বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি দরজা
খুলে ডাকলাম শরিফ আর
আসলাম শিকদারকে।দুইজনই
দ্রুত চলে আসলেন।
ফোনটা হাতে নিয়ে
কল দিলাম ইন্সপেক্টর জাবেদকে।
কিছুক্ষণের
মধ্যেই চলে আসলেন তিনি।
সাথে কয়েকজন জুনিয়র
অফিসার।সেখানেই
তিনি আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
শুরু করে দিলেন।
"ধরা তো পরে গেছেন সত্যিটা
বলে দিবেন?নাকি.... ?"
শুভাশিষ চৌধুরী বলতে শুরু
করলেন,"আমার দাদামশাই
জমিদার ছিলেন।তিনি আমাকে
একটা হীরার আংটি উপহার
দিয়েছিলেন।কিছুদিন আগে
সেটা চুরি হয়ে যায়।একদিন
আমি আংটিটা রমেশের হাতে
দেখি।আমি তাকে আংটিটা দিতে
বলি।কিন্তু সে আমাকে বলে,'আংটি
যে তোমার তার প্রমাণ কি?'
আমি এখানে কাউকে এই আংটি
সম্পর্কে কোনোদিন কিছু জানাইনি।
আমার বাবা, দাদামশাই কেউ এখন
বেঁচে নেই।আমি কি করে প্রমাণ
করতাম যে আংটিটা আমার?
আমি রমেশকে মেরে আংটিটা
নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।"
আমি বললাম, "আংটি পেয়েছিলেন?"
শুভাশিষ বাবু বললেন, "না।
আমি সারা ঘরে খুঁজেছি
কিন্তু আংটিটা কোথাও পাইনি।"
"আপনি যদি খুঁজতেন তাহলে
তো পরের দিন ঘরের জিনিষগুলো
এলোমেলো অবস্থায় থাকত।
কিন্তু এক্ষেত্রে তো সেটা হয়নি।"
আমি যখন আংটি পেলামনা
তখন সবকিছুই আবার আগের
মতো করে রাখি যাতে পরে
কেউ বুঝতে না পারে যে এটা
মানুষের কাজ।"
এবার আমি বললাম,
"আর এই কারণেই আপনি
আপনার গলায় ভূতের আঁচড়ের
মতো দাগ করে তারপর
ক্লোরোফরম নিয়ে নিজে
নিজে অজ্ঞান হন যাতে
আপনি আমাদেরকে
মিথ্যা একটা ভৌতিক গল্প বানিয়ে
বলতে পারেন।
ভুল বললাম?"
"না।"
"আর আপনি খুন করেছিলেন
ঠিক এই পদ্ধতিতেঃ
রমেশ বাবু ব্যাংক থেকে আসার পর
আপনি
আজকের মতো সেদিনও
কোনোভাবে লুকিয়ে তার খাটের
নিচে ঢুকে যান।তিনি যখন
ঘুমিয়ে পরেন তখন আপনি
বেরিয়ে এসে তার গলায় আঘাত
করেন।আর হ্যা,আপনি একসময়
সার্কাসে দড়িতে ঝুলে
থাকার খেলা দেখাতেন।
আপনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে
দরজা দিয়ে বের না হয়ে
বের হন বেলকনি দিয়ে।
আপনি বেলকনির দিকের জানালার
সাথে
একটা লম্বা দড়ির মধ্যভাগটা
আঁটকে দিয়ে দড়ির দুই
প্রান্ত হাতের মুঠোতে নিয়ে ঝুলে
মাটিতে অর্থাৎ গলিতে নেমে
পরলেন।মাটিতে
নেমে আপনি অত্যন্ত সহজেই
দড়ির একপ্রান্ত ছেড়ে অপর প্রান্ত
টেনে নিয়ে
দড়িসহ সাথে নিয়ে চুপচাপ
সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে আপনার
ঘরে চলে যান।রাইট?"
"হুম।আর পরের দিন
দরজা ভেঙ্গে সবার সাথে রমেশের
ঘরে
ঢুকার পর আমি সকলের অলক্ষ্যে
বেলকনির দরজাটা
লাগিয়ে দিই।কিন্তু যে
হীরার আংটির জন্য আমি
রমেশকে খুন করলাম সেটা
পেলামনা।"
৮
আমি একটু হেসে বললাম,
"সেটা হয়তো চোরের উপর
বাটপারি করে দিয়েছিলেন
আসলাম শিকদার।তারপর
আংটিটা বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
তাই না?"
আসলাম শিকদার বললেন,
"কি বলছেন এসব?"
আমি বললাম, "তাহলে বলুন।
সাত-আটদিন আগে
ব্যাংকে আপনার
একাউন্টে ত্রিশ লক্ষ
টাকা জমা করেছিলেন।
কোথা থেকে এলো টাকাগুলো? "
মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল
আসলাম শিকদারের।
পালানোর চেষ্টা করলেন
তিনি।
কিন্তু তাকে ধরে ফেললেন
ইন্সপেক্টর জাবেদ।
আমি আবার শুভাশিষ বাবুর
দিকে ফিরে বললাম,
"আপনার সব প্ল্যান নিখুঁত
ছিল।কিন্তু আপনার বামহাতি
হওয়াটাই আপনাকে
ফাসিয়ে দিল।"
তিনি আমার দিকে মুখ তুলে
তাকালেন।চেহারা দেখে
বুঝা গেল তিনি আমার কথাটা
বোঝেননি।
আমি বললাম,"সামনে থেকে
গলার ডান দিকে আঘাত
করে বামহাতিরাই।আপনাকে
আজ থানায় আমি বামহাতে
চায়ের কাপ নিতে দেখি।
আসলাম আর শরিফকে
বাম হাতে নিতে
দেখিনি।
অর্থাৎ আপনিই এখানে
একমাত্র ব্যাক্তি যিনি বামহাতি।
তার ওপর জানতে পারলাম
আপনি আগে সার্কাসে দড়ির খেলা
দেখাতেন।তাই আপনাকে সন্দেহ
করলাম।আর এই কারণে আজ আমি
ইচ্ছে করেই দরজাটা খোলা
রেখেছিলাম কারণ আমি
জানতাম আপনি আমাকে
মারতে না এলেও আমাকে অন্তত ভয়
দেখাতে তো আসবেন।এটুকু
বিশ্বাস আপনার ওপর আমার
ছিল,এখনও আছে।তো এবার বলে ফেলুন
কয়েকবছর আগে
রায়হান নামের ছেলেটাকে
কেন মেরেছিলেন?
তার লাশের গলার
ডানদিকেও কিন্তু এরকম
দাগ ছিল।আর আপনার
এই জন্তুর নখ কোথায় পেয়েছেন?"
"রায়হান ছেলেটা আমার সাথে
সামান্য একটা কারণে
কথাকাটাকাটি করেছিল। এমনকি
গায়েও হাত তুলেছিল আমার।
তাই ওকে মেরেছিলাম আমি।
মোটিভ থাকা সত্ত্বেও প্রমাণের
অভাবে সেবার পুলিশ আমাকে
ধরতে পারেনি।
আর জন্তুর নখ?
আগেই বলেছি
আমার দাদামশাই জমিদার
ছিলেন।তিনি বিভিন্ন জায়গায়
গিয়ে পশুপাখি শিকার করতেন।
এমনকি হিংস্র জন্তুও
শিকার করতেন।এখনও কোনো
কোনো জন্তুর দাঁত,নখ আমাদের
বাড়িতে পরে আছে।
সেখান থেকে মাত্র তিনটা
নখ চুরি করে হ্যান্ড গ্লাভসের
সাথে লাগিয়ে নেওয়াটা আমার
জন্য কোনো কঠিন ব্যাপার
যে ছিল না, সেটা তো বুঝতেই
পারছেন।"
.......।
/
এরপর তিন বছর
আগের এই কেসটা সম্পর্কে আরও কিছু
হয়তো লিখেছিলেন
ইউসুফ মামা।
কিন্তু আমি আর পড়তে পারালামনা।
কারণ, ডায়েরীর এর পরের
কয়েকটা
পাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
(সমাপ্ত।) (৭ ও ৮/শেষ পর্ব)
লেখকঃ SM Badsha
৭
আমি দরজা
খুলে ডাকলাম শরিফ আর
আসলাম শিকদারকে।দুইজনই
দ্রুত চলে আসলেন।
ফোনটা হাতে নিয়ে
কল দিলাম ইন্সপেক্টর জাবেদকে।
কিছুক্ষণের
মধ্যেই চলে আসলেন তিনি।
সাথে কয়েকজন জুনিয়র
অফিসার।সেখানেই
তিনি আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
শুরু করে দিলেন।
"ধরা তো পরে গেছেন সত্যিটা
বলে দিবেন?নাকি.... ?"
শুভাশিষ চৌধুরী বলতে শুরু
করলেন,"আমার দাদামশাই
জমিদার ছিলেন।তিনি আমাকে
একটা হীরার আংটি উপহার
দিয়েছিলেন।কিছুদিন আগে
সেটা চুরি হয়ে যায়।একদিন
আমি আংটিটা রমেশের হাতে
দেখি।আমি তাকে আংটিটা দিতে
বলি।কিন্তু সে আমাকে বলে,'আংটি
যে তোমার তার প্রমাণ কি?'
আমি এখানে কাউকে এই আংটি
সম্পর্কে কোনোদিন কিছু জানাইনি।
আমার বাবা, দাদামশাই কেউ এখন
বেঁচে নেই।আমি কি করে প্রমাণ
করতাম যে আংটিটা আমার?
আমি রমেশকে মেরে আংটিটা
নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।"
আমি বললাম, "আংটি পেয়েছিলেন?"
শুভাশিষ বাবু বললেন, "না।
আমি সারা ঘরে খুঁজেছি
কিন্তু আংটিটা কোথাও পাইনি।"
"আপনি যদি খুঁজতেন তাহলে
তো পরের দিন ঘরের জিনিষগুলো
এলোমেলো অবস্থায় থাকত।
কিন্তু এক্ষেত্রে তো সেটা হয়নি।"
আমি যখন আংটি পেলামনা
তখন সবকিছুই আবার আগের
মতো করে রাখি যাতে পরে
কেউ বুঝতে না পারে যে এটা
মানুষের কাজ।"
এবার আমি বললাম,
"আর এই কারণেই আপনি
আপনার গলায় ভূতের আঁচড়ের
মতো দাগ করে তারপর
ক্লোরোফরম নিয়ে নিজে
নিজে অজ্ঞান হন যাতে
আপনি আমাদেরকে
মিথ্যা একটা ভৌতিক গল্প বানিয়ে
বলতে পারেন।
ভুল বললাম?"
"না।"
"আর আপনি খুন করেছিলেন
ঠিক এই পদ্ধতিতেঃ
রমেশ বাবু ব্যাংক থেকে আসার পর
আপনি
আজকের মতো সেদিনও
কোনোভাবে লুকিয়ে তার খাটের
নিচে ঢুকে যান।তিনি যখন
ঘুমিয়ে পরেন তখন আপনি
বেরিয়ে এসে তার গলায় আঘাত
করেন।আর হ্যা,আপনি একসময়
সার্কাসে দড়িতে ঝুলে
থাকার খেলা দেখাতেন।
আপনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে
দরজা দিয়ে বের না হয়ে
বের হন বেলকনি দিয়ে।
আপনি বেলকনির দিকের জানালার
সাথে
একটা লম্বা দড়ির মধ্যভাগটা
আঁটকে দিয়ে দড়ির দুই
প্রান্ত হাতের মুঠোতে নিয়ে ঝুলে
মাটিতে অর্থাৎ গলিতে নেমে
পরলেন।মাটিতে
নেমে আপনি অত্যন্ত সহজেই
দড়ির একপ্রান্ত ছেড়ে অপর প্রান্ত
টেনে নিয়ে
দড়িসহ সাথে নিয়ে চুপচাপ
সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে আপনার
ঘরে চলে যান।রাইট?"
"হুম।আর পরের দিন
দরজা ভেঙ্গে সবার সাথে রমেশের
ঘরে
ঢুকার পর আমি সকলের অলক্ষ্যে
বেলকনির দরজাটা
লাগিয়ে দিই।কিন্তু যে
হীরার আংটির জন্য আমি
রমেশকে খুন করলাম সেটা
পেলামনা।"
৮
আমি একটু হেসে বললাম,
"সেটা হয়তো চোরের উপর
বাটপারি করে দিয়েছিলেন
আসলাম শিকদার।তারপর
আংটিটা বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
তাই না?"
আসলাম শিকদার বললেন,
"কি বলছেন এসব?"
আমি বললাম, "তাহলে বলুন।
সাত-আটদিন আগে
ব্যাংকে আপনার
একাউন্টে ত্রিশ লক্ষ
টাকা জমা করেছিলেন।
কোথা থেকে এলো টাকাগুলো? "
মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল
আসলাম শিকদারের।
পালানোর চেষ্টা করলেন
তিনি।
কিন্তু তাকে ধরে ফেললেন
ইন্সপেক্টর জাবেদ।
আমি আবার শুভাশিষ বাবুর
দিকে ফিরে বললাম,
"আপনার সব প্ল্যান নিখুঁত
ছিল।কিন্তু আপনার বামহাতি
হওয়াটাই আপনাকে
ফাসিয়ে দিল।"
তিনি আমার দিকে মুখ তুলে
তাকালেন।চেহারা দেখে
বুঝা গেল তিনি আমার কথাটা
বোঝেননি।
আমি বললাম,"সামনে থেকে
গলার ডান দিকে আঘাত
করে বামহাতিরাই।আপনাকে
আজ থানায় আমি বামহাতে
চায়ের কাপ নিতে দেখি।
আসলাম আর শরিফকে
বাম হাতে নিতে
দেখিনি।
অর্থাৎ আপনিই এখানে
একমাত্র ব্যাক্তি যিনি বামহাতি।
তার ওপর জানতে পারলাম
আপনি আগে সার্কাসে দড়ির খেলা
দেখাতেন।তাই আপনাকে সন্দেহ
করলাম।আর এই কারণে আজ আমি
ইচ্ছে করেই দরজাটা খোলা
রেখেছিলাম কারণ আমি
জানতাম আপনি আমাকে
মারতে না এলেও আমাকে অন্তত ভয়
দেখাতে তো আসবেন।এটুকু
বিশ্বাস আপনার ওপর আমার
ছিল,এখনও আছে।তো এবার বলে ফেলুন
কয়েকবছর আগে
রায়হান নামের ছেলেটাকে
কেন মেরেছিলেন?
তার লাশের গলার
ডানদিকেও কিন্তু এরকম
দাগ ছিল।আর আপনার
এই জন্তুর নখ কোথায় পেয়েছেন?"
"রায়হান ছেলেটা আমার সাথে
সামান্য একটা কারণে
কথাকাটাকাটি করেছিল। এমনকি
গায়েও হাত তুলেছিল আমার।
তাই ওকে মেরেছিলাম আমি।
মোটিভ থাকা সত্ত্বেও প্রমাণের
অভাবে সেবার পুলিশ আমাকে
ধরতে পারেনি।
আর জন্তুর নখ?
আগেই বলেছি
আমার দাদামশাই জমিদার
ছিলেন।তিনি বিভিন্ন জায়গায়
গিয়ে পশুপাখি শিকার করতেন।
এমনকি হিংস্র জন্তুও
শিকার করতেন।এখনও কোনো
কোনো জন্তুর দাঁত,নখ আমাদের
বাড়িতে পরে আছে।
সেখান থেকে মাত্র তিনটা
নখ চুরি করে হ্যান্ড গ্লাভসের
সাথে লাগিয়ে নেওয়াটা আমার
জন্য কোনো কঠিন ব্যাপার
যে ছিল না, সেটা তো বুঝতেই
পারছেন।"
.......।
/
এরপর তিন বছর
আগের এই কেসটা সম্পর্কে আরও কিছু
হয়তো লিখেছিলেন
ইউসুফ মামা।
কিন্তু আমি আর পড়তে পারালামনা।
কারণ, ডায়েরীর এর পরের
কয়েকটা
পাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
..... সমাপ্ত....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now