বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অন্তনিলা:কি খবর?কেমন আছো?
সাফিন:এতদিন কোথায় ছিলে?
- স্বামীর বাড়ি। জানো নিশ্চয়ই? একবার তো খবরও নিলে না।
-খবর নিয়ে কি আর হবে।জানি ভালো আছো
-কেমন আছো বললে না তো?
-এইতো বিষণ্ন নগরীর বুকে কিছু শব্দ নিয়ে ভালো আছি হয়ত।আর তুমি?
-আমিও ভাল আছি রাতের তারাদের মত
-ভাল থাকাটাই শ্রেয়! ভাল না থাকার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ দেখছি না। স্বামী,সংসার আর ফুটফুটে জলন্ত নক্ষত্রের মতো কোমল বাচ্চা।সব মিলিয়ে পাটিগণিতের সমীকরণ।
-তুমি তো অংকে কাচা ছিলে।প্রতিটা পরীক্ষাই আমার খাতা দেখে লিখতে।অবশ্য আমার খাতার চেয়ে আমকেই দেখতে বেশি।এখন বেশ এলোমেলো হয়ে গেছো!
-এলোমেলো মগ্নতাই পা ফেলতেই আনন্দ।তাই হয়ত এমন।
- চশমা নিয়েছ কবে?
-যবে থেকে চোখে কম দেখছি।তুমিও তো পড়ছো এখন।বেশ সুন্দর লাগছে এতে।অবশ্য না পরলেও অতটা সুন্দর লাগত না।
-তুমি সুন্দরের সংজ্ঞা জানো?
- ন জানার কি আছে! স্কুল জীবনে তোমার খোঁপায় রক্তজবা আর মাথায় বেণী কেটে সুন্দরের যে সংজ্ঞা শিখিয়েছিলে তা কি সহজে ভুলা যায়?
- আচ্ছা বলো তো তুমি আমার বেণীগাঁথুনির প্রেমে পড়েছিলে নাকি আমার?
- কোনোটিই নয়।তোমার কপালে সাতরঙের সংমিশ্রণে যে লালটিপ ছিল তার প্রেমে পড়েছিলাম।অবশ্য তখন তা বুঝতে পারিনি।
আজ সেই টিপ কাছ থেকে দেখাই তার মর্ম বুঝতে পারছি।
-দূরে গেলেই কিছুর মর্ম বুঝা যায়?
তাহলে সেদিন আমাকে বুঝে উঠতে পারোনি কেন?
- না পেরেছি কোথায়! দিস্তা দিস্তা প্রেমপত্র এমনি আমার বইতে চুরি করে রেখে দিয়েছিলে? যার জন্যে কয়েকবার তোমার মায়ের হতে দু-চারটা চরও খেয়েছিলে।আর সাথে যে বিজোড় একটা নুপুর দিয়েছিল তা আজও রেখে দিয়েছি বেশ যত্নে।
-ওমা...চিঠি কি আমি একলা দিয়েছি নাকি? তুমিও তো কম দাওনি।সাথে তো চার জোড়া কানেরদুল,দুই জোড়া নুপুর আর নীল কাগজে লিখা ১০৮ টা কবিতা -এ সবই তুমি দিয়েছিলে কিন্তু মনটা হয়তো উজাড় করে দিতে পারোনি ।
- তুমি তো ছিলে সতেরো বছরের কন্যা আর আমি ষোল এর কাছাকাছি এক বালক !বয়সের ফাঁকটা কি বেশি ছিল? মোটেও তা নয়
-তবে?
-সংসার,সমাজ,গোত্র কিছু না বুঝে কুৎসা রটাতে মত্ত!
-বেশ ভাল বলতে পারো !
- এজন্যই তো এতটা ভালোবাসতে আমায়।
- আচ্ছা আমার বিয়েতে তুমি আসলে না কেন?
-গিয়েছিলাম তো।লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার দেখছি
- কই ? কোনও প্রমাণ তো দেখিনি?
-উপহার এর কথা বলছো?
- ত বলছি না।সেই যে নুপুর, দুজোড়া কনেরদুল র কবিতা দিয়েছিলে তাও কি কম ছিল?
- সেদিনও প্রমাণ রেখে এসেছি। হয়তো তুমি বুঝে উঠতে পারনি।
- কিভাবে?
-ঠিকানাবিহীন একটা বক্স পেয়েছিলে উপহার হিসেবে? যার খামে লিখা ছিল"ভাল আছি ভাল থেকো"
-ওটা তুমি ছিলে??
- এখনও অবিশ্বাস হচ্ছে?
-ইস!এমন করলে কেনো? জানো সে রাতে আমি কতো কেদেছিলাম! শুধুমাত্র আমার বিয়েতে তোমার অনুপস্থিত টের পেয়ে।যদিও সেটা আমার বাসরের প্রথম রাত ছিল
-লিখে দিলে দেনা পাওনার হিসেব কতটুকু মিটতো?
-পহেলা ফাল্গুনে যে কৃষ্ণচূড়া দিয়েছি তার হিসেব আদৌ মিটেয়েছো?
- সেকথা আজও মনে রেখেছো তুমি?
-হুঁ রেখেছি তো।
-রাত তো অনেক হল,ঘুমাবে না?তোমার বাবুটা ঘুমিয়েছে?
-বাবুটা স্বর্গরাজ্যে দেব দেবতাদের সাথে খেলায় মত্ত।যে খেলা কৈশরে তুমি আর আমি খেলতাম।
-বেশ।মধ্যরাতে ঘুমাবার আগে খোঁপায় সুগন্ধি তেল মেখে সিদুরের লম্বা দাগ টানো এখন?
-হিন্দুরমনি বলে কথা।সিথির সিদুরে জার পরিচয়।সে কি আর এমনি থাকতে পারে??
- তা ঠিক।রাত তো অনেক হলো।এবার ঘুমিয়ে পরো।
-তুমি ঘুমুবে না? কোথায় তুমি বাসায় নাকি এখনো রাত হলে রাস্তাই ঘুরে বেরাও?
-ঠিকই ধরেছো।এখনও পরে আছি ধূলিকণার সাথে।হাঁটছি আর হাঁটছি।
-হেঁটে যাও অনন্ত পথ।আমি গেলাম ঘুমাতে ।
ভালো থেকো
ইতি,
তোমার প্রণয়নী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now