বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জাবেদ সাহেব বললেন,
"হ্যা।নিয়েছি।
আসলাম শিকদার সামান্য পিয়নের
চাকরি করলেও ব্যাংকে তার
প্রচুর টাকা জমা আছে।সপ্তাহ
খানেক আগে তিনি
তার একাউন্টে ৩০ লাখ টাকা জমা
করেন।"
"আশ্চর্যের বিষয়! তারপর?"
"শুভাশিষ চৌধুরী জমিদার
বংশের ছেলে।তরুণ বয়সে কলেজে
পড়ার পাশাপাশি
সার্কাসেও কাজ করতেন।দড়িতে
ঝুলে থাকার
খেলা দেখাতেন তিনি।
আর শরিফ পড়ালেখার পাশাপাশি
কয়েকটা সেচ্ছাসেবী
সংগঠনের সাথে কাজ করে।
কিন্তু শুভাশিষ বাবুর কথাটা
শুনে আমার মনে হয় এসবে আর কোনো
কাজ হবেনা।এর
পেছনে সত্যিই অশরীরী কিছুর
হাত আছে।"
আমি বললাম,"হতেও পারে।"
জাবেদ সাহেব বললেন,"আপনাকে
একটা কথা বলতে
ভুলেই গেছি।রমেশ বাবুর
ফরেন্সিক রিপোর্ট কাল রাতে
পেয়েছি।তার লাশ তার বাড়ির
লোকজনের কাছে কালকেই হস্তান্তর
করা হয়েছে।"
বলতে বলতে আমার সামনে
ফরেন্সিক রিপোর্টটা মেলে ধরলেন
তিনি।দেখতে লাগলাম সেটা।রমেশ
বাবুর লাশের ছবিও দেওয়া আছে
সাথে।
ছবিগুলো ভাল করে দেখলাম
একবার।আরে আমি কত বোকা! এতো
সহজ একটা ব্যাপার আমার মাথায়
ঢুকলো
না! সশব্দে হেসে উঠলাম আমি।
জাবেদ সাহেব রসিকতা করে
বললেন,"কি ব্যাপার?পাগল
হয়ে গেলেন নাকি?"
আমি তাকে পুরো ব্যাপারটা
খুলে বললাম।সময়মতো
তৈরি থাকতে বললাম।আজ
রাতেই খুনী ধরা পরবে।
রাত ১০টা।রমেশ বাবুর রুমে ঘুমানোর
প্রস্তুতি নিচ্ছি
আমি।আমার সামনে দাড়িয়ে
আছেন আসলাম,শরিফ ও
শুভাশিষ।তারা আমাকে বোঝানোর
চেষ্টা করছেন
বিশেষ করে আসলাম শিকদার।তিনি
এই ভূতুরে ঘরে
থাকতে বারবার নিষেধ করছেন
আমাকে।কিন্তু আমি
আমার সিদ্ধান্তে অনড়।
আমি তাকে বললাম,
"ভূতের ব্যাপারটা আমি বিশ্বাস
করতে পারছিনা।আমার মনে
হয় শুভাশিষ বাবুর কালকের
ঘটনাটা
হ্যালুসিনেশনের কারণে ঘটেছে।"
আমার কথার জবাবে শরিফ
বলল,"মোটেও না।তাহলে
শুভাশিষ বাবুর গলায় দাগটা
কিসের?"
বাকি দুইজনও তার কথায় সায়
জানাল।আসলাম বললেন,
"সাথে অন্তত একটা ছুরি হলেও
রাখুন।"
আমি বললাম, "যদি সত্যিই ভূত হয়
তাহলে তো ছুরি,গুলি এসব
দিয়ে কোনো কাজ হবেনা।আপনারা
এখন এখান থেকে যান।
আজ আমি প্রমাণ করে দেব
ভূত বলতে কিছু নেই।"
তারা সবাই চলে গেলেন একে একে।
আমি একটু ওয়াশরুমে
গেলাম।
৬
হঠাৎ করে মাথাটা খুব ধরেছে
।তাই মাথাটা ধুয়ে নিলাম।প্রায়
আধঘণ্টা পর বের হলাম
ওয়াশরুম থেকে।মাথাটা ভাল করে
মুছে নিলাম।বের হয়ে দেখি
দরজাটা খোলা।ওয়াশরুমে
যাওয়ার আগে লাগিয়ে যাইনি।
দরজার ছিটকিনিটা আঁটকে
দিলাম।তারপর আলো নিভিয়ে শুয়ে
পড়লাম।বাইরের কোথা থেকে
আলো এসে ঘরটাকে আবছাভাবে
আলোকিত করে রেখেছে।
আমি চোখ বন্ধ করলাম।কাছে
খুট করে একটা শব্দ হতেই
চোখ খুললাম।চোখ খুলে দেখলাম
খাটের পাশে দাড়িয়ে আছে
সাদা পোশাক পরা একটা লোক।
মুখটা জন্তুর মতো দেখতে।লোকটা
তার বাম হাত
উপরে তুলল।লম্বা লম্বা নখ হাতে।
উদ্দেশ্যটা বুঝলাম
আমি।তৎক্ষণাৎ সরে পরলাম।
ব্যর্থ হল তার প্রচেষ্টা।আবার
চেষ্টা করার আগেই
আমি তার তলপেটে লাথি বসিয়ে
দিলাম।মাটিতে লুটিয়ে
পরল লোকটা।আমি বাতির সুইচ অন
করলাম।
সারা ঘর আলোতে ভরে গেল।
আমি বললাম,"শুভাশিষ বাবু,
এবার মুখোশটা খুলুন।"
চমকে উঠল লোকটা ।
তবে পরক্ষণেই বাধ্য ছেলের
মতো মুখোশটা খুললেন
শুভাশিষ বাবু।
[আগামী পর্বে সমাপ্ত]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now