বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাদুর মুখে একবুক পানির কথা শোনার সাথে সাথে আমার সম্বিৎ ফিরে এলো। কুকুর তো কখনও এক বুক পানির উপর দিয়ে হেঁটে আসতে পারে না? এক হাঁটু পানিতেই যেখানে কুকুরের সাঁতার হয় সেখানে একবুক পানি তো অনেক। নিশ্চয় এটা কুকুর নয় অন্য কিছু। এ কথা মনে হতেই ভয়ে শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠল। সাথে সাথে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। নাদুকে উদ্দেশ্য করে বললাম, নাদু চাচা, তাড়াতাড়ি লাঠি নিয়া খাড়া হন। এ শালা তো কুত্তা না। এক বুক পানির উপর দিয়া কুত্তা আবার হাইটা আসে কেমনে?
আমার কথা শুনে নাদু সায় দিয়ে বলল, হ চাচা, ঠিকই তো! এক হাঁটু পানিতে যেহানে কুত্তার সাঁতার হয় সেইহানে এক বুক পানির উপর দিয়া কুত্তা আবার হাইটা আসে কেমনে? বলেই নাদু লুঙ্গি মালকোছা দিতে দিতে বলল, চাচা লুঙ্গি কাছা মাইরা রেডি হন। এইডা কুত্তা না, অন্য কিছু! বলেই সে বলে উঠল, এই কুত্তা, আর এক পা সামনে আসবি তো ঠ্যাং ভাইংগা ফালামু।
কিন্তু কুকুর সেই আগের মতই একই গতিতে এগিয়ে আসছে। চাঁদের আলোতে কালো লম্বা চারটি ঠ্যাং ঠিক কুকুরের মতই মনে হচ্ছে। আমিও নাদুর দেখাদেখি জোরে জোরে ধমক দিয়ে বললাম, এই কুত্তা, আর এক পা সামনে আসবি তো লাঠি দিয়া পিটাইয়া মাথা ছেঁইচা ফালামু।
আমরা যত ধমকই দেই না কেন, কোন কিছুতেই কুকুর থামছে না। কুকুর একই গতিতে আমদের দিকে হেঁটে আসছে। মুখে জোরে জোরে যাই বলি না কেন এদিকে ভয়ে আমাদের হাত পা থর থর করে কাঁপছে। ওদিকে কুকুর প্রায় একশ’ গজের মধ্যে চলে এসেছে। আমাদের থেকে পঞ্চাশ গজ দুরে সেই ভুতুরে বড়ই গাছ। যে গাছের নিচে আট দশ বছর আগে আয়তন নেছা নামের সদ্য বিবাহিতা মহিলা রাতে দুই দুইবার চিৎ হয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়েছিল। ওই ঘটনার পরে আরো অনেকেই ভয় পেয়েছে। আমরাও মাঝে মাঝে গভীর রাতে এই বড়ই গাছের নিচে আলোর নাচানাচি দেখেছি। কুকুরটি ঠিক ঐ বড়ই গাছের দিকেই চলে আসতেছে। ভয়ে শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল। মনে মনে ভাবছি আরেকটু সামনে আসলেই চাঁটাই বালিশ ফেলেই বাড়ির দিকে দৌড় দিব। নাদু একটু ফাঁকে ছিল, ভয়ে আমার কাছে এসে দাঁড়ালো। দু’জনে মিলেই খুব ধমক ধামক দিচ্ছি কিন্তু কোন কিছুতেই বাঁধা মানছে না।
বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, মাঠে এক বুক এক গলা পরিমাণ পানি তার উপরে ধান গাছ, ধান গাছও এক কোমর পরিমাণ উঁচু, তার উপর দিয়ে কুকুর হেঁটে আসছে অথচ চার, ছয় ইঞ্চি পানিতে কুকুর হাঁটলে যে রকম ছোপ ছোপ শব্দ করে সেই রকম পানিতে হেঁটে আসার শব্দ হচ্ছে। এই ভৌতিক দৃশ্য দেখে ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠল। কুকুর প্রায় বড়ই গাছের কাছাকাছি এসেছে। নাদু আমকে উদ্দেশ্য করে বলল, চাচা আর থাকা ঠিক হইবো না। এবার বাড়ির দিকে দৌড় দ্যান।
দৌড় দিতে যাবো এমন সময় আমাদের বাড়ির সামনে থেকে বাবার কণ্ঠ শোনা গেল। বাবা নাদুকে ডাক দিয়ে বলল, এই নাদু কি হইছেরে?
নাদু জবাব দিল, দাদা একটা কুত্তা পানির উপর দিয়া আমাগো দিকে আইতেছে। ধমক দিলেও থামে না।
এ কথা শুনে বাবা ডাক দিয়ে বলল, তোরা দুইজন ঐহানেই থাক, আমি আইতেছি।
বাবা কিছুদুর এসে বলল, এই নাদু, কুত্তা কি এহনও আইতেছে রে?
নাদু বলল, হ দাদা, এহনও আইতেই আছে। থামে নাই।
নাদুর কথা শুনে বাবা কুকুরকে উদ্দেশ্য করে বলল, কি- রে-- পোলাপানে মাছ ধরবার আইছে তর সহ্য হইল না, না-- হ ? ভয় দেহাইবার আইছস। যেহান থাইকা আইছস সেইহানে ফিরা যা, নইলে কিন্তু লাঠির পেটন খায়া মরবি। মনে করছোস আমি ঘুমাইয়া গেছি না-- হ? বলেই জোরে জোরে তিনটা গলা খাকারী দিতেই কুকুর থেমে গেল।
কুকুর থেমে যাওয়ায় পানির উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ানোর ছোপ ছোপ শব্দও বন্ধ হয়ে গেল। বাবা আবার নাদুকে জিজ্ঞেস করল, কিরে নাদু, কুত্তা কি এহনও আইতেছে না থামছে?
নাদু বলল, দাদা কুত্তা থামছে।
বাবা বলল, খালি থামলে তো হইবো না। যেহান থাইকা আইছে হেইহানে যাইবার ক--। বলেই বাবা কুকুরকে উদ্দেশ্য করে বলল, কিরে ফিরা যাবি, না আমার হাতের পিটন খাবি? একথা বলেই বাবা আবার জোরে গলা খাঁকারি দিলো। বাবার গলা খাঁকারী শুনে কুকুর বাবার দিকে ফিরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থকল এরপর আস্তে আস্তে যে দিক থেকে এসেছিল সেদিকেই চলে গেল।
বাবা ইতমধ্যেই আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছেন। কুকুর পিছন ফিরে কিছুদুর যাওয়ার পরেই আর কোন সাড়া শব্দ নেই। ভাল করে তাকিয়ে দেখি কুকুরের কোন চিহ্নই আর দেখা যায় না।
বাবা আবার কুকুরকে উদ্দেশ্য করে বলল, কই গিয়া মিশা গেলিরে? এই এলাকায় আর যেন না দেহি। সোজা ঠাকুরের ভিটায় চইলা যা।
ঠাকুরের ভিটা মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত। ভিটাটি সম্পূর্ণ পোড়ো ভিটা। আগাছা এবং নানা ধরনের গাছগাছালিতে ভরা। রাতের আঁধারে মাঝে মাঝে ভুতের আলো জ্বলে উঠে। ঠাকুরের ভিটায় আলো জ্বলে এক জায়গায় থাকে না, মাঝে মাঝে সোজা গাছের উপরে উঠে যায় আবার সরাৎ করে নিচে নেমে আসে। যে কারণে এই ভিটাকে সবাই ভুতুরে ভিটা হিসাবে জানে। সন্ধ্যার পরে ঐ ভিটায় কেউ মরে গেলেও একা যায় না।
কুকুরকে ধমক দিয়ে বাবা আমাদের বলল, চাটাই আর বালিশ নিয়া বাড়ি যা। বাকী রাত আর থাকার দরকার নাই। ওই হারামজাদা মাছ খাইতে আইছিল, আবার আইতে পারে।
নাদু মাছসহ চাঁইটি পানি থেকে উঠিয়ে আনল। চাই পানির উপরে উঠাতেই অনেক মাছ একসাথে ফরফর শব্দ করে লাফাতে লাগল। আমি বালিশ দু’টি দু’হাতের বগলতলায় নিয়ে নিলাম। বাবা চাটাই গুছিয়ে হাতে নিয়ে নিলে তিনজনই বাড়ির দিকে রওনা হলাম।
ঐ ঘটনার পর আর কখনও এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি। তবে অবাস্তব ভুতের বাস্তব চেহারায় এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি দেখার পরে, ভুত বলে কিছু নেই এটা বিশ্বাস করলেও ভৌতিক দৃশ্যটি ভুলতে পারছি না। কারণ এক বুক পানিতে এক কোমর পরিমাণ উঁচু ধান গাছের উপর দিয়ে এই কুকুর কিভাবে হেঁটে আসলো আবার কিছুদুর গিয়ে কিভাবে স্বশরীরে মিলিয়ে গেল এই প্রশ্নের উত্তর আজো খুঁজে পাইনি। তবে বাস্তব ঘটনাটি আমার মনে দাগ কেটে আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now