বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টোকাই রাজা

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X রাত ১১টা বাজে। আমি বাসার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছি কি করবো,বেল বাজাবো? যদি বাবা এসে দরজা খুলে! অথচ আমার লক্ষ্য হচ্ছে বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাসায় ঢুকে পড়া। মোবাইল টা বের করে কল দিলাম ছোট বোন নিতুকে। ফোন ধরতেই বললাম চুপিসারে দরজা খুলে দিতে।সে আসছে বলে কেটে দিলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। যাক এবারের মতো বেঁচে গেলাম, কাল যখন বাবা অফিসে যাবে আমি তখন ঘুমে থাকবো তাই তখনো কিছু বলতে পারবে না। খুশিতে ডান্স দিতে মন চাচ্ছে। দরজা খুলার শব্দ হচ্ছে, খুলা মাত্র দেখলাম বাবা সামনে দাঁড়িয়ে। পিছনে অসহায় ভাবে নিতু তাকিয়ে আছে। তাকালাম নিতুর দিকে সে ইশারায় বুঝাতে চাইলো সে বলেনি। বাবা কথা শুরু করলো... -ওর দিকে কি দেখিস? যখন ফোন করেছিস তখন সে আমার সামনে বসা ছিল। আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। ছোট থেকে যতোই বাবার আদর পেয়ে থাকো না কেন একটা বয়সে এসে ঠিকই বাবার কঠিন রূপটি সব ছেলেকেই দেখতে হয়। -বাসা থেকে না বলে চলে গেছিলি তো আবার ফিরলি কেন? টাকা শেষ হয়ে গেছে! বাপের হোটেলে ফ্রিতে খাবার জুটে বলে এসেছিস? অকর্মা, বেহায়া,নির্লজ্জ বেড়িয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। পিছন থেকে মা বাঁধা দিয়ে বললো," আরে কি বলছো এইসব। এমনিতেই ৭দিন পর ফিরেছে এখন তুমি আবার তাড়িয়ে দিচ্ছো।" -তুমি কোনো কথা বলবে না, তোমার আশকারা পেয়েই ছেলে এমন বিগড়ে গেছে। ওর থেকে তোমার দোষ কোনো অংশে কম নয়। আমার ভুলের জন্য প্রতিবার মা কথা শুনে এটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। এইবার আমি নিজেই চলে আসলাম। পিছন থেকে মা ডাকছে, কিন্তু কয়েক সিঁড়ি নামতেই দরজা লাগানোর শব্দ কানে এলো। অর্থাৎ বাবা দরজা বন্ধ করে দিছে। #১ রেললাইন ধরে হাঁটছি। আর সব কিছু চিন্তা করছি। আমি বরাবরি বাউণ্ডুলে টাইপের ছেলে।এমন ছেলেকে সব বাবারাই শাসনের উপরে রাখে। আমিও ব্যতিক্রম নই।মাস্টার্স শেষ করেও কোনো চাকরী না পাওয়ায় আজো বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াই। আজকাল চাকরী পাওয়া অনেক কঠিন কাজ। তবুও যদি নিজে একটু চেষ্টা করতাম, যে কয়েক জায়গায় ইন্টার্ভিউ দিয়েছি সেসবও বাবা খুঁজে দিছে। ৭দিন আগে বন্ধুদের সাথে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের জন্য কক্সবাজার চলে যাই বাসায় কাউকে না জানিয়ে। জমানো কিছু টাকা ছিল আর কারেন্ট বিল দেয়ার জন্য টাকা দিয়েছিল সে গুলি নিয়েই চলে গেছিলাম। ফিরে আসার পর যে আমায় ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাসায় তুলবে এমনটা ভাবিও নাই। তবে বাসা থেকে বের করে দিবে এটাও আশা করিনি।ভেবেছিলাম কিছুক্ষণ হয়তো বকাঝকা করে শান্ত হয়ে যাবে। কোনো বন্ধুর বাসায় গেলাম না লজ্জা পেয়ে।কি বলবো ওদের! আমার বাবা আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে? তার চেয়ে এই রেললাইনেই রাত কাটিয়ে দিবো। হঠাত লক্ষ্য করলাম ১০-১১ বছরের একটা ছেলে আমার পিছু পিছু আসছে। আমি দাঁড়িয়ে তাকে কাছে ডাকলাম।ছেলেটিও আসলো। -আমি জানি তুই কেন আমার পিছু আসছিস,কিন্তু আমার পিছু নিয়ে তোর কোনো লাভ হবে না। কারণ আমার পকেটে একটা টাকাও নেই। -স্যার আমি একটা টোকাই হইবার পারি আল্লাহর কসম চুরি বা হাইজ্যাক আমি করি না। -কিন্তু টোকাইরাই তো সুযোগ পেলে মহিলাদের ব্যাগ নিয়ে দৌড় মারে। ছেলেদের পকেট মারে। -হ স্যার আপনের কথা সত্য। কিন্তুক সবগুলান ত আর এক হয় না। -হুম,তা ঠিক। -স্যার কইতেছিলাম আপনে একলা হাঁটতেছেন আমিও একলা। আমরা কি এক সাথে পাশাপাশি হাঁটবার পারি না? আমি মানা করলাম না। যেহেতু আমার হারাবার কিছুই নাই, একমাত্র মোবাইল ছাড়া। ও যদি হাইজ্যাকার না হয়ে থাকে তবে তো রাতের সঙ্গী পেয়ে গেলাম। ওদের আবার এইসব জায়গা সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। -তোর নাম কি রে? -আমার নাম রাজা -বাহ,এক্কেবারে রাজা! দাঁত বের করে হাসলো রাজা। -হ স্যার, আর আমার ছোড বোনের নাম রাণী। -তোর বাবার নাম কি মহারাজ নাকি রে? -হিহি, না স্যার। তয় বাপে কইতো তারে যহন লোকে রাজার বাপ বইলে ডাকতো তার নাকি খুব আনন্দ লাগতো। -আচ্ছা তোর বাবা এখন কি করেন? রাজার মুখ মলিন হয়ে যায়। -আমার বাপ রিক্সা চালাইতো,গতবছর একটা ট্রাক ধাক্কা দিয়ে রোডে ফেলে পিষে যায়। তহন আমার জীবন এমন ছিল না স্যার। বাপে আমায় স্কুলে ভর্তি করাইছিল। ক্লাস ফোর পর্যইন্ত পড়ছিলাম।ক্লাসের ৩নম্বর ছাত্র ছিলেম আমি। খুব ভালো লাগতো পড়ালেহা করতে। কথাগুলা বলে রাজা নিরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার মাঝে দেখতে পেলাম পড়ালেখা না করতে পারার আফসোস। -আইচ্ছা স্যার একটা কথা জিগাই? -বল। -আপনে এত রাইতে এই রেললাইনে কেন? আপনেগোর মতো সুখী মানুষের তো এখন কাঁথা জড়িয়ে আরাম করে ঘুমিয়ে থাকার কথা। একটা টোকাইয়ের কাছে নিজের ফিলিংস শেয়ার করতে আমার মতো ভদ্র সমাজের (!) লোকদের গায়ে লাগার কথা। তবুও কি ভেবে আর কেন যেনো ওরে সব খুলে বললাম।সব শুনার পর রাজা সবগুলো দাঁত বের করে হাসতে লাগলো। নিজের উপর রাগ লাগলো, একটা টোকাইকে এইসব বলতে গেলাম কেন! সামান্য একটা টোকাই এখন আমাকে নিয়ে হাসে!! -ঐ ছেলে হাসিস কেন? আমায় নিয়ে মজা করছিস?(রাগ দেখালাম) -স্যার, সকালে বাইর হওয়ার সময় মায়ে আমায় সবসময় কয় ১০০ টেহার কম নিয়ে ঘরে ফিরলে রাতে খাইতে দিবো না। এইডা শুধু কথার কথা না স্যার। এমন অনেক রাইত না খাইয়ে কাটাইছি। কহনো বা মাইরও খাইছি। কম টেহা নিয়ে গেলে মায়ে ভাবে আমি বিড়ি খাই বা অন্য কোথাও টেহা নষ্ট করি। কিন্তুক বুঝবার চায় না যে আমার সঙ্গী টোকাই গুলা চুরিচামারি কইরা বেশি টেহা আয় করে। আজইকা সারাদিনে বোতল কুড়াইয়া বিক্রি কইরা মাত্র ৫০ টেহা হইছে,তাই আজইকা আর ফিরি নাই। আর আপনে এত পড়ালেখা কইরে বেকার থাকলে ত বাপে এইটুক রাগ দেখাবোই। -কি করবো,বাংলাদেশে চাকরী পাওয়া তো আর মুখের কথা না। -আমার মায়ে কয়,কাজকামের অভাব নাই। তয় কামের হাত পা নাই যে তোমার কাছে হাঁইটা আইবো। তোমার পা আছে তাই তোমাকেই খুঁজতে হইবো কোথায় কাম পাওয়া যায়। এইটুক পিচ্ছি ছেলের কথাবার্তা শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছি। কেমন পাকনা পাকনা কথা বলে। রাত বাড়ছে, কুয়াশাও পড়েছে অনেক। আমার পড়নে শীতের গরম পোশাক তবুও আমি জড়োসরু হয়ে যাচ্ছি অথচ রাজার পড়নে পাতলা একটা শার্ট তবু ওর মাঝে কোনো জড়তা দেখলাম না। -অনেক শীত পড়েছে, তাই না রে রাজা? -এইডা আর এমন কি ঠাণ্ডা স্যার।মাঘ মাসে পইড়বো আসল ঠাণ্ডা। ঐ সময়টা আমাগো মতো মানুষগোর লাইগা সর্বনাইশা সময়। আপনের তো রাইতে হাঁটার অভ্যাস নাই তাই এমন লাগছে। দাঁড়ান, আপনেরে গরম করার ব্যবস্থা করি। তারপর সে আশপাশ থেকে কিছু শুকনো পাতা জোগার করে ফেলে কয়েকটা গাছের ডাল ও পেয়ে গেছে। সব এক জায়গায় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমাকে ডেকে বলে আগুন পোহাতে। আমি মনে মনে হাসলাম। অদ্ভুত ছেলে এই রাজা। কাছে গিয়ে দুজনে একসাথে আগুন পোহালাম। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমার দেহ গরম হয়ে গেলো। আরো কিছুক্ষণ পর সব পুড়ে গেলে আগুন নিভে যায়। রাজা জিজ্ঞেস করে আরো নিয়ে আসবে কিনা।আমি না বললাম।তারপর আমরা আবার হাঁটতে শুরু করলাম।কিছু দূর যাওয়ার পর একটা টঙ দোকানের সামনে গিয়ে রাজা বলে," আপনের অনেক খিদা লাগছে তাই না স্যার? চলেন চা দিয়ে পাউরুটি খাইয়ে দেখেন আর বাকী রাইতে খিদে থাকবে না।" -উঁহু, আমার কোনো খিদে লাগেনি। -স্যার আমি ছোড হইবার পারি তয় অনেককিছু বুঝবার পারি।আপনের খিদা লাগছে কিন্তুক সাথে টেহা নাই বইলা কিছু কইতেছেন না। আপনের যদি একটা টোকাইয়ের টেহায় খাইতে শরম লাগে তয় পরে একদিন আইসা টেহা দিয়া যাইবেন। আর কিছু বলতে পারলাম না। এইটুকু ছেলে বারবার আমাকে কথায় হারিয়ে দিচ্ছে। দোকানের কাছে গিয়ে দোকানী কে বলে, -চাচা স্যারের লাইগা ভালো কইরে একটা চা দেও তো। তারপর সে নিজেই দুইটা পাউরুটি নেয়। একটা আমার হাতে দেয়। অন্যটা সে পানি দিয়ে খাওয়া শুরু করে।আমি তাকাতেই বলে। -আমি কহনো চা খাই না। মায়ে কয় এইডা বাজে অভ্যাস। টঙ দোকানের চা, সাথে পাউরুটি। আজ নতুন করে চায়ের স্বাদ পেলাম। এই পাউরুটি যেনো আমার কাছে দামী রেস্তোরাঁর বার্গারের চেয়েও বেশি টেস্টি লাগলো। খাওয়া শেষ হলে ১৪টাকা দোকানী কে দিয়ে দিলো রাজা। এখানে চায়ের দাম ৪টাকা করে। আবার শুরু হল আমাদের হাঁটা। -আমি সারাজীবন এমন থাহুম না। একদিন আমিও অনেক টেহা রোজগার করুম। এহন ছোড বইললা কেউ রিক্সা দিবার চায় না। আরো ২-৩ বছর পরে যহন রিক্সা পাইমু আমি সারাদিন কষ্ট করে অনেক টেহা রোজগার করুম। আমার ছোড বোনটারে স্কুলে ভর্তি করাই দিমু। একটা মাটির ব্যাঙ্ক কিনে রাখুম, প্রইতেকদিন ব্যাঙ্কে ২০-৩০ টেহা কইরে জমাই রাখুম।একদিন এইভাবে অনেক টেহা হয়ে যাইবো। তহন নিজে একটা রিক্সা কিনুম। রাজার চোখে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখতে পেলাম। এই অবস্থায় থেকেও সে কত সুন্দর স্বপ্ন দেখছে। আর আমি! আমি চাইলেই ভালো কিছু করতে পারি। অথচ আমার মাঝে কিছু করার তাগিদ নেই।কারণ আমার কাছে বাবা নামক একটা বিশ্বাস যোগ্য ব্যাঙ্ক আছে, তাই নেই কোনো ভবিষ্যৎ চিন্তা। এই বাবাহীনা ছেলেটা ঠিকই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। ভোর প্রায় হয়ে এলো। রাজার বস্তিটা দেখে আসলাম। আসার সময় রাজাকে শুধু বললাম,"রাজা আমি আবার আসবো। আর স্বপ্ন দেখা চালিয়ে যা,তোর স্বপ্ন পূরণে আমি তোর সাথে থাকবো।" রাজা আমার কথাটি কিভাবে নিলো জানি না। বিশ্বাস করছে কিনা সেটাও বুঝিনি। তবে ওর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। তবে এই হাসিটা আমাকে পরিহাস করে হাসেনি এটা বুঝতে পারলাম। #২ রাজাকে কথা দিয়েছিলাম আবার যাবো। অথচ এক মাসের বেশি সময় হয়ে গেছে যাওয়া হয়নি। কারণ আমি হয়তো মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঐদিনই রাজাকে কিছু টাকা দিয়ে আসতে পারতাম।কিন্তু সেটা হতো বাবার টাকা। রাজা তার রোজগারের টাকা দিয়ে আমাকে খাওয়াইছে। তাই আমিও ঠিক করি আমি রোজগার করেই তার সাথে দেখা করতে যাবো। তাই সেদিন থেকে চাকরী খুঁজতে শুরু করি। পেয়েও যাই ৭দিনের মধ্যে। ১০হাজার টাকা বেতনের চাকরী। কাল আমি প্রথম বেতন পাবো। ঠিক করেছি বেতন পেয়েই রাজার সাথে দেখা করতে যাবো। পরেরদিন বেতন হাতে পেয়েই মার্কেটে গিয়ে রাজা ও তার মা-বোনের জন্য কাপড় কিনি।আর রাজার জন্য বই কিনে খুশি মনে ওর বস্তির দিকে রৌওনা দেই। ভাবতেই ভালো লাগছে বই দেখে রাজা কতটা খুশি হবে। আমি মনে মনে ঠিক করে নিয়েছি রাজাকে নাইট স্কুলে ভর্তি করাবো আর কোনো হোটেলে বয়ের কাজ ঠিক করে দিবো। এতে করে দিনে কাজ করে তার মা-বোন কে খাওয়াবে আর রাতে পড়াশোনা করবে। ওর পড়ার সব খরচ আমিই দিবো। বস্তিতে পৌছে একটা ছেলের সাহায্যে ওর ঘর পর্যন্ত যাই। ঘর আর কি, ছাউনি ঘর। ঘরের কাছে গিয়ে ঐ ছেলেটি রাজার মাকে ডাকে। একজন মহিলা বেরিয়ে এসে আমাকে চিনতে না পেরে অবাক হয়ে শুধু তাকিয়েই থাকে। আমি বললাম,"রাজা কই? রাজা আমাকে ভালো করে চিনে। ওরে ডাকুন, ওর জন্য বই নিয়ে এসেছি।" মহিলাটি শূন্য চোখে আমার হাতের দিকে তাকায়। কিন্তু সহসা কিছু বলতে পারে না। আমি আবার বললাম,"কি ব্যাপার কিছু বলছেন না যে!রাজা কি এখনো ঘরে আসেনি?" -রাজা আর কোনোদিন ঘরে আইবো না সাহেব। আমার রাজা..... আমার রাজা রাগ করে ঐখানে চলে গেছে। মহিলাটি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো। বুঝতে অসুবিধে হল না, কি বলতে চাইছে। -কি হয়েছিল ওর? আমার কন্ঠটা কেঁপে উঠলো। -মাসখানেক আগের কথা। একদিন ওর মতোই আরেকটা টোকাই এক মাইয়া মাইনশের ব্যাগ নিয়ে দৌড় দিছিলো। পাবলিক ঐ ছেলের পিছু নিতে গিয়ে সামনে পায় আমার পোলারে। ওরা মনে করে আমার পোলায় ব্যাগ নিয়া দৌড় দিছে। তাই সবগুলা মানুষ মিল্লা আমার বাচ্চা পোলারে অনেক মারলো সাহেব...(বলতে গিয়ে মহিলাটি কান্না করে দিলো)। মাইর খাইয়া রাইতে খুব জ্বর আইলো, জ্বরের মইধ্যে কইতেছিল, ""আমার কপালটাই এমন, আকাম করলো একটা আর মাইর খাইলাম আমি। যহন সবাই মিল্লা মারতেছিল তহন একটা রিক্সায় এক স্যার যাইতেছিল,আমি অনেক ডাকছি তয় এত চিল্লাচিল্লির লাইগা স্যারে শুনে নাই। শুনলে আমায় এত মাইর খাইতে হতো না। স্যার খুব ভালা মানুষ, ঠিকই আমায় বাঁচাই নিতো।স্যার আমায় কথা দিছে আমার স্বপ্ন পূরণে আমার সাথে থাকবো"" আমি জানিনা সাহেব হে খুব স্যারের কথা কইতেছিল। তয় ঐরাতে বারবার ঐ লোকটির কথাই কইতেছিল। ভোর রাতেই আমার রাজা মইরা গেলো সাহেব। এইবার মহিলাটি বেশ জুড়েই কান্না শুরু করলো। সব শুনার পর আমার হাত থেকে সবকিছু মাটিতে পড়ে যায়। চুপচাপ চলে আসি সেখান থেকে। রাজার মাকে শান্তনা দিবো কি নিজেকেই আমি শান্তনা দিতে পারছি না। রেইললাইন ধরে হাঁটছি আর স্মরণ করছি একমাস আগের একটি ঘটনা। যেদিন আমি ইন্টার্ভিউ দিতে যাই।রিক্সা করে যাচ্ছি তখন রাস্তায় দেখলাম কিছু লোক কাউকে মারতেছে। কিন্তু কাকে মারছে কিছু দেখা যাচ্ছিলো না। আর আমার দেরি হচ্ছে তাই রিক্সা দাঁড় করিয়ে ঘটনা জানার ইচ্ছেও হল না। কে জানতো ঐ ভিড়ের মাঝে রাজা মার খেতে খেতে আমায় বারবার ডাকতেছিল.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now