বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাশ ও নেকড়ে

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান arman hossain (০ পয়েন্ট)

X - আপনার কি মনে হয় মতিন সাহেব? আমরা কি সফল হবো? - হুম আমার কাছে কি মনে হয় জানেন শহীদ সাহেব? আমরা মনে হয় এতদিনের স্বপ্নটা আজ বাস্ত হবেই। কথা হচ্ছিল ড. মতিন এবং ড. শহীদের মধ্যে। তারা একটা গুরুত্বপূর্ন গবেষনামূলক কাজ করতে যাচ্ছে। তারা এমন একটা ঔষধ আবিষ্কার করেছে যা একজন মৃত মানুষকে আবার জীবিত করতে পারে। তবে তা শুধু ছয় ঘন্টার জন্য। তারা আজ এই ঔষধ একজন মৃত ব্যাক্তির উপর প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। তাদের সব কিছুই রেডি। শুধু লাশ আনা বাকি। মতিন: কি ব্যাপার বলুনতো? লাশ আনতে এত দেরি হচ্ছে কেন রহমান সাহেবের? শহীদ: আরে ভাই এইটা কি খেলনা নাকি যে চাইলেন আর পেয়ে গেলেন? এইটা লাশের ব্যাপার। আনতে দেরি হতেই পারে। অস্থির হওয়ার কিছুই নাই। ঠক ঠক ঠক ঠক! দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। ড. রহমান এসেছে লাশ নিয়ে। মতিন দরজা খুলে দিল। রহমান লাশ কাধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মতিন কিছুটা অবাক হলো। মতিন: আরে রহমান সাহেব যে? একি অবস্থা? রহমান: আহ কি ভারি এই লাশটা। শহীদ: লাশ আপনার কাঁধে কেনো? কাউকে দিয়ে ভেতরে নিয়ে আসলেই পারতেন। রহমান: ভাইরে কাউকে পেলাম না। যে শালা লাশটা বিক্রি করেছে সে লাশ আমার কাছে দিয়েই খালাশ। কাউকে পেলাম না। কেউ কি আর লাশ কাঁধে নিতে চায়। মতিন: হা হা! তা ঠিক কথা। লাশটা কার? চেনেন নাকি? কে বিক্রি করলো? রহমান: কার লাশ জানিনা। যে বিক্রি করেছে তার নামও জানিনা। মনে হয় কোন কবর থেকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে। দেখছেন না লাশের গায়ে কাফনের কাপড়। লোবানের গন্ধও পাচ্ছেন না? মতিন: তা পাচ্ছি বটে। তাহলে কাজ শুরু হোক। কি শহীদ সাহেব সব রেডি তো? শহীদ: হ্যা সব রেডি। আমি খুব উত্তেজিত বোধ করছি। রহমান: আমিও বোধ করছি। মতিন: আমিও। আমাদের এতদিনের স্বপ্ন আজ পূরন হবে। শহীদ: আমরা ইদুরের উপর পরীক্ষা করার সময় ২ মি: গ্রা: ঔষদ নিয়েছিলাম। এবার কতটুকু নেব? মতিন: ২০ মি: গ্রা: নিন। বুকের ঠিক বামপাশে ইঞ্জেকশন পিশ করবেন। দেখবেন যেন হৃদপিন্ডে যেন না লাগে। শহীদ: ঠিক আছে। রহমান সাহেব বিপি মাপার মেশিন ঠিক ভাবে সেট করেছেন? রহমান: হ্যা করেছি। ঘড়িতে রাত ১২টা বাজলো। শহীদ ধীরে ধীরে লাশের কাছে চলে আসলেন। লাশের বুকের বাম পাশে ধীরে ধীরে ইঞ্জেকশন পুশ করে দিলেন। মতিন: হয়েছে কাজ? শহীদ: হ্যা কাজ শেষ। মতিন: আশা করি একটু পরেই লাশটা জীবিত হবে। রহমান: দেখুন দেখুন লাশের বিপি চলতে শুরু করেছে। বিপি বাড়ছে তো বাড়ছেই। মতিন: কাজ হয়েছে। আমরা সফল। এখন লাশ উঠে দাঁড়ানোর অপেক্ষা। শহীদ: একি মতিন সাহেব? বিপি তো এবনরমাল হয়ে গেলো। মতিন: ওহ মাই গড। বিপি তো বাড়ছেই। এটা অস্বাভাবিক রকম ভাবে বেড়েই চলেছে। হঠাৎ বেডে শুয়ে থাকা লাশ নড়ে উঠলো। লাশের বুক উঠানামা করছে। এবং নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। রহমান লাশের একেবারে কাছে চলে গেলো। কানটা লাশের নাকের কাছে নিয়ে গেলো। হ্যা লাশটা নিশ্বাস নিচ্ছে। রহমান সাহেব লাশের কাছ থেকে সরে গেলেন। হঠাৎ লাশটা লাফ দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো। তিনজনই তাকিয়ে আছে লাশের দিকে। তাদের চোখে মুখে প্রাপ্তির আনন্দ। তারা পেরেছে অসম্ভবকে সম্ভক করতে। লাশটা চোখ খুলেই তিনজনের দিকে তাকালো। চোখদুটো তার টকটকে লাল। মতিন এগিয়ে গেল লাশের দিকে। কথা বলতে চায় সে। নাম জানতে চাইলো লাশের কাছে। লাশ নির্বিকার। কোন কথা বলছে না। লাশের শরীর কাঁপছে। প্রথমে মৃদুভাবে, ধীরে ধীরে কাঁপুনি বেড়ে চলেছে। মতিন লাশের চুলের দিকে তাকালো। চুলগুলো তরতর করে বড় হচ্ছে। একি হচ্ছে? এমনতো হওয়ার কথা ছিলনা। লাশের হাত পা এর নখগুলোও বড় হচ্ছে, সাথে দাঁতগুলো। পুরো শরীরে লোম গজাচ্ছে। মতিন লাফিয়ে পেছনে চলে আসলো। তিনজনই ভয় মিশ্রিত চোখে দেখতে লাগলো তাদের পরীক্ষার ফল। লাশের মুখটা ধীরে ধীরে বিকৃত হচ্ছে। অনেকটা লম্বাটে হচ্ছে। পুরো শরীরে লোমে ঢেকে গেছে। তিন ডাক্তার সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো, নেকড়ে! নেকড়ে। হ্যা মায়া নেকড়েতে পরিনত হয়েছে তাদের মৃত লাশটা। মুখ দিয়ে জান্তব শব্দ করতে করতে এগিয়ে আসছে নেকড়েটা। এবার তিনজনের দৌড়ের পালা। তিনজনই দৌড় দিল হাসপাতালের গেটের দিকে। বাঁচাও! বাঁচাও! চেঁচাচ্ছে তারা। কিন্তু কেউ নেই আজ হাসপাতালে। সবাই আজ ছুটিতে। কেউ সাহায্য করতে আসবে না তাদের। তারা দৌড়াচ্ছে, তাদের পেছনে ধাওয়া করছে এক মায়া নেকড়ে। রাত ২টা। আজ বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে গেল আজিজের। জুয়ার নেশায় এমন ভাবে আটকে গিয়েছিল যে কখন এত রাত হলো বুঝতেই পারেনি আজিজ। কিছুদিন আগেই নতুন বাসায় উঠেছে সে। বাড়িওয়ালা বলে দিয়েছে রাত ১১টার পর বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন সে বাড়িতে ঢুকবে কি করে তাই নিয়েই তার যত চিন্তা। আজ আকাশে বিশাল এক চাঁদ উঠেছে এবং চারদিকে তার আলো ছড়াচ্ছে। এত আলো যে শরীরের লোম দেখা যায়। আজিজ দ্রুত পা চালাচ্ছে। হঠাৎ ৬-৭ টা কুকুর তার পথ আগলে দাঁড়ালো এবং বিকট শব্দে ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। আজিজ ছোট বেলা থেকেই কুকুর ভয় পায়। তাই সে ভয়ে একেবারে অস্থির। এই বুঝি কামড় দিল। হঠাৎ আজিজ দেখলো কুকুর গুলো কেমন যেন চুপ হয়ে গেলো। তারপর হঠাৎ পেছনে ফিরে দৌড়ে পালিয়ে গেল। আজিজ হাফ ছেড়ে বাঁচলো। তারপর তার কানে এল গোঁ গোঁ এর মত শব্দ। ঠিক যেন তার পেছন থেকে এই শব্দ আসছে। এবার আজিজ ভালভাবেই ভয় পেল। তার লোম দাঁড়িয়ে গেল। সে ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকাতে লাগলো। কিন্তু পুরোপুরি পেছনে ফিরে তাকানোর পূর্বেই কোন এক অজানা প্রানী তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং মূহুর্তেই তার ঘাড়ের ধমনি, শীরা, উপশিরা ছিন্নভিন্ন করে দিল। রাত ৩টা ৪৫ মিনিট। জামাল তার মালিকের মাইক্রোর ভেতর বসে আছে। আজ সে বাড়ি যেতে পারেনি। একটু পরেই তাকে গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দর যেতে হবে। তার মালিকের ছেলে আমেরিকা থেকে আসছে আজ। তাই তাকে আানতে যেতে হবে। জামালের মেজাজ খিঁচড়ে আছে। কিছুদিন আগে তার বিয়ে হয়েছে। তার এখন বউকে সময় দেওয়ার কথা কিন্তু সে তা পারছে না। "শালার পুতে আর আসার সময় পাইলো না" মালিকের ছেলেকে একচোট খিস্তি করলো জামাল। হঠাৎ গাড়ির উপর ভারি কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পেল। চমকে উঠলো জামাল। কি ব্যাপার কি পড়লো গাড়ির উপর? জামাল গাড়ি থেকে বের হলো। গাড়ির উপর টর্চের আলোয় ভাল করে দেখলো। নাহ কিছুই নেই। শুধু গাড়ির উপরের অংশে কিছু দাগ। মনে হয় কে যেন আচঁড় কেটেছে গাড়ির গায়ে। এটা কিসের দাগ হতে পারে ভাবতে ভাবতে পেছন ফিরতেই দেখতে পেলো তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক অজানা লোমশ প্রানী। চোখ দুটো থেকে আগুন ঝরছে। তারপর মূহুর্তের মধ্যেই জামাল হারিয়ে গেল অন্ধকারের জগতে। পরিশিষ্ট: নবীনগর এলাকায় এক রাতে ছয়টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচটি লাশ ছিল ক্ষত বিক্ষত। আর একটি লাশ অক্ষত। এলাকাবাসির ভাষ্য মতে অক্ষত লাশটি কাদের মিয়ার। যাকে গত দুইদিন আগে কবর দেওয়া হয়েছিল। একজন মৃত ব্যাক্তির কবর দেওয়া লাশ কিভাবে এলাকার রাস্তায় এলো তা বের করতে পারেনি পুলিশ। অনুসন্ধানের জন্য লাশ ময়না তদন্ত করা হবে। কিন্তু রাতেই হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে যায় লাশগুলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now