বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চিরকুটের শব্দ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান raisa moni (০ পয়েন্ট)

X আজ আমার বিয়ে। আর আমি রিজুর চিরকুটগুলো হাতে নিয়ে বসে আছি। এই নিয়ে ১৫-২০ বার পড়া শেষ। কিছু বুঝে উঠতে পারছিনা আমার কি করা উচিত..! . রিজুর সাথে আমার পরিচয় আরো ৪ বছর আগে।আমাদের বাসার নিচের তলায় থাকে রিজুরা। যেদিন প্রথম বাসায় উঠেছিলো।সেদিন আম্মু রান্না করে পাঠিয়েছিল আমাকে দিয়ে।যেহেতু তারা নতুন উঠেছে সব গুছিয়ে নিতে নিতে রান্না করতে পারেনি। কলিং বেল চাপতেই একটা দুষ্টু চেহারার ছেলে দরজা খুলে দিলো।আমি খাবার হাতে না দিতেই ছো মেরে নিয়ে রাক্ষসের মত খাওয়া শুরু করলো। কি অভদ্র ছেলে রে বাবা..! কেউ কিছু না বলে এভাবে খাওয়া শুরু করে নাকি।আমি যখন এসব ভাবছি তখনি সে বলে উঠলো -কি চিন্তা করছো মিস চশমিস..?আমি পেটুক তাইতো..? শুনো আমি এমনই। -এই ছেলে আমাকে চশমিস বললে কেনো..? -তাহলে কি বলবো হুহ.? রুটির মত বড় বড় দুইটা চোখ লাগিয়েছো।আর সুন্দর ফ্রেমের চশমা কি দোকানে ছিলোনা..? -একদম বাজে কথা বলবেনা বদ ছেলে। -একশবার বলবো।কি করবে খুকুমনি.? -আমি খুকুমনি না আমি রাইসা। - হেহেহে..! রাইসা,,মাছ খায় বাইছা বাইছা। . আমার রাগ চরম পর্যায়ে উঠার আগেই আন্টি এসে বদের হাড্ডি টার কান মলে বললো,তোর জন্য কি কোথাও শান্তি পাবোনা.?যেখানে যাবে সেখানেই কারো না কারো পিছে লাগবে। তারপর আন্টি ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।আমার চেয়ে ২ বছরের ছোট অথচ কেমন পাকা পাকা কথা। আন্টির জন্য সেদিন বেচে গেছিলো সয়তানটা। তারপর থেকে শুরু আমার পিছনে লাগা।আমার সাথে ঝগড়া করে কি মজা পেতো ছেলেটা জানিনা। ওর সাথে ঝগড়া করতে করতে একসময় ভালোই লাগতো ওর ঝগড়া গুলো। ওকে না মারলে মনেহয় পেটের ভাত হজম হতোনা আমার। ওর জন্য আলাদা একটা টান তৈরি হচ্ছিলো আমার । সেবার যখন ওর জ্বর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো আমরা কতটা কষ্ট হয়েছে বোঝাতে পারবোনা।সেই দিনগুলোতে আমি বুঝেছিলাম ও আমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। দিনদিন রিজু ছেলেটা আর ওর পাগলামীর অভ্যাস হয়ে গেছিলো আমার।কিন্তু ও তো আমার ছোট। সেটা ভুলে গেলে চলবেনা। মুখে বলিনি ঠিকি কিন্তু সবসময় চাইতাম ও সব বুঝে নিক।আর ওর হাসিঠাট্টার আড়ালে সব চাপা পড়ে যেতো। . হঠৎ একদিন রিজু এসে লাবন্য নামের একজনের কথা বললো।আমার ক্লাসমেটের বোন।ওকে নাকি রিজু পছন্দ করে আর রাজি করানোর দায়িত্ব আমার। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছিলো। আমি সোজা বলে দিলাম - দেখ তুই এসব কথা আমাকে আর বলবিনা।এত যখন পছন্দ নিজেই পটা গিয়ে। - হুহ..! বুঝছিতো তোর হিংসা হচ্ছে। লাবন্য তোর চেয়ে সুন্দরী। ও আমার গার্লফ্রেড হলে তোর তো হিংসা হবেই। - তোর যা খুশি কর যা।তোর কপালে প্রেম নাই। - আমি প্রেম করে দেখিয়ে দেবো তোকে। চশমিশ পেত্নী। - ওই কি বললি তুই..?? তোকে আজ খুন করেই ফেলবো। - কচু করবি।হেহেহে . . ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে ছিলাম।চিৎকার করে কাদতে পারলে হতো।কিন্তু সেটাও পারছিলামনা। ওই হারামিটাকে ইচ্ছা মত কিল ঘুশি দিতে পারলে ঠিক হতো। . এই কয়দিন রিজু মনেহয় আমাকে এড়িয়ে চলছে।দেখা হলে আগের মত দুষ্টুমি করেনা। দুই একটা কথা বলেই চলে যায়। মিস করছিলাম আগের রিজুকে।কিন্তু নিজে থেকে জিজ্ঞেস করে নিজেকে ছোট করতে পারবোনা আমি। . হঠাৎ একদিন আমার কাছে এসেই চুল টেনে বললো - কিরে চশমিস? বলছিলি তো আমার কপালে প্রেম নেই। - হ্যা বলেছিলাম।তো..? - লাবন্যকে পটিয়ে ফেলেছি।আজ সারাদিন অনেক ঘুরেছি।একসাথে ফুচকা খেয়েছি।শপিং এ গিয়েছি। - হাহাহা।একদিনের প্রেমে শপিং করিয়ে নিয়েছে।বাহ বাহ। জানতাম তোর জন্য এমন কেউই থাকবে। - আরে প্রেম করলে একটু খরচ তো করতেই হবে। তুই এসবের কি বুঝবি।জীবনে তো একটা প্রেম করতে পারলিনা। - এসব ফালতু বিষয়ে আমি মাথা ঘামাইনা। - হুহ আর বলতে হবেনা।কেউ প্রোপোজ করলে তো প্রেম করবি।হাহাহা... . রাগ করে চলে আসলাম সেদিন।তারপরে থেকে ওর সাথে দূরত্ব বাড়তে লাগলো। আমার সাথে দেখা হলেই ওর প্রেমকাহিনী বলা শুরু করতো।তাই ওকে এড়িয়ে চলতাম।কিন্তু ওর আমাকে দেখলেই মনেহয় লাবন্য ছাড়া আর কথা খুজে পেতো না। আমার শুনতে অসহ্য লাগতো। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিলো।আমি ওকে আস্তে আস্তে মন থেকে মুছতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু তখনি মনেহয় ও বেশী করে আমার পাশে ঘুরঘুর করতো। . . ছাদে দাড়িয়ে আকাশ দেখছি।কখন আমার পাশে এসে দাড়িয়ে আছে খেয়াল করিনি।পাশে ফিরতেই দেখলাম রিজু হা করে দাঁড়িয়ে আছে। - কিরে..! কিছু বলবি..? - জানিস চশমিশ..? তুই যখন দুইটা বিনুনি করে থাকিস তোকে অনেক বাচ্চা বাচ্চা লাগে। - তাই..? জানতামনা তো। - জানিস তোর চশমার ভেতরের চোখ দুটো অনেক মায়াবী। এমনি বোঝা যায়না।কিন্তু অনুভব করা যায়। - আচ্ছা...!!! তোর লাবন্য তো আমার চেয়ে অনেক সুন্দর।সবসময় তো ওর কথা বলে আমাকে খোঁচা দিস।আজ কি হলো..? - হুমম ও অনেক সুন্দরী। কিন্তু মায়াবী না।ওর মধ্যে আমি মায়ার চেয়ে অহংকার বেশী খুঁজে পাই। - কাহিনী কি বলতো..! অন্যকাউকে আবার পছন্দ হলো নাকি? তোর তো বিশ্বাস নেই। - আরে ধুরর..! আমাদের সব ঠিকআছে। আর আমিতো ওকে ভালোবাসি।মাঝেমধ্যে একটু ঝগড়া হলেও পরে ঠিক হয়ে যায়। - ও আচ্ছা। . . এরমধ্যে আব্বু একদিন ডেকে বললো আমার জন্য ছেলে দেখেছে।অনেক ভালো চাকরী করে।ফ্যামিলিও ভালো। আমার কিছু বলার থাকলে বলতে। রিজুর চেহারাটা চোখের সামনে ভাসছিলো।তবুও বলা যাবেনা। আব্বুকে বলে দিলাম তোমরা যা ভালো মনেকরো তাই করো। তারপরে সব অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো।বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেছো। এর মধ্যে অনেককিছু পাল্টে গেছে।রিজুর সাথে তেমন কথা হয়না। একদিন কলেজে লাবন্যর সাথে দেখা হয়েছিল। রিজুর কথা জিজ্ঞেস করতেই চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে বললো আর বলোনা আপু...! রিজু আজকাল আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করছে।ইচ্ছা করে ঝামেলা করছে। আমার সব অসহ্য লাগছে।ওর সাথে সম্পর্ক টা মনেহয় আর আগাবেনা। সব শুনে আমি অনেকটা অবাক হলাম।রিজু আমাকে তো কিছু বললোনা। . . বিয়ের দিনটা চলে এসেছে।আজ আমাকে অনেক সাজানো হয়েছে।ভারী গয়না আর মেকআপে দম আটকে আসছে। রিজু একবার মাত্র এলো আমার কাছে।এসেই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থেকে বললো, চশমিশ তুই এতো সুন্দর হলি কবে হুমম..? আমি একটা বোতল ছুড়ে মারার জন্য তুলতেই দৌঁড়ে পালালো। অনেকক্ষণ পরে রিজুর ছোটবোন কলি এসে আমার হাতে একটা বাক্স ধরিয়ে দিয়ে কিছু বলার আগেই চলে গেলো। আমি অনেকটা অবাক হলাম। আস্তে বাক্সটা খুললাম। ভেতরে কয়েকটা চিরকুট।আর আমার চশমার একটা ভাঙা ফ্রেম। একটা একটা করে চিরকুট গুলো পড়তে লাগলাম। . "আজ তোকে অনেক সুন্দর লাগছিলো।তোর কপাল থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিতে ইচ্ছা করছিলো কিন্তু তুই মারবি তাই পারিনি।" . "জানিস চশমিশ, লাবন্যর সাথে থাকলেও আমার মন মনেহয় অন্য কোথাও থাকে।ওর মধ্যে আমি টান অনুভব করিনা।ওর কাছে থাকার চেয়ে তোর হাতে মার খেতেই বেশী ইচ্ছা করে।জানিনা এটা কেমন অনুভূতি।তবে আমি শুধু তোর কাছাকাছি থাকতে চাই।আর তোকে রাগাতে চাই।রাগলে তোর গাল টমেটোর মত হয়ে যায় জানিস?" সবশেষে আজকের তারিখ লিখা চিরকুট টা খুললাম।আর লিখাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়লাম। . "আম্মু যখন বললো তোর বিয়ের কথা চলছে আমার বিশ্বাস হচ্ছিলোনা।তুই দূরে কোথাও চলে যাবি আমি ভাবতেও পারিনা।আমি মনেহয় তোকে ভালোবাসি।জানি বলবি আমি তোর ছোট।তাইবলে কি ভালোবাসা যাবেনা।আমি তোকে ছেড়ে থাকতে পারবোনা।তুই আমার সামনে অন্য কারো হাত ধরে চলে যাবি।আমি মানতে পারবোনা।তুই বিয়ে করতে পারবিনা শেষ কথা।বিয়ে করলে আমাকে করবি অন্য কাউকে বিয়ে করলে তোর চুল সব ছিড়ে ফেলবো পেত্নী। সত্যি অনেক ভালোবাসি তোকে।থাকতে পারবোনা আমি।প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাসনা।মরে যাবো আমি। আমি বাসার পিছনে বসে আছি তুই চলে আয়।দুজনে পালিয়ে যাবো।কয়দিন পরে ফিরে আসলে সবাই মেনে নিবে দেখিস। . আমি কি করবো জানিনাহ। ওর কথায় ছেলেমানুষি করে পালিয়ে যাওয়া একদম ঠিক হবেনা জানি।তবুও যেতে ইচ্ছে করছে। সবাই বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত।সব আয়োজন হয়ে গেছে।একটুপর বরযাত্রী আসবে।আমার হাত পা বাধা।চাইলেও রিজুকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলতে পারবোনা বকুরাম আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি। কিছু ইচ্ছে সবসময় অপূর্ণ থেকে যায়।পরিবারের ভালোবাসার কাছে আমার ভালোবাসা একদম তুচ্ছ। আমাকে শক্ত হতে হবে। নিজেকে সামলে রাখতে হবে। বর এসে গেছে।সবাই চিৎকার চেঁচামিচি করছে।তাড়াতাড়ি চিরকুট গুলো বাক্সে ঢুকিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের পুকুরটায় ছুড়ে মারলাম। চোখমুখ মুছে আবার বসে পড়লাম।এতক্ষনে আমার চোখমুখ ফুলে গেছে।সবাই হয়ত ভাববে চেনা পরিবেশ ছেড়ে যাচ্ছি তাই। কিন্তু সাথে জীবনের প্রথম অনুভূতি আর ভালোবাসা ছেড়ে যাচ্ছি সেটা হয়ত কেউ জানবেনা। দূর থেকেই নাহয় ভালোবেসে যাবো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চিরকুটের শব্দ ২
→ চিরকুটের শব্দ ২
→ চিরকুটের শব্দ ২
→ চিরকুটের শব্দ ২
→ "চিরকুটের শব্দ ২"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now