বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমাদের গ্রামের ছেলে মুস্তাকিম। বয়স টেনেটুনে ১৯/২০
হবে। অতি মাত্রার সহজ সরল বলতে যা বুঝায় ও হচ্ছে
তাই। কথায় কথায় হাসে। খালি হাসে। বেকুবের মতো
হাসে। জিজ্ঞেস করলাম, "মুস্তাকিম কেমন আছো?" সে
হাসে।
জিগাইলাম, "ভাত খাইছোস?" কিছু বলে না, হাসে।
কইলাম, "থাপ্রায়া দাত ফালাইয়া দিবো।" সে হাসে।
রাগ করে বললাম, "যা গু খাইয়া মর।" তাতেও হাসে।
কথায় কথায় হাসার জন্য যদি ওরে কেউ বেতন দিয়া রাখে
তার একটা টাকাও পানিতে পড়বে না প্রমিজ।
.
অত্যন্ত গরিব ঘরের ছেলে। মাঝেমধ্যে ঘরে চাল থাকে
না। ছোট ছোট ভাই-বোন না খাইয়া থাকে সারা দিন। ওর
মা এর-ওর ঘরে হেঁটে টেটে মাঝেমধ্যে চেয়ে আনে।
ওর বাপ একটা আস্ত বেকুব। যা কিছু স্বপ্নে দেখাও বারন
উনার মুখে সেই সব কথা ডাল-ভাতের মতো এভেইলেবল
চলে।
যেমন, কেউ একজন বললো, "উনিশ শ' কুয়াত্তর সালে শেখ
মুজিব আসছিলো আমাদের এলাকায়।" সে তখন লাফ দিয়ে
উঠে বলবে, "আরে আমিই তো উনারে আনছিলাম।" একটা
আস্ত ফাউল পাব্লিক।
.
বলছিলাম মুস্তাকিমের কথা। ও আবার মাঝেমধ্যে কথা
শুরু করলে থামানোর উপায় নাই। আমারে পাইলে তো আর
কথা নাই, পটর পটর চলতেই থাকে।
বেক্কেল টাইপের ছেলে। বেক্কেলের মতোই কথা
বার্তা। বেকুব বাপের বেক্কেল ছেলে। আছানক সব কথা
বার্তা বলে বোর করে দেয়। কোনো দিন ওর কথায়
মাত্রাতিরিক্ত দুঃখের কোনো ছাপ পাইতাম না। যা
বলতো টুকটাক তা আবার নিজেই উড়াইয়া দিত। একদিন
প্রথমবার তার কথায় আমার মনের মধ্যে ঘা লাগলো। সে
হঠাৎ তার ভবিষ্যতের কথা বলছে। রোজগার পাতি যা
করে সব বাড়ির জন্যে, নিজের জন্যে তো কিছুই নাই। সে
নিজেই বলতেছে, আমার মতো বেকুবের কাছে কোনো
মাইয়ারে বাপে বিয়াও দিবো না, তার উপর
রুজিরোজগারের নাই ঠিক। আমি ভাবলাম, সত্যিই তো
ছেলেটার এ কেমন জীবন? শিক্ষা-দিক্ষা নাই, ঘরে নুন
আনতে পান্তা ফুরায়, আকল বুদ্ধিরও যথেষ্ট অভাব,
নিজের ঘরে দুই পয়সার দাম নাই, বেকুব বাপ একটা আবার
টাকা হাতে পাইলেই ফুটানি মারাইয়া খরচ করে। এ
ছেলের কথা জগতে কে ভাববে বলেন?
.
আমি অনেক সময় নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলি, "এ আমার
কেমন জীবন?" আথচ এ দেশের হাজার হাজার এমন
পরিবার, আমার বয়সী এমন লক্ষ লক্ষ ছেলেপেলে আছে
যারা অনিয়ন্ত্রিত অন্ধকার জীবনের বাসিন্দা।
দুর্ভাগ্যের বাসিন্দা। তারা নিজেরাও জানে না তারা
ঠিক কতটুকু অভাগা। আপনার আমার চেয়ে ঢের অভাগা
বৈ-কী। হয়তো তারা জানতেও চায় না কখনো। তারাও
জীবনের কোনো একটা মানে খুঁজে নেয়। জীবনটাকে
নিজের মতো করে সাজাতে চেষ্টা করে। কেউ এতে
ভালো হয় আর কেউ হয় সমাজের কুলাঙ্গার।
আমাদের দেশে বেশ্যাবৃত্তি করে খায়, পরিবার চালায়,
বাচ্চাকাচ্চা মানুষ করে এমন মেয়েদের সংখ্যা
নেহায়েত কম নয়। এরা সমাজের চোখে খানকি, মাগী,
বেশ্যা আরো অনেক নোংরা উপাধী প্রাপ্ত, যেসব শব্দ
ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করাও বারন।
তারাও জীবনের কোনো উপায় না পেয়ে নোংরা সমাজে
খারাপের উপায় খুঁজে নিয়ে বেঁচে থাকে।
.
জীবন নিয়ে যারা হিসাবটুকুও কসে না তারাও জীবনে
সুখী হয়, সাচ্ছন্দে বেঁচে থাকে। জীবনটা তাদের কাছেও
সুন্দর মনে হয়। মাঝেমধ্যে মেঘাবৃত আকাশটাও তাদের
কাছে সুন্দর হয়ে ওঠে। ওরা সুখ কী চিনে না, জানে না।
ওরা জানে কষ্ট করে বেঁচে থাকার নাম জীবন। সুখ-
দুঃখের গ্যারাকলে পিষ্ট হতে থাকা এসব মানুষগুলোর
কেউ কেউ কখনো স্কুলে যায়নি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে
যায় নি। চানাচুর ঝালমুড়ি বিক্রি করতে গিয়ে ওদের
কেউ কেউ স্কুল কলেজের গেটের সামনে দাঁড়ায়। কেউ বা
ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট, বিজ্ঞানী আর বিরাট বিরাট
সব শিক্ষাবিদদের রিক্সায় পেডেল মেরে এখানে এসে
ব্রেক করে নামিয়ে দিয়ে যায়। একবার ফিরেও তাকায়
না স্কুলটা কিংবা কলেজটার দিকে। তার প্রয়োজন নেই।
সে এমনিতেই সুখী। সে গতর খাটিয়ে কাজ করে খায়। সে
কারো ধার ধারে না। আর আমি-আপনি? স্কুল, কলেজ,
বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে কেউ কেউ দেশের বিশাল বিশাল
স্তম্ব অথচ সুখী নয়। কেউ কেউ সরকারি উচ্চ পদস্ত বিরাট
কর্মকর্তা। আবার কেউ দেশের এমপি, মন্ত্রী অথচ লুট
করে খায় দেশের খেটে খাওয়া সেই সব মানুষের হক।
.
যারা পড়ালেখা তো দূরে থাক এসব কথা চিন্তাও করতে
পারে না, এমন সব মানুষ যদি জীবনের সুন্দর সুন্দর মানে
খুঁজে নিতে পারে, সুখী হতে পারে, খেয়েপরে বেঁচে
থাকতে পারে তাহলে আমাদের জীবনের একটা খারাপ
পরিক্ষা, আশানুরূপ রেজাল্ট না পাওয়া, যার কোনো
বাস্তব ভ্যালু আমার কাছে নাই সেটাই কী করে আপনার
আমার বাঁচা মরার নির্ধারক হতে পারে?
একটা পরিক্ষায় ভালো খারাপ করা যদি আমাদের
জীবনের সাফল্য আর ব্যর্থতার নির্ধারক হয় তাহলে ঐ সব
মানুষকে কী বলবো যারা টিপসই দিয়ে দিয়ে হাসতে
হাসতে জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছে। যাদের গতর ভেঙেছে
কিছু মন ভাঙার আর্তনাদ কখনো কোনো দিন কাউকে
শুনতে দেয় নি?
.
নিজেদের জীবন প্রত্যেকের কাছেই মূল্যবান। এসব
জীবনের মূল্য এই পৃথিবীর কাছেও কম নয়। পৃথিবী
অপেক্ষায় থাকে। আপনার মুখেই হয়তো শোভা পাবে
আগামির মুক্তির স্লোগান।
আপনিই হয়তো আগামির নিউটন, আইনস্টাইন।
আপনিই হয়তো আগামির আব্রাহাম লিংকন কিংবা
নেলসন মেন্ডেলা।
আপনার মাঝেই হয়তো লুকিয়ে আছে আগামির নজরুল, রবি
ঠাকুর, জসিম উদ্দীন কিংবা শেখ সাদী।
আপনার মাঝে যা কিছু লুকিয়ে আছে, আপনার ভেতরকার
সেই সব সম্ভাবনা মাত্র জীবনের একটা পরিক্ষা ও তার
ফলাফল দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না, আর নষ্টও হতে
পারে না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now