বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
>> ক্রিং ক্রিং।
>> হ্যালো।(ধরব না ধরব না ভেবেও ধরলাম।)
>> ভাই ,তুই কই?? ভার্সিটি আসবি কখন?? সরস্বতী পূজার
দিনও পড়ে পড়ে ঘুমাবি। তুই না ছাত্র। তোর পড়াশুনা হবে
না।
>> দুর হ হালার পুত। ভোরবেলা দিলি তো ঘুমটা মাটি
করে।
>> আরে ভাই, সবাই ভার্সিটি চলে এসেছে।তুই আসবি
কখন??
>> কাল তো সব কাজ আমি নিজের হাতে গুছিয়ে দিয়ে
এলাম।
>> আরে , কাজ গুছিয়ে দিলে হবে। আজ কত কাজ।
অঞ্জলি দিতে হবে। ঠাকুরমশাই চলে এসছেন।
তাড়াতাড়ি আয় দোস্ত।
>> ঘুম টা তো মাটি করলি। আচ্ছা হোক তোরা থাক, আমি
আসছি।
>> তাড়াতাড়ি আয় ভাই।
ফোনটা কেটে দিলাম।আমার স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি
লাইফের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু অনিক। আমার বেষ্ট ফ্রেণ্ড
আবার সব কাজের একমাত্র সহযোগী। আর আমি দীপ্ত
বাবা-মা র অর্ধেক বখে যাওয়া একমাত্র সন্তান।
পদার্থবিদ্যা নিয়ে অণার্স করছি। পদার্থবিদ্যা নিয়ে
পড়তে চাইনি। বাংলা পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেন
পড়ছি সে এক বিশাল ঘটনা। সেটা বলতে গেলে গল্পের
মুলস্রোত থেকে হারিয়ে যেতে হবে। তাই আর বললাম না।
রেডি হয়ে ভার্সিটি পৌঁছে গেলাম।এ তো আর ভার্সিটি
নেই বসন্তের হাট হয়ে গেছে। মেয়েরা বেশিরভাগ সব
বাসন্তী কালারের শাড়ী পরেছে। অসাধারণ লাগছে। আর
এদিকে আমিও বাসন্তী কালারের একটা পাঞ্জাবি
পরেছি। হঠাৎ করে অনিকের আগমন,
>> কি রে ভাই, কই ছিলি এতক্ষণ??
>> কেন রে ?? এত তাড়া কিসের বল তো?? ঘোরার জন্য
তো সারাদিন আছে না।
>> আরে তুই না স্টুডেন্ট?? অঞ্জলী দিবি না??
>> তোকে কতবার বলেছি না, "সারাবছর না পড়াশুনা
বছরের একটা দিন মা সরস্বতী র পায়ে পড়ে গেলে বিদ্যা
গজগজ করে মাথায় ঢুকে যাবে না??"
>> উহ্ তুই না!!!!
>> আচ্ছা হোক চল, অঞ্জলী দেওয়া যাক।
>> চল চল।
অঞ্জলী দিতে গিয়ে দেখলাম অমানুষিক ভীড়।মানুষ এত
ধার্মিক হচ্ছে।বাহ্ ভাল ভাল; এইসব ভাবছি, হঠাৎ একটা
ডাক কানে এল।
>> ভাইয়া, আমার মোবাইল টা কুড়িয়ে দিন না।
>> জ্বি, কোথায়??( বলে মুখের দিকে তাকালাম।
তাকিয়েই থমকে গেছি। আসলে টাস্কি খেয়েছি।)
>> জ্বি, আপনার পায়ের কাছে।
>> ওহ্ হ্যাঁ হ্যাঁ দিচ্ছি।এই নেন।
>> থ্যাঙ্কস্ ভাই।( থ্যাঙ্কস্ বলল বটে তবে মুখের দিকে
তাকালো না।)
যাই হোক , অঞ্জলী দিতে ডাকল। আমি গিয়ে মেয়েটার
পাশে দাঁড়ালাম। আমার দিকে কড়মড় করে তাকালো বাট
কিছু বলল না।আসলে বাসন্তী কালারের শাড়ীতে তাকে
অপূর্ব লাগছে। যেন স্বর্গের অপ্সরী নেমে এসেছেন স্বর্গ
থেকে। আহা, কি অপূর্ব রুপ। চোখে ঘন কাজল দেওয়া,
কপালে লাল টিপ, বেশি আটা-ময়দা মাখেনি আর ঘন
কালো চুল।এক কথায় অসাধারণ। আমি তো পুরা ফিদা।
মায়ের কাছে প্রতিবছর বিদ্যা,বুদ্ধি, জ্ঞান চাই।এবারও
চাইতে গেলাম।তবে ঐ মেয়েটার জন্য সবকিছু গোলমাল
হয়ে গেল। অঞ্জলী শেষে মেয়েটার পিছুপিছু ঘোরা
আরম্ভ করলাম। সাথে অনিক চাকেও নিলাম। সে কিছুটা
বুঝতে পেরেছে কিন্তু কি করবে না বুঝে আমার সাথেই
হাঁটছে। হঠাৎ দেখি মেয়েটা খিচুড়ি দেওয়ার লাইনে
দাঁড়িয়েছে। ব্যাস গিয়ে ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খিচুড়ি
দেওয়া আরম্ভ করলাম। মেয়েটা এল। আমি গরম খিচুড়ি র
বাটিটা ধরিয়ে দিলাম। হঠাৎ করেই তার হাত থেকে পড়ে
গেল।
>> এত গরম খিচুড়ি কেটা বানায় রে??(আমি )
>> আসলে ভাই, গরম গরম ই তো সবাই খেতে চায়।
>> লোকে হাতে ধরতে পারছে না তোরা এত গরম জিনিস
দিয়েছিস। ( দিয়ে জোর ঝাড়ি দিলাম।)
এদিকে দেখি মেয়েটা বিরক্ত হয়ে চলে যাচ্ছে।আমি
গরম খিচুড়ি হাতে নিয়ে তার পিছন ছুটতে ছুটতে এটা ইঁটে
হোঁচট খেলাম আর খিচুড়ি গিয়ে পড়ল তার শাড়ীতে।
>> সরি সরি।
>> মানেটা কি, আপনি নিজেকে কি ভাবেন বলুন তো।
সিনেমার হিরো।
>> আমি সিনেমার হিরো হতে যাব কেন?? আমি তোশুভ্র।
>> আপনি মহা অসভ্য, ইতর , ছোটোলোক। আমার শাড়ী টা
নষ্ট করলেন আর আমার ঘোরাটাও।
>> বেশি তো পড়েনি।একটু পড়েছে।ধুয়ে নিন। আর
খিচুড়িও বাসন্তী রঙের আর আপনিও বাসন্তী সুন্দরী তাই
বলছিলাম মানে।
>> আপনি তো মহা ফাজিল।
>> জ্বি।
>> ডিজকাস্টিং।অসহ্যকর।
দিয়ে চলে গেল আমাকে ঝাড়ি দিতে দিতে। আমার মন
টা ভাল লাগছিল না।বাসায় এসে ঘুমিয়ে গেলাম।বন্ধুরা
অনেক ঘুরাঘুরির রিকুয়েষ্ট করছিল। আমার ভাল লাগেনি।
তাই চলে এলাম। রাতে অনিক কল দিল।
>> দোস্ত সকালে চলে এলি যে।
>> ভাল লাগছিল না রে।
>> ভাল লাগছিল না নাকি বাসন্তীর চিন্তাস্ক্র বিভোর।
>> বাসন্তী টা কে??
>> আরে যার শাড়ীতে খিচুড়ি ফেললি।
>> ওহ্। তার নাম বাসন্তী??(তাই এত রিঅ্যাক্ট)
>> হুম। আমাদের বাসার নীচে নতুন ভাড়া এসছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়ে।আমাদের ভার্সিটিতে প্রথম
বর্ষ।
>> আমাকে বলিস নি কেন??
>> তোকে কতবার আমার বাসায় আসতে বলি।তুই কি
আসিস??
>> আচ্ছা হোক এবার থেকে যাব।
>> হুম তা তো আসবি।আর হ্যাঁ শোন না কাল না ওর
বার্থডে।
>> কি বলিস ব্যাটা।এখন কয়টা বাজে??
>> রাত নয়টা।
>> ওকে আমি রাইত বারোটায় তোর বাসায় আসতাছি।
>> কেন আসবি।
>> আমি আসব বলেছি মানে আসব।
বারোটার দিকে চলে গেলাম অনিক দের বাড়ি।দেখি
বাসন্তী ব্যালকনি তে। আমি হাত নেড়ে ডাকলাম।
কোনো রিপ্লাই নাই। মনে হয় দেখতে পায়নি। মনে হয়
পাইপ বেয়ে উঠতে হবে। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ।পাইপ
বেয়ে উঠে পড়লাম।
>> এ কি আপনি??? এখানে কিভাবে ??
>> পাইপ বেয়ে।
>> আপনি কি আমাকে মেরে ফেলবেন।
>> কেন কি হয়েছে।
>> এইভাবে একটা মেয়ের কাছে কেউ আসে?? কেউ
দেখলে আমার মান-সম্মান কি হবে বলুন তো??
>> ওহ্ সরি। একটু টাইম নিব।
>> মানে??
>> মানে হল এখন রাত বারোটা বাজে। সুতরাংশুভ
জন্মদিন বাসন্তী।যদি নিজের অজান্তে কোনো ভুল করে
থাকি তবে ক্ষমা চাইছি। আসলে খিচুড়ি চা আমি ইচ্ছা
করে ফেলিনি সত্যি।আর আমি জানতাম না তোমার নাম
বাসন্তী।
>> আজ আমার জন্মদিন জানলেন কিভাবে?? অনিক
ভাইয়া বলেছে??
>> না মানে হ্যাঁ।আর এই কার্ড টা তুমি রাখো কেমন।
আচ্ছা আমি আসি।
এদিকে বাসন্তী কার্ড টা নিয়ে এসে পড়া আরম্ভ করল,
প্রিয় বাসন্তী,
কিভাবে গুছিয়ে লিখতে হয় আমি জানি না। তবে নিজের
মতো চেষ্টা করেছি। আমি শুভ্র বাবা-মা অর্ধেক বখে
যাওয়া একমাত্র সন্তান। জীবনে কোনোদিন প্রেম-
ভালোবাসা করিনি। তবে একজন কে খুব ভালোবাসতাম।
তবে সেটা হয়তো ভালো লাগা ছিল। ভালোবাসা না।
তাই তো তাকে বলতে পারার আগেই তার বিয়ে হয়ে গেল।
তবে তোমাকে প্রথম দেখে আমার এক স্বর্গীয় অনুভুতির
সৃষ্টি হয়েছে।তোমার কাজল দেওয়া নয়ন হরিণীর চোখের
অপূর্বতাকেও হার মানায়। আর ঘন কালো চুলের প্রশংসা
যে কিভাবে করব জানি না।সত্যি তোমার চুলকে বর্ণনা
করার মতো কোনো ভাষা আমার নেই। তোমার মুখশ্রী
স্বর্গের অপ্সরীর মতো। অপরূপ মোহময়। তুমি কি রাণিহীন
রাজত্বের রাণী হবে?? তুমি কি এই অগোছালো
সাম্রাজ্যকে একটু যত্ন করার দায়িত্ব নিবে?? সত্যি
বলছি, ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করব জানি না তাও
বলছি , আমি তোমাকে খুব খুব ভালোবাসি। তোমার
উত্তরের অপেক্ষায় থাকব।"
ইতি
তোমার শুভ্র
পরেরদিন সকালে আবার ফোন টা বাজছে। রিসিভ করতে
গিয়ে দেখি অনিক ফোন দিয়েছে।
>> হ্যালো ভাই বল।
>> এখনো কি পড়ে পড়ে ঘুমাস নাকি।
>> না দোস্ত উঠে পড়ছি, বল ফোন দিছিস্ ক্যান??
>> দোস্ত একটা ভালো খবর আছে।
>> কি খবর বইলা ফ্যাল ফচফট।
>> বাসন্তী তোকে আজ সন্ধ্যায় আসতে বলেছে।
>> সত্যি??
>> হ্যাঁ দোস্ত।
>> ওকে, তুই রাখ।
সন্ধ্যায় অনিকদের বাসায় গেলেও বাসন্তীদের বাসায়
যাইনি।অনিক বা যেতে জোর করছিল তাও যাইনি। ছাদে
দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ ছাদে কে একটা যেন এল। অন্ধকারে
ঠিক বুঝলাম না। কাছে আসতে বুঝলাম এ হলো গিয়ে
বাসন্তী।
>> এই যে মিস্টার??
>> জ্বি বলেন।
>> আপনি এত গাধা কেন??
>> মানে??
>> হাতে কার্ড দিয়ে পালালেন কেন??
>> না মানে ভয়ে।
>> এত যদি ভয় তবে কার্ড দিলেন কেন??
>> ভালোবাসি বলে।( বুকে সাহস নিয়ে।)
>> এত যদি ভালোবাসেন তবে বলতে পারেন না সরাসরি।
সরাসরি বলতে হলে বলুন নচেৎ যান।
হাত থেকে উনিশ টা গোলাপ বের করে(কারণ উনিশ তম
জন্মদিন) হাঁটু গেড়ে বসে,
>> " বাসন্তী, আই লাভ ইউ!!! তুমি কি অগোছালো
সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নিবে??"
>> নিতে পারি, একটা শর্তে।
>> কি শর্ত??
>> অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকালে এই ছাদ থেকে
ফেলে দিমু।
>> মানে হ্যাঁ।
>> জ্বি সাহেবা।আমি রাজি।
দিয়ে বাসন্তী আমাকে জড়িয়ে ধরল।কিছুক্ষণ পর,
>> কি রে তোদের প্রেম করা হল?? এবার আয় কেক
কাটবি।(অনিক)
>> চল এবার কেক কাটতে হবে।(আমি)
>> হ্যাঁ, চল।
এইভাবেই শুরু হল নতুন পথচলা। সুখে থাকুক তারা। এই
কামনা করি।
রাইটার,সুমন (অচেনা বালক)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now