বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-এটা কিন্তু ঠিক না (মাহি)
> কি ঠিক না (তপু)
-এইযে প্রতিদিন আমার পিছনে লেগে থাকা। (মাহি)
> তাহলে এখন থেকে কি সামনে লেগে থাকতে হবে (তপু)
-আপনি আপনার ওই ট্যারা চোখে আমার দিকে তাকাবেন না আর। (মাহি)
> আমার টা ট্যারা চোখ হলে আপনের টা কি? (তপু)
-আমার টা অনেক ভালো(মাহি)
> আপনের চোখ একদম কূটনী মেয়েদের চোখের মতন।
-কিইই,আমার চোখ কূটনী মেয়েদের চোখের মতন।
> হ্যাঁ।
-তাহলে এই চোখের দিকে তাকিয়ে থাকেন কেনো?
> তাঁকানো কি নিষেধ আছে নাকি।
-হ্যাঁ আছে।
> আমি ওইসব মানবো না,আমি তাঁকাবো।
- কেনো তাকাবেন চোখটাতো আমার।
> চোখ আপনের কিন্তু প্রেম আমার।
-প্রেম মানে।
> ওই চোখের প্রেমে পড়ে গেছি।
-টাকা দেন তাহলে।
> কেনো?
-এতো কষ্ট করে এই সুন্দর চোখের যন্ত নিতাছি,সেইজন্য টাকা দিতে হবে।
> কতটাকা দিতে হবে।
-অনেক টাকা।
> আমার ভালোবাসাকে টাকা দিয়ে কিনতে চান, আমার ভালোবাসার চেয়ে দামী কিছুই নাই,সেটা আপনি টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন না।
-এখানে ভালোবাসা কোথা থেকে আসলো।
> মনের গভীর থেকে এসেছে,
আর ওই চোখের মেয়েটাকে ভালোবাসি।
-ধুরর পাগল নাকি আপনি।
> হ্যাঁ পাগল।
-পাগলের সাথে কথা বলিনা আমি।
> তাহলে দাড়িয়ে আছেন কেনো চলে যান।
.
মাহি রাগ দেখিয়ে তপুর কাছে থেকে চলে গেলো।
প্রতিদিন মাহি তপুর কাছে এসে কিছু বকাবকি করে চলে যাবে।
তপু মাহিকে খুব ভালোবাসে,কিন্তু মাহি তাকে ভালোবাসে কিনা সেটা তপু
আজও সঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারেনি।
তবে মাহির আচরনে বুঝা যায় মাহিও তপুকে খুব ভালোবাসে।
কিন্তু মুখ ফুটে বলে না।
.
.
-এইযে মিষ্টার এতো রাতে ফেইসবুকে কি করেন। (মাহি)
> মেয়ে খুজি (তপু)
-মেয়ে দিয়ে কি করবেন।
> প্রেম করবো।
-শখ কত।
> অনেক সখ।
-খুজে পাইলেন কি মেয়ে।
> একজনকে পটিয়ে ফেলেছি,এখন শুধু বলতে পারলেই হলো।
-কি বলবেন।
> ভালোবাসি।
-বললে আপনের খবর আছে।
> কয়টার খবর।
-আপনি মেয়েটাকে বল্ক মেরে দেন।
> পারবনা ।
-দেন বলছি বল্ক করে।
> অনেক কষ্টে পটিয়েছি এখন বল্ক দিতে পারবো না।
-দিবেন না তাহলে।
> না।
-কালকে তুই কলেজে আছিস কি করা লাগে সেটা বুঝাই দিবো।
মাহি আর কোন রিপ্লে না দিয়ে ফেইসবুক থেকে চলে গেলো।
তপু অনেকগুলো মেসেজ দিয়েও আর কোন রিপ্লে পেলো না।
তপু বুঝতে পেরেছে মাহি রেগে গিয়েছে।
.
তপু ফেইসবুকে একটা পোষ্ট করে ঘুমিয়ে পড়ে,
পোষ্টটি ছিলো,
যে আমাকে এক প্লেট ফুচকা কিনে খাওয়াবে সেই মেয়েকে আমি ভালোবাসি বলবো।
অনেকের রিপ্লে দেখে তপু,অনেকেই রাজী হয়েছে।
তপু কারো কমেন্টের রিপ্লে না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
.
.
সকালে তপু ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নেয়।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে মাহির নাম্বার থেকে ১৮ টা মিসকল,
মাহি কল দিয়েছিলো কিন্তু রিসিব না করার কারনে সেটা মিসকল হয়ে গেছে,
আর ৪ টি ম্যাসেজ।
ম্যাসেজে লিখা আছে,
তুমি সকাল দশটার ভিতরে কলেজের ক্যান্টিনে যোগাযোগ করবে।
হটাৎ মাহি আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে।
তাহলে এই রকম পোষ্ট করার কারনে ভালো কাজ হয়েছে।
.
তপু ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে কলেজের উদ্দেশ্য করে বেরিয়ে পড়ে। দশটার ভিতরেই ওখানেই পৌঁছে যায় তপু।
তপুকে কলেজের অনেক মেয়েই পছন্দ করতো,সেইজন্য সবাই তপুকে ফুচকা খাওয়াতে চাই।
তপু সবাইকে বলে পরে খাবো এখন একটু বাস্ত আছি,
তপু ক্যান্টিনে তাকিয়ে দেখে মাহি আগে থেকে চলে আসছে,তপু
ওখানে গিয়ে দেখে মাহি বসে আছে,
দুর থেকে ওকে দেখে বুঝা যাচ্ছে মাহি অনেক রেগে অাছে।
রাগ তো হবেই,ভালোবাসা বলে কথা।
-কি জন্য ডেকেছেন এখানে (তপু)
> তোমাকে বসতে বলেছি আমি,
এখানে দাড়িয়ে থাকো,আর তুমি করে বলো। (মাহি)
-দাড়াতে হবে।
> হ্যাঁ।
-তপু দাড়িয়ে পড়লো।
> কি শুরু করেছো তুমি।
-কি শুরু করলাম আবার।
> কি পোষ্ট করেছো রাতে।
-মনে নাই তো।
>মনে করিয়ে দিতে হবে তাহলে।
-বসে থেকে মনে করি।
>না দাড়িয়ে থেকে মনে করো।
-মনে পড়েছে ।
> তাহলে এসবের মানে কি?
-ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছিলো তাই ওটা করেছি,আর কেউ যদি আমার সাথে প্রেম করতে রাজী হয় তাহলে আমিও রাজী। এক কথায় এক ঢিলে দুই পাখি।
দেখলেনা সবাই কিরকম করছিলো ফুচকা খাওয়ানোর জন্য।
> কি বললে।
-হ্যাঁ, সত্যি কথায় বললাম।
>এবার বসো।
-তপু চেয়ারে বসে পড়লো।
.
.
-এই মামা ফুচকা দেনতো দুই প্লেট। (মাহি)
> আমার মানিব্যাগ ফাঁকা, আমি টাকা দিতে পারবো না কিন্তু। (তপু)
-টাকা দিতে হবে না।
>তাহলে খাওয়া যায়।
-কিপ্টা কোথাকার।
> কি বললে তুমি।
-কিপ্টা বলেছি ।
> খাবো না ফুচকা।
-খেতে বলেছি।
> কিপ্টা বললে কেনো তাহলে।
-আমার ইচ্ছা।
> আমারো ইচ্ছা খাবো না।
-খাও বলছি।
> কোন অধীকারে খাবো।
-ভালোবাসার অধীকারে।
> মানে কি।
-ভালোবাসি।
> কাকে।
-কিপ্টাকে।
> আবারো।
-একশোবার বলবো।
> মামা আরো পাঁচ প্লেট দেন ফুচকা।
-টাকা কে দিবে।
> তুমি তো বড়লোক,তাই বিলটা তুমিই দেবে।
-তাহলে ফেসইবুক আইডিটা দাও এখন।
> কি করবে।
-দেখবো কয়জনের সাথে প্রেমলীলা চলছে।
> আগে খেয়ে নিই তারপরে দেবো।
-এখন দাও।
> খাওয়ার পরেই দিচ্ছি।
-আচ্ছা খেয়ে নাও।
আর হ্যাঁ আজকে থেকে যা বলবো তাই শুনবে,আর মেয়েদের থেকে সবসময় দুরে থাকবে।
> মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলাম।
আর ফুচকা খেতে ব্যাস্ত থাকলাম।
.
যাক বাঁচা গেলো,খাওয়ার আগে আইডি দিলে ফুচকা আর খাওয়া হতো না,একদম একশো বার কানধরে উঠবস করা লাগতো।
তবুও মাহি মাফ করতো কিনা কে জানে।
মেয়েটা আমাকে অনেক ভালোবাসে,
আমিও ভালোবাসি।
কিন্তু আজকে থেকে নতুন করে শুরু হলো।
আর ফেইসবুকে
অনেক জনের সাথে চ্যাটিং আছে,কি যে হবে,কে জানে,
যায় হোক হবে আগে ফুচকা খেয়ে নিই পরে ভালোবাসা দিয়ে সব রাগ মিটিয়ে দিবো,
মাঝে মাঝে এমন বুদ্ধী বের করতে হবে, তাহলে মাহির থেকে ফুচকা খাওয়া যাবে।
এভাবেই শুরু হয়ে গেলো তাঁদের মাঝে নতুন সম্পর্ক।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now