বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কষ্ট নিবৃত্তে সিগারেট.....!!!!

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সারাদিন একা হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লো ছেলেটা একটা বটগাছের নিচে। চারদিকে বাতাস আর ঝড়বৃষ্টিতে গাছপালা ভেঙ্গে পড়ছে সাথে খুব বেশি বজ্রঝড় হচ্ছে, কিন্তু সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই । হঠাৎ করে সামনে একটা বড় ডাল ভেঙ্গে পড়লো, ছেলেটা হাসতে শুরু করে দিল ! অথচ এই ছেলেটা বজ্রের আওয়াজ শুনলেই ঘর থেকে বের হত না। সবার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কেন এই পরিনতি? কারণ তো অবশ্যই আছে! সেটা হলো কষ্ট !!! কিন্তু সে কষ্টগুলো কারও কাছে প্রকাশ করে না, নিবৃত্তে একা একা কেঁদে যায় , "দুঃখিত" কেঁদে যায় বললে ভুল হবে !! কাঁদতো একসময় কিন্তু এখন হাসে ! আশ্চর্য হয়েছেন তাই না! আরে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই... কারণ ছেলেটা কষ্ট পেতে পেতে কঠিন পদার্থের মত হয়ে গেছে। আর হবেই বা না কেনো এই আটমাস থেকে উপরওয়ালা তার উপর নারাজ হয়ে গেছেন, তার জীবনের প্রথম অক্সিজেনকে হারিয়েছিল সেই আটমাস আগে, তখন থেকেই ছেলেটার জীবন দুর্বিষহের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।যাইহোক, পুরনো গল্প এখন বলে লাভ কি? ..... হঠাৎ করেই বৃষ্টি থেমে গেলো, ছেলেটা দোকানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলো, একা হেসে হেসে দোকানে পৌছালো। একটা পঞ্চাশ টাকার নোট বের করে দোকানদারকে দিয়ে বললো, এক প্যাকেট সিগারেট দিতে। দোকানদার মজনু মিয়া ছেলেটার খুব বেশি ঘনিষ্ট, তাই বললো, রাজাসাহেব সিগারেট কার জন্য ? (মজনু মিয়া ছেলেটাকে অনেক ভালোবাসে, এবং আদর করে রাজাসাহেব বলে ডাকে) ছেলেটা বললো, আমার জন্য... বলে হেসে উঠলো, তবে এই হাসিটা খুশির নয় সেটি মজনু মিয়া বুঝতে পারলো , কেমন জানি একটা রহস্য আছে এর মধ্যে...... তারপরও মজনু মিয়া জিজ্ঞাসা করলো, ধুর রাজামশাই মশকরা করোনা সত্যি বলো। ছেলেটা আবার হেসে হেসে বললো, আমাকে কি কখনও মিথ্যা বলতে দেখছেন... আর মশকরাও করছি না, সত্যিই বলছি। মজনু মিয়া বুঝতে পারলো বিষয়টা...যেকোনো বড় কষ্ট রয়েছে ছেলেটার মধ্যে, ছেলেটা কখনও মিথ্যা বলেনা এটা মজনু মিয়া জানেন। তিনি ছেলেটাকে জিজ্ঞাসা করলেন? কি হয়েছে রাজামশাই ? ছেলেটা কিছু বলেনা, শুধু হাসে আর হাসে। অবশেষে মজনু মিয়া সিগারেট দিয়ে দিলেন ছেলেটাকে... এরপর কিছু সময় বোবার মত তাকিয়ে থাকলেন । ভেজা শরীরে ছেলেটা থরথর করে কাঁপছে আর একটা সিগারেট বের করে আগুন ধরাচ্ছে! মজনু মিয়া ছেলেটার এই হতাশা দেখে হায় হায় করতে লাগলেন,যে ছেলেটা সিগারেটের ধোয়া সহ্য করতে পারতোনা, আজ তারমুখেই সিগারেট ! ছেলেটা সিগারেটে চুমুক দিচ্ছে আর বলছে, সিগারেটে যে এতো আনন্দ আগে বুঝলে অনেক ভালো হতো। এতোদিন কোনো কষ্টের মধ্যে থাকতে হতো না। ধোয়ার মধ্যে এতো শান্তি কোথা থেকে আসে... এইসব বলছে আর হাসছে.... ! আপনারা কি বলবেন, ছেলেটা পাগল হয়ে গেছে নাকি? আসলে না ছেলেটা পাগল হয়নি বরং কষ্ট ডেকে রাখতে কান্না থামাতে এই পাগলামি । সরাসরি ছেলেটা বিষ পান করতে পারেনি, তার বাবা-মায়ের এতোদিনের কষ্ট বিফলে যাবে, আশা আকাঙ্কা সব মাটি হয়ে যাবে, তাই জেনে বুঝে ধুমপানের মত বিষ পান করছে। সে এও জানে যে এই সিগারেটের কারণে মারা যাবে, তবে এতো তাড়াতাড়ী না, অত্যন্ত মা-বাবার স্বপ্ন পুরণ করার পর। উপদেশ :পৃথিবীতে অনেক মানুষ যারা সখে মাদকের প্রতি লিপ্ত হয়, পরিস্থিতি ও সমাজ তাদেরকে ওই পথে নিয়ে যায়। কিছু প্রসঙ্গ : কোনো এক কারণে এখানে ছেলেটির নাম প্রকাশ করলাম না, তাই দুঃখিত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now