বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এখন বাজে সকাল ৮ টা বেজে ৩২ মিনিট।
-আজ কয়দিন ধরে রিম ঝিম করে বৃষ্টি নেমেই যাচ্ছে।
এই বৃষ্টির কারনের কোন কাজ করতে পারি না।এজন্য আজকে
হাতে কোন টাকাও নাই।
আর ঘরে কোনো চাল ও নাই।
কি খাবো আজ।আমি নয় খাবার না খেয়ে আজকে থাকতে
পারবো কিন্তু আমার ছেলে মেয়ে গুলো তো না খেয়ে
থাকতে পারবে না।
এসব চিন্তা করছে আব্বাছ মিয়া।
.
-আর তখনি আব্বাছ মিয়ার বউ এসে বলে..... ঐ বাড়ির রফিক মিয়া পাট
কাটবে তাই তোমাকে যেতে বলছে।
তুমি তারা তাড়ি যাও।
আল্লাহ একটা কাজের ব্যবস্তা করে দিছে।
শুকরিয়া আদাই করতে করতে যাও।
আর একটা কথা কাজ শেষ করে
টাকা টা নিয়ে চাল, ডাল কিনে নিয়ে আইসো।
-আচ্ছা নিয়ে আসবো।
তবে এতোখন তুমি এই
ছেলে মেয়ে গুলো কে সামলাবে কি করে?
-সেটা তোমার চিন্তা করতে হবে না।তুমি যাও এখন।
তারা তাড়ি আইসো কাজ শেষ করে।
-ঠিক আছে আমি এখন যাই।
.
আব্বাছ মিয়ার তিন জন ছেলে মেয়ে।
দুই টা মেয়ে আর একটা ছেলে।
মেয়ে দুটো বড়..... এক টার বয়স ১২ বছর আর একটার বয়স ৯
বছর।
আর ছোট ছেলের বয়স ৫ বছর।
এই ছেলে মেয়ে গুলো।
এখন কার যুগের অন্য ছেলে মেয়ের মতো না।
তারা বাপ মার দু:খ বুঝে।
তাই তাদের চাহিদাও অনেক কম।
বাপ মা যা দেয় তাই খুসি তে নেয়।
যেমন।
এবার এই ঈদে তিন জন কে মাএ তিন হাজার টাকার পোষাক কিনে
দিছে।
বাপ মা যা পছন্দ করে দিছে তাই নিয়েছে।
ছোট ছেলেটার জন্য..
একটা সার্ট একটা প্যান্ট আর একটা গেঙ্জি এরং এক জোড়া জুতা
কিনে দিছে.....
এক হাজার টাকা দিয়ে এতো কিছু কিনে দিছে। অবাক কান্ড।
এসব কিছু নিউ মারর্কেট থেকে কিনে নাই তারা কিনেছে
ফুত পাত থেকে।
আর দুই মেয়ের জন্যও দুই হাজার টাকা দিয়ে অনেক কিছু কিনে
দিছে ফুত পাত থেকে।
আব্বাছ মিয়ার ছেলে মেয়ে গুলো এগুলো পেয়ে অনে
খুসি।
তাদের ঈদ টাও অনেক ভালো কাটছে।
.
-এখন বাজে সকাল ১১ টা বেজে ২৫ মিনিট
মা ক্ষুধা লাগছে ভাত দাউ।
তিন জন ছেলে মেয়ে ভাত চাচ্ছে।
-ওর বাপ বাজারে চাল, ডাল কিনতে গেছে।
(মিথ্যা কথা বললো)
ওর বাপ আসুক চাল ডাল নিয়ে তার পরে খাইস।
কিন্তু তর বাপ এতো দেড়ি করতাছে কেন সেটাই তো
বুঝতেছি না।
-মা আমি তাইলে বাজারে যাই আব্বা রে আইগিয়ে নিয়ে আসি?
-না তর আর বাজারে যেতে হবে না।হাড়াইয়া যাইতে পারিস।
একটু পরেই তর বাপ এসে পড়বে।
.
-ছেলে মেয়ে গুলো ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদতাছে।
কাঁদবে না কেন
সকালে খাওয়া এখনো খাই নি।
এখন বাসে দুপুর ১ টা বেজে ১২ মিনিট।
.
আর ঐ দিক দিয়ে আব্বাছ মিয়া
অনেক দূতো কাজ করছে কিন্তু কাজ শেষ হচ্ছে না।
আব্বাছ মিয়া ভাবে আজকো মনে হয় আমার কাজ শেষ হবে না।
এখন বাজে ৪ টা।
আব্বাছ মিয়ার কাজ শেষ হয়েছে।
.
-রফিক ভাই কাজ তো শেষ।
একটা কথা বলবো?
-হয় বল?
-টাকা টা যদি দিতেন।
তাহলে ছেলে মেয়ের জন্য চাল. ডাল নিয়ে বাড়িতে যেতে
পারতাম।
আমার ছেলে মেয়ে গুলো এখনো না খেয়ে রয়েছে।
(কাঁদতে কাঁদতে বললো আব্বাস মিয়া)
-রফিক মিয়া আর না করতে পারলো না।
সাথে সাথে ঘর থেকো এক হাজার টাকা এনে আব্বাছ মিয়াকে
দিলো।
-এতো টাকা কেন?
আমার তো পাঁতশো টাকার কাজ করা হয়েছে।
-সব গুলোই টাকা আমি তোমাকে দিলা।
আজকে বাড়িতে ডাল নিবা না
একটা মুরগি কিনে নিয়ে যাবা।
তাই তোমাকে পাঁতশো টাকা বেশি দিলাম।
-আচ্ছা আপনার দাওয়াত
আমার বাড়িতে যাওয়ার জন্য?
-আচ্ছা রাতে যাবো।
.
-আমি এখন যাই।
-আব্বাছ মিয়া বাজারে গেলো।
তার পর চাল কিনে মসল কিনে একটা মুরগি কিনে বাড়িতে
আসলো।
-বাবা তুমি মুরগি নিয়ে আইছো।
কতো দিন ধরে মুরগি খাই না।
সেই ঈদের দিন খাইছিলাম।
আব্বাছ মিয়ার ছেলে মেয়ে গুলোর মুরগি আর চাল দেখে সারা
দিনের না খেয়ে থাকার ক্ষুধা এক নিমিসেই শেষ হয়ে গেছে।
.
-রাতে রফিক মিয়া আব্বাছ মিয়ার বাড়িতে আসলো।
এক সাথে খাবার খেলো।
তার পর কিছু টুক টাক কথা বলে
রফিক মিয়া চলে গেলো।
-যাওয়ার আগে একটা কথা বলে গেছে।
গরিবের দু:খ কষ্ট কেউ বুঝে না।
যে গরিব সেই বুঝে জীবন টা কতো কষ্টের।
কতো কিছুর সাথে যুদ্ধ করে
এই জীবনে চলতে হয়।
গরিবের দু:খ কষ্ট যদি বড়লোকেরি বুঝতো।
তার পরে যদি তাদের কোটি কোটি টাকা থেকে কিছু দিয়ে
সাহায্য করতো তাহলে দেশে আর কেউ গরিব থাকতো না।
-কিন্তু আমাদের মতো গরিবের কষ্ট কেউ বুঝে না।
..
......সমাপ্ত.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now