বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১৮০১
সমাধিসৌধের উপর পাথরের চাঙড় ভেদ করে উঠেছে একটা বড়ো লোহার বর্শা বা শূল। পিছনে গিয়ে দেখি রাশিয়ান হরফে বড়ো বড়ো করে লেখা রয়েছে: “মৃতেরা ভ্রমণ করে দ্রুত।”
একটা গা-ছমছমে অনুভূতি হল। হাত পা অবশ হয়ে এল। প্রথম বার মনে হল, জোহানের কথা শুনলেই ভাল করতুম। আরও একটা ভাবনা আমার মনে উদয় হল– কথাটা মনে এল নাটকীয়ভাবে আর একটা নাড়া দিয়ে গেল মনটাকে–আজ ওয়ালপারজিস রাত্রি!
লক্ষ লক্ষ লোক মনে করে, ওয়ালপারজিস রাত হল সেই রাত, যে রাতে শয়তান ঘুরে বেড়ায় বাইরে–যে রাতে কবরের ঢাকা যায় খুলে; মৃতেরা উঠে এসে হেঁটে চলে বেড়ায়। যে রাতে জলে স্থলে আকাশে সর্বত্রই সব কিছুর উল্লাস শুরু হয়। ড্রাইভার এখানে এসেই ভয়ে পেয়েছিল। এই সেই গ্রাম যেটি ব হুশতাব্দী আগে জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। এখানে লোকে করেছিল আত্মহত্যা। এমন এক জায়গায় আমি একা, সম্পূর্ণ একা। তার উপর মাথার উপর দানা বাঁধছে ঝড় আর আমি কাঁপছি বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে। আমার পড়া সব দর্শন, ধর্মশিক্ষা আর সাহস একত্রিত করে দাঁড়ালাম, যাতে ভয়ে অজ্ঞান না হয়ে যাই।
তারপরই এক মহাঝড় আছড়ে পড়ল আমার উপর। মাটি কেঁপে উঠল। যেন হাজারে হাজারে পাগলা ঘোড়া ছুটে বেরিয়ে গেল। এবার আর বরফ নয়, ঝড় তার হিমশীতল ডানায় বয়ে আনল শিলাবৃষ্টি–ভয়ানক এক শিলাবৃষ্টি। সাইপ্রাসের গাছগুলো দাঁড়িয়ে রইল বটে, কিন্তু তার পাতা আর ডাল ভেদ করে পড়তে লাগল শিল। একটা গাছের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলুম। কিন্তু গাছের তলায় দাঁড়ানো নিরাপদ বোধ হল না। তখন ভরসা শুধু সেই শ্বেতপাথরের সমাধিমন্দিরের ডোরিক তোরণটি। সেই বিশাল ব্রোঞ্জের দরজায় হেলান দিয়ে শিলাবৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেলুম। শিল পড়তে লাগল আমার চারপাশের পাথরে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now