বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শিগগিরই আশ্রয় নিলাম সেই গাছের ছায়ায়। জায়গাটা তুলনামূলকভাবে নিঃস্তব্ধ। মাথার অনেক উপরে বায়ুর গর্জন শোনা যাচ্ছিল। ঝড়ের অন্ধকার তখন মিশে গিয়েছিল রাতের অন্ধকারে। তারপর এক সময় ঝড় থেমে গেল। শুধু মাঝে মধ্যে দমকা হাওয়া বইতে লাগল। এই অবস্থায় সেই নেকড়ের অদ্ভুত শব্দটা আমার চারপাশের নানা শব্দের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
মাঝেমাঝে ভাসমান কালো মেঘের ফাঁক গলে একটু আধটু জ্যোৎস্না গলে পড়ছিল। সেই আলোয় দেখলুম, আমি সেই গভীর সাইপ্রাস আর ইউ গাছের বনের শেষভাগে এসে দাঁড়িয়েছি। বরফ পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশ্রয় থেকে বেরিয়ে এলুম। চারপাশটা ভাল করে ঘুরে দেখলুম। মনে হল, যে সব ভগ্নস্তুপ পেরিয়ে এসেছি, তার মধ্যে একটা বাড়ি রয়েছে যেখানে আমি খানিকের জন্য আশ্রয় নিলেও নিতে পারব। যদিও সেই বাড়িটাও ভাঙাই। ঝোপের ধারে আসতেই দেখি একটি নিচু পাঁচিল সেটাকে ঘিরে আছে। তারপরে খানিকটা খোলা জায়গা। এখানে একটা সরু পথ চলে গিয়েছে একটা চৌকো বাড়ির মতো স্থাপনার দিকে। পথটা আসলে সাইপ্রাস-বীথি। বাড়ির মতো জিনিসটা দেখার পরই আবার মেঘ এসে চাঁদকে আড়াল করে দিল। আমি অন্ধকারেই পথটা পেরিয়ে এলুম। হাওয়া বোধহয় আরও ঠান্ডা হয়ে আসছিল। কাঁপতে কাঁপতে হাঁটতে লাগলুম। আশ্রয়ের আশায় কোনোক্রমে হাতড়ে হাতড়ে এগিয়ে গেলুম।
সেখানে কেমন একটা হঠাৎ-স্তব্ধতা অনুভূত হল। দাঁড়িয়ে পড়লুম। এদিকে ঝড় থেমে গেছে। সম্ভবত প্রকৃতির স্তব্ধতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমার বুকের ধুকপুকুনিও থেমে গিয়েছিল। কিন্তু সেটা সাময়িক। হঠাৎ চাঁদের আলো ফুটে উঠল। দেখলাম, আমি দাঁড়িয়ে আছি একটা কবরখানায়। আমার সামনে ওই চৌকো বস্তুটা আসলে একটা বিরাট শ্বেতপাথরের সমাধিসৌধ। তার চারপাশের মাটিও বরফে বরফে সাদা। চাঁদের আলোর সঙ্গে বয়ে এল ঝোড়ো বাতাসের ফিসফিসানি একটা শব্দ। যেন অনেকগুলি কুকুর বা নেকড়ে একসঙ্গে চিৎকার করছিল। ভয় পেয়ে গেলুম। সারা শরীরে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। শ্বেতপাথরের উপর পড়েছিল চাঁদের আলো। এমন সময় নতুন করে ঝড় ওঠার তোড়জোড় শুরু হল। মোহমুগ্ধের মতো এগিয়ে গেল সমাধিফলকটির দিকে। ওটা কি, কেন এভাবে একা এখানে দাঁড়িয়ে–তা জানার আগ্রহ জাগল। চারদিকে ঘুরে ডোরিক তোরণটার উপর দেখি জার্মানে লেখা–
কাউন্টেস ডোলিনজেন অফ গ্রাটজ
স্টাইরিয়া-তে
তাঁকে অনুসন্ধান করা হয় ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now