বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি একজন চেইন স্মোকার ৩য় পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X কালো রঙের সিল্ক ফুল স্লিভ শার্ট, একই রঙের প্যান্ট, সাদা চিকন টাই। শার্টের স্লিভ অর্ধেকটা গোটানো। বুকের দু'পাশ স্বাভাবিকের চেয়েও একটু বেশী উঁচু হয়ে আছে। হালকা একটু বাঁকা হয়ে বসে আছে চেয়ারে। রোমান্টিক ধাঁচের যে কোন পুরুষের কাছে মেয়েটাকে একটু বেশীই আবেদনময়ী বলে মনে হবে। সুন্দরী মেয়েটা, আগেই বলেছি। তবে হাত দুটো দেখলে যে কেউই বুঝবে, এই মেয়ে অন্য দশটা মেয়ের মতো অবলা নয়। বরং অনেকটাই শক্ত। ক্যালিফোর্নিয়ার সেই ফাইটার ডায়েট ওয়র্কআউটের ফাউন্টার পলিন নোডিনের মতো যদি এই মেয়ের সিক্স প্যাক থাকে, তাহলেও অবাক হওয়া যাবে না বোধহয়। এর সাথে যদি চোখের দিকে তাকানো হয়, আমি যে ক্যারিয়ারে ছিলাম একই ক্যারিয়ারের যে কারও মাথায় এলার্ট এলার্ম বাজা শুরু হয়ে যাবে। জাত খুনী এই মেয়ে, শুধু শুধু বলিনি। তবে এই মুহূর্তে একেবারেই শান্ত দেখাচ্ছে তাকে। ঠোঁটে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। অন্য কোন মেয়ে হলে হাসিটা অবশ্যই মোহনীয় লাগতো, এ ব্যাপারে গ্যারান্টি দেওয়া যায়। কে জানে, হয়তো ডিনারও অফার করে ফেলতাম অন্য কোন মেয়ে হলে! ইচ্ছে না থাকলেও হাসি ফুটিয়ে রাখতে হচ্ছে বলে কিছুটা বিরক্ত হয়ে আছি। দ্রুত এখানকার কাজটা শেষ করে আবার ফিরতে হবে। ঠিক তিন চার ঘন্টা সময় পাবো ব্রাসেলসে ফিরে যাবার জন্য। তা না হলে রোমের ফ্লাইটটা মিস করতে হবে। গত দশ পনেরো বছরের ইতিহাসে সম্ভবত এরকম জ্যাম আর দেখা যায়নি এখানে। ফেরার সময়ও যদি এরকম জ্যাম থাকে, তাহলে সব প্ল্যান পন্ড হয়ে যাবে। এবং এই মুহূর্তে কিছুতেই সেটা চাইনা। "নিকোটিন প্যাচ!" এমন সময় গড় গড় করে উঠলো অরবিন্দ সান্ন্যাল। তার দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম, মেয়েটার নিয়ে আসা কাগজের প্যাকেটটা খুলে ভেতরে দুটো আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়েছে। "সিগারেটের বদলে এগুলো লাগাতে পারেন কিন্তু। বিভিন্ন ধরণের নিকোটিন প্যাচ আছে কিন্তু বাজারে। আমার এখানেও স্টকে আছে। তবে মেহমুদকে বলেছিলাম আয়াতের কাছে এক প্যাকেট পাঠাতে। আপনার এবং আমার জন্য- অবশ্যই!" "ফিফটিন এমজি!" বড় করে শ্বাস নিলাম। "এর নিচে হলে সিগারেট ভালো লাগে না। মনে হয় পুরিয়ে ঘাস টানছি।" "হুম," মাথা নাড়লো এক্স র' এজেন্ট। "আই ডিড মাই রিসার্চ, সাইফুল। ফিফটিন এমজির ব্যবস্থাই করা হয়েছে। যদিও আমি হাইয়েষ্ট এইট এমজিতেই সন্তুষ্ঠ!" প্যাকেটের ভেতর থেকে দুটো প্যাচ বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। "তবে বেশীরভাগ সময় সিক্স এমজিতে সয়ে নিই আর কি!" হাসি ফুটে উঠলো তার চেহারায়। চোখ টিপলো। "সিক্স এমজির চারটা এক সাথে মেরে দিই।" প্যাচ দুটো হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ফিফটিন?" "ফিফটিন!" মাথা নাড়লো অরবিন্দ। সেই সাথে নিজের শার্টের ডান স্লিভ গোটাতে শুরু করলো। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, সত্যি চারটা নিকোটিন প্যাচ লাগানো আছে সেখানে। একে একে সবগুলো প্যাচ খুলে ফেললো সে। প্যাকেট থেকে নতুন চারটা প্যাচ করে লাগিয়ে নিলো আবার। খেয়াল করলাম, প্রতিটি প্যাচ আট এমজির। "এ শালা দেখি আমার চেয়েও বড় খোর!" মনে মনে হেসে উঠলাম। বাঁ হাতের স্লিভ কিছুটা উঠিয়ে একটা প্যাচ লাগিয়ে নিলাম তাতে। মনে মনে ত্রিশ থেকে উল্টো গুনতে শুরু করলাম। এর আগেও নিকোটিন প্যাচের দ্বারস্ত হতে হয়েছে আমাকে। এই ব্যাপারটা খুব একটা ভালো না লাগলেও সইয়ে নিতে হয়। এমন না যে আসল সিগারেটের অভাব পূরণ করতে ব্যর্থ এই জিনিসটা। তবে, দুধের স্বাদ কি আর ঘোলে পাওয়া যায়? গোণা শেষ হতেই বড় করে শ্বাস টানলাম। ধীরে ধীরে ভালো লাগতে শুরু করেছে। স্পষ্ট বুঝতে পারছি, ঠিকঠাক ফিফটিন এমজিই এই প্যাচটা। একটুও কম নয়। "এবার বোধহয় আমরা আমাদের কাজ শুরু করতে পারি।" এবারের হাসিটা অন্তর থেকেই বের হলো আমার। "অবশ্যই!" এতক্ষণে মুখ খুললো আয়াত নামের আইএসআই এজেন্ট। "ইনফোগুলো এনেছেন?" তার দিকে নজর না দিয়ে অরবিন্দের দিকে ফিরলাম। "আমার টাকাটা?" এবার মেয়েটার আনা দ্বিতীয় জিনিসটার দিকে হাত বাড়ালো অরবিন্দ। মাঝারি আকারের এনভেলপটা ঠেলে দিলো আমার দিকে। "এবার ইনফো?" জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা পেনড্রাইভ বের করে আয়াতের দিকে বাড়িয়ে দিলাম। পেনড্রাইভটা নিয়ে অরবিন্দের দিকে চাইলো সে। মুচকি হেসে নিজের ল্যাপটপটা এগিয়ে দিলো লোকটা আয়াতের দিকে। "প্রত্যেকটা ইনফো চেক করে নিন, মিস আয়াত!" এরপর আমার দিকে তাকালো। "একই কথা আপনার জন্যেও। প্রতিটা নোট গুনে নিন। পরে সমস্যা হলে আমি অরবিন্দ কোন দায় নিয়ে পারবো না কিন্তু!" কোন কথা না বলে এনভেলপটা তুলে নিলাম। ভেতর থেকে নোটগুলো বের করে একটা একটা করে গুনতে শুরু করলাম। প্রত্যেকটা একশো ডলারের নোট, মোট বাইশ হাজার। গোনা শেষ করে করে টাকাটা এনভেলপে ভরে জ্যাকেটের পকেটে চালান করে দিলাম। প্রচুর খরচ আছে সামনে। এদিকে পেনড্রাইভটায় থাকা ইনফোগুলো চেক করায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পাকিস্তানী মেয়েটা। একে একে নজর বুলিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি ফাইলে। "এখানে আছে এক চতুর্থাংশ।" খুশী খুশী গলায় জানালাম মেয়েটাকে। "জানি!" ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই জবাব দিলো মেয়েটা। "প্রত্যেকটা আপলোড করছি এখন। এটুকু কনফার্ম হবার পর বাকি ইনফোর কথা আসবে।" "সাথে আমার পেমেন্টের ব্যাপারটাও আসবে, তাই না?" হাসতে হাসতে মন্তব্য করলাম। তবে মেয়েটার কাছ থেকে কোন সাড়া পেলাম না। পাক্কা পাঁচ মিনিট পর ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরালো। পেনড্রাইভটা খুলে ল্যাপটপটা বাড়িয়ে দিলো অরবিন্দের দিকে। "ধন্যবাদ!" "কাজ শেষ আপনার?" ল্যাপটপটা আগের জায়গায় রেখে প্রশ্ন করলো অরবিন্দ। জবাবে শুধু মাথা নাড়লো মেয়েটা। এবার আমার দিকে চাইলো এক্স র' এজেন্ট। "মিনিট দশেকের মতো লাগবে কনফার্ম হতে। ততক্ষণে কফি চলবে?" "দৌড়াবে!" সংক্ষেপে জবাব দিলাম। আয়াতের দিকে চাইতে সেও মাথা নাড়লো। "বসুন তাহলে আপনারা দুজন।" কয়েকবার কোত কোত শব্দ করে উঠে দাঁড়ালো। "বাইরের কফিশপ থেকে কফি নিয়ে আসছি আমি সবার জন্য। মিনিট দুয়েকের বেশী লাগবে না।" ******* মাসখানেক আগে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিলো। গুজবটা অনেকটা এরকম, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টেলিজেন্সের কয়েকজন এজেন্টকে দুটো দলে ভাগ করে রাশিয়া এবং ফ্রান্স পাঠানো হয়েছে বিশেষ একটা মিশনে। মিশনটা কি, এ ব্যাপারে ডিটেইলস জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছিলো সম্ভবত কোন একটা টেরোরিষ্ট গ্রুপের পেছনে লেগেছে আর্মি ইন্টেলিজেন্স। ধারণা করা হচ্ছিলো টেরোরিষ্ট গ্রুপটার কাছে এমন কিছুর খোঁজ আছে, যা না কি পাল্টে দিতে পারে টেরোরিজমের সঙ্গাকে। বিশেষ করে রিলিজিয়াস টেরোরিজমের যে রূপটা আজ আমরা দেখতে পারি সাড়া বিশ্বে, সেটা পাল্টে দেবার মতো কিছু একটা আছে সেই গ্রুপটার হাতে, এরকম একটা খবর উড়ে বেড়াচ্ছিলো। এবং, আর্মি ইন্টেলিজেন্সের টীম দুটোর উদ্দেশ্য ছিলো সেই টেরোরিষ্ট গ্রুপটাকে শেষ করে দেওয়া। স্বাভাবিকভাবে এইসব ক্ষেত্রে যা হয়, একই সাথে ব্যাপারটা আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্সের কাছে। এখানেও এরকমটাই ঘটেছে। কয়েকটা দেশের ইন্টেলিজেন্স খোঁজ করছে এইসব এজেন্টদের এবং তাদের উদ্দেশ্যটা কি তা জানার জন্য। সতেরোদিন আগে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলো অরবিন্দ। আইএসআইয়ের এক পুরনো বন্ধু না কি যোগাযোগ করেছিলো তার সাথে। পুরো ব্যাপারটা জানার জন্য আগ্রহী তারা। পুরো কাজটাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে নিয়েছিলো এক্স র' এজেন্ট। তার এক ভাগের দায়িত্ব দিয়েছিলো আমার উপর। ফ্রান্সে যে এজেন্টদেরকে পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিচয়টা শুধু খুঁজে দিতে হবে আমাকে। কাজটা শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, ততটা সহজ নয় মোটেও। এ ধরণের কাজে হাজার হাজার তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন সোর্স থেকে। সেসবের ভীর থেকে বিভিন্নভাবে ছেঁকে বের করতে হয় আপাত সঠিক তথ্যগুলোকে। তারপর সেগুলো কয়েক ধাপে চেক রিচেক করার পর পাওয়া যায় আসল তথ্যটা। পুরো কাজটা করতে ইতোমধ্যেই আমার দেনা পড়ে গেছে আঠেরো হাজার ডলারের মতো। তবে লাভের তুলনায় সেটা কিছুই নয়। যে তথ্যটুকু পাকিস্তানী মেয়েটার হাতে তুলে দিয়েছি কিছুক্ষণ আগে, এটা আসলে এক চতুর্থাংশ। এর জন্যে ইতোমধ্যেই বাইশ হাজার পকেটে ঢুকলো। যদিও আজকেই ফ্লাইট ধরার আগেই আঠেরো হাজার দেনা চোকাতে হবে। বাকি থাকবে মাত্র চার হাজার ডলার। তবে সপ্তাহখানেকের ভেতর আরও তিনবার এরকম বাইশ হাজার করে ঢুকবে আমার পকেটে, এবং খুশীর খবর হলো, পরবর্তী তিনবারের একবারও অন্য কাউকে এই টাকার ভাগ দিতে হবে না আমাকে। স্বীকার করতেই হচ্ছে, দিনকাল ভালো যাচ্ছে আজকাল। ...... চলবে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি একজন চেইন স্মোকার ৪র্থ ও শেষ পর্ব
→ আমি একজন চেইন স্মোকার ২য় পর্ব
→ আমি একজন চেইন স্মোকার ১ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now