বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্ধকারের অশরীরী

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান arman hossain (০ পয়েন্ট)

X মজিদকে হন্য হয়ে খুজছে আবুল। কিন্তু কোথাও তাকে পাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মজিদের দেখা পেল আবুল। বাজারের শেষ মাথায় এক চায়ের দোকানে বসে আরাম করে বিড়ি টানছে সে। আবুল: কিরে হারামজাদা তোরে খুঁইজা আমি শেষ আর তুই এইহানে বইসা বিড়ি টানোছ? মজিদ: কোন বা* ফালাইতে তুই আমারে খোঁজস? আবুল: এদিকে সাইডে আয় কথা আছে। মজিদ: ক কি কইবি। আবুল: দোস্ত আজকে মালের ব্যাবস্থা করছি। দেশি না বিদেশি মাল। পুরা দুই বোতল। মজিদ: (উত্তেজিত কন্ঠে) কস কি? কই পাইলি রে? আবুল: শহর থেইকা এক বড় ভাই আইনা দিছে। আজ রাইতে এগুলা ফিনিস দিতে হইবো। মজিদ: কই খাবি? এইসব খাওয়ার জায়গাই তো নাই। আবুল: সেই ব্যাবস্থাও করছি। এক কাম করবি, তুই আর আমাগো সামাদ রাইতের এগারটায় স্কুলের সামনে থাকবি। তারপর আমি আইসা একসাথে সেই জায়গায় যামু। মজিদ: সামাদরে কইছোস সব? আবুল: হ কইছি। তোরা রেডি থাকিস। দেরি করিস না। আমি গেলাম। মজিদ: আইচ্ছা যা। রাত ১১টা। মজিদ ও সামাদ তাদের গ্রামের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তারা অপেক্ষা করছে আবুলের জন্য। কিছুক্ষন পর আবুল আসলো। তার হাতে একটি ব্যাগ। আবুল এসেই বলে উঠলো, আবুল: ওই তাড়াতাড়ি হাট। সামাদ: যামু কই আমরা? আবুল: নবাবপুরের চিতাখোলায়। মজিদ: (ভীত গলায়) কস কি? ওইহানে কেন যামু? আবুল: ওইহানে গিয়া মাল খামু। ওই জায়গা পুরা নিরাপদ। কেউ আমগোরে দেখবো না। সামাদ: আবুল আর কোন জায়গা পাইলি না মাল খাওনের? মজিদ: আরে আমি যাইতাম না ওইহানে। তোরা যা। আবুল: যাবি না কেন? ডরাস নাকি ওইহানে যাইতে? মজিদ: ডরামু কেন? ঠিক আছে চল যাই। সামাদ: দোস্ত আমার কিন্তু কেমন জানি লাগতাছে। কোন বিপদ হয় যদি? আবুল: আরে কিচ্ছু হইবো না। ওইহানে যামু আর আসর বহামু। দেখ গরুর মাংস লইয়া আইছি লগে। মজিদ: কছ কিরে? আহ মদ লগে গরুর মাংস। পুরাই ফাডাফাডি হইবো। সামাদ: হ ঠিকই কইছোস। চল জলদি চল তাইলে। আবুল: হ তাড়াতাড়ি হাট। ২০ মিনিট হাটার পর তারা পৌছে গেল তাদের সেই নবাবপুরের চিতাখোলায়। বছর তিনেক হলো এই চিতাখোলা কউ ব্যাবহার করেনা। চিতাখোলায় যেতে হলে একটি বিশাল মাঠ পাড়ি দিতে হবে। মাঠে কাশফুলের ঘন জঙ্গল। ওরা তিনজন খুব দ্রুতই মাঠ পার হয়ে ঢুকে গেল চিতাখোলায়। তারপর আবুল ব্যাগ থেকে একে একে বের করলো একটা টর্চলাইট, একটা কুপি বাতি, এক বাটি গরুর মাংস আর দুই বোতল বিদেশি মদ। আর একটা বড় চাদর। আবুল চাদরটা চিতাখোলার মাঝখানে বিছিয়ে দিয়ে সবাই সেখানে বসে পড়লো। শুরু হলো তাদের আসর। প্রথমে মজিদ পকেট থেকে গাজা ভরা দুইটা সিগারেট বের করলো। তারপর সবাই আরাম করে গাজা টানতে লাগলো। তারা তিনজন অনেকটা ত্রিভুজের মত বসেছে। হঠাৎ সামাদের কানে একটা ক্ষীন শব্দ এসে আঘাত করলো। একটা গোঙ্গানির শব্দ। যেন কেউ অনেক কষ্ট পেয়ে এমন করছে। সামাদ তার সঙ্গীদের ডেকে জানতে চাইলো যে তারা এই শব্দ শুনতে পাচ্ছে কিনা। কিন্তু না তারা কোন শব্দই শুনছে না শিয়ালের ডাক ছাড়া। তখন সামাদকে এক অজানা আতংকে গ্রাস করতে লাগলো। কিছুক্ষন পর মজিদ বলে উঠলো, মজিদ: দোস্ত তোরা বোতল খুলতে থাক। আমি একটু হিসু দিয়া আসি। আবুল: ঠিক আছে যা। মজিদ: তোরা আমারে ছাড়া খাওয়া শুরু করিস না কইলাম। সামাদ: দোস্ত একলা যাইবি? চল আমিও তোর লগে যাই। মজিদ: আরে আইতে হইবো না। আমি যামু আর আসমু। মজিদ তাদের আসর থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটা ঝোপের আড়ালে বসে পড়লো কাজ সারতে। কাজ শেষ করে উঠতে যাবে এমন সময় একটা চাপা আওয়াজে সে চমকে উঠলো। সে তার সামনে তাকালো। আবছা আলোয় সে দেখলো কিছুটা দূরে কে যেন উবু হয়ে বসে আছে। কে ওই লোকটা? মজিদের মাথায় কিছুই আসছে না। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল সেই লোকটার কাছে। কাছাকাছি গিয়ে সে ডাকলো, ও ভাই কে আপনে। আরে ও ভাই এইহানে কি করেন? লোকটার তরফ থেকে কোন সাড়া নেই। শুধু গোঙ্গানির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মজিদ আরেকটু এগিয়ে গিয়ে লোকটার কাধে হাত রাখলো। তখন হুস করে পেছন দিকে ফিরে তাকাতেই মজিদ এক লাফে তিনহাত পিছিয়ে গেল। অন্ধকারে কিছুই স্পষ্ট নয়। কিন্তু এই অন্ধকার লোকটার আগুনের মত লাল চোখ দুটোকে আড়াল করতে পারছে না। মজিদ দিশেহারা হয়ে গেল। সে বুঝতে পারলো এটা আর যাই হোক মানুষ নয়। জিনিসটা জান্তব শব্দ করতে করতে এগিয়ে আসছে। মজিদ পিছনে ফিরে দৌড়ূনোর চেষ্টা করলো। শরীরের সব শক্তি দিয়ে সে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু সে এক চুলও নড়তে পারছে না। জিনিসটা আরো এগিয়ে এসে মজিদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। এবার ধীরে ধীরে সেই জিনিসটা মজিদের দিকে হাত বাড়ালো। মজিদ চিৎকার করার চেষ্টায় ব্যস্ত। কিন্তু এই চেষ্টাও বৃথা। হাত দুটো তার গলা চেপে ধরেছে। উহ কি ঠান্ডা হাত! মজিদের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছো। আর চারদিক আরো আন্ধকার হতে থাকলো। এদিক আবুল আর সামাদ অপেক্ষায় আছে মজিদের। কিন্তু মজিদ আসছে না। প্রায় আধা ঘন্টা অপেক্ষার পরও মজিদের দেখা নেই। আবুল এবার উঠে দাঁড়ালো। সে বলতে লাগলো, আবুল: খা*কির পুতে কি মরলো নাকি। ওই সামাদ তুই বয়। আমি দেহি হালার পুতে কই গেলো। সামাদ: দোস্ত আমি এইহানে একলা থাকতে পারমু না। চল আমিও যাই। আবুল: আরে হালায় কয় কি? তুই গেলে এই জিনিসের খেয়াল রাখবো কেডা? দেহস না শিয়াল ডাকে। তুই না থাকলে শিয়াল আইসা মাংস সব সাফ কইরা দিব। তুই বয় আমি যামু আর আসমু। সামাদ: ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আয়। আবুল মজিদকে গালি দিতে দিতে এগিয়ে গেলো। সাথে টর্চ ও নিল। কিছুদুর গিয়েও যখন মজিদের দেখা পেল না তখন আবুলের মনে ভয় ঢুকে গেল। তাহলে কি মজিদের কোন বিপদ ঘটলো? সাথে সাথে তার মনে পড়তে লাগলো এই জায়গা ঘিরে গ্রামের মানুষের করা গল্পের কথা। অনেক আগে একবার নাকি এখানে একটা মানুষের আধখাওয়া লাশ পাওয়া গিয়েছিল। তাছাড়া এখানে নাকি হরহামেশাই গরু, ছাগল এমনকি কুকুরের মৃত দেহ পাওয়া যেত। তাই এখানে দিনের বেলা মানুষ এলেও বিকেলের পরে পারতপক্ষেও কেউ আসেনা। আবুল শিউরে উঠলো। সে আর মজওদের খোঁ না করে উল্টো দিকে হাটা দিল। তারা যেখানে আসর বসিয়েছিল সেখানে ফিরে আসলো। কিন্তু একি? সামাদ কোথায়? ওকে তো এখানে রেখে গিয়েছিল। তাহলে কোথায় গেল? আবুল ডাকলো, সামাদ ওই সামাদ। মজিদ আরে ওই মজিদ। তোরা কই গেলি? কিন্তু কারো কোন সাড়া নেই। শুনশান নিরবতা চারদিকে। শিয়ালেরাও যেন ডাকতে ভুলে গেছে। আবুল চারদিকে টর্চের আলোয় দেখে নিল। কেউই নেই আশেপাশে। হঠাৎ আবুলের কানে আসলো একটি শব্দ। কড়মড়, কড়মড়,কড়মড়। একটানা চলছে এই শব্দ। আবুলের শিড়দাঁড়া বেয়ে নেমে গেল ঠান্ডা স্রোত। সে শব্দকে অনুসরন করে এগিয়ে চলছে। চলতে চলতে একটি ঝোপের পাশে থামলো। ঝোপের ওপাশ থেকে শব্দ আসছে। সমস্ত সাহসকে একত্র করে সে ওপাশে গিয়ে টর্চের আলো ফেললো। যা দেখলো তাতে তার রক্ত হীম হয়ে গেল। মাটিতে পড়ে আছে সামাদের আধখাওয়া দেহ। ওর বুকের উপর বসে আছে কোন এক বিভীষিকা। যার চেহারা থেকে ঝরছে গলিত মাংস আর চোখ দুটো থেকে বের হচ্ছে আগুনের ফুলকি। আবুল আর পারলো না। সে চেতনা হারিয়ে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। পরদিন সকালে এক কৃষক এখানে এসে দেখতে পান মজিদের আধখাওয়া লাশ। সে গ্রামের সবাইকে খবর দেয়। পরে সবাই মিলে খুঁজে পায় আবুল আর সামাদের লাশ। সবগুলোই ছিল আধখাওয়া।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now