বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই অর্ধ্বচৈতন্যাবস্থা স্থায়ী ছিল অনেকক্ষণ। সেটা কেটে গেলে মনে হল আমি বোধহয় ঘুমাচ্ছিলাম। তারপর একটা গা-বমি ভাব এল–ঠিক সি-সিকনেসের প্রথম ধাপের মতো। নিজেকে কিছুর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রবল বাসনা দেখা দিল–কিন্তু কিসের থেকে সেটাই বুঝলুম না। এক প্রকাণ্ড স্থবিরতা গ্রাস করল আমাকে। মনে হল, সারা পৃথিবীটা হয় ঘুমাচ্ছে, নয় মরে গেছে–শুধু আমার কাছে বসে থাকা কতকগুলো জানোয়ারের নিঃশ্বাসের আওয়াজ সেই নৈঃশব্দের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। গলার কাছে একটা উষ্ণ বিচ্ছিরি শব্দ পেলুম, তারপর ব্যাপারটা টের পেলুম; সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদপিণ্ডটা ঠান্ডা হয়ে এল ভয়ে। একটা বিরাট জন্তু আমার উপর শুয়ে আমার গলাটা চাটছিল। ভয়ে নড়তে পারলাম না। আমার সহজাত প্রবৃত্তি আমাকে চুপটি করে পড়ে থাকতে বলল। কিন্তু মনে হল, জন্তুটা আমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন টের এল। সে তার মাথা তুলল। চোখের পাতার ফাঁক দিয়ে দেখলুম, আমার উপর এক দৈত্যাকার নেকড়ের দুটো বড়ো বড়ো চোখ জ্বল জ্বল করছে। তার ফাঁক হয়ে থাকা বিরাট মুখের মধ্যে চকচক করছে ধারালো সাদা দাঁত। তার গরম জান্তব ক্ষুরধার নিঃশ্বাস এসে পড়ছে আমার উপর।
তারপর আবার খানিকক্ষণ কিছু মনে ছিল না। তারপর একটা নিচু গলায় গোঙানির আওয়াজ শুনে হুঁশ ফিরল। খানিকবাদে একটা কুকুরের কান্নার মতো আওয়াজ শুনলাম। বারবার নতুন করে আওয়াজটা উঠতে লাগল। তারপর অনেক দূর থেকে অনেক মানুষের গলায় একটা “Holloa! holloa!” আওয়াজ শুনতে পেলুম। সাবধানে মাথা তুলে যেদিক থেকে আওয়াজটা আসছিল, সেদিকে তাকালুম। কিন্তু কবরখানাটা আমার দৃষ্টিপথের বাধা হতে লাগল। এদিকে নেকড়েটা অদ্ভুতভাবে ডেকেই চলল। তার লাল দৃষ্টি ঘুরে গেল সাইপ্রাসের ঝাড়ের দিকে; যেদিক থেকে আওয়াজটা আসছিল, সেই দিকে। কণ্ঠস্বরগুলো কাছাকাছি আসতেই নেকড়ের গর্জনও তীব্র হয়ে উঠল। ভয়ে চুপ করে কাঠ হয়ে পড়ে রইলুম। আমার চারপাশের অন্ধকারের সাদা আস্তরণের উপর একটা লাল আলোর আভাস দেখতে পেলুম। তারপর হঠাৎ গাছের আড়াল থেকে একদল মশালধারী অশ্বারোহী বেরিয়ে এল। এইবার নেকড়েটা আমার বুকের উপর থেকে উঠে কবরখানার পথ ধরল। একজন অশ্বারোহী (তার টুপি ও লম্বা সামরিক পোষাক দেখে তাকে জওয়ান বলে চিনলুম) নিজের কারবাইন তুলে তাক করল। তার এক সঙ্গী তার হাতটা সরিয়ে দিল। শুনলাম মাথার উপর দিয়ে বুলেটটা হুস শব্দ করে বেরিয়ে গেল। আগের লোকটা বোধকরি আমার শরীরটাকে নেকড়ের শরীর বলে ভুল করেছিল। আরেকজন জানোয়ারটাকে পালাতে দেখে গুলি চালাল। তারপর ঘোড়ার টগবগ শুনলুম। অশ্বারোহীর দল এগিয়ে এল–একদল এল আমার দিকে, অপর দলটা তুষারাবৃত সাইপ্রাস বনে নেকড়েটার পিছনে ধাওয়া করল।
তারা কাছে আসতে আমি উঠতে চেষ্টা করলুম, কিন্তু শরীরে বল ছিল না। যদিও আমার চারপাশে কী চলছিল, সবটাই দেখতে- শুনতে পাচ্ছিলুম। দু-তিনজন জওয়ান তার ঘোড়া থেকে লাফিয়ে নেমে আমাকে ঘিরে হাঁটু গেড়ে বসল। তাঁদের একজন আমার মাথাটা তুলে নিজের হাতটা আমার বুকের উপর রাখলেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now