা নামের দলটি প্রতি নিয়ত মানুষ খুন করত । তাদের মাঝে এক জন শাখাওয়াত। শাখাওয়াতকে ১১ ই জানুয়ারি ০৫ সন্ধা ৮ সময় গলা কেটে খুন করে।রাত ১২টার দিকে তার লাশটি মর্গে পৌছে। লাশটি ফেরত আনার জন্য গাড়ি খোজার জন্য বাহির হলে, গাড়ি মিলানো এক সময় অসম্ভব হয়ে হয়ে পড়ে। অবশেষে এক জন ডোম বলেন, আনিস রহমান একটি লোককে বলে চেষ্টা করতে। আনিস রহমা কে যখন পাওয়া গেল সময় রাত ১২:৩০ কিছু কম বেশি হবে। এখানে বলা দরকার আনিছ রহমানের বয়স ৫০ বছর। সে ভটভুটি চালক। আর সে শুধু এ ধরনের লাশকে বহন করত এবং মোটা অংকের টাকা নিত। কিন্তু শাখাওয়াতকে বহন করায়ে তার জীবনে অভিশপ্ত অধ্যায় হবে, তা আনিছ রহমানের জানা ছিলনা। আনিছ রহমানকে শাখাওয়াতের লাশটি উঠিয়ে দেয়া হল। তালায় (বাঁশের তৈরি বিছানা) দিয়ে মুড়ে দিয়ে। গাড়িটি যখন ছাড়ার জন্য আনিছ রহমানকে বলা হলো, রাত তখন প্রায় ২টা । ইঞ্জিনটি যখন চালু করতে গেল, অনেক টাইট হয়ে আছে ইঞ্জিনের চাঁকা। আনিছ তো চালু করতেই পাড়লেন না । যারা লাশটি নিতে এসে ছিলেন তাদের মধ্যে দু তিন জনও পাড়লেন না । তারপর আনিছ হঠাত্‍ দেখলেন চাঁকার সাথে হাতটি আটকে আছে সে জন্য চালু হচ্ছে না । তো হাতটি তালায় খুলে ভিতরে দিয়ে , গোল করে তালায়টি বেঁধে দেয়া হল। তারপর মেশিনটি চালু করে যাত্রা শুরু করলেন রাত ২.৩০ দিকে । যে লোকটি শুধু লাশ বহন করেন, সে যে খুব সাহসী হবেন তা বলার অবকাশ রাখেনা । কেউ নেই গাড়িতে ।লাশকে নিতে যারা গিয়ে ছিলেন, ভয়ে কেউ গাড়ির সঙ্গে আসেননি ।মর্গে থেকে গাড়িটি রাস্তায় চলা শুরু করলো। শহরের মধ্য রাস্তা, মানুষ শূন্য আর কুয়াশায় রাস্তার লাইট গুলো ও মৃদু দেখাচ্ছে। যে নদীটি নওগাঁ শহরকে দুই ভাগ করেছে, সে নদীর উপরে ব্রিজের মাঝা মাঝি যায়গায় আসতে আনিছ গাড়িতে ঝাকুনি উনভব করলেন । গাড়ি থামালেন মৃদু আলো পিছন ফিরে দেখলেন, লাশের বাঁধন গুলো খুলে গেছে। উঠে এসে শক্ত করে বাধলেন লাশটিকে। আবার পথ চলা শুরু করলেন। ব্রিজটি পাড় না হতেই আবারও সে ঝাকুনি । আবারও পিছন ফিরে দেখলেন, নাহ! সব ঠিক আছে। পথ চলা শুরু করলেন, সান্তাহার - রানীনগর যে রাস্তা আছে সে পথটি ধরে। বাতাশ বইছে, শীতের প্রকোপও বেশ, মাঝে মাঝে কুয়াশা যেন একদম ঘিরে ফেলছে ৫ মিটার এরও কম দূষ্টি সীমানা। খুব ধিরে গাড়ি নিয়ে আসতে বাধ্য আনিছ। গাড়িটি সান্তাহারের ছাইলো আসতেই প্রচন্ড ঝাকুনি, ঝড়ের মত বাতাস, আর কুয়াশায় নিজের হাতটি দেখতে পাচ্ছেনা আনিস। সাহসী মানুষ তারপরও ভয় পেয়ে গেলেন। শুরু করলেন যে টুকু দোয়া জানা তা পড়তে। গাড়িটি থামিয়ে, গাড়ি থেকে না নেমে বসে থাকলেন। এবার অনুভব করলেন গাড়ির উপর অনেক ভারি কিছুর অস্তিতের। পিছনে না ফিরে দোয়া কালিমা পড়ছেন, ১০ মিনিট পড় আস্তে আস্তে বাতাসের গতিবেগ কমে গেল, কুয়াশাও কেটে গেল। পিছনে না ফিরেই ভটভুটি চালাতে শুরু করলেন। কিন্তু গাড়িটা যেতে চায় না, যেন ২০/২৫ মন ওজনের কিছু টানছে গাড়িটাকে। এক সময় ভারি বস্তুটি মনে হয় উধাও হল। গাড়িটি স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করল। রক্তদয় বিলের পাশ দিয়ে চলছে ভটভুটি, মিনিট ১৫ পরে "হাল হালিয়া" স্টেশনের কাছে পৌছতেই, ইঞ্জিনটি বন্ধ হবার উপক্রম। কি হল দেখার জন্য ইঞ্জিনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, ঐ হাতটিই ইঞ্জিনের চাঁকার ঐ যায়গায় আটকে আছে। আনিছ এতো ভয় পেল যে, শীতেও তার সমস্ত শরীর ঘেমে উঠল। হাত পা থরথর করে কাপছে, ভয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম। মনে সাহস নেবার চেষ্টা করেছে। মনে মনে ভাবে, অনেক লাশ তো এই গাড়ি করে নিয়ে গিয়েছে, তা হলে! ভয় কি? সাহস করে যখন পিছনে ফিরলঃ দেখল একটি আলো অথচ কালচে, বিলের মধ্য চলে গেল, যখন আলোটি যাচ্ছিল তখন পানিতে শব্দ হচ্ছিল,স্পষ্ট শুনতে পেল আনিছ। তারপর লাশের দিকে চোখ যেতেই আবারও আৎকে উঠল আনিছ! তিনটা বাঁধনই খোলা, আর বুকের মাঝে রক্তে ভেজা। কিন্তু এ রক্ত একেবার তাঁজা। ৭/৫ না ভেবে শুধু এইটুকু ভাবলো, এখানে থাকলে মূত্যু তার হবেই। দৌড় দিয়ে যাবার রাস্তাও নেই। সাহস নিয়ে হাতটি ভিতরে দিয়ে, আরও শক্ত করে বাঁধলেন। শুরু করলেন গাড়ি চালানো। গাড়ি এসে পৌছল রানীনগরে। দেখলেন কিছু মানুষ ঘুমচ্ছে। গাড়ি থামিয়ে বসে রইলেন ৩০মিনিটের মত। এর মাঝে প্রস্রাব করেন রেল লাইনের পাশে। আনিছের মনে হল আর একটু পরেই ফজরের আজান হবে। তাই আবারও ভটভুটি চালু করে যাত্রা শুরু করলেন। রানীনগর পর, বৃটিশ আমলের করা একটি ব্রিজ হাতিশুরার ব্রিজ নামে পরিচিত। এই ব্রিজটি রক্তদয়ের বিলের শেষ সিমানা। গাড়ি যখন সেখানে পৌছলো, ব্রিজের কাছে আসতেই ছাইলোতে পরিবেশটি হয়েছিল ঠিক সে রকমই হল। এবারও চারদিক এতো কুয়াশা যে, ভটভুটির লাইট জ্বলছে কিনা বোঝার যায় না। হঠাত্‍ পিঠে কারো স্পর্শ অনুভব করলো আনিছ, সমস্ত শিরা উপশিরা চোখ কান সব কিছু দিয়ে গরম বাতাস বাহির হতে শুরু করলো। কি করবে ভেবে পাচ্ছেন না, আস্তে আস্তে স্পর্শটি আনিছের বুকের দিকে আসছে, হাতদিয়ে ধরে দেখল সেই হাত। হাতটি তার গলার দিকে এগুচ্ছে, শত চেষ্টা করেও থামাতে পারছেনা । গাড়িটিও একবার থেমে গেল। হাতটি আটকাতে পাড়ছেনা। এবার পিছন ফির দেখল, লাশটি বসে থেকে তাকে ধরেছে, দু চোখে কিছু নেই, রক্ত গরাচ্ছে । বুকটাও ফাঁকা। লাশের বসে থাকা দেখেই, আনিছের প্রান বাহির হবার উপক্রম, দম বন্ধ হয়ে আসছে, শেষ চেষ্টায় দু হাতদিয়ে হাতটি ঝাকি মারন আনিস। হাতটি সরে গেল, সঙ্গে সঙ্গে পিঠে এতো জোরা থাপ্পর মারল, আনিছ বাবা মা বলে চিত্‍কার করতে লাগল। এরপর আরও এক থাপ্পর মারল গাড়িতে। আনিছ অজ্ঞান। যখন জ্ঞান ফিরল ১৩ দিন অতিবাহীত হয়ে গেছে। রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে। বুকে পিঠে ব্যানডেস, আরও কিছু দিন পর বাড়ি ফিরে আসলেন আনিছ রহমান। আমি সহ অনেকে অনেক লোক তাকে দেখায় জন্য ভীর করেছিল। আনিছ রহমানে পিঠে একথাবা মাংস নেই, আর তার বুকে এবং তার পার্শে আগুন পুড়ে গেলে যে রকম হয় সে সব ক্ষত। এ কথা গুলো ছিল আনিছ রহমানের । বাকীঁটা আমি বলছিঃ সকালে মটরসাইকেল নিয়ে নওগাঁ যাবার পথে, মানুষের ভীর দেখে দাড়ালাম। লাশের গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে আছে। লাশের চোখ এবং কলিজা শিয়াল-কুকুর এসে খেয়ে গেছে। আর ইঞ্জিনের গরম পানি পড়ে চালকের পিঠে এবং বুকে বিশাল ক্ষত হয়েছে।...এগুলো ছিল আমি সহ সবার ধারনা। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছর পড় আনিছ রহমানের দেখা মিলে নানা বাড়িতে। তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শোনার পড় দু রাত আমি ঘুমতে পাড়িনি...। (সংগৃহীত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভুত বিষয়ক সত্য ঘটনা -৭
→ ভুত বিষয়ক সত্য ঘটনা ৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now