বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশরীরী ১ম ও ২য় পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X ইউসুফ মামার কাছে একটা ডায়েরী আছে।কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলে মামা সেগুলো এ ডায়েরীটাতে লিখে রাখেন। । এটার মলাটটা একেবারে বিবর্ণ হয়ে পরেছে।বুঝা যায় বেশ পুরনো।আজ বিকেলে ডায়েরীটা হাতে নিয়ে বসে পড়লাম আমি।খুলে দেখি মামা সেখানে তার কয়েকটা কেসের বিবরণও লিখে রেখেছেন। এর একটা আমি পড়তে শুরু করলাম। ডায়েরীঃ আমার নাম ইউসুফ মাহমুদ। বয়স তেইশ বছর।কিন্তু এর মধ্যেও আল্লাহর রহমতে অনেক কেস টেস সফলভাবে সল্ভ করেছি।এখানকার থানার ইন্সপেক্টর জাবেদ সাহেব আমার পূর্বপরিচিত।তার মাধ্যমেই বেশিরভাগ কেস পাই আমি। আজ সকালে নাস্তা সেরে রাস্তায় হাটাহাটি করছি আমি।এমন সময় আমাকে পাশ কাটিয়ে কিছুটা সামনে গিয়ে থেমে গেল একটা পুলিশের জিপ। গাড়ি থেকে মাথাটা বের করে আমাকে ডাকলেন ইন্সপেক্টর জাবেদ। আমি জিপের কাছে গেলাম। জাবেদ সাহেব বললেন, "আগে গাড়িতে উঠুন।তারপর কথা।" আমি বললাম, "কি ব্যাপার জাবেদ সাহেব আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কোথায়?" পরিচিত হলেও জাবেদ সাহেব আর আমার মধ্যে সম্পর্কটা "আপনি"র মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল। জাবেদ সাহেব বললেন, "আর বলবেননা ভাই।একটা লোক খুন হয়েছে। তাই আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি যদি কিছু বের করতে পারেন।আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলে বলতে পারেন।নামিয়ে দিব।" "থাক থাক।উঠেই যখন পরেছি তখন গিয়েই দেখিনা।যিনি খুন হয়েছেন তার নাম কি?কি কাজ করেন উনি?" "নাম রমেশ চক্রবর্তী। পেশায় ব্যাংকার।বাকিটা সেখানে গিয়েই জানা যাবে।" ২ গাড়িটা রাস্তায় থামিয়ে ইন্সপেক্টর জাবেদ সবাইকে গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ দিলেন।আমিও নামলাম সবার সাথে। তিনি আমাদের একটা ছোট গলি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক্ষণ হাটার পর পুরনো আমলের একটা দু'তলা বাড়ি দেখিয়ে তিনি আমাকে বললেন, "এ বাড়িটা।" আমরা ভিড় ঠেলে উপরের তলার সবচেয়ে উত্তরের ঘরটাতে প্রবেশ করলাম। ঢুকার সময় লক্ষ্য করলাম দরজাটা ভাঙ্গা।হয়তো দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকতে হয়েছে।খাটের উপর চিৎ হয়ে পরে আছে রমেশ বাবুর প্রাণহীন দেহটা।আমি আর জাবেদ সাহেব গেলাম লাশের কাছে। লাশের গলার ডান দিক থেকে মাঝামাঝি অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আছে তিনটা দাগ। গভীরভাবে কেটে গেছে গলাটা। দেখে মনে হচ্ছে কোনো জন্তুর নখের দাগ এগুলো। এই তিনটা দাগ ছাড়া আর কোনো দাগ নেই লাশের গায়ে। সারা ঘরে চোখ বুলিয়ে নিলাম একবার।ঘরে তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই। একটা টেবিল আছে জানালার পাশে।খাটের নিচটা একবার দেখলাম।সেখানেও কিছু পেলামনা। এবার গেলাম বেলকনিতে।কোমড় সমান উচ্চতা পর্যন্ত রেলিং।লাফ দিয়ে নিচে নামা যাবে একেবারে গলিতে।সেখান থেকে সহজেই পালিয়ে যাওয়া যাবে।তবে লাফ মেরে নামলে হাত-পা ভাঙার সম্ভাবনা আছে কিছুটা।এখানেও কিছু পাওয়া গেলনা।এদিকে জাবেদ সাহেব একে একে সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। শেষে লাশ মর্গে পাঠিয়ে আমাকে নিয়ে থানায় চললেন তিনি। জাবেদ সাহেব আমাকে বললেন,"খুনটা একটু ব্যাতিক্রম ভাবে হয়েছে।রাইট?" আমি বললাম,"হুম।দেখে মনে হয় হিংস্র কোনো জন্তুর নখের দাগ। কিন্তু প্রশ্ন হল কোনো জন্তু কিভাবে ঘরে ঢুকবে?ঢুকলে অন্তত কোনো না কোনো প্রমাণ নিশ্চয় রেখে যাবে।" "ব্যাপারটা আমিও ভাবছি।আপনি তো খোঁজাখুঁজি করেছেন।কিছু পেয়েছেন?" "না।খুনী খুন করে দরজা দিয়ে বের হয়েছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, কারণ সকালে ঘরের দরজা ভেঙ্গে অন্যদের ঢুকতে হয়েছে। আবার অন্য দিক দিয়ে মানে বেলকনি দিয়ে নিচে নামা যায়। কিন্তু সেখানে অনেক খোঁজার পরও কোনো চিহ্ন দেখলামনা।না হাতের,না পায়ের, না অন্যকিছুর।আচ্ছা আপনি তো অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।কি কি জানলেন একটু বলবেন?মানে লাশ প্রথমে কে দেখেছে,সেখানে কে কে থাকে এসব আরকি।" "উপরের তলায় মোট চারটা ঘর।সবচেয়ে উত্তরেরটা রমেশ বাবুর।এর পাশেরটা শুভাশিষ চৌধুরীর।তিনিও ব্যাংকার।তবে রমেশের ব্যাংকে নয়। অন্য একটা ব্যাংকে চাকরি করেন। একেবারে দক্ষিণের ঘরটা আসলাম শিকদারের।তিনি একটা অফিসে পিয়নের কাজ করেন। তার পাশেরটা এক কলেজছাত্রের। নাম শরিফ। নিচের তলার ঘরগুলো খালি পরে আছে। ..... চলবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অশরীরী ৭ম,৮ম ও শেষ পর্ব
→ অশরীরী ৫ম ও ৬ষ্ঠ পর্ব
→ অশরীরী ৩য় ও ৪র্থ পর্ব
→ অন্ধকারের অশরীরী
→ অশরীরী কন্ঠ
→ অশরীরী
→ অশরীরী, কন্ঠ
→ অশরীরী যন্ত্রণা
→ অশরীরী সুর
→ অশরীরী কন্ঠ
→ জোড়াবিলের অশরীরী
→ অশরীরী কুকুর
→ অশরীরী
→ অশরীরী কন্ঠ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now