বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মোবাইলের প্রেম কাহিনী।।।।।।

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X একবার ওয়ালটন কম্পানি সিদ্ধান্ত নিল তারা এমন একটি ফোন বাজারে আনবে যা খুব কম টাকায় ভাল সার্ভিস দিবে। তারা সুদুর চায়না থেকে আনল ফোনের শরীর , দুটি চোখ একটা নিম্ন মানের ১৩ মেগা ও আরেকটা ৮ মেগা, খাবার সংগ্রহের জন্য আনা হলো ২৮০০ mah বাক্স। কম্পানির সফট ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারেরা মিটিংয়ে বসলেন। তৈরি করা হলো আধুনিক সফট ওয়্যার। ঢুকিয়ে দেওয়া হলো ফোনে। সকল পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে এবার ফোনকে বাজারে ছাড়া হলো। ফেসবুক, ইউটিউব সব জায়গায় ফোনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। বিজ্ঞাপন দেখে এক গ্রাহক আগ্রহ প্রকাশ করল। দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসল সেই ফোনটি। শুরু হলো নতুন ফোনটির জীবন যাত্রা। নতুন জায়গায় এসে ওয়ালটন ফোন অসস্থিতে ভুগছে। চারপাশের পরিবেশ সম্পর্ণ নতুন। সে তার ১৩ মেগা চোখ দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে চারপাশ টাকে দেখছে। তাকে এখানেই মানিয়ে নিতে হবে। কারণ সারা জীবনের জন্য তাকে এখানেই কাটাতে হবে। এদিকে প্রতি নিয়ত তার উপর চালান হচ্ছে আমানুষিক নির্যাতন। গ্রাহক একবার ফেসবুক একবার হটস এপ, ওপেরা এসব চালিয়ে চালিয়ে তাকে হয়রান করে ফেলছে। আর সেলথি তুলতে তুলতে তার ৮ মেগা চোখের বারটা থেকে তেরটা বাজিয়ে ছাড়তেছে। যখনই তার খাবার শেষ হয়ে যায় তার মাথায় ঢুকানো হয় একটা চওড়া স্টিলের পাইপ। খাবার বাক্স ভর্তি হলে আবার তার উপর চলে নির্যাতন। সে মেনে নিয়েছে এই নির্যাতন সহ্য করার জন্যই হয় তো তার জন্ম হয়েছে। এভাবেই দিন যেতে থাকে। একদিন ফোনটি তার গ্রাহকের পকেটে চড়ে ঘুরতে বেরিয়েছে। সে একটু পরপর পকেট থেকে বেরিয়ে উকি মারে বাইরের পরিবেশ দেখার জন্য। হঠাৎ করে তার চোখ আটকে যায় একটা সোনালি রঙের মহিলা ফোনে। ওয়ালটন তার ১৩ মেগা চোখটি জুম করে সোনালির নাম দেখে আতকে ওঠে "লাভা"। সে ভাবে লাভা শুনেছি অত্যান্ত জেদি এবং গরম ব্রান্ডের। সে আরও ভাবে সবাই তো এক হয়না হয় তো ও ভাল। প্রথম দর্শনেই ওয়ালটন লাভার প্রেমে পরে যায়। এখন প্রায় প্রতি দিনি ওয়ালটন তার গ্রাহকের পকেটে করে ঘুরতে বের হয়। আর প্রায়ই দেখা হয় তার সোনালির সাথে। সে ঠিক করেছে তাকে লাভা ডাকবে না। কারণ লাভা মানে গরম জিনিস। সে তাকে সোনালি বলেই ডাকবে। তো ওয়ালটন পকেট থেকে উকি মেরে মেরে সোনালিকে দেখে। মাঝে মাঝে আড় চোখেও তাকায়। কিছুদিন যাওয়ার পর সোনালিও বুঝতে পারল ওয়ালটন তাকে উকি মেরে দেখে। সে কিছু বলল না। ওয়ালটনের গ্রাহক আর লাভার গ্রাহক দুই বন্ধু। তাই মাঝে মাঝে তাদের ভিতর শেয়ার-ইট এর মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস আদান প্রদান হয়। তাই ওয়ালটন আর লাভা সেই সময় পাশাপাশি থাকে। ওয়াইফাই এর মাধ্যমে তাদের মনের আদান প্রদান হয়। ওয়ালটন আড় চোখে তার সোনালিকে দেখে আর লাভা স্বলজ্জ নয়নে ওয়ালটন কে দেখে। এভাবে চলে গেল আর কিছু দিন। ভালই চলছিল সবকিছু। কিন্তু হঠাৎ করে ওয়ালটনের গ্রাহক তার বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হলো। তাই সোনালির সাথে তার আর দেখা হয় না। সে খুব কষ্টে দিন কাটাতে লাগল। অপেক্ষায় থাকলো কবে তার গ্রাহক বাড়ি ফিরবে আর কবে তার সোনালির দেখা পাবে। ওদিকে সোনালিও ওয়ালটনের অভাব বুঝতে পারছে। তার গ্রাহক যখন তাকে হাতে করে দাড়িয়ে থাকে তখন সে তার চোখ দিয়ে ওয়ালটনকে খুজে বেরায়। সে বুঝতে পারে সেও ওয়ালটনকে ভালবেসে ফেলেছে। সাত দিন কাটানোর পর ওয়ালটন বাড়ি ফিরেছে মানে ওয়ালটনের গ্রাহক বাড়ি ফিরেছে। ওয়ালটন তো সেই খুশি সে তার সোনালির দেখা পাবে। কিন্তু বাড়ি ফিরেই তার গ্রাহক জ্বরে পড়ল। মনে মনে ওয়ালটন জ্বরকে গালি দিল "শালার জ্বর আসার আর টাইম পেলিনা।" এদিকে ওয়ালটনের দেখা না পেয়ে সোনালি মানে লাভার অবস্থা কাহিল। সে প্রায়ই গরম হয়ে যাচ্ছে। মানে টেনশনে লাভার জ্বর এসে যাচ্ছে। লাভা খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে দিছে। তাই গ্রাহকের ফোনে বার বার চার্জিং ইরর দেখায়। যার ফলে লাভার গ্রাহক তার বন্ধু ওয়ালটনের বাড়িতে আসে কি সমস্যা দেখানোর জন্য। এসে দেখে ওয়ালটনের গ্রাহকের ভিষণ জ্বর। তাই সে সোফায় বসে আর ফোনটা একটা টেবিলে রাখল যেখানে হৃদয় ভাঙা ওয়ালটন ঘুমিয়ে ছিল। লাভায় তখন মাত্র ৫% খাবার আছে। সে ওয়ালটনকে দেখে সেই খুশি। ফিস ফিস করে ডাক দিল। এই ওয়ালটন এত দিন কোথায় ছিলে। তার ডাক শুনে ওয়ালটন তাকাল সাথে সাথে তার খাবার ১০০% হয়ে গেল। এখন আবার প্রতি দিন তাদের দেখা হয়। মনের আদান প্রদান হয় মানে শেয়ার-ইটের মাধ্যমে। চলতে থাকে তাদের খুনসুটি মান অভিমান আর ওয়ালটনের সরি বলে অভিমান ভাঙান। কিন্তু কেউ কাউকে তার ভালবাসার কথা বলতে পারে না। ওয়ালটন ভয় পায় লাভার মা স্যামসাঙ কে। যদিও সে তাদের মত আধুনিক এন্ড্রয়েড না তবুও প্রচুর শক্ত বাটন ফোন। যদি রেগে গিয়ে ওয়ালটনের ওপর লাফ মারে তাহলে তো ওয়ালটনের স্কিন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। সে অনেকদিন চেয়েছে যাতে তাকে বুলেট প্রুভ গরিলা গ্লাসে আচ্ছাদিত করা হয় কিন্তু তার গ্রাহক তা করে নি। কি আর করা সমাজের চোখে তাই তারা বন্ধু হয়েই রইল। তাদের মধ্যে কথা হয় দেখা হয় তথ্যের আদান প্রদান হয়। শুধু মনের কথা বলা হয় না। দিন যায় আর ওয়ালটন ভাবে সে তার সোনালিকে প্রপোজ করবেই। কিন্তু আবার সে তার শরীরের দিকে তাকায়। যদি সোনালির মা ঝাপিয়ে পরে।............. না আর ভয় না। আজ সে সোনালিকে তার মনের কথা বলবে। তাই আজ গ্রাহকের সাথে বের হওয়ার আগে নিজিকে রিবুট করে নিল। লাল গোলাপের পিক সেন্ড করার জন্য ওপেরা থেকে ডাউনলোড করে নিল। বিকেল আসল..... গ্রাহক তাকে পকেটে ভরে বাড়ি থেকে বের হলো। কিন্তু একি গ্রাহক কোন দিকে যায়। সে তো সোনালির বাড়ির দিকে যাচ্ছে না। সে বাজারের দিকে যাচ্ছে। ওয়ালটন ভাবল আমার যদি হাত থাকত তাহলে আজ নিজের স্কিন ফাটায় ফেলতাম। একটু পর সে লক্ষ্য করল তার গ্রাহক একটা মোটা আকৃতির লোকের সাথে কথা বলছে। লোকটি ওয়ালটনকে হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করল। তার চোখ পরিক্ষা করল তারপর তাকে বিভিন্নভাবে ঘাটা ঘাটি করল। এরপর মোটা লোকটি বলে উঠল আমি ২ হাজার টাকার বেশি দিতে পারব না। ওয়ালটনের গ্রাহক বলল না ভাই ফোনটা নতুন দুই মাস হলো কিনেছি আমি ৫ হাজার এর নিচে বেচব না। কথাটা শুনেই ওয়ালটনের সফট ওয়্যার দুমড়ে উঠে হ্যাঙ হয়ে গেল। ওয়ালটনের যখন জ্ঞান ফিরল তখন সে নিজেকে একটা টেবিলের উপর আবিষ্কার করল। সে ভয়ে ভয়ে তাকাল সে কি বিক্রি হয়ে গেছে? না বিক্রি হয় নি। সে তার বাসাতেই আছে। সে গ্রাহকের মায়ের চিৎকার শুনতে পেল, " তুই ফোন বিক্রি করতে পারবি না। আরেকদিনই ফোন কিনলি আজকে বিক্রি করতে চাস। তোর এত বড় সাহস।" ওয়ালটন মনে মনে খুশিই হলো। তার খিদে পেয়েছে। তাই সে জোড়ে জোড়ে ব্যাটারি লো এর সিগন্যাল দিল। তার গ্রাহক তার মাথায় পাইপ মানে চার্জার ঢুকায় দিয়ে চলে গেল। পর দিন সে তার সোনালির দেখা পেল। আজ সে লাল গোলাপ সেন্ড করে দিয়ে আই লাভ ইউ লিখে মেসেজ পাঠল। সোনালি এক কথায় রাজি। কিন্তু দুজনের চিন্তা হচ্ছে তাদের বাবা-মা যদি জেনে যায় তাহলে কি মেনে নিবে? এত চিন্তা করে কি প্রেম করা যায়। সময়ের টা সময়ে দেখা যাবে। ওয়ালটন আর লাভার প্রেম চলছে। ভালই চলছিল দিন কাল। কিন্তু একদিন লাভা কাদো কাদো শুরে ওয়ালটন কে বলল "মা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। পাত্র অনেক দামি নাম শুনেছি স্যামসাঙ এস ৮। তুমি আজই বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবা তা না হলে আমাকে সারা জিবনের জন্য হারাবা।" ওয়ালটন কিছু বলল না। চুপ করে বাড়ি ফিরে গেল তার গ্রাহকের সাথে। পরদিন অনেক সাহস জোগাড় করে সে তার সোনালির বাবার সামনে উপস্থিত হলো। সোনালির বাবা অনেক উচ্চ বংশিয় নোকিয়া ফ্যামেলির সদস্য। ওয়ালটন কোন ভনিতা না করেই বলল, "আমি আপনার মেয়ে লাভাকে ভালবাসি আমি ওকে বিয়ে করতে চাই। আমি হয়তো স্যামসাঙ এস ৮ এর মত দামি নই কিন্তু আমার সাথে ও সুখেই থাকবে।" লাভার বাবা ভাইব্রেট করে উঠে বলল, "ছোট লোক, তুমি দেশি ব্রান্ড। আমরা সবাই বিদেশি তাই আমার মেয়ের বিয়ে আমি আমাদের পছন্দ করা ছেলের সাথেই দিব। বল কত মেগাবাইট পেলে তুমি আমার মেয়ের জীবন থেকে সরে যাবে? ৫০ জিবি, ১০০ জিবি, ৫০০ জিবি? ওয়ালটন এবার মুখ খুলল, "নোকিয়া সাহেব, ভালবাসা জিবিতে কেনা যায় না। ভালবাসতে হলে সুন্দর সফট ওয়্যার থাকতে হয়। আমি আজ বলে গেলাম আইফোন ৭+ হয়ে আমি ফিরে আসব। তারপর আপনার মেয়েকে বউ করে নিয়ে যাব। " ওয়ালটন প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইফোন ৭+ এর মত কাজ করতে। কিন্তু সে পারছেনা। তার স্কিন ফেটে ফেটে যাচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। কিন্তু তাকে দিয়ে আইফোন ৭+ হওয়া সম্ভব নয়। তার এই কষ্ট দেখে লাভা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। প্রায়ই অতিরিক্ত পর্যায়ে গরম হয়ে যাচ্ছে, হ্যাঙ হয়ে যাচ্ছে। মেয়ের এই অবস্থা দেখে নোকিয়া সাহেব চিন্তায় পরে গেলেন। এদিকে স্যামসঙ এস ৮ এর বাবাকে কথা দিয়ে দিয়েছেন। তার একটা সম্মান আছে। কিন্তু মেয়েই যদি সুখে থাকতে না পারে তাহলে কি হবে এত সম্মান দিয়ে। তিনি স্যামসঙের বাবাকে না করে দিলেন তবে তাকে অনেক কটু কথাও শুনতে হয়েছে কিন্তু মেয়ের সুখের কাছে এগুলো কিছুই না। তিনি নিজে গিয়ে ওয়ালটনের কাছে ক্ষমা চাইলেন। ওয়ালটন এতে লজ্জিত হল এবং কথা দিল সে তার সোনালির জন্য প্রয়োজনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করবে। যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও সোনালির খাবারের কোন সমস্যা না হয়। অতঃপর আজ ওয়ালটন আর লাভার শুভ বিবাহ। ওয়ালটনের গ্রাহক বাজারের সেরা গরিলা গ্লাসটা তাকে উপহার দিয়েছে যাতে লাভা রেগে গিয়ে তার উপর লাফিয়ে পরলেও তার স্কিনের কিছু না হয়। অপরদিকে লাভার গ্রাহক লাভাকে একটি সুন্দর কাভার উপহার করেছে যাতে কারর নজর না লাগে। ধুমধাম করে শুরু হয়ে গেল বিবাহ্ আপনাদের সবার দাওয়াত রইল। আসবেন কিন্তু........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now