বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
---তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।ওরা
এক্ষুনি এসে
পড়বে।উফফ!!!তোকে নিয়ে আর
পারিনা...
আম্মু আমাকে কথাগুলো বলে যেমনি
হন্তদন্ত
হয়ে এসেছিল তেমনি আবার হন্তদন্ত
হয়ে চলে
গেল।
.
আমি আমিরা।দুই বোন,এক ভাইয়ের মধ্যে
আমি
দ্বিতীয়।আমি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছি।
আমার বড়
ভাইয়া একটা মাল্টিন্যাশনাল
কোম্পানিতে উচ্চ পদে
আছেন।আর আমার ছোট বোন ক্লাস টেন
এ
পড়ে।আমার আব্বু নেই।
.
আজ আমাকে ছেলে পক্ষ দেখতে
আসবে।তাই
আম্মু আমাকে কথাগুলো বলল।আম্মু আজ খুব
খুশি।
কারণ আমি দেখতে কালো হওয়ায়
আমার জন্য
তেমন কোন বিয়ের সম্বন্ধ আসেনা।আর
আসলেও তেমন কোন ভাল পাত্র পাওয়া
যায়না এবং
আমাকে দেখার পর না করে দেই।কিন্তু
আজকে
যে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে সে
ছেলে
নাকি ব্যাংকে জব করে।তাই আম্মু আজ
খুব খুশি।
.
যতবার ছেলেপক্ষ আমাকে দেখতে
এসেছে
ততবার আম্মুর মুখটা চাঁদের মতো উজ্জ্বল
হয়ে
যায়।সারাক্ষণ ঠোঁটের কোণে এক
চিলতে হাসি
লেগেই থাকে।তখন আম্মুকে খুব অচেনা
মনে
হয়।মনে হয় আম্মু সেই আম্মু নই যার চোখে
আমি আমার জন্য কান্না দেখি।
চিন্তার চাপ দেখি।
আম্মুকে সে হাসিমাখা মুখে দেখতে
খুব ভাল
লাগে তখন।
.
আবার যখন আমাকে ছেলেপক্ষ দেখার
পর না
করে দেই তখন আমি সেই আমার আম্মুকে
দেখতে পাই।যে আমার জন্য
কাঁদে,আমাকে নিয়ে
যার এতো চিন্তা। তখন আমি আম্মুকে
জড়িয়ে ধরে
শান্তনা দিই।মা-মেয়ে কেঁদে মনের
কষ্টগুলো
দূর করি।
.
আম্মুর ঝাড়িতে চমকে বাস্তবে ফিরল
এলাম।আম্মু
বকা দিচ্ছে এবং আমাকে রেডি করে
দিচ্ছে।
আম্মুর বকা শুনতে আমার খুব ভাল লাগে।
---এতক্ষণ লাগে শাড়ী পড়তে?কতবার
শিখিয়ে
দিতে হবে তোকে?ওরা তো এক্ষুনি
এসে
পড়বে।এখনও মুখের সাজগোজ করিসনি?
আর পারিনা
তোকে নিয়ে।
---শাড়ী পড়ানো শেষ হলে সাজটা
করে নিবো।
তুমি এত চিন্তা করনা তো।
---চিন্তা কি শুধু শুধু করি।তোর
বিয়েটা ঠিক হলেই আমি
শান্তি পাই।
.
ছোট বোন বলল,
--আম্মু ওরা চলে আসছে।
--আসতেছি।তুই তোর আপুকে একটু
সাজিয়ে দে
তো।
কথাগুলো বলে আম্মু চলে গেল।
.
এখন পাত্রপক্ষের সামনে বসে আছি।
জানি,আজো
না করে দিয়ে সবাই চলে যাবে।
আবারও আম্মুর
কান্না ভেজা চোখ দেখতে হবে।
মাঝে মাঝে
মনে হয়,কালো হয়ে জন্মানোটা বড্ড
পাপের।
যেটা বড় হওয়ার পর থেকে প্রতিটা
পদে পদে
উপলব্ধি করতে পারছি।
.
আমার সব ভাবনাকে মিথ্যে করে
দিয়ে ছেলের মা
বলল,
---মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে।
আমি সপ্ত আর্চর্য কিছু দেখার মত করে
মহিলার
দিকে থাকালাম।নাহ্।এই মহিলা
মিথ্যে বলতে পারেনা।
কিছু কিছু মানুষকে খালি চোখে
দেখলেও তার
আসল মর্মটা বুঝা যায়।এই মহিলাও ঠিক
এমটাই।
.
ছেলেটার দিকে একবারও থাকানো
হয়নি।কিছুটা
লজ্জা আর কিছুটা নিজের দুর্বলতা।
নিজের কালো
রুপটার জন্য কখনও কোন ছেলের সাথে
বন্ধুত্ব
করিনি।তাই কিছুটা লজ্জা লাগছে।
ছেলের মামা বলল,
---ইমরান,মেয়ের সাথে আলাদা কথা
বলতে চাই।যদি
আপনাদের কোন আপত্তি না থাকে।
---না না।আপত্তি নেই।আমিরা,ওকে
তোর রুমে
নিয়ে যা।
.
ছেলে কথা বলতে চাই শুনে ভয়ে বুক
ধরফর
করে উঠল।না জানি,আমার চেহারা
নিয়ে কি বলে।তবুও
ছেলেটাকে আমার রুমে নিয়ে
আসলাম।
.
দুজনই চুপচাপ দাড়িয়ে আছি।কিছুক্ষণ পর
ছেলেটা
বলল,
---তোমার নাম কি?
---আমিরা।
---একটা জিনিস লক্ষ্য করছি সে প্রথম
থেকেই।তুমি
মাথাটা নিচু করে আছো।একবারও
আমার দিকে
থাকাওনি।তোমার কি এই বিয়েতে
মত নেই?
.
ছেলেটার এমন কথা শুনে আমি অবাক
না হয়ে
পারলামনা।মুখটা তুলে সোজা
ছেলেটার দিকে
থাকালাম।ছেলেটাকে দেখে
কিছুটা চমকালাম।
এইতো সেই ছেলে যাকে দেখে আমার
মনে
ভালো লাগার সৃষ্টি হয়েছিল।প্রথম
কোন ছেলের
দিকে থাকিয়েছিলাম অনেক ভালো
লাগা নিয়ে।
.
ভার্সিটি যাওয়ার পথে প্রায় সময়
একটা ছেলেকে
দেখতাম।কোনদিন কথা হয়নি।
ছেলেটাকে খুব
ভালো লাগত দেখতে।ছেলেটাকে
ভাল লাগার
একমাত্র কারণ হলো অদ্ভুদ সুন্দর তার চোখ
জোড়া।কোন ছেলের চোখ যে এত সুন্দর
হয় আমি আগে দেখিনি।প্রথম আমি
তাকে
দেখেছি।কালো হওয়ায় কখনও সামনে
গিয়ে তার
সুন্দর চোখের প্রসংসা করতে পারিনি।
যদি কথা না
বলে এই ভয়ে।
.
---এমন করে আমার চোখের দিকে
থাকিয়ে
আছো কেন?আমার লজ্জা লাগে তো?
তার কথায় বাস্তবে ফিরে আসলাম।
লজ্জায় মাথা নিচু
করে ফেললাম।আমি এতক্ষণ তার
চোখের দিকে
থাকিয়ে ভাবনায় চলে গেছিলাম।
.
---চিনতে পেরেছো আমায়?
আবারো চমকালাম তার কথায়।
তারমানে সেও কি
আমাকে দেখত অগোচরে!
.
---রোজ অফিসে যাওয়ার পথে
তোমাকে
দেখতাম খুব ভাল লাগত।ভেবেছিলাম
কোনদিন
বিয়েই করবনা।কারণ সুন্দর মেয়েদের
আমি
দুচোখে দেখতে পারতামনা।সুন্দর
মেয়েদের
ঘৃণা করার একমাত্র কারণ হলো মৌ।
যাকে আমি খুব
ভালবাসতাম।
.
যখন কলেজে ভর্তি হয় তখন মৌকে প্রথম
দেখে
খুব ভাল লেগেছিল।অসম্ভব সুন্দর ছিল
সে।তার
জন্য অনেক ছেলে পাগল ছিল।মৌকে
ভাল লাগার
কথাটা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি।
কিন্তু আমার খুব
কাছের একজন বন্ধু বলল,
---মেয়েটা সুন্দর। তার জন্য অনেক
ছেলে
পাগল।সে তোকে পাত্তা দিবেনা।শুধু
শুধু তাকে
ভেবে কষ্ট পাসনা।
সেদিন আমি তার কথা না শুনে
মৌকে প্রপোজ
করেছিলাম।
মৌ আমার কাছ থেকে একদিনের সময়
চেয়েছিল।
বলেছিল,
---আমি কাল সবার সামনে তোমার
উত্তরটা দিবো।তুমি
কাল ঠিক ৯টাই কলেজে এসো।
.
তখন আমি বুঝতেই পারিনি পরদিন
আমার জন্য কত কিছু
অপেক্ষা করছে।সেদিন রাতে ভালো
করে
ঘুমাতেই পারিনি।শুধু
ভেবেছি,উত্তরটা হ্যাঁ হবে
তো!সবার সামনে নিশ্চয় আমাকে
ভালোবাসার কথা
বলবে।তাই আমার কাছ থেকে সময়
নিয়েছে।
সারারাত ভেবে ভেবে
কাটিয়েছিলাম সেদিন।
.
পরদিন খুব সকাল সকাল রেডি হয়ে ৮টাই
কলেজে
গিয়ে উপস্থিত হলাম।সময় যেন
কাটছেইনা তখন।
অবশেষে মৌ এসে হাজির।সবাইকে
ডেকে বলল,
---তোমরা সবাই শুনো,এই ছেলেটা
কাল আমাকে
প্রপোজ করেছে।এখন তোমরা বলো,এ
ছেলে আমার ভালোবাসা পাওয়ার
যোগ্য?আমার
সৌন্দর্যের দাম এত সস্তা নয় যে
তোমার মত একটা
ছেলেকে ভালোবাসব।অনেক
হ্যান্ডসাম
ছেলে আমার পিছনে ঘুরে যাদের
আমি পাত্তা
দিইনা।সে ক্ষেত্রে তুমি কিছুইনা।
.
সেদিন খুব অপমান করেছিল সবার
সামনে।সে
থেকে সুন্দর মেয়েদের আমি খুব ঘৃণা
করি।শুধু
সুন্দর মেয়েদের না সব মেয়ে জাতির
উপর
প্রচন্ড ঘৃণা জন্মেছিল।কিন্তু তোমাকে
দেখার পর
কেমন যেন আবার কোন মেয়ের উপর
বিশ্বাস
রাখতে ইচ্ছে হচ্ছিল।তাই তোমার সব
খবর
নিয়েছিলাম তোমার বান্ধুবিদের
কাছ থেকে। সব
খবর নিয়ে আমি আমার আম্মুকে তোমার
কথা বলি।
.
আম্মু খুব অবাক হয়েছিল আমি বিয়ে করব
শুনে।
কারণ আব্বু আম্মু এতদিন আমাকে
অনেকভাবে
বুঝিয়েছে বিয়ে করার জন্য।কিন্তু
আমি তাদের
কথায় রাজি হয়নি।আম্মু খুব খুশি আজ।
.
---আমিরা,তোমার আমাকে পছন্দ
হয়েছে তো?
এতক্ষণ তার কথা শুনছিলাম।শেষের
কথাটায়
নিজেকে ধরে রাখতে পারলামনা।
কেঁদে দিলাম।এটা
কষ্টের কান্না না।এটা সুখের কান্না।
আজ এই
মুহূর্তে নিজেকে একটুও কালো মনে
হচ্ছনা।বরং
অনেক রুপবতী মনে হচ্ছে।আমি তাকে
বলে
দিলাম,
---খুব পছন্দ হয়েছে।
না বলা কথাটাও বলে দিলাম।
---আপনার চোখ দুটো খুব সুন্দর। ভার্সিটি
যাওয়ার
পথে আমি আপনার চোখ জোড়া
দেখতাম।এত
সুন্দর চোখ আমি কারও কাছে দেখিনি।
আমার কথায় ছেলেটা হেসে দিল।
আমি ছেলেটা
বলছি কেন,তার নাম তো ইমরান।তার
হাসিতে আমিও
হেসে ফেললাম।
.
আমাদের বিয়ের আজ একবছর পূর্ণ
হয়েছে।
কিছুদিন পর আমাদের দুজনের মাঝে
আরেকজন
আসতে চলেছে।তাই আজ আমরা দুজন
অনেক
খুশি।আমরা চাই সারাজীবন আমরা যেন
এইভাবে সুখে
জীবনযাপন করতে পারি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now