বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছুয়েঁ জোছনার ছায়া (শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X বসার ঘরে চোখ পড়তেই ভ্রু কুচকে গেল অর্নবের | আজ রাতে চাদঁ এর বদলে সূর্য উঠবে নাকি | ভাই-ভাবি,পোলাপান দেখি সব একখানে | মেজভাবি ওকে দেখা মাত্রই শুরু করে দিল সুপরিচিত ঘ্যানানি,এইযে টো টো বাবাজি বাইরে বাইরে কি কর সারাদিন? মদ জুয়া আর কত ! অর্নব খেপলো না,একদমই না | একটুতেই খেপার পাত্র ও নয়,বরং কেমন মজা লাগছে | - তোমার আম্মাজানকে পাওয়া যাচ্ছে না দুপুর থেকে | - হয়ত বাজারে গেছে আপকামিং পান মশলার খোজ করতে | এসে পড়বে সময়মত | - তা হলে তো হতই,কিন্তু চিঠি লিখে গেছে একটা ! - কি লিখছে? আমি বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি,আর আসব না | এই টাইপের? - হুম -ও,তবে আমার এসে তো কোন কাজ হল না | আম্মার কাছেই আসছিলাম,পান খেতে | হরেক মশলা দিয়ে পান,খুব খেতে ইচ্ছে করছিল | থাক,যাই |মেজভাবি রাগে কটমট করছেন,যতসব আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছি আমি ! বাড়ির সবগুলা একেকটা আস্ত আহাম্মক ! সোফার একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা অর্নবকে দেখছে তাশফি,অনেকক্ষন ধরে | অর্নব মাথা নামিয়ে আছে, তাশফিকে দেখতে পায়নি | তাশফির খুব,একদম ভীষনভাবে ইচ্ছে করছে এই বোকাসোকা চেহারার ছেলেটাকে অনেক আদর করতে,ইচ্ছেমত |হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হওয়ার কারণটা ও নিজেই জানেনা,অত জানতে ইচ্ছেও হয় না |সামনে দাড়িয়ে থাকা তাশফিকে দেখে একটু ঘাবড়ে অর্নব বলল,শাড়িটা এখনো পড়ে আছো? - হুম কেন,খুব বেশি সুন্দর লাগছে? - তোমার আব্বু কোথায়? - আব্বু আসবে কোথ্থেকে,আব্বু তো বিদেশ | - ওহ সরি,ভুল হয়ে গেছে | ইয়ে মানে আম্মু... - আমার বড়খালা আজ হসপিটাল থেকে রিলিজ পেয়েছে তো তাই অফিস শেষে আম্মু তার বাসায় গেছে | আজ রাতে ফিরবে না বলেছে | - তারমানে পুরা বাড়িতে তুমি একা? - হুম | না না,কাজের মেয়েটা আছে তো | - ভালই হয়েছে,বেশি লজ্জা পেতে হবে না | - বিড়বিড় করে কি বলছেন স্যার? - তাশফি আমি দু'প্লেট ভাত খাব | বাসায় আম্মা নেই তো তাই খেতে পারিনি....আর আমার ঐ বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা | কোথায় গেছে কে জানে | দিতে পারবে,খুব খিদে লেগেছে জানো | - এক্ষুনি আনছি | এক দৌড়ে রান্নাঘরে এসে পড়ল তাশফি | আর এক সেকেন্ড ওখানে থাকলে,স্যার চোখের পানি দেখে ফেলত | একটা মানুষ এত সরল হয় কি করে? অতিরিক্ত মায়ায় পড়লেও যে চোখে পানি এসে ভরে যায়,তা আজ প্রথম জানলো মেয়েটা | রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিকশার এদিক ওদিক ছুটে চলা | পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিকশা সবকিছুর ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা ! সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে একটা বোকাসোকা চেহারার ছেলে | ছেলেটানা একটু একটু করে ঘামছে | কারণ পাশে থাকা শাড়ি পড়া মেয়েটা তার একটা হাত শক্ত মুঠোতে ধরে আছে | যে মুঠো থেকেই ডানা ঝাপটাচ্ছে শুভ্র এক মায়াপাখি |


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now