বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
..Post.মো,তুহিন
লেখক, ফারাবি আহমেদ অভ্র (রেডিও মুন্না)
গ্রামের পরিবেশে বড় হওয়া সহজ সরল এবং মুটামুটি সুন্দর
চেহারার একটি মেয়ে প্রভা। গ্রামের একটি নিম্ন
মাধ্যমিক স্কুল থেকে তার মাধ্যমিক জীবন শেষ করে গ্রাম
থেকে বেশ দূরে শহরের একটি কলেজে ভর্তি হয়েছে সে।
....
প্রতিদিন সে বাড়ি থেকেই বাসে করে কলেজে যাওয়া
আসা করতো। এভাবেই কেটে যায় ৫/৬ মাস। কিছু দিন ধরে
সে লক্ষ করছে একটি লোক প্রায়ই তার পাশের সিটে বসে
করে যাওয়া আসা করে।
...
আজ কলেজে একটা অনুষ্ঠান আছে তাই সে একটু সাজুগুজু
করেই বাসা থেকে বের হয়েছে। বাসের জন্য অনেকক্ষণ
ওয়েট করছে। বাস আসার কোনো নাম গন্ধই নেই।
বাসে যে প্রায়ই প্রভার পাশে বসতো কিছুক্ষন পর সে বাইক
নিয়ে এসে প্রভার পাশে এসে দাঁড়ালো।
..
-কি ব্যাপার এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? কারোর জন্য
কি ওয়েট করছো? লোকটি
-
না মানে আমি বাসের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছি...
কিন্তু বাস আসার কোনো খোঁজই নেই। প্রভা
- তুমি কোন কলেজে পড়ো? লোকটি
-....... সরকারি কলেজ। প্রভা
- ওও আমি ঐ দিকেই যাবো। যদি কিছু মনে না করো তো
আমি তোমাকে তোমার কলেজে অব্ধি নিয়ে যেতে পারি।
লোকটি
কোনো উপায় না থেকে প্রভা তার বাইকে চড়ে বসলো।
লোকটি যেতে যেতেই প্রভার সম্পর্কে অনেক কিছুই যেনে
নিল। আরও যেনে নিল সহজ সরল মেয়ে।
..
মাঝে মাঝেই বাসে যাওয়ার সময় লোকটার সাথে প্রভার
কথা হতো। প্রভা নিজে থেকে যেচে কখনো লোকটার
সম্পর্কে কিছু জানতে চাই নি। লোকটাও কিছু বলেনি।
....
লোকটি তার কৌশল দিয়ে সব প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করতো,
প্রভাও বোকার মতো সব উত্তর দিত।..... কি তোমার স্বপ্ন,,,
পড়ালেখা শেষ করে কি করতে চাও ইত্যাদি ইত্যাদি।
লোকটার হাসি খুশি ব্যবহারে প্রভা মনে করেছিল লোকটি
হয়তো ভালোই হবে তার উপরে আবার বাবার বয়সী লোক।
তাই লোকটির বিরুদ্ধে তার মনে আর কোনো সংশয়
রাখেনি।
..
একদিন প্রচন্ড বৃষ্টিতে ছাতা না নিয়ে আসাতে তার বই
খাতা সব ভিজে গেলো। তার বাবা আর তাকে সব বই খাতা
কিনে দিতে পারবে কিনা ভেবে সে ওখানে দাঁড়িয়েই
কাঁদতে লাগলো। কোথা থেকে যেন লোকটা এসে তার
মাথায় ছাত ধরলো.... এবং কাঁদার কারণ যেনে লোকটি
তার নিজের টাকা দিয়েই প্রভার সমস্ত বই খাতা কিনে
দিল। এতে লোকটার প্রতি কৃতজ্ঞতায় প্রভার চোখ
জ্বলজ্বল করে উঠলো... লোকটির চতুর দৃষ্টি তা বুঝতে
পেরে একটা রহস্যজনক হাসি দিয়ে বললো যাও বৃষ্টি থেমে
গেছে।
..
প্রভার সহজ সরল মন বুঝতে পারেনি যে, সাগরের সুন্দর
পানির নিচে হাঙ্গর থাকতে পারে। অবশ্য লোকটির
অনুরোধে সে বাড়ির কাওকেই লোকটির ব্যাপারে কিছু
বলেনি। এতে তার মনে একটু সন্দেহ জাগলেও লোকটির
মিস্টি ব্যবাহার তার সন্দেহ টা তার মনেই মাটি চাপা
দিয়ে দিতে বাধ্য হলো।
,,
শহরের কলেজে পড়ে অথচ এই শহরটাই সে ভালো করে চিনে
না। তার ক্লাসের বন্ধুদের কাছে শুনেছে এই শহরে নাকি
অনেক সুন্দর সুন্দর দেখার মতো জায়গা আছে। এই শহরটা
একটু ঘুরে ঘুরে দেখার বড্ড ইচ্ছা তার। সে ভেবেছে ইন্টার
পরীক্ষা শেষ করে সে তার বান্ধবীদের সাথে এই শহরটা
একটু ঘুরে ঘুরে দেখবে।
একটি স্বাধীন ইচ্ছা ভুল সময়ে প্রকাশ করাতে তার জীবনে
নেমে আসে চরম বিপর্যয়।
একদিন বাসে যাওয়ার পথে লোকটির সাথে তার কথা
হচ্ছিলো, স্টাডি কেমন চলছে, কি করো সারাদিন, কে কি
করে, ইত্যাদি। সবই বলে প্রভা।।। সাথে তার ইচ্ছাটাও
প্রকাশ করে লোকটার কাছে। মেঘ না চাইতেই জল এমন
একটা ইচ্ছার কথা শুনে খুশিতে তার চোখ জ্বলজ্বল করে
ওঠে। লোকটা তাকে ঘুরে দেখাবে বলে অফার করে।।।
প্রভা লোকটার ভালো ব্যবহারে ভেবেই নিয়েছিল ভালো
মানুষ তাই সে এক কথায় রাজি হইয়ে যায়। তখনি তারা দিন
ক্ষণ ঠিক করে ফেলে।
.........প্রভা লোকটি কে কাকু বলে ডাকতো।
।
ঐদিন তারা অনেক জায়গায় ঘুরলো। এই ভাবে মাঝে
মাঝেই তারা ঘুরতে যেতো। লোকটির দক্ষ মন বুঝে
নিয়েছিল সব কিছুই। একদিন শহর থেকে একটু দূরে একটা
পুরাতন রাজবাড়ি দেখাবে বলে।
শহরের বাইরে হওয়াতে প্রথমে রাজি না হলেও
জোরাজোরি তে পরে অবশ্য সে রাজি হয়। পরের দিন যাবে
বলে ঠিক করে।
ঐ দিন রাতে হটাৎ করে কেনো জানি না তার বাবা মার
জন্য খুব মায়া হয় আর খুব কান্না পায় তার। এর কারণ টা সে
খুঁজে পাই না।
,,,
পরের দিন লোকটির কথা মতোই তার বাবা মাকে বলে যে
কলেজে আজ কি একটা অনুষ্ঠান হবে তাই আসতে একটু
দেরি হবে। তার বাবা মারও মন ঐ দিন কেমন যেন কু ডেকে
উঠে। তবুও তাকে বুঝতে না দিয়ে তাকে বিদায় জানায়।
.....
চারিদিকে অনেক জংগল, পরিবেশটা কেমন গুমট গুমট ভাব।
বাড়িটা দেখে মনে হলো বেশ পুরনো। বাড়ির মধ্যে নিয়ে
গেল লোকটা, নাকে কেমন ভ্যাপসা গন্ধ আসাতে গা
গুলিয়ে উঠলো প্রভার। উড়না দিয়ে নাক চেপে ধরে
লোকটার পিছু পিছু যাচ্ছে প্রভা। হঠাৎ একটা রুমের সামনে
এসে দাঁড়ালো তারা। ভিতর থেকে কিছু মানুষের কথা
ভেসে আসছে। প্রভা ভয় পেয়ে গেল।
লোকটা তাকে অভত দিয়ে দরজা ঠেলে ভিতরে নিয়ে গেল
তাকে।
ভিতরে যেতেই মদের গন্ধে তার বমি চলে আসলো। ভিতরে
লোকটারর মতো আরও ৩ জন ছিল। একজন বলে উঠলো, কি হে
মামা নতুন মাল নাকি? দেখে মনে হচ্ছে দেহে অনেক রস
আছে।।। তাদের কথা শুনে প্রভা প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল। দ্রুত
বেড়িয়ে যেতে লাগলো দরজার দিকে। লোকটি তাকে
ধরে ফেলল। অনেক দৌর করাইছিস আমাকে। তোর পিছে
অনেক টাকা ঢেলেছি। এখন সব টাকা আয়েশ করে তুলবো।
বলল লোকটি। সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। মেয়েটি সব
বুঝতে পেরে তাদের পায়ে ধরে তার সম্ভ্রম ভিক্ষা
চাইলো। কে শোনে কার কথা।
..........
সারা রাত ঐ ঘর থেকে শুধু চাপা কান্নার শব্দ শোনা
গেলো। তার কান্নার শব্দে বাইরের অন্ধকারও যেন ডুকরে
কেঁদে উঠতে চাইলো।
সকালে তার নিথর দেহ টা পাশের একটা ঝোপের নিচে
মাটি চাপা দেওয়া হলো। আসতে আসতে বললো তারা,
এবার তোর পালা, তোর পালা।।।।। আবার নতুন একটা নারীর
জন্য বেড়িয়ে পরলো আর একজন।
অপরদিকে মেয়ে ফিরে না আসাতে তার পরিবারে নেমে
আসে করুন ছায়া। সব জায়গায় খুঁজেও তারা তাদের আদরের
মেয়েকে না পাওয়াতে প্রভার মা আজ পাগল প্রায়। আর
বাবা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি।
.........
আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ নামের পশু আছে যারা
নারী খাদক নামে পরিচিত। তারা প্রতিনিয়ত কোনো না
কোনো পরিবারের আদরের মেয়েকে এবং তাদের মধ্যে
তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন গুলো ধংশ করে দিচ্ছে।
শুধু কলেজ বলেই নয়, এমন কি স্কুল, কলেজ এবং
বিশ্ববিদ্যালয় এ এমন অনেক মেয়ে আছে সহজ সরল যারা
অন্যের মিষ্টি মিষ্টি কথায় ডুবে গিয়ে বা গলে গিয়ে এমন
পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। সহজ সরল হলে কোনো প্রব্লেম
নাই কিন্তু বিচার বিবেচনা না করেই অন্যের কথার রসে
ডুবে গেলে কোনো বিপদ যে আসবেনা তার গ্যারান্টি কে
দিতে পারে???????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now