











-ফাহাদ সাহেব যান তো রেমিট্যান্সের ফাইল নিয়ে আসেন।
-জি আচ্ছা ম্যাডাম।
পাঁচ মিনিট পর.....
- এই নিন ম্যাডাম।
-ফাইল আনতে এত দেরি হল কেন আপনার?দাঁড়িয়ে থাকুন।
-আসলে ম্যাডাম নিচের তলায় ছিল তো তাই।
-কোন এক্সকিউজ নয়।পুরো এক ঘণ্টা আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন।
-ওকে ম্যাডাম.....


সুমনা মনে মনে অনেক খুশি হয়েছে।অন্তত আরও এক ঘণ্টা গাধাটা তার সামনে থাকবে।
এক ঘণ্টা পর....
-ম্যাডাম এক ঘণ্টা হয়েছে।
-ঠিকাছে।আর আমার কফি যেন সময় মত পাই।
-ওকে ম্যাডাম।(কথা শেষ করেই সে চলে গেল।)
কি ছেলেরে বাবা!এত বাধ্য লোক সে জীবনে আর দুটো দেখেনি।তাইতো সুমনা তাকে এত ভালবাসে।আর ভালবাসে বলেই তো ফাহাদকে দিয়ে সব উল্টোপাল্টা কাজ করায়।
যেমন,হঠাৎ তার মনে হল ফুচকা কিংবা চটপটি খাবার তখনই সে ফাহাদকে বলে তা আনিয়ে নেয়।রহমত চাচাও আনতে পারে তবে সে রাগি লুকটা দিলেই ফাহাদ তরিঘরি করে চলে যায়।রেগুলার ১২টা বাজলে ফাহাদ তার জনে্য কফি নিয়ে আসে।তার কফি খুব যে ভাল হয় এমনটা না।আসলে মনের মানুষের কাছ থেকে কিছু একটা পেলেই আনন্দ হয়।আর তা যদি হয় কেয়ারিং করে এক কাপ কফি তা হলে কথাই নেই।
ফাহাদ ব্যাংক এর সাব ম্যানেজার আর সুমনা হল ম্যানেজার।ফাহাদকে ব্যাংক এর থেকে সুমনার প্রতি নজর দিতে হয় বেশি করে।তবে সুমনা ফাহাদের অনেক কাজ নিজেই করে দেয়।তাইতো ফাহাদও তাকে কিছু বলে না।
সুমনার সবকিছুই ফাহাদের আশ্চযর্ লাগে।অফিসে এত কাজের মানুষ থাকতে তাকে কেন এসব কাজ করতে হবে?বাসায় নিজে পানি ঢেলে পর্যন্ত খায় না আর এখানে অন্যের জন্যে কফি বানাতে হয়।ভাবতেই রাগে তার নিজের শরীর জ্বলে।শুধু চাকরির খাতিরে সে সুমনাকে সহ্য করে যাচ্ছে।অনেকে সুমনাকে দেখে আশ্চযর্ হয়ে বলাবলি করে এত সুন্দর আর গুণী মেয়ের বিয়ে হয় না কেন?তখনই ফাহাদের ইচ্ছে হয় তার সকল গুণের কথা সবাইকে চিৎকার করে বলতে।
আর কি পরিমাণ জেদি তা আর কেউ না জানুক অন্তত সে জানে।কতদিন যে তাকে বিকেলবেলা ধুম গরমের সময় ফুচকা আনতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই।অথচ অফিসের দারোয়ানকে বললেই সে এনে দেয়।একদিন সে সাহস করে বলেই দিয়ছিল ম্যাডাম আমাকে দিয়ে এসব কাজ না করালে হয় না?বিনিময়ে ফ্রীতে সে যে সব গালাগাল শুনেছিল তা শোনার পর থেকে সে সুমনা ম্যাডামকে আর কিছুই বলে নি।এরপর থেকেই সে শুধু ট্রান্সফারের জন্য অপেক্ষা করছে।সে অফিসে রেগুলার কাজ করে যায়।ছুটি পর্যন্ত নেয় না।একদিন বলেছিল তবে একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি করায় সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল।
একদিন হঠাৎ.......
- কেমন আছিস?
-এইতো আপু ভাল।তুই কেমন আছিস?
-ভাল।তা তুই এত শুকিয়ে যাচ্ছিস কেন?
-কই আমি তো আগের মতই আছি।
-বললেই হল।এক কাজ কর তুই বিয়ে করে ফেল।আর তুই বিয়ে করলে মায়ের জনে্যও ভাল হবে।
-তা যা বলেছিস।
অন্যদিকে সুমনা আড়চোখে সব দেখছে আর রাগে লাল হচ্ছে।আসলে মেয়েটার সাথে ফাহাদের এভাবে মেলামেশা সে নিতে পারছে না।কই সে তো ফাহাদকে তার কাছে আসার জন্য,তার সাথে কথা বলার জন্য কত সুযোগ দেয়।কিন্তু তার সাথে তো ফাহাদ কথা বলে না।তাহলে কি মেয়েটার সাথে ফাহাদের কোন রিলেশন আছে?না সে আর ভাবতে পারছে না।আসলে পুরুষ মানুষ মানেই এরকম।
-রহিম চাচা...
-জি ম্যাডাম।
- যান তো ফাহাদ সাহেবকে গিয়ে বলেন আমি ডাকছি।
-জি আচ্ছা।
-স্যার...ম্যাডাম আপনাকে ডাকছে।
-বলেন আমি হাতের কাজটা শেষ করেই আসব।
-নাহ স্যার আপনাকে এখনই যেতে হবে।ম্যাডামের কড়া আদেশ।
-ঠিকাছে তুমি যাও।
-জি ম্যাডাম।ডেকেছেন আমাকে?
- হুম। কাজে মন নেই কেন আপনার?মেয়ে দেখলেই গায়ে ডলাডলি শুরু করে দেন আপনি?আপনারা পুরুষরা সুন্দর মেয়ে দেখলেই পাগল হয়ে যান কেন?কাজ করবেন না আর মাসে মাসে টাকা গুণবেন তা হবে না।
-স্যরি ম্যাডাম।তবে উনি তো আমার বড় বোন।
-আরে তাহলে আগে বলতে পারলেন না।
-বলতে চাচ্ছিলাম...
-সব আমার দোষ না?
-না না ম্যাডাম।কি যে বলেন!!!
-হয়েছে হয়েছে....।এত সময় ধরে উনি দাঁড়িয়ে আছেন,নিশ্চয় উনার অনেক কষ্ট হচ্ছে।যান উনাকে পাঠিয়ে দেন।
- জি আচ্ছা।
-যাও তোমাকে বস ডাকছে।
-আমাকে!!!আমাকে তর বস ডাকবে কেন?
-আরে জানি না।এমনেই মেয়েটার আচরণ উদ্ভট।সাবধানে কথা বলবি।
-ঠিকাছে।তা শোনলাম তর বস নাকি একজন ইয়াং লেডি।
-ইয়াং লেডি সাথে ডাইনি পদবি টা লাগিয়ে নে।
-তা যা বলেছিস।
কিছু সময় পর.........
-ফাহাদ লক্ষ করছে সুমনা ম্যাডাম আর তার বোন হাসতে হাসতে প্রায় লুটিয়ে পরছে।কি মেয়েরে বাবা!সবাইকে বস করতে চিনে।
-কি রে এত হেসে কথা বলছিলি কেন?
-এমনি।তা ভাই তর বউ তো পেয়ে গেছি।
-মানে?কে সে?
-আগে বল লুকিয়ে প্রেম কয়দিন ধরে করছিস?
-আমি আর প্রেম!!!তোমার কি মাথা ঠিকাছে?
-প্রথমে আমিও বিশ্বাস করতে চাইনি।পরে সব কথা জেনে......
-কি সব কথা...খুলে বল।
-ন্যাকামো না....তুই প্রেম করবি বিশ্বাসও হয়নি।
-কি বলিস এসব...সব তো মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
-তা তো যাবেই।প্রেমে ধরা খেলে এমনটি হয়।আর আমি গেলাম।টা টা।
কিছুদিন পর......
আজ ফাহাদের মন খারাপ।হঠাৎ জানতে পারল পরশু তার বিয়ে।অন্য সময় হলে সে খুশি হত কিন্তু ইদানিং সে কেমন যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে।তার রাগ হচ্ছে তার বোনের ওপর।ওই ফাজিলটাই তো তার বিয়ে ঠিক করেছে।আজকাল কেনযেন সুমনার রাগ তার মনের অজান্তে ভাললাগা নিয়ে উকিঁ দিচ্ছে।অফিসের পর পুরো সময়টা সে শুধু তাকে নিয়ে ভাবে।তার অধর্াঙ্গিনী কে তা নিয়েও তার মাথা ব্যাথা নেই।
ফাহাদ শুধু ভাবে কেমন করে সে সুমনাকে ভুলবে।মাঝে মাঝে অবাক হয় সুমনা কি তাকে কখনও ভালবাসে নি,সুমনার মনে কি তার জন্য এতটুকু জায়গা নেই।সে আজ কিছু ভাবতে পারছে না।সে মনে মনে ঠিক করে কাল সে অফিসে সুমনাকে তার মনের অব্যাক্ত কথাগুলো বলবে।
পরদিন অফিসে....
-জি ম্যাডাম আসব।
-হুম।
-আপনাকে কিছু বলার ছিল ম্যাডাম।
-এখন তো অফিস আওয়ার পরে বললে হয় না।
-অসুবিধা নেই ম্যাডাম।
আজ ফাহাদের খারাপ লাগছে।আজ প্রথমবার সুমনা ম্যাডাম কেন যেন তাকে এরিয়ে যাচ্ছে।
বাসর রাত.........
আজ সারাদিন বাসায় হইহুল্লোর চলছিল।আশ্চযর্ লাগছে তার বউয়ের নামও সুমনা।তবে তাকে সে এখনও দেখেনি,আসলে তার ইচ্ছে হয়নি।পুরোটা সময় সে বেলকনিতে পার করে দিচ্ছে।
-আপনি আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিলেন?
-ম্যাডাম আপনি এখানে!
-এই গাধা বিয়ে করা বউকে কেউ ম্যাডাম বলে।আর এটা কি অফিস?
-স্যরি।
-আমাকে ভালবাস?
-জি ম্যাডাম।
-আবার ম্যাড.....
বলা শেষ হওয়ার আগেই ফাহাদের ঠোঁট সুমনার ঠোঁটকে আলিঙ্গন করল।
-এই এটা কি হল?
-কেন কি হল!
-তুমি কি যান প্রত্যেক মেয়ের জীবনে বাসর স্বপ্নের রাত। আমার বান্ধবীরা বলেছে এটা মধুর রাত....

-মধুর রাত না কিসের রাত তা একটু পরেই জানতে পাড়বে।(বলেই সুমনাকে কুলে নিয়ে নিল ফাহাদ।)
-এই কি করছ।
.
বাকিটুকু ইতিহাস তা পাঠক তো জানেনই...... 




