বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি একজন চেইন স্মোকার ১ম পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X সিগারেটের প্যাকেটটা বন্ধ করতে করতে মন্তব্য করলাম। তিক্ত একটা অনুভূতিতে ভরে উঠেছে মন। গত সাড়ে তিন ঘন্টা কাটাতে হয়েছে বাসে। বাস থেকে নেমেই দৌড়াতে হয়েছে। সাত মিনিটের রাস্তা তিন মিনিটে পাড়ি দিতে হয়েছে এখানে পৌঁছতে। সময়ের হিসেবে কিছুটা গড়বড় হয়ে গেছে বলা যায়। পাক্কা চৌত্রিশ মিনিট লেট! বাসে উঠার সিদ্ধান্ত নেবার জন্য নিজেকে ধরে লাত্থাতে ইচ্ছে করছিলো। আধ ঘন্টার রাস্তা সাড়ে তিন ঘন্টা জ্যামে বসে কাটাতে হলে যে কারোরই সম্ভবত নিজেকে না হয় অন্যকে ধরে লাত্থাতে ইচ্ছে করবে। যেহেতু অন্যকে এখানে লাত্থানো সম্ভব না, তাই নিজেকেই লাত্থানোর ইচ্ছেটা উগ্র হয়ে উঠে। কিংবা কে জানে, আমিই হয়তো ভুল ভাবছি। . এই মুহূর্তে আমার সামনে যে বসে আছে, তাকে একটা বাচ্চা ম্যামথের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। লোকটার যে সাইজ, ঐ সাইজের একটা তিমির শরীরে যে পরিমাণ চর্বি পাওয়া যায়, সম্ভবত এর শরীর থেকে তার চেয়ে একটু হলেও বেশী চর্বি পাওয়া যাবে। ফর্সা চেহারাটা লাল হয়ে আছে। কিছুটা ঘাম দেখা যাচ্ছে নাকের উপর। অথচ রুমের তাপমাত্রা এগারো ডিগ্রীও হবে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। যদিও সাড়ে তিন ঘন্টা ঠাটা পড়া রোদে জ্যামে বসে থেকে সাত মিনিটের রাস্তা তিন মিনিটে দৌড়ানোর পর এই ঠান্ডায় খুব একটা খারাপ লাগছে না। তবে এটাও ঠিক, খুব বেশীক্ষণ এই ঠান্ডা পরিবেশ সহ্য হবে না শরীরের। ঘামগুলো শুকিয়ে যাবার কিছুক্ষণের ভেতরেই অসহ্য লাগা শুরু হবে এই তাপমাত্রা। "আপনি যে চেইনস্মোকার, সেটা আমিও জানি। আমি নিজে আপনার চেয়ে বড় চেইনস্মোকার। দিনে কমপক্ষে পাঁচ প্যাকেট লাগে। কিন্তু... এখানে আমরা কেউই সিগারেট টানি না।" নাক ঝাড়তে ঝাড়তে বলে উঠলো বাচ্চা ম্যামথ। "অফিসটা নতুন, জানেনই তো। আর... ইট'স আ নো স্মোকিং জোন। তবে..." ডান হাতটা আগে বাড়াতে কিছুটা কসরস করতে হলো তাকে, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। টেবিলের উপর রাখা একটা বাজারের বাটন টিপতে টিপতেই হাঁপিয়ে উঠেছে। "আপনার কোন অসুবিধে হবে না আশা করি। আমার নিজের এবং আপনাদের কথা চিন্তা করে সিগারেটের বিকল্প হিসেবে অন্য জিনিস রেখেছি।" কথাগুলো শেষ করতে না করতেই যে দরজা দিয়ে এই রুমে ঢুকেছি, সেটা খুলে গেলো কোন শব্দ না করে। চোখের কোণা দিয়ে দেখতে পেলাম, এক হাতে একটা কাগজের এনভেলপ, আরেক হাতে ছোট কাগজের তৈরী প্যাকেট নিয়ে এক চব্বিশ পঁচিশ বছর বয়েসী তরুণী ঢুকলো রুমটাতে। জিনিস দুটো টেবিলের উপর রেখে পাশের একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লো। "হ্যালো!" রিন রিনে কন্ঠে বলে উঠলো মেয়েটা। আমি হালকা মাথা নাড়তেই চোখ ফেরালো। বাচ্চা ম্যামথের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট ইংরেজীতে বলে উঠলো। "প্যাচ এগুলোই তো, মিষ্টার অরবিন্দ? ব্র্যান্ড ঠিক আছে?" "হ্যাঁ! আইয়ুব মেহমুদ দেখি মনে রেখেছে আমার চয়েজ।" মাথা নাড়লো বাচ্চা হাতি, ওরফে এক্স র' এজেন্ট অরবিন্দ স্যান্ন্যাল। "পরিচিত হোন," বাম হাতটাকে কসরত করে উঁচু করতে করতে আমার দিকে চোখ নাচালো। "কায়নাত আবেদীন আয়াত, ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স। এর নামই আপনি শুনেছেন আমার কাছে।" কেউ যে সরাসরি কাউকে এভাবে ইন্টেলিজেন্স সদস্য বলে পরিচয় করিয়ে দেয়, তা এই ম্যামথের সাথে পরিচয় না থাকলে জানা থাকতো না আমার। অনেকদিন ধরে চিনি একে, তাই আর অবাক হলাম না। হাতটাকে একটু ঘুরিয়ে আবার বলে উঠলো। "সাইফুল খন্দকার, ফ্রিল্যান্সার।" এবার পূর্ণ দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকালাম। মেয়েটা সুন্দরী, এ ব্যাপারে যে কেউ একমত হবে আমার সাথে। তবে আমি যা দেখলাম, তা হয়তো অনেকের চোখে পড়বে না। হালকা সবুজ চোখ দুটো এই মুহূর্তে কোনকিছুই প্রকাশ করছে না। ঠান্ডা চোখ, বুকে হালকা কাঁপন তুলে দিতে যথেষ্ট। জাত খুনী এই মেয়েটা, মনে মনে স্বীকার করলাম। কিংবা বলা যায়, জাত গোখরো! ..... চলবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি একজন চেইন স্মোকার ৪র্থ ও শেষ পর্ব
→ আমি একজন চেইন স্মোকার ৩য় পর্ব
→ আমি একজন চেইন স্মোকার ২য় পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now