বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশরীরী ৩য় ও ৪র্থ পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X বাড়ির মালিক রহিম তালুকদার। তিনি স্বপরিবারে ঢাকায় থাকেন।মাঝেমধ্যে চট্টগ্রামে আসেন।এলে নিচের তলার ঘরগুলোতে থাকেন।" "আচ্ছা যারা থাকেন ঐ বাড়িতে তারা সবাই কি একাই থাকেন?নাকি ফ্যামিলিসহ থাকেন?" "একাই থাকেন সবাই।শরিফ নামের ছেলেটার ঘরেই শুধু কাজের বুয়া আছে একটা। রান্না বান্না করে দিয়ে চলে যায়। বাকিরা সবাই নিজেরাই রান্না করে খান।আজ দুপুর হয়ে যাওয়ার পরও দরজা খোলেননি রমেশ বাবু। তাই তাকে ডাকতে যায় শরিফ। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় নিচে এসে লোকজন ডেকে নেয় সে। আসলাম আর শুভাশিষ চৌধুরী তখন নিজ নিজ কাজে চলে গিয়েছিলেন। তাদেরকেও ডেকে আনা হয়।সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে শেষে দরজা ভাঙ্গেন তারা।পুলিশকেও ফোন করে ব্যাপারটা জানায় শরিফ। সরি, আপনাকে একটা কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম। ঐ ঘরে নাকি কয়েক বছর আগেও একটা খুন হয়েছিল। ঠিক এই পদ্ধতিতে।গলায় তিনটা দাগ। তখন আমি এই থানায় ছিলামনা।" "খুনী কি ধরা পরেছিল?" "না।সবার ধারণা রুমটাতে অশরীরী কোনো ব্যাপার আছে।" "কি বলছেন এসব?" "সত্যিই বলছি।যদিও অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।" "আমার মনে হয় কয়েকবছর আগের সেই কেসের সাথে এ কেসটার কোনো না কোনো সংযোগ আছে।" ৪ "থাকতে পারে।" "যে লোকটা সে সময় খুন হয়েছিল তার নাম কি ছিল?" "ছেলেটা কলেজ স্টুডেন্ট ছিল। রায়হান নাম ছিল ছেলেটার।" "আপনি এতসব জানলেন কার কাছ থেকে?" "আসলাম শিকদারের কাছ থেকে জেনেছি।" "আপনি কি ঐ কেসের ফাইলটা আমাকে একটু খুঁজে দিতে পারবেন?" "একটু অপেক্ষা করুন,এখনই নিয়ে আসছি।" বলে ফাইলটা খুঁজতে গেলেন ইন্সপেক্টর জাবেদ। কিছুক্ষণের মধ্যে ফাইলটা আমার হাতে এনে দিলেন তিনি।সেখানে খুনের পদ্ধতি থেকে শুরু করে ফরেন্সিক রিপোর্টসহ সবকিছুর বিস্তারিত বিবরণ আছে।সাথে কিছু ছবি। এই ছবিতেও লাশের গলায় যে নখের দাগ রয়েছে তা একেবারে মিলে যায় রমেশ বাবুর গলার সেই নখের সেই চিহ্নের সাথে গলার ডানদিক থেকে নখের দাগ গলার মাঝামাঝিতে এসে থেমে গেছে। ফরেন্সিক রিপোর্টে উল্লেখ আছে এটা কোনো হিংস্র জন্তুর নখের দাগ।দুপুরের দিকে আমি বাড়িতে চলে এলাম।আসার সময় আমি ইন্সপেক্টর সাহেবকে বলে এসেছি ঐ বাড়ির বাকি তিনজন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। দুইদিন পরঃ সকালে ইন্সপেক্টর সাহেবের ফোন এল।তিনি আমাকে তাড়াতাড়ি থানায় যেতে বললেন।থানায় গিয়ে দেখি হুলুস্থূল কান্ড।চেয়ারে গলা ধরে বসে আছেন শুভাশিষ চৌধুরী।গলার ডান দিকে ব্যান্ডেজ। তার দুই পাশে দাড়িয়ে আছেন আসলাম শিকদার আর শরিফ। আমি জাবেদ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম,"কি হয়েছে?" তিনি শুভাশিষ বাবুকে বলতে বললেন। তিনি বলতে শুরু করলেন, "কাল রাতে আমি আমার ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম।সময় তখন প্রায় বারোটা।এমন সময় বাইরে কিসের যেন শব্দ শুনতে পেলাম।পরে বুঝলাম কারো হাটার শব্দ।শরিফ আর আসলাম ততক্ষণে ঘুমিয়ে যায় সেটা আমি জানতাম। তাই আমি দরজা খুলে বাইরে গিয়েছিলাম দেখার জন্য এত রাতে কে সেখানে হাটছিল।কাউকেই দেখলামনা।হঠাৎ মনে হল আমার পেছনে কেউ যেন দাড়িয়ে আছে।পেছনে ফিরে দেখলাম সাদা কাপড় পরা একটা লোক।চেহারাটা জন্তুর মতো।আর হাতে ধারালো নখ।লোকটা আমার গলায় আঘাত করল নখ দিয়ে।আমি সেখানেই জ্ঞান হারায়।সকালে শরিফ আমাকে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যায়।" জাবেদ সাহেব আমাদের সবার জন্য চা আনতে বললেন তার কাজের ছেলেটাকে।আমি আড় চোখে শরিফ ছেলেটাকে দেখছি।সে আমার দিকে তাকাতেই আমার সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে ফেলল। কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করছে সে।চা আনার পর দেখলাম শুভাশিষ চৌধুরী বাম হাতে চা পান করছেন।আর আসলাম শিকদার চোখ বুঁজে বিড়বিড় করে কি যেন বলছেন। তারা তিনজন চলে যাওয়ার পর আমি ইন্সপেক্টর জাবেদকে বললাম, "এদের তিনজন সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিলেন?" .... চলবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now