বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাসখানেক আগে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিলো। গুজবটা অনেকটা এরকম, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টেলিজেন্সের কয়েকজন এজেন্টকে দুটো দলে ভাগ করে রাশিয়া এবং ফ্রান্স পাঠানো হয়েছে বিশেষ একটা মিশনে। মিশনটা কি, এ ব্যাপারে ডিটেইলস জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছিলো সম্ভবত কোন একটা টেরোরিষ্ট গ্রুপের পেছনে লেগেছে আর্মি ইন্টেলিজেন্স। ধারণা করা হচ্ছিলো টেরোরিষ্ট গ্রুপটার কাছে এমন কিছুর খোঁজ আছে, যা না কি পাল্টে দিতে পারে টেরোরিজমের সঙ্গাকে। বিশেষ করে রিলিজিয়াস টেরোরিজমের যে রূপটা আজ আমরা দেখতে পারি সাড়া বিশ্বে, সেটা পাল্টে দেবার মতো কিছু একটা আছে সেই গ্রুপটার হাতে, এরকম একটা খবর উড়ে বেড়াচ্ছিলো। এবং, আর্মি ইন্টেলিজেন্সের টীম দুটোর উদ্দেশ্য ছিলো সেই টেরোরিষ্ট গ্রুপটাকে শেষ করে দেওয়া।
স্বাভাবিকভাবে এইসব ক্ষেত্রে যা হয়, একই সাথে ব্যাপারটা আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্সের কাছে। এখানেও এরকমটাই ঘটেছে। কয়েকটা দেশের ইন্টেলিজেন্স খোঁজ করছে এইসব এজেন্টদের এবং তাদের উদ্দেশ্যটা কি তা জানার জন্য।
সতেরোদিন আগে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলো অরবিন্দ। আইএসআইয়ের এক পুরনো বন্ধু না কি যোগাযোগ করেছিলো তার সাথে। পুরো ব্যাপারটা জানার জন্য আগ্রহী তারা।
পুরো কাজটাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে নিয়েছিলো এক্স র' এজেন্ট। তার এক ভাগের দায়িত্ব দিয়েছিলো আমার উপর। ফ্রান্সে যে এজেন্টদেরকে পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিচয়টা শুধু খুঁজে দিতে হবে আমাকে।
কাজটা শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, ততটা সহজ নয় মোটেও। এ ধরণের কাজে হাজার হাজার তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন সোর্স থেকে। সেসবের ভীর থেকে বিভিন্নভাবে ছেঁকে বের করতে হয় আপাত সঠিক তথ্যগুলোকে। তারপর সেগুলো কয়েক ধাপে চেক রিচেক করার পর পাওয়া যায় আসল তথ্যটা।
পুরো কাজটা করতে ইতোমধ্যেই আমার দেনা পড়ে গেছে আঠেরো হাজার ডলারের মতো। তবে লাভের তুলনায় সেটা কিছুই নয়। যে তথ্যটুকু পাকিস্তানী মেয়েটার হাতে তুলে দিয়েছি কিছুক্ষণ আগে, এটা আসলে এক চতুর্থাংশ। এর জন্যে ইতোমধ্যেই বাইশ হাজার পকেটে ঢুকলো। যদিও আজকেই ফ্লাইট ধরার আগেই আঠেরো হাজার দেনা চোকাতে হবে। বাকি থাকবে মাত্র চার হাজার ডলার। তবে সপ্তাহখানেকের ভেতর আরও তিনবার এরকম বাইশ হাজার করে ঢুকবে আমার পকেটে, এবং খুশীর খবর হলো, পরবর্তী তিনবারের একবারও অন্য কাউকে এই টাকার ভাগ দিতে হবে না আমাকে।
স্বীকার করতেই হচ্ছে, দিনকাল ভালো যাচ্ছে আজকাল।
*******
সেলফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছি। বিরক্ত এবং কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়েছি, অস্বীকার করবো না।
দুই মিনিটের কথা বলে আট মিনিট ধরে গায়েব হয়ে আছে এক্স র' এজেন্ট অরবিন্দ। এতক্ষণ তো লাগার কথা নয়, অন্তত ওর কথা ঠিক হলে।
আমি যে পেশায় আছি, সেখানে অন্তত এরকম সময়ে দেরী হওয়া মানে অনেক কিছু হতে পারে। এ কারণেই ব্যাপারটায় মনে মনে কিছুটা শঙ্কিত হয়ে উঠেছি। দুই মিনিটের কথা বলে আট মিনিট ঘুরে আসার মতো মানুষ অন্তত অরবিন্দ নয়।
আমার দেরী হয়ে গেছিলো জ্যামের কারণে, বাসে থাকতে কয়েকবার ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলাম তাকে আমি। এটা স্বাভাবিক, কারণ দূরত্বটা কম নয় মোটেও! আর আজকের জ্যামের কথা ইতোমধ্যেই এই দেশের সবাই জেনে গেছে। কিন্তু কফিশপ তো রোডের অপজিট পাশেই।
পাকিস্তানী এজেন্টের চেহারাও কিছুটা ফ্যাঁকাসে দেখাচ্ছে। স্পষ্ট বুঝতে পারছি, ঘাবড়ে গেছে সে-ও। আমার মতোই বার বার সেলফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে।
"এতক্ষণ বাইরে কি করছে হাতিটা?" খেঁকিয়ে উঠলো এ সময় আয়াত।
"হাতি নয়, ম্যামথের বাচ্চা!" টেনশন কমানোর জন্য বলে উঠলাম। "হাতির চেয়ে ম্যামথের বাচ্চার সাথেই ওর সাদৃশ্য বেশী।"
"এটা খারাপ বলেননি।" হেসে উঠলো মেয়েটা। তবে যে কেউই আন্দাজ করতে পারবে, হাসিটা একেবারে মাপা। ভেতরে ভেতরে শঙ্কিত হয়ে উঠেছে সে-ও।
এমন সময়ে খুলে গেলো রুমের দরজাটা। হেলেদুলে হাসিমুখে তিনটা ওয়ানটাইম কফিমগ হাতে রুমে পা রাখলো অরবিন্দ। কফিমগগুলো টেবিলে নামিয়ে রেখে বড় করে শ্বাস নিলো কয়েকবার। ধীরে ধীরে গিয়ে বসলো নিজের চেয়ারটাতে।
"আজকাল ইয়ং পোলাপানের কাছে মনে হয় কফির চাহিদা অতিরিক্ত!" বিরক্তির সুর তার গলায়। "আরে বাবা, দুই মিনিট লাগে না ঐ কফিশপ থেকে কফি নিয়ে ফিরে আসতে! অথচ দেখো, এই সন্ধ্যেবেলাতেও ভীড় জমিয়ে রেখেছে ছোকড়াগুলো। দেরী হয়ে গেলো!"
কথাগুলো কোনমতে বলেই আবার হা করে শ্বাস নিতে শুরু করলো বাচ্চা ম্যামথ। ধাতস্ত হতে কিছুটা সময় লাগলো তার। এরপর আবার মুখ খুললো, "কি হলো? হা করে কি দেখছো? তিন মগ কফি কি আমি নিজের জন্য নিয়ে এসেছি না কি?"
চুপচাপ একটা কফি তুলে নিলাম আমি। এমন সময় হালকা একটা রিংটোনের আওয়াজ কানে এলো আমার।
"সম্ভবত কনফার্মেশন কল!" উঠে দাঁড়ালো আয়াত। সেলফোনটা দেখিয়ে দরজার দিকে এগুলো। বের হয়ে গেলো রুম থেকে।
কফিতে চুমুক দিয়েই ভ্রু কুচকাতে বাধ্য হলাম। যেটুকু গরম থাকার কথা, তা নেই মোটেও। কোঁচকানো ভ্রু নিয়েই চাইলাম অরবিন্দের দিকে। ব্যাটা কি মজা নিচ্ছে না কি?
প্রায় শোনা যায় না, এমনভাবে বলে উঠলো অরবিন্দ। "মেয়েটা আইএসআই নয়।"
মৃদু চমকে উঠলাম। দ্রুত কফিটা টেবিলে নামিয়ে রেখে একটু ঝুঁকে এলাম অরবিন্দের দিকে।
এক সেকেন্ডের জন্য নিজের ডান হাতটা টেবিলের উপরে উঠিয়েই আবার নামিয়ে ফেললো সে। ঐ এক সেকেন্ডের ভেতরেই অরবিন্দের ডান হাতে শক্ত করে ধরে রাখা সাইলেন্সার লাগানো পিস্তলটা নজর এড়ালো না আমার।
"ওর নাম আয়াত নয়।" পাংশুমুখে উচ্চারণ করলো। "কায়নাত আবেদীন আয়াতকে কিছুক্ষণ আগে তার ব্রাসেলসের ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।"
ভ্রু জোড়া সোজা করলাম এবার। মাথায় চিন্তার ঝড় বয়ে যাচ্ছে আমার।
"পুরো খবরটা শোনার জন্যই কফিশপে দেরী করেছি।" একইভাবে বলে যাচ্ছে অরবিন্দ। "এখনো সব চ্যানেলে লিক হয়নি। মাত্র দুটো নিউজ চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে খবরটা। তবে ছড়িয়ে পড়বে খুব দ্রুত। এর মানে বুঝতে পারছো?"
"এ আয়াত নয়!" মাথা নাড়লাম। "তাহলে এ..."
এমন সময় রুমে প্রবেশ করলো মেয়েটা। দ্রুত এগিয়ে এসে বসে পড়লো নিজের চেয়ারে।
নিজের চেয়ারে সোজা হয়ে বসলাম এবার। তাকালাম মেয়েটার চোখের দিকে।
"কনফার্মেশন পাওয়া গেছে," হেসে উঠলো মেয়েটা। "সব ঠিক আছে। উই আর ডান নাও।"
কথাটা শেষ করে তৃতীয় কফিটা তুলে নিলো। অবশ্য একটা চুমুক দিয়েই নামিয়ে রাখলো। বলে উঠলো, "একেবারে ঠান্ডা হয়ে আছে দেখি! এই কফি খাচ্ছেন কিভাবে আপনারা?"
"ঠান্ডা হয়ে গেছে!" নিজের কাঁধ ঝাঁকালাম। মাথায় ঝড় চলছে, কিভাবে মেয়েটাকে আটকানো যায়, সেটাই ভাবছি। সরাসরি মারামারি শুরু করলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে আমার ফিটনেসহীনতার জন্য। আর তাছাড়া, এখানে যথেষ্ট জায়গাও নেই ডব্লিউ.ডব্লিউ.ই প্র্যাকটিসের জন্য। অন্য কোনভাবে এগুতে হবে। "সম্পূর্ণ দোষ অরবিন্দের। রুমের টেম্পারেচার এমন করে রেখেছে যে ফুটন্ত পানি এনে রাখলেও মিনিটখানেকের ভেতর বরফ হবার আগের পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে।"
"তা যা বলেছেন!" সরাসরি আমার চোখের দিকে চাইলো মেয়েটা। এক সেকেন্ডের জন্য প্রশংসা ফুটে উঠলো তার চোখে। এক সেকেন্ড...
এক সেকেন্ডই যথেষ্ট ছিলো অরবিন্দের জন্য। ব্যাটা এমনিতে বাচ্চা ম্যামথ হলেও, সামান্য নাড়াচাড়া করতে গিয়ে কোত কোত করলেও এই এক সেকেন্ডে কোন শব্দ করেনি, যেমন শব্দ করেনি তার হাতের সাইলেন্সার লাগানো পিস্তলটাও।
পরের সেকেন্ডে চেয়ার নিয়ে উলটে পড়ে গেলো মেয়েটা। তৃতীয় সেকেন্ডে আমার চোখে পড়লো, কপালে তৃতীয় নয়ন তৈরী হয়েছে তার।
"একেবারে মেরেই দিলেন?" ঝট করে অরবিন্দের দিকে চাইলাম।
"হ্যাঁ," বড় করে দুটো শ্বাস নিয়ে পিস্তলটা নামিয়ে রাখলো সে। "তা না হলে ও আমাদেরকেই মেরে দিতো। ... চোখ দুটো দেখেই বোঝা যায়,
এ একেবারে গোখরো!"
কথাটা বলেই আবার বড় করে শ্বাস নিতে লাগলো অরবিন্দ। চার পাঁচবার শ্বাস নেবার পর থামলো। মুচকি একটা হাসি দিয়ে আবারও বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলো।
"কি হলো আপনার?" হাসতে চেষ্টা করলাম। "একবার শ্যুট করেই হাঁপাচ্ছেন দেখি। হাপানী আছে না কি আপনার?"
যদিও খুব ভালোভাবেই জানি, অরবিন্দের হাপানী নেই।
আরও কয়েকবার বড় বড় করে শ্বাস নিয়ে মুখ খুললো অরবিন্দ। "হারামজাদী... হারামজাদী... বোধহয়... কিছু... একটা... করেছে।" শ্বাস নেবার পরিমাণ বেড়েই চলেছে তার।
"হা?" দ্রুত উঠে দাঁড়ালাম। এক্স র' এজেন্টের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ওর কাঁধে হাত রাখলাম। "কাহিনী কি, অরবিন্দ? স্ট্রোক হচ্ছে না কি আপনার? ডাক্তার খবর দেবো?"
অরবিন্দকে আমি চিনি প্রায় পৌনে তিন বছর হতে চললো। এর আগেও কয়েকবার কাজ করেছি। তার মতো ভালো লোক এই লাইনে খুব বেশী একটা নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই এত বিশ্বস্ত একজন লোককে হারাবার রিস্ক নিতে পারি না।
গো গো শব্দ বের হওয়া শুরু করেছে ইতোমধ্যেই অরবিন্দের গলা দিয়ে। নিজের বিশাল চেয়ারটার সাথে যেন নিজেকে মিশিয়ে ফেলার পণ করেছে।
"অরবিন্দ!" এবার সত্যি ঘাবড়ে যেতে বাধ্য হলাম।"কি হলো?... কি হচ্ছে?"
দ্রুত নিজের ফোনটা বের করে হেল্প লাইনের নাম্বারটা উঠাতে উঠাতেই আমার কাঁধ খামছে ধরলো অরবিন্দ। নিজের মুখের কাছে আমার কান নামিয়ে নিলো সে দ্রুত।
"নি... নিক... নিকোটিন প্যাচ!" অনেক কষ্টে উচ্চারণ করলো সে।
"নিকোটিন প্যাচ?"
দশ সেকেন্ড বড় বড় করে শ্বাস নিলো অরবিন্দ। তারপরে আবারও কষ্ট করে মুখ খুললো। "হারামজাদী... জিনিসটা নিকোটিন প্যাচের... নিকোটিন প্যাচের সাথে মিশিয়ে... পালাও!"
হাঁপড়ের মতো উঠানামা করছে অরবিন্দের বুক। প্রতিটি শ্বাস নেবার সাথে সাথে গো গো শব্দের পরিমাণ মনে হচ্ছে বেশ বেড়ে গেছে। তবুও সে চেষ্টা করছে কিছু একটা বলার। যদিও শব্দগুলো পরিষ্কার হচ্ছে না। তবে যে কয়টা শব্দ বুঝতে পারলাম, সেগুলো নিয়ে দ্রুত ভাবতে শুরু করলাম।
"নিকোটিন..." বলেই যাচ্ছে অরবিন্দ। "নিকোটিন... প্যা... প্যাচ... জিনিসটা... তাড়াতাড়ি... ডাক্তারের... কাছে... যাও... জিনিসটা... প্যাচ... নিকোটিন... প্যাচ... ট্রান্স...ট্রান্সডা...ট্রা...ট
্রান্সডার্মাল..."
শেষ শব্দটা কোনমতে উচ্চারণ করেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো অরবিন্দ। সেই সাথে চমকে দিয়ে গেলো আমাকে।
"ট্রান্সডার্মাল!" নিজের মনে মনে উচ্চারণ করলাম আমি। "শীট!"
বিষয়টা মাথাতেই আসেনি আমার। দ্রুত হাতের স্লিভ গুঁটিয়ে ফিফটিন এমজির নিকোটিন প্যাঁচটা খুলে ছুঁড়ে ফেললাম।
মেয়েটা আমাদেরকে খুন করার উদ্দেশ্যেই এসেছিলো, এটা পরিষ্কার হয়ে গেছিলো আমার কাছে তখনই, তখন অরবিন্দ বলেছিলো যে মেয়েটা আইএসআই নয়। তবে কি দিয়ে খুন করবে, তা বুঝতে পারছিলাম না। কারণ মেয়েটার হাতে কোন অস্ত্র দেখিনি। কাপড়ের ভেতর শরীরের কোথাও লুকিয়ে রাখা কোন অস্ত্রও ছিলো না। থাকলে অন্তত আমার চোখে পড়তো।
অরবিন্দ যখন মেয়েটাকে শ্যুট করে দিলো, তখন সত্য বলতে কিছুটা স্বস্তিবোধ করছিলাম। কিন্তু আমার সমস্ত স্বস্তি চলে গিয়ে নিজের ভেতর প্রচন্ড আতঙ্ক শুরু হয়েছে তখনই, যখন অরবিন্দ তার শেষ শব্দটা উচ্চারণ করেছে।
চারটা নিকোটিন প্যাচ, প্রতিটি আট এমজি করে। আর আমারটা ছিলো পনেরো এমজির। যদিও এই হিসেবে কোন লাভ নেই। কারণ, আমি তখনই মরে গেছি, যেই মুহূর্তে নিকোটিন প্যাচটা হাতে লাগিয়ে নিয়েছি।
হ্যাঁ, মেয়েটা তার নিজের সাথে অস্ত্র এনেছিলো। নিকোটিন প্যাচগুলোই ছিলো তার অস্ত্র। যা করেছিলো তা খুবই সহজ। নিরীহ নিকোটিন প্যাচগুলোকে ট্রান্সডার্মাল টক্সিন প্যাচে পরিণত করেছিলো সে।
শালী! খেঁকিয়ে উঠলাম আক্ষেপে।
আগেই আন্দাজ করেছিলাম, এ একজন জাত গোখরো!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now