বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাশঘর!!-৩য় পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shayer Ahmed (০ পয়েন্ট)

X গুড হোম নামের এই লাশঘরে আগে বেশি কাজ পড়ত না অবশ্য। মাসে এক আধবার। তবু সেই আশঙ্কায় সিটিয়ে থাকত। দুর্ভাগ্যই বলতে হবে‚ ইদানীং প্রায়ই আসতে হচ্ছে। আসলে দিন কাল পালটে গেছে। দিনের মধ্যে সৎকার আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই হয় না। ছেলেমেয়েরা বাইরে থাকে। বিদেশ হলে তো কথাই নেই। আসতে তিন–চার দিন লেগে যায়। অগত্যা গুড হোমের মতো লাশঘরই ভরসা। এই যেমন আজ। সকাল থেকেই ঝড়- বাদল। এক কথায় দুর্যোগের দিন। সারাদিন কোনো ডাক না আসায় ভেবেছিল‚ বাঁচা গেল বোধ হয়। কিন্তু ঠিক সন্ধের মুখেই বেজে উঠল ফোন। ধরতেই ওদিক থেকে সৎকার সমিতির ম্যানেজার হারাধন নন্দীর গলা। লাশ আনতে হবে কল্যাণীর ওদিকে এক হাসপাতাল থেকে। পৌঁছে দিতে হবে গুড হোমে। শুনেই গলা প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। এই সন্ধের আগে গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে অতদূর পৌঁছোতে সময় লাগবে যথেষ্টই। তারপর লাস নিয়ে ফিরতেও সময় কম নয়। কাঁচুমাচু হয়ে বলেছিল‚ ‘আজকের রাতটা বাদ দিলে হয় না হারাধনদা। এই জলকাদার পথ। কথা দিচ্ছি‚ কাল ভোরেই বের হয়ে পড়ব।’ তাতে প্রায় ধমকে উঠেছিল হারাধন নন্দী‚ ‘খেপেছিস! একেই দিন চারেকের পুরোনো বডি। ছেলে আমেরিকায় থাকে। কথা ছিল আগামী কাল এসে পড়বে। বডি তাই হাসপাতালেই রাখা ছিল। ছেলে হঠাৎ খবর পাঠিয়েছে‚ কী গোলমালে তাঁর আসতে আরও দিন চারেক লাগবে। এদিকে আর এক বিপত্তি‚ যে হাসপাতালে বডি ছিল তাদের মেশিনে গোলমাল। গত কাল থেকে ঠিকমতো কাজ করছে না। জানিয়ে দিয়েছে‚ বডি তারা আর এক দিনও রাখতে পারবে না। দেরি না করে রওনা হয়ে পড়।’ অগত্যা ঢোঁক গিলে গোবিন্দ বলেছিল ‚ ‘বাড়ির লোকজন কেউ থাকবে তো দাদা?’ ‘বাড়ির লোকজন!’ হেসে উঠল হারাধন নন্দী‚ ‘ওল্ড এজ হোমের পার্টি। বাড়ির লোক পাবি কোথায়! অসুস্থ হয়ে পড়তে তারা হাসপাতালে ভরতি করে খালাস। এখন দায় আমাদের।’ কথা না বাড়িয়ে ম্যানেজার হারাধন নন্দী লাইন কেটে দিয়েছিল এরপর। গোবিন্দও আর দেরি করেনি। লাশের বাড়ির লোক নেই মানেই‚ পুরো দায়িত্ব তার উপর। অগত্যা দেরি না করে বের হয়ে পড়েছিল সেই দণ্ডেই। এই ঝড়জলের দিনেও বডি নিয়ে রাত সাড়ে আটটার মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছিল গুড হোমের দরজায়। বৃষ্টির বেগ মাঝে সামান্য কমলেও ফের বাড়তে শুরু করেছে। দেরি করা যায় না। গাড়ি থেকে নেমে গোবিন্দ দরজার বেল টিপল। গুড হোমের দরজায় বেল টিপে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। সেই প্রথম দিনের মতো মিনিট দেড়েকের মধ্যেই খুলে যায়। আজ সময় একটু বেশিই লাগল। বার পাঁচেক বেল টেপার পরে ঘটাং করে দরজা খুলে যে মানুষটা উঁকি দিল‚ তাকে একেবারেই আশা করেনি গোবিন্দ। জোসেফের ছেলে টমাস। বাবা না থাকলে কখনো ডিউটি সামলায়। টমাস একেবারেই উলটো স্বভাবের। সব দিক থেকেই। বেঁটেখাটো গাঁট্টাগোট্টা চেহারা। নেশায় চুর হয়ে থাকে। ব্যবহার মোটেই ভাল নয়। ওর অর্ধেক ইংরেজিই বুঝতে পারে না গোবিন্দ। তাই পারতপক্ষে বেশি কথা বলে না। তবু ওকে দেখে আজ কিছুটা যেন স্বস্তি পেল। ব্যবহার যাই হোক‚ লাশ নিয়ে এলে টমাস একেবারেই বসিয়ে রাখে না। ড্রয়ারে চালান করে দিয়ে চটপট কাগজে সই করে দেয়। গোবিন্দ তাড়াতাড়ি হাতের কাগজপত্র তার দিকে বাড়িয়ে দিতে যাবে ‚ টমাস হঠাৎ খেঁকিয়ে উঠল। ঘড়ঘড়ে জড়ানো গলায় যা বলল‚ তার অর্থ‚ এখানে জায়গা নেই বাপু। সব ড্রয়ার ভরতি হয়ে রয়েছে। ভেগে পড়ো।’ খানিক চেষ্টায় টমাসের কথার অর্থ বোধগম্য হতে গোবিন্দর মাথায় প্রায় আকাশ ভেঙে পড়ল। কী সর্বনেশে কথা! ঢোক গিলে কোনোমতে বলল‚ ‘তবে যে ম্যানেজারবাবু এখানে লাশ পৌঁছে দিতে বললেন। নিশ্চয় কথা বলে নিয়েছেন।’ ‘কী জানি‚ হয়তো বলেছিলেন। কিন্তু এখন জায়গা নেই আর। অন্য কোথাও দেখ।’ বলতে বলতে টমাস যেভাবে খেঁকিয়ে উঠল‚ দু’পা পিছিয়ে এল গোবিন্দ। দু’চোখ টকটকে লাল। সন্দেহ নেই‚ নেশাটা কিছু বেশিই হয়ে গেছে। এমন আগে দেখেনি। নিশ্চয় ছেলেটার মাথার ঠিক নেই। নরম গলায় গোবিন্দ ব্যাপারটা বোঝাতে যাবে ‚ গলা সপ্তমে তুলে ফের খেঁকিয়ে উঠল টমাস। দড়াম করে দরজাটা ওর মুখের উপর বন্ধ করে দিল। ভাগ্যিস‚ মাথাটা সরিয়ে নিতে পেরেছিল। নইলে থেঁতলেই যেত হয়তো। এই অবস্থায় টমাসের সঙ্গে আর কথা চলে না। গোবিন্দ পকেট থেকে মোবাইল বের করে ম্যানেজার হারাধন নন্দীকে ফোন করল। কপাল একেই বলে‚ লাইন পাওয়া গেল না। নট রিচেবেল। সম্ভবত এই ঝড়জলের রাতে ওদিকের টাওয়ারে কোনো গোলমাল। বার কয়েক চেষ্টা করে শেষে থামতেই হল। মোবাইল ফের পকেটে চালান করে গোবিন্দ গাড়িতে উঠল এবার। এমন আগেও হয়েছে। তবে সে দিনের বেলা। জানাতে ম্যানেজারবাবুই অন্য ব্যবস্থা করেছে। সেখানে লাশ পৌঁছে দিয়েছে। আজ সব দিক দিয়েই গোলমাল। একে এই দুর্যোগের রাত। তার উপর ম্যানেজারকেও পাওয়া গেল না। ভাবতে গিয়ে অন্য এক জায়গার কথা মনে পড়ে গেল। নতুন এক বেসরকারি হাসপাতাল। একবার এমন সমস্যা হওয়ায় ম্যানেজারবাবু ওখানেই ব্যবস্থা করেছিল। জায়গাটা খুব দূরে নয়। একবার ঢুঁ মারা যায়। হয়তো এর মধ্যে টেলিফোনে ম্যানেজারবাবুকেও পাওয়া যেতে পারে। বৃষ্টির তেজ ক্রমশ বাড়ছে। অযথা দেরি না করে গাড়িতে স্টার্ট দিল গোবিন্দ। গাড়ি ব্যাক করে বড় রাস্তায় পড়েছে হঠাৎ পকেটে মোবাইল বেজে উঠল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now