বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ব্যাগটা নিয়ে নিচে নামল রমা। বাসার সবাই ঘুমে। নিচে নেমে দাঁড়াতেই একটা রিকশা এসে থামল।
—আফা যাইবেন?
—হুম।
রিকশায় উঠে বসল রমা। মনের ওপর দিয়ে টর্নেডো চলছে গত কিছুদিন যাবৎ। রিকশা এগিয়ে চলছে আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের গলি দিয়ে। রাস্তা এবড়োখেবড়ো। ঝাঁকি খেয়ে খেয়ে এগিয়ে চলেছে। রমা মানে মনোরমার মাথা শূন্য, চোখ বেয়ে জলধারা বইছে। বুকের ভেতর দুমরে-মুচড়ে যাচ্ছে। খুব ভালো রেজাল্ট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআর-এ পড়ে। সিলেটে ওদের পরিবারের অনেক পরিচিতি। বনেদি ব্যবসায়ী ওর বাবা-কাকারা। ক্রিকেট ওর প্রিয়। একবার স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়ে পরিচয় হয় হৃদয়ের সঙ্গে। সুদর্শন যুবক। বিরাট কোহলি না, কিন্তু কী এক অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। তারপর কীভাবে যেন গভীর প্রণয়। চওড়া সেই বুকের নিচে কোমল এক মন আর তুমুল প্রেম। প্রেমের ভেলভেটে মুড়িয়ে দেয় রমার বিশ বছরের জীবন। হৃদয়ের পাগলমন রমাকে আকুল করে তোলে।
—কই যাইবেন আফা?
—রোকেয়া হল।
গত কয়েক দিন থেকে নানা আলাপ-আলোচনার পর গতকাল যখন প্রায় ফাইনাল হয়ে যাবে, এমন একটা পর্যায়ে এসেছে, তখনই তীরে এসে তরী ডুবে গেল। শেষ রক্ষা হলো না। রমার অনার্স ফাইনাল হয়ে গেছে। কয়েক দিন হলো মাস্টার্সের ক্লাস শুরু হয়েছে। পূজার ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে একদিন আকুল হয়ে উঠল রমার হৃদয়।
বারবার হৃদয় রমাকে অনুরোধ করতে লাগল, চল বিয়ে করি।
—কেন?
—তুই বাড়ি গেলে তোকে এবার বিয়ে দিয়ে দেবে।
—যাহ পাগল।
—দেখিস। আমি বললাম।
মুখ গোমড়া করে বসে রইল হৃদয়।
কী যে হলো এক সময়। রমারও মনে হতে লাগল যদি হয় তাহলে হৃদয়ের পক্ষে কোনো যুক্তিই দাঁড় করাতে পারবে না। সে অনার্স পাস করে মাস্টার্স করছে। আর হৃদয় খেলাধুলায় যোগ দিয়ে পিছিয়ে পড়েছে। এবার অনার্স ফাইনাল দেবে। ফুটবল-ক্রিকেট খেলে কেউ বিয়ে করে বউ পালবে, তা রমাদের পরিবারের কেউ মানবেই না।
—ঠিক আছে চল।
—সত্যি?
পরদিন রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দুই-তিনজন বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে বিয়ে করল ওরা। পরে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করল। পাশাপাশি হাতে হাত নিয়ে বসে থাকল সংসদ ভবনের লেকের পাড়ে। তারপর রমা হলে চলে গেল। আর পরদিন হৃদয় চলে গেল খেলতে চট্টগ্রামে। রমা পরদিন সকালে আন্তনগর ট্রেন পারাবতে চলে গেল বাড়ি। বাড়ি গিয়ে শুনল ওর বিয়ের তোড়জোড় চলছে। মাকে ওরা সবাই ভয় পায়। রমার বাবা খুব ধীরস্থির। তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে রমা সবার ছোট।
উপায়ান্তর না দেখে রমা শেষে বাবাকে বলল, বাবা একজনকে কথা দিয়ে ফেলেছি।
—কে সে?
—হৃদয় ব্যানার্জি। অনার্স করছে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে।
—মানে? তোমার জুনিয়র?
—না বাবা। ক্রিকেট খেলে জাতীয় দলে। তাই পরীক্ষা দিতে পারেনি। এবার দিচ্ছে।
—নো। হবে না।
বাবা ওকে অনেক বোঝালেন।
—শোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে অনেকেই বন্ধু হয়। সম্পর্ক হলেও তা বিয়েতে নিয়ে ঠেকানোর দরকার নাই। বাস্তবতা অনেক কঠিন। অনেক জটিল। আমার ঠিক করা পাত্রকে বিয়ে করে ফেল। জীবন একদম গোছগাছ করা। কোনো টেনশন নাই। খালি উপভোগ আর উপভোগ। আনন্দ আর আনন্দ।
—না বাবা, আমি ওকে খুব ভালোবাসি। ওকে ছাড়া বাঁচব না। মাথা নিচু করে স্পষ্ট অথচ মৃদু স্বরে বলে রমা।
বাবা বললেন, যে ছেলে সামাজিকভাবে তোর সমান নয়, যোগ্যতায় সমান নয় তার সঙ্গে তোকে কীভাবে বিয়ে দেব।
বাবাকে জড়িয়ে ধরে রমা।
—বাবা প্লিজ বাবা।
বাবা ওকে একটা ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
—না, এ আমি মানতে পারব না। রাগ করে চলে যান বাবা মণীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
লেখিকাকাঁদতে কাঁদতে ওখানেই ঘুমিয়ে পড়ল রমা। বড়দা শুভাশীষ এসে ডাকল। এইবার সেও বোঝাতে শুরু করল। বড়দা নিজে ডাক্তার।
—খাওয়া-পড়ার নিরাপত্তা না থাকলে জীবন হয়ে পড়বে জটিল। পড়ালেখা শেষ করেনি, চাকরি-বাকরি কী পাবে না পাবে, তার কোনো নিশ্চয়তাই নাই। ফর্ম পড়ে গেলে শেষ। এতো জেনে বুঝে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া। তুই আমাদের পরিবারের সবচেয়ে উজ্জ্বল বোন আমার। ভালো বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিস। তোর জন্য পিএইচডি, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার ছেলে রেডি আছে।
রমা সিদ্ধান্তে অনড়।
ভাইও রাগ করে চলে গেল।
রমা কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়ল।
রমার ঢাকা থেকে বিসিএস-এর সাইকোলজিক্যাল টেস্টের লেটার আসল। বাবা সবকিছুর পরও সমঝোতা চাচ্ছিলেন। বাবা ওকে নিয়ে ঢাকা গেলেন।
তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজে সিট পড়েছে। হৃদয় বাইরে অপেক্ষায় আছে। পরীক্ষা শেষ করে বাইরে বের হয়ে মনে হলো ঝাঁপিয়ে পডে ওর বুকে। হোন্ডায় করে ওকে সাংহাই চায়নিজ রেস্তোরাঁয় নিয়ে গেল। হৃদয় প্রাণভরে দেখে।
—ইস কত্তো দিন দেখি না। চল আজ পালিয়ে যাই।
—পালিয়ে কই যাবি?
—অনেক দূরে।
—কি করবি?
—খালি ভালোবাসব। ভালোবেসে পাগল করে দেব।
তুই কী করবি কর। আমি যাই। বাবা চিন্তা করবেন। বাবা আমার মেজদির বাসায় আছেন। তোদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রপোজাল নিয়ে আসতে বল।
সব শুনে হৃদয় ভড়কে গেল।
—দূর এসব সিস্টেম ভাল্লাগে না। চল পালিয়ে যাই।
নবনীতা মনোরমার মেজ বোন। বড়বোন প্রীতিকণা রাজশাহী থাকে। জামাইবাবু ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। দিদিও কলেজে পড়ান। বড়দির এক ছেলে, এক মেয়ে। মেজ বোনের হাসব্যান্ড ব্যবসায়ী। তাদের আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের গলিতে দোতলা বাড়ি। মেজদির একটাই ছেলে। মেজদি গৃহিণী। না মেজদির বাসায় সে যখন ফিরল সবাই পরীক্ষা কেমন হলো এ নিয়েই কথা বলল।
শুধু বাবা রাতে জানতে চাইলেন, হৃদয়য়ের পরিবারের কে আসবে? কবে আসবে?
—বাবা ওর মা, বড় ভাই আর মাসি আসবেন। কাল বিকেলবেলা আসবেন ওরা।
পরদিন হৃদয়ের মা-মাসি আর দাদা আসলেন। এসে রমার মেজদির সঙ্গে ওর মাসি কথা বলতে গিয়ে কী হলো কে জানে! রমাকে আশীর্বাদ করতে আসা আংটি নিয়ে ওরা ফিরে চলে গেলেন।
রমার বাবা বললেন, রমা কাল সকালের ট্রেনে আমরা ফিরে যাচ্ছি।
রমার পৃথিবী জুড়ে অন্ধকার নেমে এল। রমা আর কোনো উপায় দেখল না। সারা রাত মনের অলিগলি খুঁজেও কোনো সমাধান পেল না।
চিরকুটে লিখল—বাবা আমাকে ক্ষমা করো। আমি চলে গেলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now