বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্বেষণ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অন্বেষণ ============= লাবু অনেকক্ষণ থেকে অপেক্ষা করছে, কিন্তু এখনও মেয়েটা স্কুলের গেট থেকে সরে আসল না। আজ সে ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে। লাবু ঠিক বুঝতে পারছে না, আজ কি হল? প্রতিদিন তো সে এমন করে না। তবে কি সে তার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আচঁ করতে পেরেছে। শুনেছে মেয়েরা নাকি বয়সের আগেই অনেক কিছু বুঝতে পারে। এই মেয়েও কি সেই দলের? দেখে তো বোকাসোকা মনে হয়েছিল তার...। এখন তো মনে হচ্ছে বেশ চালাক। আর তার আন্দাজ যদি সত্যি হয় তবে এই তল্লাট থেকে কিছু দিনের জন্য বিদায় নিতে হবে তাকে, আর সেটা না হলে বিপদে পড়তে পারে সে। লাবু মনে মনে নিজেকে দুষছে। বেছে বেছে এই মধ্য শ্রেণীর মেয়ে ঠিক করলাম কিন্তু তারপরও শিকারটা খোয়া যাবে, তা কি করে হয়? সে জানে মানুষ দুই শ্রেণীর মেয়েদের মনে রাখে। এক, খুব সুন্দরী আর দুই, খুব কুশ্রী। মধ্যম শ্রেণীর মেয়েদের মানুষ মনে রাখে না। তাই শিকার করার জন্য এই শ্রেণীর মেয়েই উপযুক্ত। এই শ্রেণীর মেয়েদেরকে কেউ তেমন পাত্তা দেয় না তাই সে এই মেয়েদের থেকে প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করে তারপর তার উদ্দ্যেশ সাধন করে। লাবুর উদ্দেশ্য’র কথা মনে পড়তেই সে আরও অস্থির হয়ে উঠল। এই কামুক পীড়ায় ভুগছে সে বহু বছর। এই ব্যাপারটা মাথায় আসলে লাবু আর মানুষ থাকে না, পশুতে পরিণত হয়। আজও তার পশু হতে ইচ্ছে করছে এই মেয়েটির কাছে, কিন্তু ভাব দেখে মনে হচ্ছে সাধ আর মিটবে না। সে মনে মনে নিজেকে গাল দিতে লাগল, গতকাল আগ বাড়িয়ে মেয়েটার নিতম্বে হাত না দিলেও হত। সবাই সব স্পর্শ বোঝে না, সেটা তো না। এই সব ভাবার মাঝে ছন্দপতন হল এক লোকের ঠাটাপড়া আওয়াজের মত গলা শুনে। -এই রিকশা যাবে? -না ভাই, লাবু স্কুলের গেটের দিকে উঁকি মারতে মারতে বলল। -যাবি না তা দাঁড়ায় আছিস ক্যান? লোকটা ক্যাটক্যাট করতে করতে বলল। -আমার রিকশার ভাড়া আছে। স্কুলের মেয়ে। দেখেন না স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কেবল ছুটি হল তো তাই আমার যাত্রীরে খুঁজে পাচ্ছি না। লোকটা এবার চেঁচিয়ে উঠল, -ব্যাটা মশকরা করিস, না? স্কুল কি এখন ছুটি হয়েছে? সারা স্কুল ফাঁকা হয়ে গেছে আর উনি উনার যাত্রীরে খুঁজে পাচ্ছে না। যাত্রী খোঁজার দরকার হলে স্কুলের গেটের কাছে যা...। এই কথা বলে সেই লোক গজগজ করতে করতে সামনে এগি্যে গেল। এই সব কথার মধ্যেই লাবু খেয়াল করল, মেয়েটি আর গেটের সামনে নেই। লাবু মনে মনে ভাবল আজ মনে হচ্ছে স্কুল গেটের কাছে যেতেই হবে। স্কুলের দারোয়ানের সামনে যেতেই দারোয়ান বলল, -কি? কাকে খোঁজ করছ? লাবুও খুব দৃঢ়ভাবে সাথে সাথে উত্তর করল, -আমার যাত্রীরে খুঁজে পাচ্ছি না। ভেতরে আছি কি না কে জানে? দারোয়ানের পাল্টা প্রশ্ন, কোন ক্লাস? লাবু উত্তর দেওয়া প্রয়োজন মনে করল না। গেটের ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে উঁকি দিতেই দেখতে পেল মেয়েটিকে। লাবু সাথে সাথে বলল, ঐ তো আমার যাত্রী। দারোয়ান মেয়েটিকে ডেকে বলল, -কি মা বাসায় যাবে না? তোমার রিকশাওয়ালা তো তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। মেয়েটা ভীতু আর কান্নাজড়ানো কন্ঠে উত্তর করল, -না দারোয়ান চাচা আমি ঐ রিকশায় যাবো না, আমাকে অন্য একটা রিকশা ঠিক করে দেন। লাবু এই কথা শুনে হয়রান, ঠিক যে আশঙ্কা করেছিল সেটাই হয়েছে। নিজেকে সে মনে মনে গালি দিতে লাগল, তার নিজের অধৈর্য্যের কারণে আজ শিকার ছুটে যাচ্ছে। এই সব ভাবার মাঝেই লাবু কিছু ব্যস্ত হয়ে উত্তর করল, -আমি তো তোমার কারণে দাঁড়িয়ে আছি। আমিও তো বাড়ি যাবো, দুপুরে ভাত খাবো। চল, আমি তোমাকে নামিয়ে দিবোনে। এবারও মেয়েটি সেই কান্নাজড়ানো কন্ঠে বলল, না আমি আমার মত চলে যাবো। আপনি যান...। বাঘ যেভাবে হরিণ শাবকের শিকার করে, লাবুও তেমনিভাবে মেয়েটিকে শিকার করতে চেয়েছিল। তার মেয়েদের সাথে এই শিকার- শিকারি খেলা করতে খুব ভাল লাগে। হায়েনারা নাকি খাবলে খাবলে খায় মাংস, সে নিজেও নারীর রক্ত মাংসের শরীরকে খাবলে খাবলে খায়। তখন সে হায়েনারূপী মানুষে পরিণত হয় আর তা সে জানে। কিন্তু কি করবে সে? এই নেশা যে মরণ নেশার মত। সে হায়েনার মত খাবলে খেতে চায় শৈশবে পা দেওয়া মেয়েদের শরীর। তার শৈশবে পা দেওয়া মেয়েদের ভাল লাগে। আফ্রিকার নাকি কোন দেশে নামমাত্র টাকার বিনিময়ে সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়েদেরকে একজন পুরুষের কাছে তুলে দেয় তাদের বাবা-মায়েরা। আর সেই পুরুষের কাজই হচ্ছে সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়েদের সাথে মিলিত হওয়া। এটা নাকি তাদের প্রাচীন প্রথা। আর এই প্রথা যে পুরুষ পালন করে তাকে ‘হায়েনা’ বলে। সেই দেশে হায়েনার অর্থ যাই হোক না কেন তার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তার ভাল লাগে এই সব সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়েদের দেখে লালায়িত হতে, সব থেকে বেশি হিংস্র প্রাণী হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়তে কোমলমতি তনু্তে এবং আরও ভাল লাগে শকুনের মত ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে। লাবুর এক বন্ধু আছে, সে তার গোপন খবর সব রাখে। কলেজে পড়া ছেলে...। সে মাঝে মাঝে বলে তার ডাঃ দেখানো উচিত, কারণ সে মানসিকভাবে নাকি অসুস্থ। সে নাকি যৌন মানসিকতা বিকৃত একজন মানুষ। তবে সে পাগলা না। এটা এক প্রকার অসুস্থতা যার চিকিৎসা আছে। লাবুকে তার বন্ধু বলে বিকৃত যৌন রোগের মানুষ। কিন্তু সে কোনভাবেই সেটা মানতে রাজি না। তার এই রোগের একটা নামও বলেছিল তার বন্ধু। কী যেন ‘পেডোফিলিয়া’ না কি জানি নাম। লাবুর এইসব ভাবতে আর ভাল লাগেনা। শিকারটা হাতছাড়া হয়ে গেল সেটাই এখন তার কাছে মুখ্য বিষয়। পনেরো দিনের পরিশ্রম তার জলে গেল সেই দুঃখেই সে এখন কাতর...। লাবু স্কুল গেট থেকে চলে এলো তার রিকশার কাছে আর মেয়েটা অন্য রিকশায় না চলে যাওয়া পর্যন্ত সে দাঁড়িয়ে রইল। এরপর মন্থর গতিতে সে তার রিকশা চালাতে লাগলো। আর নিজেকে মনে মনে প্রশ্ন করতে লাগলো... কোন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে তার ভাল লাগে না। তার শুধু শৈশবে পা দেওয়া মেয়েদের ভাল লাগে। এর অর্থ কি? তাহলে কি সত্যিই তার মানসিক রোগ আছে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তালিবে ইলম অন্বেষণকারী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now