বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আদরের ছোট বোন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X Writer.তুহিন :-এই ভাইয়া,ভাইয়া""""শোনো না। :-কানের গোড়াই ভ্যান ভ্যান করিস না তো,সর এখান থেকে।(রাগ দেখিয়ে) আবারো, :-এই ভাইয়া,ভাইয়া শোনো না একটু। রেগে মেগে উত্তর দিলাম"" :থাবড়িয়ে কানের নিচ গরম করে দিমু,আর একটা বার যদি আমাকে ডাকিস। পুনরায় :-ভাইয়া শোনো না। জানি এই পুচকিটা কিছুতেই ছাড়বে না,যতক্ষন না আমার রাগ ভাঙ্গবে ততক্ষন। :-কি বলবি বল। :-ভাইয়া কালকের জন্য সরি,(দু হাতে কান চেপে ধরে) :-সরি বলছিস কেন? :-ওই যে তোমাকে আম্মুর সাথে বকা খাওয়ানোর জন্য। :-তুই তো এটাই চাস,আমি আম্মুর সাথে বকা খাই। :-হুম,চাইতো। আদর পেয়ে পেয়ে বাদর হয়ে গেছো তুমি। :-সরলি এখান থেকে। :-না সরবো না,আমি এখন আমার ভাইয়ার সাথে খুব ঝগড়া করবো। :-দেখ মেজাজটা ভালো নেই, সর এখন। :-না সরবো না, অতঃপর পাশে থাকা লাঠি টা দিয়ে মারতে গেলাম,ভয় পেয়ে আদ্রিতা দিলো এক দৌড়। এই পুচকিটা আমাকে কখনো শান্তিতে থাকতে দিবে না,সবসময় একটা না একটা কিছু করে আমাকে বকা খাওয়াবেই। দুপুরের আযান দেওয়া হয়ে গেছে,সবাই খেয়ে ফেলেছে।।আমি রাগ করে সুয়ে আছি।।কালকে বকা দিছে সেই জন্য।। এমন সময় আবার আদ্রিতা এসে হাজির, :-এই ভাইয়া, ভাইয়া। :-দেখ আদ্রিতা মনটা ভালো নেই,বার বার রাগ উঠাস না। :-রাগ উঠাতে আমার বয়েই গেছে,এ নাও এখন উঠে লক্ষি ছেলের মতন খেয়ে নাও তো। :-না খাবো না,যা তুই। :-খেতে বলেছি কিন্তু আমি। :-না খেলে কি করবি তুই? :-কি করবো কান্না করে দিবো।।তখন মা এসে আবার বকা দিবে তোমাকে""হি হিহিহিহিহিি। :-দাঁত বার করবি না একদম,মেরে সব গুলো ভেঙ্গে দিবো। :-বললেই হলো,তখন তো সবাই বলবে আশিকের পুচকি বোনের একটাও দাঁত নেই। :-আমাকে না, জ্বালাতে পারলে তোর পেটের ভাত হজম হয় না, তাই না।। :-হুম,জানোই যখন তখন এমন করো কেন? :-তবে রে,,,,লাঠি টা কোই রে আমার। :-পাবে না,আমি লুকিয়ে রেখেছি,ভাইয়া তুমি ভাত খাবে কি না। :-না খাবো না। :-কান্না করে দিবো কিন্তু। :-অবশেষে বাধ্য হয়ে """"আচ্ছা দে। :-আমি খাওয়াই দেই ভাইয়া। :-হুম দে।।তুই খেয়েছিস? :-তোমাকে না খাওয়ায়ে কখনো খেয়েছি আমি। :-কি,তার মানে তুই এখনো না খেয়ে আছিস? :-হুম,তোমাকে খাওয়ায়ে তারপর আমি খাবো। :-বড্ড পাকনা হয়ে গেছিস,আজকাল।। হা কর আমি খাওয়ায়ে দিচ্ছি। :-জানি তো তুমি আমাকে খাওয়ায়ে দিবা,সেই জন্য তো খাই নি।।আর তোমার হাতে না খেলে আমার পেটই ভরে না। :-হুম,,পাকনা বুড়ি এবার জলদি হা কর। :-হুম,,,হাাাাাা অতঃপর দুই ভাই বোন মিলে এক থালে খাবার পরিবেষন করলাম। রোজ আমরা এমনি করি,হাজারো বাইনা আর দুষ্টুমিতে ভরা আমার একমাত্র আদরের ছোট বোন,মাত্র ক্লাস ৬ এ পড়ে। কিন্তু ওর কাজ গুলো অনেক বড়। মাঝে মাঝে এমন এমন কাজ করে,মনে হয় ও আমার বড় বোন,আর আমি ওর ছোট ভাই। গতকালের কাজ টা ও ঠিকি করেছে,কারন আমি রোজ রাত করে বাসায় ফিরি,আর ও প্রতিদিন আমার জন্য খাবার নিয়ে অপেক্ষা করে। কিন্তু মা'কে জানতে দেয় না। কালকেও হয়তো ও বলে নি,আমি জানি ও কখনো আমাকে বকা খাওয়াবে না। তবুও কেনো জানি ওকে আদরের থেকে শাসন টাই বেশি করা হয়ে যাই আমার। খাবার খেয়ে আমি শুয়ে পড়লাম"একটা ঘুম দিতে হবে, এটা ভেবে।আর আদ্রিতা গেলো প্রাইভেট পড়তে। ও বাসায় থাকলে আমার ঘুমের বারোটা বাজায়ে দেয়। তাই ও যখন প্রাইভেটে যাই তখন আমি সুযোগ বুঝে ঘুম মারি।।ঘুমের কারনে কখন যে আসরের আযান দিয়ে ফেলেছে বুঝতেই পারি নি। আদ্রিতার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। :-ভাইয়া তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো. :-কোই না" তো জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছিলাম। :-হুম জানি তো,আর কাকে নিয়ে তাও জানি। :-ভ্রু কুচকিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,কাকে নিয়ে । :-বলবো না,বললে তুমি আমাকে আবার তাড়া দিবে। :-না বললে এখনি ধরে পিটানি দিমু বল বলছি? :-সুমি আপুকে নিয়ে,,, আদ্রিতার কথা শুনে তো আমি অবাক,পুচকিটা সুমির কথা জানলো কি করে। :-কোন সুমি,কিসের সুমি। :-হয়ছে হয়ছে আর বলতে হবে না,আমি জানি তোমার ফোন নং এ সুমি নামে সেইভ করা আছে,আর তুমি রোজ তার সাথে মেসেজ করো,আমি সব জানি। :-এইরে খাইছে,আমাদের গোপন জিনিস ফাঁস করে দিবে না তো। কি জানিস তুই হুম? :-তোমার মোবাইলে সারাক্ষন তো একজনের মাথা দেখতে পাই,,(চ্যাট হেড)"""My janu """নামে আর ওটা সুমি আপুরই আমি জানি। :-কোনোদিন ভিতরে ঢুকিস নি তো। :-ওহ তার মানে সুমি আপুই তোমার জি এফ,আমি তো এমনিতেই বলছি।।আর তুমি সব গড়গড় করে স্বীকার করে নিলে। :-তবে রে,,,। :-হুম গায়ে হাত দিবা না,সব মা'কে বলে দিবো তাহলে। :-লক্ষি বোন আমার মা'কে বলিস না। :-হুম বলবো না,তবে আমাকে ১০০ টাকা দাও। gjএ যে রিতিমতন ব্লাকমেইল করছে আমাকে)টাকা দিমু না। :-আম্মু,,, :-এই নে নে,,তবুও বলিস না লক্ষি বোন আমার। :-আচ্ছা বলবো না,ভাইয়া তোমার পছন্দ আছে,সুমি আপু দেখতে খুব সুন্দর। :-কি করে দেখলি? :-কি করে আবার তুমি তো তোমার ল্যাপটপের সামনে রেখে দিছো,সেইভ করে। মাই লাভ সুমি,,,উহু। :-তার মানে তুই ল্যপাটপে ছবি দেখে, ,ওরে শয়তানি রে। দাড়া বলছি। টাকাটা নিয়ে আদ্রিতা এক দৌড়ে বার হয়ে গেলো। পাগলি বোন আমার,ওর এমন দুষ্টুমি গুলো আমার খুব ভালো লাগে। খুব ভালো হতো যদি এগুলোকে কোনো একটা সুখি ফ্রেমে বন্দি করে রাখা হতো,কিন্তু তা তো হবার নই। বাস্তবতার কাছে আমাদেরকে হার মানতেই হবে,সময়ের সাথে সাথে একদিন এই পুচকি বোনটা অনেক বড় হয়ে যাবে,আর সেদিন এত আদর আর বাবা মা'য়ের অফুরন্ত ভালোবাসা কে ছেড়ে নতুন একটা অপরিচিতো জগৎ এ পা বাড়াবে। সেই সময়টার কথা মনে হলেই নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে অস্রু নেমে আসে। তবুও এটাই হয়তো পৃথিবীর নিয়ম,আর সেটাকে বদলানোর সাধ্য আমাদের কারো নেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩২৮৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now