বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্লাশ শেষ
করে
ফুটপাতের রাস্তা ধরে হাটছি।
গন্তব্য. আমতলী বরতলা।সেখানে স্টুডেন্ট
কে
পড়ানোর জন্যই যাওয়া।বরাবরের মতই পড়ার
রুমে
গিয়ে পড়াতে লাগলাম।আমি পড়াচ্ছি
কিন্তু
মেয়েটি
দেখছি আমার দিকে তাকিয়ে আছে-
→তুমি কি দেখতেছো নুপুর (মেয়েটির নাম
নুপুর )
→এ্যা, কই কিছু নাতো ভাইয়া আপনার
পড়ানো
দেখতেছি
→ও ও ও আচ্ছা
পড়াচ্ছি তো পড়াচ্ছি। একটুপর ফোন আসলো।
তমা
ফোন দিয়েছে। অমনি নুপুর বলে উঠলো-
→কে ফোন দেয় ভাইয়া?
→এ্যা, কেউনা কেউনা।তুমি পড়ার দিকে
মনোযোগ
দাও।যেগুলো পড়ালাম সেগুলো দেখ।
পড়াগুলো
মাথায় ঢুকায় নাও।পরে আবার ট্রাই
করবা,ক্যামন!!
আচ্চা তুমি অত সেজেগুজে থাকো ক্যান
সবসময়?
→কই সাজগোছ করি ভাইয়া!আমি তো জাস্ট
পাউডার
পাপ,লিপস্টিক আর কাজল দিয়েছি।
→না না, সুন্দর লাগতেছে-অনেক সুন্দর
লাগতেছে।আচ্চা আজ যদি এই পর্যন্ত পড়াই
তুমি
পড়াগুলো মুখস্ত করে ফেলো।আমি আজ একটু
আগে বেরোই হ্যা।আমার ফ্রেন্ড অপেক্ষা
করতেছে আর তাড়াতাড়ি না গেলে
ঝামেলা।
→খুব তাড়া ভাইয়া?মানে যেতেই হবে!!
→হ্যা,না যেতে হলে কি বলতাম না।
তো,তুমি
মুখস্ত
করে রেখ, ক্যামন?
→কোনো সমস্যা হলে রাতে ফোন দিব
কিন্তু
→ফোন দিবা,ওকে দিও।কিন্তু ১২টার পর
দিওনা,আগে
দিও।
আর বাই চান্স যদি কল ওয়েটিং থাকে তো
একটু
ওয়েট করিও আমি ফোন দিব,ওকে?
→ওকে
.
.
.
অতপর,রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলাম তমার
দেয়া ঠিকানায়।দেখলাম তমা খাবার
অর্ডার
দিয়ে মুখ
গোমরা করে বসে আছে।বুঝতে পারলাম খুব
রেগে আছে।পাশে গিয়েই-
→বাবু,সো স্যরি। তুমি রাস্তাটা দ্যাখো
একবার কত্ত
জ্যাম। পুরো জ্যামটা পার করে এসেছি।
→চুপ,একদম চুপ।কথা বলবানা তুমি।কতোক্ষণ
থেকে ওয়েট করতেছি জানো?আর আজকে
অনেকগুলো খাবার অর্ডার দিয়েছি।কে
খেতো
এগুলো?তাছাড়া,বড় ব্যাপার আজকে আমি
আমার
ওয়ালেট ভুলে রেখে আসছি।ডেভিড,ক্রে
ডিট
কার্ড কিছুই আনিনি।কতবড় একটা ঝামেলা
হত জানো?
→স্যরি বললাম তো,স্যরি।
→এই তুমি আমাকে টাচ্ করবানা একদম না
→আহ্ বাবা।আমি তোমার জন্য রাতের
বেলা
ঘুমাতে
পারিনা,স্বপ্ন দেখি তোমাকে নিয়ে-
Every night i see u,i feeeel u
i i i i love u......
→ওহ্ তাই বুঝি।বাবুটা আমায় নিয়ে
এত্তোকিছু ভাবে
জানতাম না তো।ওকে,নেক্সটে আর এমন
করবানা
→ওকে ওকে ওকে
.
.
সারাদিন আড্ডা শেষ করে বাসায় চলে
আসলাম।পরদিন
সকালে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান
শুনতেছি।
বাবা রুমে ঢুকে বলতে লাগলো-
→বাবু, কি কর?
→কিছু না বাবা
→শুনলাম তুমি নাকি টিউশনি কর?টাকা
পয়শা
কি কম দেই?
ক্রেডিট কার্ড দিছি, গাড়ি দিছি আরো
টাকা লাগলে দিব।
তারপরও টিউশনি ক্যান??
→আচ্চা বাবা বাদ দিয়ে দিব।
→আচ্চা,টাকা লাগলে বলবা,ক্যামন
→আচ্চা বাবা
একটুপর বাবা চলে গেল........
.
.
.
পরদিন আবার গেলাম টিউশনিতে।দেখলাম
পড়ার রুমে
ছাত্রী নাই।কই গেল। না পেয়ে ডাক
দিলাম-
নুপুর,
কই নুপুর..........
.
একটু পর -
→ভাইয়া আপনার চা
→আচ্চা, আজ তুমি শাড়ি পড়েছ ক্যান?
আজকে
কোনো
অকেশন নাকি?
→না ভাইয়া,আমি বড় হয়ে গেছি নাহ্।আর
নারীর
সৌন্দর্য তো শাড়ীতে।
→বড় হয়ে গেছো মানে?তোমার বয়স কত? ১৮
হয়েছে তোমার?
→ভাইয়া,আমি কিন্তু ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ছি
→বারে, ১৪-১৫ হবা।তুমি জোর করে বয়স
বাড়াচ্ছো,তাইনা?
ওকে,এখন পড়।
.
.
পড়ানো শেষে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে
বের
হলাম।হঠাৎ ফোন বেজে উঠল।দেখলাম
তমার
ফোন।শপিং করতে যাবে তাই ফোন দিছে।
মনে
মনে ভাবছি, আজ আমার পকেটের বারোটা
বাজাবে।
একটু পর শপিং করতে গেলাম।
..............
শপিং শেষে একটা হোটেলে ঢুকলাম কিছু
খাওয়ার
জন্য।রিতিমত অর্ডার দিয়ে খেতে বসলাম।
হঠাৎ তমা
বলে উঠলো-
→আচ্চা আপন,সামনে কি আসতেছে জানো?
→কই না তো, কি?
→আমার জন্মদিন
→ও ও তাই তো
→তা, কি দিবা আমাকে?
→কি চাও বলো?
→আসলে আমার হাতটা তো খালি তাই
একটা
ডায়মন্ড
এর রিং দিলেই হবে
→শুনে মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল।এই মাইয়া
বলে কি।তারপরও বল্লাম
ওকে তাই হবে
.
.
পরদিন ভার্সিটির ক্লাশ শেষ করে
ছাত্রীকে
পড়ানোর জন্য চলে গেলাম।ছাত্রীকে
বল্লাম
-
→আচ্চা ডায়মন্ড এর রিং কোথায় পাওয়া
যাবে?
→কেনো ভাইয়া?আপনি কি বিয়ে
করতেছেন?
→আরে নাহ্, এটা একটা সিক্রেট ব্যাপার
বলা যাবে না
.
.
ওমাগো,
ছাত্রী যে আমার কি বুঝলো ফরফর করে রুম
থেকে চলে গেল।বুঝলাম কাটাঘায়ে নুনের
ছিটা
পড়ছে।আসলে মেয়েটা আমায় পছন্দ করে
কিন্তু
লজ্জায় বলতে পারে না।
বুঝলাম আজ আর পড়বে না।কি আর করার রুম
থেকে
বের হয়ে চলে আসলাম বাসায়।
.
পরদিন সেমিস্টার রেজাল্ট দিবে। বাবাও
জানে
রেজাল্টের কথা।
রেজাল্ট দিছে। মন খারাপ করে শুয়ে আছি।
হঠাৎ বাবা
রুমে ঢুকে বলতেছে-
→আপন,তোমার রেজাল্টের কি হল?
→বাবা,সব ঠিক আছে কিন্ত একটা
সাবজেক্টে
ফেল আসছে!!!
→কি???এত আরামে থেকেও ফেল??দেখি,
গাড়ির
চাবিটা আর ক্রেডিট কার্ডটা দাও তো।।।
.
অতপর বাবা ওগুলো নিয়ে চলে যায়।
.
.
পরদিন তমার জন্মদিন হওয়ায় টাকা
ম্যানেজ
করতে না
পারায় দোস্তরে ফোন দিলাম।সে চলে
আসলো। তাকে সবকিছু খুলে বল্লাম আর
কিছু
টাকা
ধার চাইলাম। সেও দিয়ে দিল।সামান্য
কিছু
টাকা দিয়ে
তমার জন্য একটা ফুলের তোড়া আর একটা
বার্থডে
কেক নিয়ে চলে গেলাম উইশ করার জন্য-
→হ্যাপি বার্থডে তমা (আমি)
→থ্যাংক ইউ
→ওয়েলকাম
→কি আনছো আমার জন্য?
→লাল গোলাপ
→আর
→বার্থডে কেক
→থ্যাংক ইউ, আর ওইটা কই? ওইটা?
→কোনটা? ও ডায়মন্ড এর রিংটা?
→হুম
→আসলে ওটা ম্যানেজ করতে পারি নি,
পরে
দিব।
→মজা করতেছো না?
→না সত্যি বলছি ম্যানেজ করতে পারিনি।
সেমিস্টার
রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় বাবা সবকিছু
আটকায় রাখছে।
একটু কষ্ট করে কিছু টাকা ম্যানেজ করছি
→ক্যানো আর কিছু টাকা ম্যানেজ করতে
পারলা না?
আমার সব ফ্রেন্ডের বলে রাখছি তুমি
আমায়
ডায়মন্ডের রিং দিবা
→আচ্চা আমার ভালোবাসা তোমার কাছে
কিছু নাহ?রিং
ওই সবকিছু???
.
.
অতপর যা হওয়ার বাকি ছিল সেটাই হল।সে
চলে
গেল।একটাবারও ভাবলো না ফেলে আসা
দিনগুলির
কথা।আসলে মেয়েরা এমনি ই হয় বোধহয়।
স্বার্থ
যেখানে তারাও সেখানে।স্বার্থ নাই
তারাও নাই।
.
.
পরদিন টিউশনিতে গেলাম।ছাত্রী কে
পড়তে
দেখে ভালো লাগলো।হঠাৎ বলে উঠল-
→ভাইয়া,যা পড়াইছিলেন কমপ্লিট করতে
পারি নাই
→পড়ালেখা করে কি হবে?কে কি করতে
পারছে?
কালথেকে হয়তো আর পড়াতে আসবো না
.
কথা বলা শেষ হয়নি, তার আগেই নুপুর চলে
গেল।
হয়তো রাগ করেছে।
আমিও বসে রইলাম।হঠাৎ দেখলাম একটা
ডায়রি।টপাটপ
পড়া শুরু করলাম। (যদিওবা কারো ডাইরি
পড়া
নিষেধ)
হঠাৎ চোখ আটকে গেল কিছু লেখা দেখে।
আসলে এতোদিন যা ভাবতাম সেটাই
লেখা।
নুপুর
আসলে আমাকেই ভালোবাসে।.
.
.
কিছু বুঝতে আর বাকি রইল না।
তাদের বাসা থেকে বের হয়ে হাটছি হঠাৎ
তমার কথা
মনে পড়ে গেল। ফোন বের করে ফোন
দিলাম-
→হ্যালো,তুমি ফোন দিয়ে জ্বালাও ক্যান??
(তমা)
→স্যরি,সেদিন ভুল হয়ে গেছে।একটু সময় দাও
পেয়ে যাবে তোমার রিং।
→কিসের স্যরি? তুমি তো নিজেই চলতে
পারোনা,আমায় কিভাবে চালাবা? হু
রাখো ফোন, আর ফোন দিবানা।
.
আমিতো পুরোই অবাক
....
.
যাক,কি আর করার। ফোনটা রেখে দিলাম।
আসলে স্বার্থ
নাই তো তোমার ও প্রয়োজন নাই।
.
.
.
দিনশেষে রাত হল, রাত শেষে সকাল হল।
আবারো
ক্লাশের উদ্দেশ্যে ভার্সিটি গেলাম।
রিতিমত ক্লাশ শেষ করে টিউশনিতে
গেলাম..
কলিং বেল দিলাম, নুপুর এসে দরজা খুললো
কিন্তু
ভিতরে আসতে বল্লো না।
তখন আমি বল্লাম-
→ভিতরে আসতে পারি না?
→আসেন
→আসলে কিছু কথা বলার জন্য এসেছি।
সেদিন
তোমার লেখাগুলো পড়লাম। সব
ঠিক আছে।আমার এই ছোট্ট জীবনে যত
অভিজ্ঞতা পেয়েছি তার থেকে বুঝেছি
ভালোবাসা
চার রকমের-
১। Gf/Bf ভালোবাসা
২। পেটের দায়ে ভালোবাসা
৩। মন থেকে ভালোবাসা
৪। চোখের ভালোবাসা
এবার তুমি বল তোমার, আমার প্রতি কোন
ধরনের
ভালোবাসা বিরাজ করছে??
→ ৩ নাম্বার
→সত্যি বলছো??
→হুমমমম
.
তাহলে এই নাও ফুল এটা তোমার জন্য আর
কাল
থেকে পড়াচ্ছি।।।
পড়ানোর কথা শুনে নুপুর যেন না পাওয়া
চাঁদকে
ফিরে পেলো আর আমিও ফিরে পেলাম
হারিয়ে
ফেলা ভালোবাসা।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now