বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন রিক্সাচালক বাবার গল্প

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান muntasir al mehedi (০ পয়েন্ট)

X একজন রিক্সা চালক বাবার গল্প" ••• আমি একজন বৃদ্ধ বাবা। সারাদিন রিক্সা চালাই। দিন আনি দিন খাই। আমি এই বৃদ্ধ বয়সেও এত কষ্ট করার কারন একটাই। আমার ছেলে বুয়েটে পড়ে। আল্লাহর কাছে লাখোবার শুকরিয়া জানাই তিনি আমার ছেলের মাথায় যথেষ্ট মেধা দিয়েছেন। . একদিন আমার রিক্সায় একটি ছেলে উঠলো। সাথে ছিল ছেলেটির প্রেমিকা। আমি একটু ধীরগতিতে রিক্সা চালাচ্ছি, ছেলেটি আর মেয়টির মধ্যে কি বিষয় নিয়ে যেন তর্কাতর্কি চলছে। . মেয়েটি একসময় আমাকে ধমকের সুরে বললো... "রিক্সা দ্রুত চালাও..!" আমার শরীরটা ভাল ছিলনা। তাই মেয়েটাকে বললাম... "মারে এর চেয়ে জোরে রিক্সা চালানোর শক্তি আমার গায়ে নাই..!" মেয়েটা আরো ধমক দিয়ে আমাকে কি বললো জানেন...? মেয়েটা বললো... "শক্তি নাই যখন রিক্সা চালাইতে বলছে কে..? আগে জানলে তোমার রিক্সায় উঠতাম না..!" আমি বললাম.. "মারে রিক্সা চালাই কি সাধে....." মেয়েটি আমাকে আর কথা বলতে দিলনা। আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো... "থাক আর দুঃখের কথা বলতে হবেনা। এইসব আমরা বুঝি। দুঃখের গল্প বলে ভাড়া বেশি নিবার ধান্দা..!" মেয়েটির কথা শুনে আমি কষ্ট পেলাম..! . তখন ছেলেটি মেয়টিকে বলে উঠলো... "আহা তুমি বৃদ্ধ মানুষটার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন..?" মেয়েটা আরো রেগে গেল এবং ছেলেটাকে বললো... "তোমার এত দরদ কিসের!?" ছেলেটির যা বললো.., কথাটা আমার ভাল লাগলো..! ছেলেটি বললো... "সে আমাদের বাবার বয়সি..! তার সাথে সেইভাবে কথাবলা উচিৎ..!" মেয়েটি চিৎকার করে বললো... "বাবার বয়সী যখন, বাবা বলে ডাকো তাকে..!" এবার ছেলেটি রেগে গেল ভীষনভাবে, এবং মেয়েটিকে বললো.. "হ্যা ডাকবো বাবা, কোনো সমস্যা তোমার..!?" . মেয়েটি আমাকে রিক্সা থামাতে বললো। আমি রিক্সা থামালাম। মেয়েটি ছেলেটিকে বললো... "থাকো তোমার বাবাকে নিয়ে..! আমি গেলাম। আর কখনও আমার খোঁজ করবানা।" এই বলেই মেয়েটি হনহন করে চলে গেল..! ছেলেটি বললো... "যাও যাও.. আমাকেও বাচাঁও..!" . আমি মনে মনে ভাবলাম,, আমার জন্য ওদের মধ্যে ঝগড়া হলো..! আমি ছেলেটিকে বললাম..."বাবা, ওকে ফেরান। আমার জন্য আপনাদের মধ্যে ঝগড়া হলো..!" ছেলেটি বললো... "যেতে দেন চাচা..! যে মেয়ে একটা বাবার বয়সি মানুষের সাথে এমন ব্যাবহার করতে পারে, সে আমার ভালবাসা পাবার যোগ্য না। আজ আপনার রিক্সায় উঠেছিলাম বলেই ওর আসল চেহারাটা ফুটে উঠেছে..। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ওর হয়ে..!" . ছেলেটির ব্যাবহারের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিল, ভাল মানুষ এখনও আছে..! গল্প এখানেই শেষ নয়। এবার বলবো আরেকটি নাটকিয় ঘটনা..! . দুই বছর পর... আমার ছেলে আবিদ লেখাপড়া শেষ করেছে। সে এখন বাংলাদেশের নামকরা একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ছেলেকে বিয়ে দিব বলে ছেলেকে জিজ্ঞেসা করলাম, তোর কোনো পছন্দ আছে কিনা..? ও বললো ফাহিমা নামের একটি মেয়েকে ও ভালবাসে। আমি ওর পছন্দকেই প্রাধান্য দিলাম। আমি এবং আবিদ ওর পছন্দের মেয়েকে দেখতে গেলাম। মেয়েদের বাড়ি দেখেই বুঝলাম মেয়েরা অনেক বড়লোক..! . প্রথমে মেয়ের বাবার সাথে কথা হলো। মেয়ের বাবা আমার ছেলের খুব প্রশংসা করলো। বললো এমন ছেলের বাবা হওয়া যেকোনো বাবার জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। তারপর ওনার মেয়ে ফাহিমাকে নিয়ে আসলো। মেয়েকে দেখেই আমি আকাশ থেকে পড়লাম..! আমার মনে পড়ে গেল দুই বছর আগের সেই মেয়েটার কথা। যে মেয়ে আমাকে অপমান করে তার প্রেমিককে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। . আমার সামনেই বসে আছে সেই মেয়েটি.! মেয়েটি আমাকে দেখে অবাক হয়ে বললো... "আপনি..!?" আমি শুধু বললাম... "হ্যাঁ, আমিই আবিদের বাবা। সেই রিক্সা চালক..!!" মেয়েটি কোনো কথা বলতে পারলোনা। আমি কোনো কথা না বলে তখনই আবিদকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসি..। মেয়েটি ঠিকই বুঝতে পেরেছে, ছোট বড় কাউকেই হেয় করা উচিৎ নয়..! . বাসায় এসে আবিদকে মেয়েটার সাথে ঘটে যাওয়া দুইবছর আগের ঘটনাটা বলি! এবং বলি এই ফাহিমাই সেই মেয়ে..! আবিদ বললো... "ফাহিমা তো আমাকে কিছুই বলেনি যে, ওর সাথে আগে কারো সাথে সম্পর্ক ছিলো.! আর যে মেয়ে বাবার বয়সী লোকের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে পারে, সে মেয়েকে আমি ভালবেসে ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও বাবা..! আমি ফাহিমাকে বিয়ে করবোনা..! আমি তোমার পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করবো...!" . আমার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে বললাম... "ভাগ্যিস সেদিন ঘটনাটি আমার রিক্সায় আমার সাথেই ঘটেছিল। তা না হলে তোর জীবনটা বরবাদ হয়ে যেত..! আল্লাহ্ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন..।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now