বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিগারেট

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X >>এই কি হাতে ওটা কি? >>কোথায়? কিছু নেই তো! >>আমি এতক্ষণ তাহলে কি দেখলাম? >> কি দেখেছো? সত্যি আমার হাতে কিছুই নেই। দেখো তুমি! >>আমার চোখে ধুলো দেওয়া এতো সহজ নয়। তোমাকে কতবার বারণ করেছি সিগারেট খেতে? >>এই নিয়ে দুই হাজার আটশত সতেরবার। >> তারপরেও কেনো খেলে? >>আর খাবো না। >>সবসময়ই এই কথা বলো। তারপরেও এটা করো। ছিহ আমার ভাবতেও খুব ঘৃণা লাগছে। >>এইবারের মতো মাফ করে দেও। >>না আর নয়। অনেক মাফ করেছি। আমি কালই চলে যাবো বাবার বাড়িতে। তারপর থেকো তুমি আর তোমার সিগারেট নিয়া। . বলেই ছাদ থেকে নামতে লাগলো আশা। এই দিকে বেচারা ফাহিম মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। অনেকবার ধরা খেয়েছে এবং অনেকবারই ক্ষমা করেছে। কিন্তু আজ একটু বেশি ক্ষেপে গেছে মনে হচ্ছে। কি আর করার? যতই চেষ্টা করে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিবে ততই সিগারেট তাকে কাছে টেনে নেয়। . আশার ভয়ে বাথরুমে গিয়েও সিগারেট খেতে হয়েছিলো ফাহিমের। কিন্তু সেখানেও ধরা খেয়েছে। চলুন ধরার খাওয়ার দৃশ্যপটটা দেখে আসি। . >>কি গো বাথরুম পরিষ্কার করতে এতক্ষণ লাগে? >>দাঁড়াও আর একটু। >>একটু একটু বলতে বলতে দুই ঘন্টা হয়ে গেছে। >>আর পাঁচ মিনিট দাঁড়াও। . দুই ঘন্টায় এক প্যাকেট সিগারেট শেষ করে ফেলে বাথরুমে বসেই। কি রকম সিগারেট খোর ছিলো ফাহিম বুঝতেই তো পারছেন। অবশেষে বাথরুম থেকে বের হয় ফাহিম। তার পর যা হলো। . >> বাথরুমে স্প্রে মারছো কেনো? >> এমনি মারছিলাম। >>এমনি নাকি অন্যকিছু? >>আরে এমনি মারছিলাম সত্যি। >> তাহলে এটা কি?? . ভুলে সিগারেটের প্যাকেটটা ফেলতে ভুলে যায়। যার ফলে আবারো ধরা খায় আশার কাছে। চুপ-চাপ মাথাটা নিচু করে রুমের মধ্যে এসে পরে। ছুটির দিনে বাহিরেও বের হতে দেয়না। কারণ যদি বাহিরে গিয়ে সিগারেট ধরে। তাই বাসায় আটকে রাখে চোরের মতো। শান্তি নাই আর। . "যেখানেই বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়" . ঐ দিন আর ফাহিমের সাথে কোনো কথা বলেনি তার বউ আশা। অনেক বিনতি মিনতি করে সেইদিনের মতো রাগ মিটাতে পারে। কিছু হলেই বাপের বাড়ি চলে যাবার ভয় দেখায়। এ কেমন বউ তা এখনো ফাহিম বলে। . রাত শেষে ভোর হলো। ঘুম থেকে উঠেই দেখে বউ নেই। টি টেবিলের উপরে একটা সাদা কাগজ রাখা। কাগজটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করে। . " অনেক বলেও ঠিক করতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে চলে গেলাম বাপের বাড়ি। ভাল থেকো তুমি। আর ফ্রিজে খাবার রাখা আছে। উঠে নাস্তা করে নিও।" . শেষের লেখাটা পড়ে ফাহিমের খুব খারাপ লাগে। কারণ তার বউ তাকে কতোটা ভালবাসে তা সেইদিনই বুঝতে পারে। আর আশা যখন রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যায় তখন তার মোবাইলটাও সাথে করে নিয়ে যায়না। তাই তো ডিজিটাল যুগেও চিঠি লিখে সে। তবে ফাহিমের খুব ভালই লাগে তার লেখা চিঠি গুলো। এটা নিয়ে একশত আটানব্বই টা চিঠি জমিয়ে রেখেছে ফাহিম। আর দুটো হলেই ডাবল সেঞ্চুরি হবে। . ফ্রেশ হয়ে তার বউয়ের আদেশ অনুযায়ী ফ্রিজ থেকে খাবার নিয়ে নাস্তা করে নেয় ফাহিম। বউয়ের কথা কি অমান্য করা যায়? ফাহিম বলতে লাগলো আস্তে আস্তে। অনেকদিন পর আশা তার বাবার বাড়িতে গেছে কিছুদিন থেকে আসুক। আর এইদিকে আমিও আমার রাজত্য করতে থাকি। . দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে আসলো ফাহিম। আর সাথে সাথেই আরামছে টানতে থাকলো। টানছে তো টানছেই। এরকম সুখ আর কোথায় আছে? বলতে লাগলো! একটা শেষ করে যখন অন্য একটা ধরাতে যাবে ঠিক তখনই আয়নার সামনে আশাকে দেখতে পায়। পিছু ফিরে দেখে তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে তার বউ। সাথে সাথে সিগারেটটা নিচে ফেলে দেয়। . >>তু তুমি? >>হ্যাঁ আমিই। কি ভাবছিলে বাবার বাড়িতে চলে গেছি। আজ হাতে নাতে ধরবো বলেই এই অভিনয়টা করেছিলাম। >> আর জীবনেও এইসব খাবো না। এইটা সত্যি বললাম। >>কুকুরের লেজ বেধে রাখলেও যেমন সোজা হয়না। ঠিক তেমনি ভাবে তোমাকে হাজার বকা দিলেও তুমি শুধরাবে না। >>শেষ পর্যন্ত কু কুত্তার সাথে আমার তুলনা দিতে পারলে। >>কুত্তা নয় কুকুর। কুকুরও ভাল একটা কথা বললে শুনে। কিন্তু তোমাকে হাজার বার বারণ করার পরেও শুনোনা। >>তাই বলে কু... >>একদম চুপ। কোনো কথা বলবে না। তুমি কখনো এইসব ছাড়তে পারবে না। তাই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। >>কি সিদ্ধান্ত? >>এখন থেকে তোমার সাথে আমিও সিগারেট খাবো। >>কি?? পাগল হয়ে গেছো? >> না হইনি। >> এইসব করা ভাল না। আর তুমি কিভাবে ভাবলে যে আমি তোমাকে আমার সামনে এইসব করতে দেবো? তুমি জানো ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। >>তুমি জেনে শুনেও এইসব করো? কিভাবে করো? তুমি কি বুঝোনা আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি। আমার কি কষ্ট হয়না? তুমি যখন এইগুলো খাও! . প্যাকেটটা ছুড়ে ফেলে দিলো ফাহিম। এবং প্রতিজ্ঞা করলো আজ থেকে আর এইসব করবো না। আর কখনো স্পর্শও করবো না কথা দিলাম। . দৌড়ে গিয়ে ফাহিমের বুকে গিয়ে পড়লো আশা। খুব জড়িয়ে ধরে রেখেছে ফাহিমের বুকে তার বউকে। . সিগারেটের প্যাকেটের উপরেও লিখা আছে, "ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর " "ধুমপান হৃদ রোগে আক্রান্ত করে" "ধুমপান করলে ক্যান্সার হয়" তবুও আমরা ধুমপান করি। কেনো? আমাদের জীবনের কি কোনো মায়া নেই? আমরা কি নিজেকে ভালবাসি না? যদিও জানি যে, এইসব করা ক্ষতিজনক তবুও জেনে শুনে কেনো এই কাজ গুলো করি? নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখবেন। উত্তরটা পেয়ে যাবেন। . প্যাকেটের উপরে লিখা থাকা সত্ত্বেও আমরা ধুমপান করি। আমার এই পোস্টটা পড়েও হয়তো তাঁদের কিছুই হবে না। তারপরেও যারা শুধরানোর তারা এমনিতেই শুধরিয়ে যাবে। . . গল্পের মাঝেও কিছু রহস্য থাকে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিগারেট নিয়েই বেচেঁ আছি
→ সিগারেটের প্যাকেট যখন মোবাইল।।।
→ সিগারেট
→ বউ বললেই সিগারেট ছেরে দিতে হয়
→ সিগারেট
→ সে আমি এবং সিগারেটের গল্প
→ সিগারেট
→ কষ্ট নিবৃত্তে সিগারেট.....!!!!
→ সিগারেটের শেষ টানের গল্প শেষ পর্ব
→ সিগারেটের শেষ টানের গল্প ০৩
→ সিগারেটের শেষ টানের গল্প ০২
→ সিগারেটের শেষ টানের গল্প ০১
→ "সিগারেট যদি পুষ্টিকর খাবার হতো"
→ তুমি আর কিসারেট (সিগারেট) খাবা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now